Bengali to English Translation-page-22

PAGE :- 1 – 2 – – 4 – 5 – – 7 – – – 10 – 11 – 12 13 –14 – 151617 1819 – 20 – 21 22

TRANSLATE WITHIN 20  MINUTES 

মহুয়া  মধ্যম থেকে বৃহৎ আকারের একটি বৃক্ষ Madhuca longifolia। এটি Sapotaccae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে মহুয়ার আরেকটি প্রজাতি M. indica। এই বৃক্ষ ২০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতাবিশিষ্ট হতে পারে। এর গুঁড়ি[the bole] তুলনামূলকভাবে ছোট এবং শীর্ষদেশ গোলাকার ও বিস্তৃত[round spreading crown]। এই বৃক্ষের শিকড়গুলি ছড়ানো এবং তার বেশি অংশ মাটির উপরিভাগে[superficial] থাকে। এই বৃক্ষের ছাল ১.২ সেন্টিমিটারের মতো পুরু, প্রায় মসৃণ, ধূসর থেকে বাদামী রংয়ের হয় এবং এর গায়ে লম্বালম্বিভাবে ফাটল থাকে। এর কাঠ শক্ত থেকে অতি শক্ত হয় এবং বিস্তৃত অংশে কোমল কাঠ থাকে। সারবান কাঠের রং লালচে বাদামী। এর প্রতি ঘন ফুট কাঠের গড় ওজন ২৫০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। এই গাছের শাখার শীর্ষদেশে ৭.৫ থেকে ২৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা বর্শাকৃতির গুচ্ছবদ্ধ পাতা জন্মায়[Simple lanceolate leaves grow in cluster at the tip of the branches]। এর ফুলগুলি মাংসল[fleshy], হালকা ধূসর রংয়ের এবং গাছে যখন সম্পূর্ণ ফুল ফোটে তখন ফুল থেকে আকর্ষণীয় মিষ্টি সুগন্ধ বের হয়[emit attractive sweet fragrance]। এর ফল ডিম্বাকৃতির। জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে এর পরিপক্ক বীজ [Mature seeds] পাওয়া যায়। মহুয়ার গাছ বাড়ে খুব ধীরে এবং চতুর্থ বছরের শেষের দিকে এর গড় উচ্চতা দাঁড়ায় ০.৯ থেকে ১.২ মিটার। একটি ৩০ বছরের পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা[ mean height ]হয় প্রায়  ৯.১৯ মিটার এবং পরিধি ০.৫ মিটার।

ল্যাটিফোলিয়া (latifolia) প্রজাতির মহুয়া বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায়। প্রতিবছর এর পাতা ঝরে যায়[deciduous nature]। এই গাছ বহু ধরনের মাটিতে জন্মে, তবে বেলে মাটিতে[alluvial soil] ভালো জন্মে। ভারতীয় নদী অববাহিকার পলিমাটিতে এই গাছ বেশ ভালো জন্মে। শালবনে এই গাছ শক্ত মাটিতে, এমনকি কিছুটা চুনা মাটিতেও[calcareous soil] জন্মাতে দেখা যায়। বাংলাদেশে এই গাছ বেশির ভাগ দিনাজপুর ও মধুপুর অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। দেশের অন্যান্য অংশেও এর চাষ হয়। এই গাছের আলোর প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি এবং ছায়াতে এর বৃদ্ধি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এই গাছ খরা প্রতিরোধক।

আবাদি বৃক্ষ হিসেবে[ plantation tree] মহুয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ গাছ এবং আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে এর মূল্য যথেষ্ট। এই ধরনের গাছ সড়কের ধারে, খালের তীরে প্রভৃতি স্থানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এবং সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিতে বিশেষ করে উপজাতীয় এলাকায় লাগানো যায়। এর কাঠ টিম্বার হিসেবে এবং মন্ড ও কাগজ তৈরির কাজে ব্যবহার করা যায়।

মহুয়া ফুলে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, খনিজ দ্রব্য, ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। এই ফুল চালের সাথে রান্না করলে এর পুষ্টিমান[nutrient value] বৃদ্ধি পায়। আখের পরেই মহুয়া ফুল মদ ও সিরকা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এটা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। এর ফুল ও ফল উপজাতীয় লোকেরা ঐতিহ্যবাহী খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। এর বীচিতে ২০% থেকে ৫০% ফ্যাটি অয়েল থাকে, যা সাবান প্রস্ত্ততের কাজে ব্যবহার করা যায়। মহুয়া বীজের খৈল সার হিসেবে প্রয়োগ করা যায়। অনেকের ধারণা যে, মহুয়া খৈল পোড়ানোর ধোঁয়া সাপ ও পোকামাকড় তাড়াতে পারে। উপজাতীয় লোকেরা মাছ মারার জন্য এবং সর্পদংশনের চিকিৎসার জন্য মহুয়া খৈল ব্যবহার করে। মহুয়ার তৈল প্রলেপ, ত্বকের রোগ নিরাময়, বাত, মাথাব্যথা, জোলাপ, অর্শ রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়[cure of skin diseases, rheumatism, headache, as laxative, in piles and haemorrhoids]। এর বীচি থেকে আঠা পাওয়া যায়। এর তুষ[Husk] সক্রিয় কার্বন তৈরির কাজে ব্যবহার করা যায়।


2

মাগনের গান  এক প্রকার লোকগীতি[genre of folk song]। ‘মাগন’ শব্দটি এসেছে হিন্দি ‘মাঙ্গন’ থেকে; এর অর্থ চাওয়া বা যাচ্ঞা করা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা পৌষ-পার্বণকে সামনে রেখে গ্রামের কিশোর-কিশোরীরা দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে[go round the houses] পীর-ফকির বা দেবদেবীর নামে এই গান গেয়ে চাল-ডাল ও টাকা-পয়সা সংগ্রহ করে। অনাবৃষ্টি[ drought] দেখা দিলে মেয়েরা মেঘারানীর গান [song of Megharani]গেয়ে কুলায় জলঘট বসিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জল মাগে। ঘরের গৃহিণীরা জল ছিটিয়ে[sprinkle] পরস্পরকে ভিজিয়ে দিয়ে বৃষ্টির নকল করে। রাখাল কিংবা কৃষক-সন্তানেরা মানিকপীর বা সোনাপীরের প্রতীক লাঠি[sticks symbolising] নিয়ে যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে শির্নীর চাল[grain to make a sweet dish]-ডাল মাগে, তখন তারা ছড়া কাটে এবং গান গায়। তাদের গানে অধিক চাল-ডালের আশায় গৃহস্থের স্ত্ততি ও কল্যাণ কামনা থাকে; কেউ কৃপণতা[paltry] করলে তাকে ভয়-ভীতি দেখানোর ভাষাও প্রয়োগ করা হয়।

3

বেসরকারি উদ্যোগে[Private venture]বছর তিনেক আগেই চালু হয়েছে অনলাইনে মাছ বিক্রির ব্যবসা। প্রযুক্তির কাঁধে ভর করে মাছের বাজার ধরতে চাইছেন রাজ্যের মৎস্য ব্যবসায়ীরা। ইন্টারনেটের মাছের বাজারের দিকে বাঙালির আগ্রহ বাড়ায় রাজ্য মৎস্য উন্নয়ন নিগমও [State Fisheries Development Corporatio]এ বার অনলাইনে টাটকা মাছ বিক্রির রাস্তা নিল।

4

আপনার আজকের দিন- কোনও কারণে স্ত্রীর কাছে অপমানিত[humiliated] হতে পারেন। আজ সারাদিন ব্যবসা ভাল চলবে কিন্তু পরে জটিলতা আসতে পারে[complications may arise later]। কারও জিনিসের দায়িত্ব আজ নেবেন না। সম্পত্তি কেনাবেচার শুভ সময়। যানবাহন চরার সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন। আজ অর্থ উপার্জনের ভাগ্য[fate of earning] ভাল ও আর্থিক উন্নতি থাকবে। সারাদিন সাংসারিক শান্তি বজায় থাকলেও রাতের দিকে অশুভ যোগ। অযথা কোনও ঝামেলায়[unnecessary trouble] জড়িয়ে পরতে পারেন। সন্তানদের নিয়ে চিন্তা বাড়তে পারে।

5

গরমে প্রাণ জুড়োতে হোক বা রান্নার স্বাদ বাড়াতে—ডাবের জলের জুড়ি মেলা ভার। ডাব কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। ডিহাইড্রেশনের মোকাবিলা থেকে শুরু করে শরীরের ইমিউনিটি গড়ে তোলা, নানা গুণ রয়েছে ডাবের জলে। চলুন দেখেনি কেন খাবেন ডাবের জল? গরমে শরীর খুব তাড়াতাড়ি জল টেনে নেয়। ফলে দেখা দেয় ডিহাইড্রেশনের মতো সমস্যা। ডাবের জলে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ যা শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করে।

6

পয়লা বৈশাখ মানেই নতুন পোশাক, নতুন বই, হালখাতা-মুখমিষ্টি আর পেটপুরে খাওয়া। আর বাঙালির খাওয়াদাওয়ায় কি ইলিশ না হলে চলে! কিন্তু, এবারের পয়লা বৈশাখেও এপার বাংলায় ঢুকবে না পদ্মার ইলিশ। কারণ, বাংলাদেশেই এখন খোকা ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। তাই দুধের সাধ ঘোলে মেটাতে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে মায়ানমার থেকে বিমানে চড়ে টাটকা ইলিশ আসছে কলকাতায়।
রাজ্য মৎস্য দপ্তর এবং ফিশ ইম্পোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (হিলসা) সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে এপার বাংলায় পদ্মার ইলিশ পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবছর জামাইষষ্ঠীতে বাংলাদেশ থেকে ইলিশের আমদানি শুরু হত। তবে, কম করে হলেও নববর্ষ উপলক্ষে কিছু পরিমাণে পদ্মার ইলিশ পাওয়া যেত। এবং তা একেবারে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো পর্যন্ত চলত। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের গত ৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের নতুন মৎস্যমন্ত্রী নারায়ণচন্দ্র চন্দ ইলিশের উপর নিষেধাজ্ঞা[ban] তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণাও করেছিলেন। তাতে হাসি ফুটেছিল এপার বাংলার ভোজন রসিকদের। কিন্তু, তা এখনও কার্যকর না হওয়ায় পদ্মার স্বাদ থেকে এবারও ব্রাত্য থাকতে হবে এপার বাংলাকে।

 

Bengali to English Translation-Page-21

PAGE :- 1 – 2 – – 4 – 5 – – 7 – – – 10 – 11 – 12 13 –14 – 15-16 – 17 – 18 – 19 – 20

Legal discourse

TRANSLATE WITHIN 20 MINUTES 

নাপিত চুল ছাঁটা বা কাটার কাজে নিয়োজিত বিশেষ পেশার লোক। হিন্দু ও মুসলমান উভয় সমাজে নাপিত ছিল একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান স্বরূপ। আগেকার দিনে হিন্দু সস্প্রদায়ের বিয়ে ও জন্ম উৎসবে নাপিতরা কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করত। মুসলিম পরিবারবর্গও নবাগত শিশুর মাথা ন্যাড়া করার জন্যে নরসুন্দরের দ্বারস্থ হতো। হিন্দু পরিবারে কারও মা অথবা বাবা মারা গেলেও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর নাপিত তার ছেলেদের মাথা ন্যাড়া করে দেয়। গ্রামের বাজারে নাপিতদের নির্দিষ্ট দোকান আছে।

সেখানে গ্রামের লোকেরা তাদের চুল কাটা, ছাঁটা, নখ কাটা এবং ছোটখাট কাটাছেঁড়ার কাজ করায়। এসব সেবা প্রদানের মাধ্যমে নাপিত উপার্জন করে। এই উপার্জন অর্থ হতে পারে, আবার কোন দ্রব্যসামগ্রীও হতে পারে। আগেকার দিনে নাপিতদেরকে কাজের বিনিময়ে সাধারণত দ্রব্যসামগ্রী দেওয়া হতো। এই বিনিময় প্রথার নাম ছিল যজমানি ব্যবস্থা। গ্রামের লোকজন সারা বৎসরের সেবার বিনিময়ে নাপিতদের ফসলের মৌসুমে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যশস্য দিত। চালাকিপনা, রসিকতা, আড্ডাবাজি ও গল্প বলায় নাপিতদের বিশেষ দক্ষতা ছিল। এক পরিবার থেকে আরেক পরিবারে এবং এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে তথ্য আদানপ্রদান হতো নাপিতদের মাধ্যমে।

এছাড়া শিশুর জন্ম-সংবাদের বাহক হিসেবে তারা কাজ করত। আর নবজাতক ছেলে শিশু হলে সে খবর সরবরাহ করে উভয় পক্ষ থেকে তারা উপহার পেত।

কেউ কেউ মনে করেন, নাপিত এসেছে  ক্ষত্রিয় পিতা এবং  শূদ্র মাতার পরিবার থেকে। অনেকের ধারণা নাপিতের উৎপত্তি দেবতা  শিব থেকে, যিনি তাঁর স্ত্রীর নখ কেটেছিলেন। নাপিতরা কতিপয় অনুসস্প্রদায়ে বিভক্ত, যথা আনারপুরিয়া, বামানবেন, বরেন্দ্র, রাঢ়ী, মাহমুদাবাজ, সপ্তগ্রাম, সাতঘরিয়া, খোট্টা ইত্যাদি। নাপিত নিম্ন সস্প্রদায়ের হলেও অস্পৃশ্য নয়। এমনকি ব্রাহ্মণরাও নাপিতের হাতে পানি পান করে। অধিকাংশ নাপিতই বৈষ্ণব। ধর্মীয় কাজে তারা ব্রাহ্মণদের ও পুরোহিত হিসেবে নিযুক্ত করে থাকে। তাদের মৃতদেহ আগুনে পোড়ানো হয়। মৃত্যুর একত্রিশ দিন পর শাস্ত্রমতে তাদের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। খাবারদাবার পরিবেশনে তারা হিন্দুশাস্ত্র মেনে চলে। বৈষ্ণব নাপিত মাংস খায় না, কিন্তু মাছ খায়।

শহুরে নাপিতদের অবস্থান ও চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এখানে নারীপুরুষ বা ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য সেলুন আছে। সবধর্মের লোকই নাপিত হিসেবে কাজ করে। তারা চুল কাটার আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দক্ষতার সাথে সেলুনে কাজ করে। গ্রামের নাপিতদের চেয়ে তাদের উপার্জন অনেক বেশি। শহুরে নাপিত চুলকাটা ও কেশসজ্জা এবং কখনও বা মাথা মালিশ করা ছাড়া অন্য কিছু করে না। গ্রামের নাপিতরা কেশবিন্যাস বা মালিশের কাজ  প্রায় করে না বললেই চলে।

Barbers[Napits] are known as paramaniks, is an occupational Hindu caste traditionally engaged in hair cutting. In olden times, the napit was a social institution. On the occasions of births and marriages of Hindu families, a napit used to perform some rituals.

Muslim families also engaged napits for the ceremonial shaving of the heads of the new-born babies. Napits shave the heads of Hindu males after obsequies. Traditionally, in rural markets, a napit has a fixed shop where people visit to have haircuts, to cut their nails and to have small surgeries done. He was paid for these services either in cash or in kind. In the long past, payment was generally made in kind. The system of exchange between service and kind was called Jajmani. The village people paid him in crops at harvest time in exchange of the services that they received from the napit throughout the year.

The napits were well known for their cleverness, sense of humour, and penchant for gossiping and story telling. Inter-family and inter-village information was normally obtained through the napits. The village people invariably engaged napits to carry the news of births of male children. And, for the good news that they served, they received gifts.

Many hold the opinion that the first napit of Bengal was the son of a ksatriya father and a shudra mother. Many others say that it was a person engaged by shiva for cutting his wife’s nails. Napits are divided into several sub-castes, such as Anarpuria, Bamanbane, Barendra, Radhi, Mahmudabaz, Saptagram, Satgharia, and Khotta. Unlike many other lower castes, napits are not considered as untouchables. Even a brahman can take water from the hand of a napit. Most napits are Vaishnavas. They employ Brahmans as priests. Napits burn their dead bodies and perform shraddha in the orthodox fashion on the thirty-first day of death. Their rules regarding diet are the same as those followed by most respectable Hindus. Vaishnava napits do not eat meat, but as a rule, they eat fish.

Barbers belong to different categories in cities. In urban areas there are saloons for men and women and the workers in these saloons are skilled hands, use modern equipment for hair cutting, and come from all religions. They have higher incomes than their rural counterparts. The urban barbers play no other role than hair cutting and hair dressing and sometimes, messaging the head, neck and hands of customers. Hair dressing and messaging are not in vogue in the rural areas. The institution of napit is now almost extinct. Now any one can take to the profession as a business and leave it any time for other jobs. In older times, massaging was also a job of the napit. Massaging is also there in the saloon, a hair dressing place. But it is more a specialization than a caste job as of the past.

_____________________________________

TRANSLATE WITHIN 30 MINUTES 

ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে বখতিয়ার খলজী বঙ্গ জয় করার পর জমির খাজনা উৎপাদিত ফসলের ছয় ভাগের এক ভাগ থেকে পাঁচ ভাগের একভাগে বা চার ভাগের একভাগে পরিবর্তিত হয়। এই রাজস্ব নগদ অর্থ অথবা দ্রব্যের আকারে প্রদান করতে হতো। যে সকল প্রজা জমির খাজনা নগদ প্রদান করত তাদের ইচ্ছানুযায়ী জমি হস্তান্তরে বাধা ছিল না। তবে যারা খাজনা হিসেবে ফসলের হিস্যার বিনিময়ে জমি চাষ করত তাদের এ ধরনের জমি হস্তান্তরের কোন অধিকার ছিল না। এই জমি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রজাদের সন্তানরা পেত এবং তারা তাদের পূর্বপুরুষের মতো শর্তাধীনে এসব জমি চাষ করতে পারত। যারা জমির খাজনা নগদে পরিশোধ করত তাদেরকে নিজ দায়িত্বেই তা করতে হতো। পাওনা আদায়ের জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যেত এবং অনাদায়ি খাজনার জন্য জমি থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করা যেত। রাজকীয় কর্মকর্তাদের বেতন হিসেবে এবং ধর্মীয় ও পন্ডিত ব্যক্তিদের জীবনযাপনের জন্য কেবল পতিত জমি জায়গির বা আয়েমা হিসেবে দান করা হতো। কোন পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় এনে নির্ধারিত খাজনা প্রদানের বিনিময়ে ঐ জমির মালিক হওয়া যেত। পতিত জমি ছিল সরকারের খাস জমি এবং বাদবাকি চাষকৃত জমিতে সরকারি কর পরিশোধের মাধ্যমে মালিকানা লাভ করা যেত। কালক্রমে, গ্রামপ্রধানদের ক্ষমতা অনেকাংশে খর্ব করা হলে অনেকেই স্থানীয় তালুকদার হিসেবে রূপান্তরিত হয়। তারা চাষিদের কাছ থেকে সরকার কর্তৃক ধার্যকৃত রাজস্ব আদায় করে উপরস্থ ভূস্বামী জমিদারকে প্রদান করত। বিনিময়ে তারা সম্মানী হিসেবে আদায়কৃত অর্থের একটা অংশ পেত। নির্ধারিত রাজস্বের বিনিময়ে সরকার খাসজমি অন্যকে ইজারা দিতে পারত এবং ইজারাদাররা এ ধরনের জমি নিজে অথবা বর্গাদারের মাধ্যমে চাষ করত। বর্গাদারদের ফসলের অর্ধেকের হিস্যা ছাড়া জমির ওপর কোন অধিকার ছিল না। সরকারি ইজারাদার যেমন জায়গিরদার এবং আয়েমাদারগণ তাদের জমি অন্যের নিকট খাজনার বিনিময়ে ইজারা দিতে পারত।

মুগল শাসনামলে গোটা দেশের জমির খাজনা ফসলের এক-ষষ্ঠাংশ ধার্যের মাধ্যমে ভূমি কর ব্যবস্থা আরও অধিকতর নিয়মবদ্ধ ও সুসঙ্গত করা হয়। সরকারি কর্মকর্তা আমিন কর নির্ধারণ করত এবং তারা জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদও মীমাংসা করত। কানুনগো, কারকুন, চৌধুরী, মুকাদ্দাম বা গ্রামপ্রধান পাটোয়ারি এবং অন্যান্য জরিপ কর্মকর্তাদের সহায়তায় আমিন প্রতিটি প্লটের বিগত ১০ বছরের গড় উৎপাদন ও উৎপাদিত পণ্যের বাজার মূল্য যাচাই-পূর্বক রাজস্ব নির্ধারণ করত। কানুনগোরা জমি সম্পর্কিত প্রথা ও আইন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ছিল, চৌধুরীরা প্রতিনিধিত্ব করত পরগনা বা মহালবাসীর, মুকাদ্দাম বা গ্রামপ্রধান প্রতিনিধিত্ব করত গ্রামবাসীদের আর পাটোয়ারিরা ছিল গ্রামের হিসাবরক্ষক। চাষিদের বলা হতো রায়ত। তারা নগদ অথবা দ্রব্যের আকারে কর পরিশোধ করত, তবে নগদ পরিশোধ অগ্রাধিকার পেত। জমিদার, জায়গিরদার বা সরকারি খাজনা আদায়কারী যেমন আমিন, শিকদার, আমলগুজার অথবা ক্রোড়ি রায়তদের নিকট থেকে আবওয়াব বা নির্ধারিত করের অতিরিক্ত আদায় নিষিদ্ধ ছিল। এসব ব্যক্তি এবং জায়গিরদার ও আয়েমাদারগণ যেমন রায়তদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারত না তেমনি তাদের জমি খাসজমি হিসেবে দখলেও নিতে পারত না। যখন কোন রায়ত নিজ জমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেত অথবা জমি চাষ করার মতো পরিবারে কোন পুরুষ সদস্য থাকত না, কেবল সেক্ষেত্রে অন্যের কাছে তার জমি বন্দোবস্ত দেওয়া যেত। জমিদার, জায়গিরদার বা আয়েমাদাররা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন জমির মালিক ছিল না। তারা শুধু সরকার নির্ধারিত রাজস্ব রায়তদের নিকট থেকে আদায় করতে পারত। যদি জমিদারির অধিকার বংশানুক্রমিক হতো তাহলেই কেবল তা হস্তান্তরযোগ্য ছিল। কিন্তু ইজারাদারি, জায়গিরদারি বা আয়েমাদারি বংশানুক্রমিক বা হস্তান্তরযোগ্য ছিল না। পরবর্তীকালে আয়েমাদারি হস্তান্তরযোগ্য করা হয়। জমিদার বা ইজারাদারগণ আদায় খরচ ও আদায় সম্মানী হিসেবে ভূমিকরের একটা অংশ পেত।

গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা, যারা নিজেরাই বা অন্যের মাধ্যমে, নিজ গ্রামে জমি চাষ করত তাদেরকে বলা হতো খুদকাশ্ত রায়ত। তাদেরকে পরগনা বা নিরিখের জন্য প্রথানুযায়ী অথবা তাদের অনুকূলে সম্পাদিত ইজারা দলিলে বা পাট্টাতে উল্লিখিত হারে রাজস্ব প্রদান করতে হতো। যদি তারা নিয়মিত কর পরিশোধ করত তাহলে তাদেরকে জমি থেকে উচেছদ করা যেত না এবং তারা বংশপরম্পরায় এই জমির মালিকানা ভোগ করত। তাদের খুশিমতো তারা জমি পরিত্যাগও করতে পারত না। ভিন্ন গ্রামের মানুষ যারা জমি চাষ করত তাদের বলা হতো পাইকাশ্ত রায়ত। তারা চুক্তিভিত্তিতে খাজনা পরিশোধ করতে পারত। কিন্তু জমি দখলে রাখার কোন অধিকার তাদের ছিল না। তারা আসলে ছিল উচ্ছেদযোগ্য চাষি এবং ফসল কাটার পর যে কোন সময় তাদেরকে বিতাড়ন করা যেত। তারাও ইচ্ছেমতো এ ধরনের জমি পরিত্যাগ করতে পারত। জমিদার জায়গিরদার, চৌধুরী, তালুকদাররা তাদের দখলীকৃত খাসজমি বর্গাদারদের দ্বারা অথবা কৃষিশ্রমিকের সাহায্যে চাষাবাদ করতে পারত। এক্ষেত্রে বর্গাদার বা শ্রমিকদের ফসলের হিস্যা বা মজুরি পাওনা ছাড়া জমির ওপর তাদের কোন অধিকার ছিল না।

When Bengal was conquered by Bakhtiar Khalji at the beginning of the 13th century, the rulers merely changed the rate of land revenue from one-sixth to one-fifth or one fourth of the produce, payable either in cash or in kind. Customary rights of landowners to transfer the land in any manner they liked, were not interfered with in case of those tenants who used to pay rent. But those who paid a share of the produce of the land cultivated by them as rent or revenue, had no such right to transfer the land. However, such land was heritable by the heirs of such tenants and could be cultivated by such heirs on the same terms and conditions as their predecessors enjoyed. Those who paid rent or revenue in cash were personally liable for the same, and could be sued for the recovery of arrears of dues, but could not be evicted from their land for non-payment of revenue. Only wastelands were given as jagir or ayma to royal officers in lieu of their salary, and to religious and learned persons for their maintenance. Whoever brought under cultivation any wasteland became owner of the same, subject to payment of rent or revenue assessed.

In course of time, when the power of the grampradhanas (village heads) was substantially curtailed, many of them were turned into local talukdars. These talukdars used to collect revenue from the cultivators at the rate assessed by the government and paid the same to superior landlords also known as zamindars, although they got a share of the collection as their remuneration. The government could lease out the khas lands on fixed revenue to others. The lessees of such lands could themselves cultivate the same or get the same cultivated through bargadars (sharecroppers) who had no rights to the land beyond getting half of the produce. Government grantees such as jagirdars and aymadars could, in their turn, also lease out their land to others on a rental basis, but they could not disturb possession of the cultivators whose land was included in their respective grant except realizing rent from them.

During Mughal rule, the land revenue system was systematised and consolidated by assessing the land revenue of the entire country at the rate of one-third of the produce. Revenue was then assessed by government officers known as amins, who also settled land disputes. Such officers used to assess revenue with the help of the kanungo, who knew the customs and regulations regarding land. Karkuns preserved records regarding land surveys and land revenue assessment and chowdhuris represented the inhabitants of the pargana, also called mahal or mukaddam. Patwaris or village accountants and other survey officers surveyed each and every plot of land on the basis of average production and market price of the produce for the previous ten years. Cultivators known as raiyats could pay revenue either in cash or kind, but cash payment was preferred. Zamindars, jagirdars or government rent collectors such as amils, sikdars, amalguzars or croris were prohibited from realising any additional amount known as abwab other than the assessed revenue from the raiyats. Those persons, as well as jagirdars and aymadars, could neither evict the raiyats from their land nor bring the land to their khas possession or let it out to others. Only when raiyats went elsewhere leaving their land, or when there was no male person in the family to cultivate the land, could the land be settled with others. Zamindars, jagirdars or aymadars were not proprietors of the land under their control. They could only collect revenue from the cultivating raiyats at government assessed rates. Zamindari right was hereditary but ijaradari, jagirdari or aymadari rights were neither hereditary nor transferable. Later, aymadari was made heritable. Zamindars or ijaradars got a share of their collection of land revenue as their remuneration and collection cost.

Permanent settlers of villages who themselves cultivated lands of their own village or through others were known as khudkast raiyats. They had to pay revenue at the customary rate of their pargana called nirikh, or at the rate mentioned in the patta or lease deed executed in their favour. If they paid the revenue fixed for their land, they could not be evicted, and could possess their lands from generation to generation. They also could not abandon their land at their sweet will. Those who cultivated the land of the village where they did not live, were known as paikast raiyats and could pay rent on a contract basis. But they had no right to continue in possession and were merely tenants-at-will, and could be denied the right to cultivate the land any time after harvesting was over. Such raiyats could also abandon such land at their sweet will. Zamindars, jagirdars, chowdhuries and talukdars could get land in their khas possession cultivated through bargadars or agricultural labourers who had no rights on such land except to get a half share of the produce or wages for their labour.

 

Bengali to English Translation-Page-20

PAGE :- 12 – 3 456 78 9 10 – 1112 131415 -16 – 17 – 18 – 19 – 20 – 21 

Legal discourse

TRANSLATE WITHIN 60 MINUTES

1

বিদ্যাসাগরের অনেক গুণ। প্রথম — বিদ্যানুরাগ। একদিন মাস্টারের কাছে এই বলতে বলতে সত্য সত্য কেঁদেছিলেন, “আমার তো খুব ইচ্ছা ছিল যে, পড়াশুনা করি, কিন্তু কই তা হল! সংসারে পড়ে কিছুই সময় পেলাম না।” দ্বিতীয় — দয়া সর্বজীবে, বিদ্যাসাগর দয়ার সাগর। বাছুরেরা মায়ের দুধ পায় না দেখিয়া নিজে কয়েক বৎসর ধরিয়া দুধ খাওয়া বন্ধ করিয়াছিলেন, শেষে শরীর অতিশয় অসুস্থ হওয়াতে অনেকদিন পরে আবার ধরিয়াছিলেন। গাড়িতে চড়িতেন না — ঘোড়া নিজের কষ্ট বলিতে পারে না। একদিন দেখলেন, একটি মুটে কলেরা রোগে আক্রান্ত হইয়া রাস্তায় পড়িয়া আছে, কাছে ঝাঁকাটা পড়িয়া অছে। দেখিয়া নিজে কোলে করিয়া তাহাকে বাড়িতে আনিলেন ও সেবা করিতে লাগিলেন। তৃতীয় — স্বাধীনতাপ্রিয়তা। কর্তৃপক্ষদের সঙ্গে একমত না হওয়াতে, সংস্কৃত কলেজের প্রধান অধ্যক্ষের (প্রিন্সিপালের) কাজ ছাড়িয়া দিলেন। চতুর্থ — লোকাপেক্ষা করিতেন না। একটি শিক্ষককে ভালবাসিতেন; তাঁহার কন্যার বিবাহের সময়ে নিজে আইবুড়ো ভাতের কাপড় বগলে করে এসে উপস্থিত। পঞ্চম — মাতৃভক্তি ও মনের বল। মা বলিয়াছেন, ঈশ্বর তুমি যদি এই বিবাহে (ভ্রাতার বিবাহে) না আস তাহলে আমার ভারী মন খারাপ হবে, তাই কলিকাতা হইতে হাঁটিয়া গেলেন। পথে দামোদর নদী, নৌকা নাই, সাঁতার দিয়া পার হইয়া গেলেন। সেই ভিজা কাপড়ে বিবাহ রাত্রেই বীরসিংহায় মার কাছে গিয়া উপস্থিত! বলিলেন, মা, এসেছি!

Vidyasagar is a man of many facets. One of his great loves is of learning. One day he actually began to weep when he said to M, “How much I wanted to continue my studies! But it was not to be. I was so entangled in worldly affairs, I didn’t have time.’

A second love is for all beings. Vidyasagar is an ocean of compassion. Seeing a calf deprived of its mother’s milk, he could not drink milk for many years – not until his health declined considerably. He does not travel in a carriage, because the horse pulling it cannot speak of its burden. One day he saw a workman lying on the road struck by cholera, his basket lying near. He picked the man up, brought him home, and nursed him.

A third love is independence. Because of a disagreement with his proprietors, Vidyasagar resigned from the post of Principal of the Sanskrit College.

His fourth characteristic is that he does not care for social decorum. He loved a teacher. At the time of his daughter’s marriage, Vidyasagar went to the feast with a gift of cloth under his arm.

A fifth love is devotion to his mother. She had said to him, “Iswar, if you don’t come to the marriage of your brother, I will feel very bad.”  On strength of will, Vidyasagar walked on foot all the way from Calcutta to his village of Beersingh. On the way he had to cross the Damodar river and there was no boat available, so he swam across. He presented himself before his mother, dripping wet, the very night of the marriage.  He said, “Mother, here I am!”


2

চৈতন্য চরিতামৃত  কৃষ্ণদাস কবিরাজ কর্তৃক প্রণীত। এটি কৃষ্ণ চৈতন্যের (১৪৭৮-১৫৩৩) প্রতি নিবেদিত চরিত সাহিত্য ধারার চূড়ান্ত প্রামাণ্য রচনা হিসেবে মর্যাদাময় আসনে অধিষ্ঠিত। গ্রন্থটিকে বৈষ্ণব মতবাদের সংক্ষিপ্ত সার বলা হয় যার মধ্যে আছে চৈতন্য জীবনের অনুপুঙ্খ বর্ণনা, বিশেষ করে তাঁর সন্ন্যাস জীবনের বছরগুলি এবং কিভাবে সে জীবন ভক্তির আদর্শ হিসেবে উদাহরণে পরিণত হলো সে বৃত্তান্ত। গ্রন্থটির মূল পাঠ ষড় গোস্বামীদের দ্বারা বিকশিত অধিবিদ্যা, তত্ত্ববিদ্যা ও নন্দনতত্ত্বের মৌলিক তত্ত্বীয় অবস্থানের রূপরেখা দান করে এবং ভক্তজনোচিত ধর্মীয় কৃত্যের সারবস্ত্ত ব্যক্ত করে। এটি যেহেতু বিশ্বকোষের মতো, সে কারণে এটি ঐতিহ্যের ধারায় সবচেয়ে পুনর্গঠিত পাঠ এবং অন্যসব রচনার মাপকাঠিতে বলা যায় যে, এটি ধর্মতাত্ত্বিক রচনার যথার্থ মান সৃষ্টি করেছে। এটিই সে গ্রন্থ যার মধ্যে চৈতন্য ভক্তরা সুসঙ্গত ও সুশৃঙ্খল রচনা হিসেবে গোম্বামীদের শাস্ত্রীয় গ্রন্থাদি ও চৈতন্য জীবনীর সম্পর্ক প্রথম অনুধাবন করতে পারল। এটিও তারা বুঝল, কৃষ্ণদাস ছিলেন মুষ্টিমেয় ভক্তদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ যিনি এগুলি ভালোভাবে অধ্যয়ন করেছেন।

বৃন্দাবনে লেখা শুরু করে কৃষ্ণদাস তাঁর জীবনের উপান্তে এ সুবৃহৎ গ্রন্থ সমাপ্ত করেন, যদিও সম্যকভাবে তখনও যেমন এখনও তেমনি এটি বিদ্বুৎ সমাজে বরাবর আলোচিত। গ্রন্থোদ্ধৃতিগুলি জানিয়ে দেয় যে, বইটির রচনাকাল ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দের পরে। কিন্তু প্রচিলত মত অনুযায়ী এর রচনাকাল আরও পরে ১৬০৯ থেকে ১৬১৫-খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। এ তারিখগুলির যে-কোন একটি গ্রন্থটির রচনাকাল মুরারি গুপ্তের সংস্কৃত রচনা কৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃত অর্থাৎ মুরারি গুপ্তের কড়চা (আনুমানিক ১৫৩৩) এবং বৃন্দাবন দাসের বাংলা রচনা চৈতন্য ভাগবত (আনুমানিক ১৫৪০-এর মাঝামাঝি) দিয়ে সূচিত চৈতন্য চরিতাখ্যানগুলির সৃষ্টিশীল রচনা পর্বের অন্তিম পর্যায়ে স্থাপন করে। যদিও আকৃতিতে বিশাল, গ্রন্থটি তখনও জীবিত গোস্বামীদের ও কৃষ্ণদাসের তিনজন প্রশিক্ষিত শিষ্য শ্রীনিবাস, নরোত্তম দাস ও শ্যামানন্দ দ্বারা সতেরো শতকের প্রথম দিকে বাংলা ও উড়িষ্যায় বারবার অনুলিপিকৃত ও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল।

শুধু বইটির আয়তনই নিঃসন্দেহে এর প্রভাব সৃষ্টিতে অবদান রেখেছে, কারণ এর সাম্প্রতিক সম্পূর্ণ সংস্করণে রয়েছে অসংখ্য ত্রিপদী চরণসহ প্রধানত দ্বিপদী পয়ার মিল বিশিষ্ট আনুমানিক ২৪,০০০ (চবিবশ হাজার) বাংলা চরণ। অধিকন্তু, গ্রন্থটিতে রয়েছে ইতিহাস ও পুরাণ, বিশেষত ভাগবত ও গীতা ইত্যাদি পঁচাত্তরটি সংস্কৃত উৎস থেকে গৃহীত এক হাজারেরও অধিক সংস্কৃত দ্বিপদী শ্লোক এবং ধর্মীয় কৃত্যের বহুসংখ্যক নির্দেশনামা (তন্ত্র), কাব্য, নন্দনতত্ত্ব (রসশাস্ত্র ও নাটক) এবং বেশ কিছু অধিবিদ্যক, ভাষ্যমূলক ও স্তুতিমূলক রচনা (তত্ত্ব, ভাষ্য, স্তোস্ত্র) ইত্যাদি। আকৃতিক দিক থেকে কিঞ্চিদধিক বড় চৈতন্য ভাগবতের তুলনায় এটি দ্বিতীয় বৃহৎ রচনা এবং এর গঠনরীতি চৈতন্য ভাগবতের অনুরূপ।

চৈতন্য ভাগবত-এর মতো চৈতন্য চরিতামৃতও তিনটি খন্ডে বিভক্ত আদি, মধ্য ও অন্ত্য; এবং এগুলির সর্গসংখ্যা যথাক্রমে ১৭, ২৫ ও ২০। কৃষ্ণদাস সুস্পষ্টভাবে চৈতন্য ভাগবত ও তাঁর নিজের রচনার মধ্যে অসংখ্যবার তুলনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, অবিকল গঠন রূপ একান্তই ইচ্ছাকৃত। রচনারীতির এ কৌশল পরিশেষে পাঠকদের মনে এ ধারণা দেয় যে, প্রায় সাত অথবা আট দশক আগে চৈতন্য ভাগবত যে কাহিনী শুরু করেছিল চৈতন্য চরিতামৃত কেবল তারই ধারাবাহিকতা। চৈতন্য ভাগবতের কাহিনী যেখানে নবদ্বীপে গৃহী চৈতন্যের জীবনকাহিনী নিয়ে কেন্দ্রীভূত থেকেছে, সেখানে চৈতন্য চরিতামৃত পুরীতে সন্ন্যাস গ্রহণের পরে চৈতন্যের জীবন ও তাঁর তীর্থ ভ্রমণের উপর আলোক সম্পাত করেছে। এসব তুলনাবাচক বিবরণের ফল চৈতন্য চরিতামৃতকে চৈতন্য জীবনী রচনার পরিসমাপ্তি রূপে স্পষ্টভাবে স্বীকৃতি দেয়।

অ-বিরোধ ও সৌহার্দ্যের কৌশল অনুসরণ করে কৃষ্ণদাস কবিরাজ প্রত্যেকটি চলমান আধ্যত্মিক তত্ত্বকে শ্রেয়োতর রূপের অগ্রগতিশীল ও ব্যাপক ক্রমাধিকারে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছেন (১.১-৪, ২.২০-২১)। যেমন, অংশ বা আংশিক অবতার, কলিযুগের যুগাবতার এবং অন্যসব দৈবী রূপ যথা মন্বন্তর, দশাবতার, ব্যূহ এবং এ রকম আরও। এরূপ নির্বিশেষত্ব সম্ভব ছিল, কারণ চৈতন্য ভাগবতের অনুসরণে কৃষ্ণদাস চৈতন্যকে কেবল ঈশ্বরের সাধারণ এক অবতার হিসেবে নয়, বরং স্বয়ং ভগবান অর্থাৎ পূর্ণ ঈশ্বর রূপে ঘোষণা করেছিলেন। এর অর্থ হলো, চৈতন্য হলেন সে অবতর যা পূর্ববর্তী সব অবতারকে যোগ রূঢ় করে। ভক্তির এ বিস্তৃত রূপ ব্যাখ্যাকে ফলপ্রসূ করতে যে কলাকৌশল ছিল তা হলো চৈতন্যকে পরিবৃত বৈষ্ণব সম্প্রদায় কর্তৃক চৈতন্যকে ভক্তদের প্রতিনিধিত্বকারী চৈতন্য, অদ্বৈত আচার্য, নিত্যানন্দ, গদাধর ও শ্রীবাসকে পক্ষতত্ত্ব রূপে জ্ঞান করা। কিন্তু এ ধর্মতত্ত্বের মহত্তম দিক হলো এ রকম ধারণা যে, স্বয়ং কৃষ্ণই চৈতন্যরূপ নিয়েছেন নিজের মধ্যে রাধাপ্রেম অনুভব করার জন্য, যাকে বলা যেতে পারে, তথাকথিত দ্বৈতাদ্বৈত বা যুগলাবতার। রাধা ও কৃষ্ণ অভিন্ন সত্তায় বিলীন; চিরদিন বিচ্ছিন্ন ও চিরদিন মিলিত। এ দৃষ্টিভঙ্গি ভক্তির স্বরূপ ব্যাখ্যায় রামানন্দ রায়ের বিখ্যাত প্রশ্নোত্তরমূলক আলেখ্যে উন্মোচিত হয়েছে (২.৮), কিন্তু এ তত্ত্ব চৈতন্যের জীবনের শেষাংশে পুরীতে চৈতন্যের অনুলেখক স্বরূপ দামোদরের উপর আরোপিত। এ মহান ধর্মতত্ত্ব চৈতন্যের অবতারত্ব সম্পর্কে গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের পরবর্তী সকল ব্যাখ্যায় যথোপযুক্ত মান তৈরি করেছে।

ভক্তি কল্পতরুর রূপকসংগঠনের সাহয্যে আদি লীলার সর্গগুলি চৈতন্যের পরিচয় ও বংশধারা (১. ১-৪, ১-১০), তাঁর ঘনিষ্ঠতম পরিকরেরা এবং তাদের পরম্পরা যেমন নিত্যানন্দ (১.৫ ; ১.১১), অদ্বৈত আচার্য (১.৬ ; ১.১২), গদাধর (১.৭ ; ১.১২) এবং অন্যান্য ভক্তের (১.৮-৯) প্রতি নিবেদিত। এ খন্ডে গৃহত্যাগ করে চৈতন্যের সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ পর্যন্ত কাহিনী সংক্ষিপ্ত বর্ণনার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে (১. ১৩-১৭)। এটি চৈতন্যভাগবতের বিষয়বস্ত্তর কার্যকর রোমন্থন।

মধ্য লীলায় রয়েছে চৈতন্যের সন্ন্যাস গ্রহণের বিশদ বিবরণ (২. ১-৩), মাধবেন্দ্র পুরীর আখ্যান (২. ৪-৫), চৈতন্য কর্তৃক পন্ডিত সার্বভৌম-এর ধর্মান্তরণ (২.৬), দক্ষিণে চৈতন্যের তীর্থভ্রমণ (২. ৭-১০)। মধ্য লীলার মধ্য-অংশে পাওয়া যায় জগন্নাথের রথযাত্রা ও অন্যান্য উৎসবের কালে চৈতন্য ও তাঁর ভক্তদের প্রাত্যহিক ও বাৎসরিক কর্মকান্ড। মধ্য লীলার শেষাংশে আছে রূপ ও সনাতনের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারের বিশদ বর্ণনা (২. ১৭-২৫), যার মধ্যে রয়েছে পার্থিব ভক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ষড় গোস্বামীদের দ্বারা বিকশিত ধর্মতত্ত্ব ও নান্দনিক তত্ত্বের অবস্থান।

অন্ত্যলীলা ভক্তিরস সৃষ্টির বাহন হিসেবে রূপ গোস্বামী প্রণীত নাটকগুলির জরিপ দিয়ে শুরু হয়েছে। চৈতন্যের জীবনের অন্তিম পর্বে অসংখ্য ভক্তের ও কখনও কখনও ভাষ্যকারের কর্মাবলি এবং চৈতন্যের সঙ্গে তাঁদের পারস্পরিক ভাব বিনিময় বিশেষত হরিদাস, রঘুনাথ দাস ও জগদানন্দের তাৎপর্যপূর্ণ কাহিনী গল্পকাহিনী আকারে পরিবেশিত হয়েছে। বিরহ অর্থাৎ কৃষ্ণ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার আকুল উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ার পরে রয়েছে চৈতন্য জীবনীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ। খন্ডটি সমাপ্ত হয়েছে চৈতন্যের নামে আরোপিত বিখ্যাত ‘শিক্ষাষ্টক’ অর্থাৎ আটটি শ্লোকে ব্যক্ত চৈতন্যের নির্দেশ দিয়ে।

চৈতন্য চরিতামৃতের পান্ডুলিপিগুলি একই রকমের এবং মুদ্রিত সংস্করণে অতি সামান্য হেরফের হয়েছে। একইভাবে এটি ষোল শতকে জীবনী রচনায় গুরু-পরম্পরার আদর্শ তৈরীতে তাৎপর্য সৃষ্টি করেছে। আর টীকাভাষ্য দিয়ে পুথির মুদ্রণে উনিশ ও বিশ শতকের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি এমনই রীতি যা আজ পর্যন্ত অনুসৃত হয়ে চলেছে এবং একটি বৃহত্তর গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন দলকে একাত্ম করার ব্যবস্থা করেছে। [WORDS:-918]

Chaitanya Charitamrita of Krishnadasa Kaviraja holds the place of honor as the authoritative final word in the hagiographical tradition devoted to Krsna Chaitanya (1486-1533 AD). The book serves as a compendium of Vaisnava lore that provides the details of Chaitanya’s life, especially the years of his renunciation, and how that life exemplified model devotion. The text outlines the basic theological positions developed by the Gosvamis in metaphysics, ontology, and aesthetics, and provides synopses of rituals appropriate to devotees. Because it is encyclopedic, it is the most often reproduced text within the tradition and serves as a theological standard against which all other writings are measured. It is from this text that devotees first understood the connection between the Gosvami writings as a coherent and systematic theology and the life of Chaitanya, for Krsnadasa was senior among the handful of devotees who studied with all of them.

Writing from Vrndavana, he finished this lengthy book toward the end of his life, although precisely when that was, is still debated within the scholarly community. Citations within the text declare a date some time after 1592, but the consensus argues for a considerably later date between 1609 and 1615. Any of these dates place the text at the end of the creative period of Chaitanya hagiography, which began in Sanskrit with Murari Gupta’s Krsna Chaitanyacharitamrta or Kadacha (c 1533) and the Bengali chaitanya bhagavata of Vrndavana Dasa (c mid-1540s). Although massive in size, the book was frequently copied and widely circulated in Bengal and Orissa in the early decades of the 17th century by a trio of students trained by the surviving Gosvamis and Krsnadasa: Srinivasa, Narottamadasa, and Shyamananda.

The sheer volume of the text undoubtedly contributed to its influence, for in its current critical edition the text stretches to approximately 24,000 lines of Bengali, written primarily in payara couplet with numerous passages in tripadi or three-footed metre. In addition the text intersperses more than one thousand couplets from seventy-five Sanskrit sources starting with the itihasas and puranas, especially the Bhagavata and the Gita, but also numerous citations of ritual manuals (tantra), poetry (kavya), aesthetic theory (rasa-shastra, nataka), and a host of metaphysical, commentarial, and eulogistic texts (tattva, bhasya, stotra, etc). Its size makes it second in length only to the slightly larger Chaitanya Bhagavata, and its organisation likewise parallels that of the Chaitanya Bhagavata.

Like the Chaitanya Bhagavata, the Chaitanya Charitamrta is divided into three sections- adi, madhya, antya – of 17, 25, and 20 chapters respectively. Krsnadasa explicitly drew numerous comparisons between the Chaitanya Bhagavata and his own narrative, which suggests that the mirror organisation was very deliberate. This rhetorical strategy invites the reader to conclude that the Chaitanya Charitamrta simply continued what the Chaitanya Bhagavata began with its narrative some seven or eight decades earlier. While the Chaitanya Bhagavata concentrates on Chaitanya’s life in Navadvipa when he was still a householder devotee, the Chaitanya Charitamrta focuses on his life after renunciation in Puri and on his pilgrimages. The result of these many comparisons has led the tradition tacitly to acknowledge that the Chaitanya Charitamrta is the conclusion of the hagiographical tradition.

Following a strategy of non-contradiction and conciliation, he included each of the current theories of divinity into a progressive or inclusive hierarchy of preferred forms (1.1-4; 2.8; 2.20-21): angsha or ‘partial incarnations’, yugavatara for the Kali Age, and all other forms such as manvantara, dashavatara, vyuha, and so forth. This inclusiveness was possible because, following the Chaitanya Bhagavata, Krsnadasa declared Chaitanya not to be simply a descent of God, but svayang bhagavan, the complete godhead, which meant that Chaitanya was the avatarin that included all forms of descent. The mechanism for effecting this wide dispersal of devotion was the community around Chaitanya himself, personified as the pancha tattva composed of Chaitanya, Advaitacharya, Nityananda, Gadadhara, and Shrivasa, who represents the other devotees. But the most novel aspect of this theology was the assertion that Chaitanya was the form assumed by Krsna in order to experience Radha’s love for himself, the so-called androgynous or ‘dual’ incarnation: Radha and Krsna fused into a single entity, forever separate, forever in union. This perspective was revealed in the narrative by Ramananda Raya in the famous exchange of questions and answers about the nature of devotion (2.8), but its theory attributed to Svarupa Damodara, Chaitanya’s amanuensis in Puri during the last half of his life. This novel theology has become the standard interpretation for all subsequent Gaudiya Vaisnava interpretations of Chaitanya’s descent.

Organised through the metaphor of the wishing tree of devotion (bhaktikalpataru), the adi lila devotes chapters to Chaitanya’s identity and personal lineage (1.1-4; 1.10), and his closest companions and their paramparas: Nityananda (1.5; 1.11), Advaitacharya (1.6; 1.12), Gadadhara (1.7; 1.12), and the other devotees (1.8-9). This section ends with a brief summary of the years of Chaitanya’s life up to his renunciation (1.13-17), an effective recapitulation of the contents of the Chaitanya Bhagavata.

The madhya lila details his renunciation (2.1-3), stories of Madhavendra Puri (2.4-5), Caityanya’s conversion of the scholar Sarvabhauma (2.6), his pilgrimage south (2.7-10). The mid-portion of madhya lila gives examples of the daily and annual activities of Chaitanya and his devotees during the Jagannatha car festival or rathayatra, and other festivities (2.11-16). The last part of madhya lila details his important meetings with Rupa and Sanatana (2.17-25), and which includes extensive outlines of the theological positions of Gosvami-developed theology and aesthetic theory as applied to practical devotion.

The antya lila begins with surveys of the plays composed by Rupa as vehicles to produce devotional rasa (3.1). Activities of various devotees and occasional critics and their interactions with Chaitanya during the last phase of his life are given anecdotally (3.2-12), especially including significant tales of Haridasa, Raghunatha Dasa, and Jagadananda. Chaitanya’s increasing experience of the searing agony of separation from Krsna known as viraha (3.13-19) is followed by the summary of the life of Chaitanya, and concludes with the famous siksastaka or instruction in eight verses attributed to Chaitanya himself.

Manuscripts are uniform and printed editions vary only slightly. In the same way that writing a biography signified legitimacy for a guru-parampara in the 16th century, printing the text with a commentary established legitimacy in the 19th and 20th centuries, a practice that continues today and which serves to align different groups within the larger Gaudiya group.

Go top


TRANSLATE WITHIN 20 MINUTES 

3

জৈব কৃষিব্যবস্থা (Organic Farming)  সাংশ্লেষিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল না হয়ে শস্য উৎপাদনের এক প্রকার কৃষিব্যবস্থা। সম্পূর্ণরূপে জৈববস্ত্ত ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল কৃষিব্যবস্থাকে বর্তমানে ইকোলজিক্যাল কৃষিব্যবস্থা বলা হয়। ইকোলজিক্যাল বা জৈব কৃষিব্যবস্থায় পরিবেশের ওপর চিরাচরিত কৃষিব্যবস্থায় সৃষ্ট কিছু নেতিবাচক প্রভাব হ্রাসের সম্ভাবনা আছে। জৈব কৃষিব্যবস্থায় সাংশ্লেষিক সারের ব্যবহার হ্রাস বা সাংশ্লেষিক সার ব্যবহার না করার ফলে পরিবেশগত মারাত্মক ক্ষতি এবং বন্যপ্রাণীর ওপর বিরূপ প্রভাব হ্রাস করতে পারে। সাংশ্লেষিক সার মৃত্তিকার ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব ধর্মাবলি উন্নত করে না কিন্তু এসব ধর্মের ওপর জৈববস্ত্তর অনুকূল প্রভাব রয়েছে। সুতরাং জৈববস্ত্তর ব্যবহার মৃত্তিকার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এবং সে সঙ্গে মৃত্তিকার উত্তম অবস্থা ধরে রাখতে প্রয়োজনীয়। সারা পৃথিবীব্যাপী বর্তমান সময়ে ব্যবহূত অতি পরিচিত জৈব বস্ত্তগুলো হলো জীবাণুসার, হিউমেট সার, শস্যের অবশেষ, সবুজ সার, গোয়ানো (এক প্রকার পাখির বিষ্ঠা), হাড়ের গুঁড়া, কম্পোস্ট, খামারজাত সার, মাছের গুঁড়া, মাছের বর্জ্য, তরল জৈব সার, নর্দমার আবর্জনা, স্লারি (slurry) ইত্যাদি। রাসায়নিক সার আগমনের পূর্বে বাংলাদেশের কৃষি সম্পূর্ণরূপে জৈব পদার্থ ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। প্রাণিজ সার, শস্য অবশেষ এবং গৃহস্থালির বর্জ্য এ তিনটি প্রধান উৎস থেকে জৈব সার ব্যবহার করা হতো। কিন্তু রাসায়নিক সার ব্যতীত কৃষি কাজ অবাস্তব বলে মনে হয়। কারণ দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিতে উন্নতমানের কৃষি সামগ্রীর চেয়ে বরং অধিক খাদ্যের প্রয়োজন।

বাংলাদেশের মোট আবাদী এলাকার মধ্যে প্রায় ১৩% তিন ফসলী, ৫০% দো-ফসলী এবং বাদবাকি ৩৭% এলাকা এক ফসলী চাষের অন্তর্ভুক্ত। এসব মৃত্তিকাতে বোরো, আমন ও রবিশস্য আবাদ করা হয়। কৃষকদের মধ্যে অনেকেই কেবল রাসায়নিক সার, কেউ কেউ রাসায়নিক ও জৈব সার এবং কেউ কেউ কেবল জৈব সার ব্যবহার করছে। জৈব সারের মধ্যে খৈল, গৃহস্থালির বর্জ্য, খামার সার, খামারজাত সার এবং কচুরিপানা অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং বাংলাদেশের সার্বিক কৃষিব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল।

সাংশ্লেষিক সার ও অন্যান্য রাসায়নিক বস্ত্তর অবিরত ব্যবহার মৃত্তিকার ধর্মাবলির ওপর ইতোমধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং এর ফলে উৎপাদন মাত্রায় স্থবির বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিম্নমুখী হয়েছে। মৃত্তিকার স্বাভাবিক উৎপাদনশীলতা উদ্ধার করতে জৈব পদার্থ অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। অধিকন্তু, জৈব কৃষিব্যবস্থাকে  শাকসবজি ও উদ্যান শস্য উৎপাদনের জন্যও সম্প্রসারিত করা যেতে পারে।

Organic Farming is a system of farming practices which is different from conventional farming that is heavily dependent on the use of synthetic fertilisers and pesticides. Organic farming is currently termed as ecological farming based solely on organic inputs. Ecological or organic farming systems have the potentials to reduce some of the negative impacts of conventional agriculture on the environment. The reduction or non-use of synthetic chemicals with organic farming system can decrease the environmental hazards and possible adverse effects on wildlife. Organic materials improve the physical, chemical and biological properties of soil in contrast to synthetic fertilisers. Use of organic materials is, therefore, necessary to sustain the productivity of soils as well as soil health. The most common organic materials which are currently used throughout the world are biofertilisers, humate fertilisers, manure spreaders, crop residues, green manure, guano, bone meals, compost, farmyard manure, fish meal, fish wastes, liquid manure, sewage sludge, slurry, etc.

Before the advent of chemical fertilisers the agriculture of Bangladesh was solely dependent on the use of organic materials. Three major sources of organic materials were animal manure, crop residues and domestic wastes. But agricultural practices without chemical fertilisers seem to be impractical because the country demands more production to keep pace with increasing population rather than quality products.

In Bangladesh, approximately 13% of the total cropped area is triple cropped, 50% double cropped and the remaining 37% areas are single cropped, settlement and water bodies. These soils are mainly used for Boro, Aman and Rabi crops. Some of the farmers are using chemical fertilisers, some are using chemical and organic fertilisers and some of the farmers are using only organic manure. Manure includes oil cake, household wastes, farm manure, farmyard manure and water hyacinth. Thus overall farming system of Bangladesh is very complex.

Continuous application of synthetic fertiliser and other chemicals has already created adverse effects on soil properties and as a consequence yield stagnation or even yield decline have resulted. To restore natural productivity of the soils use of organic materials is a must. Moreover, organic farming can also be extended for the production of vegetables and horticultural crops.

Go top

 

Bengali to English Translation-page-19

TRANSLATE WITHIN 40 MINUTES

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ হুগলী জেলার অন্তঃপাতী কামারপুকুর গ্রামে এক সদ্‌ব্রাহ্মণের ঘরে ফাল্গুনের শুক্লা দ্বিতীয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। কামারপুকুর গ্রাম জাহানাবাদ (আরামবাগ) হইতে চার ক্রোশ পশ্চিমে, আর বর্ধমান হইতে ১২।১৩ ক্রোশ দক্ষিণে।

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মদিন সম্বন্ধে মতভেদ আছে:

অম্বিকা আচার্যের কোষ্ঠী। এই কোষ্ঠী ঠাকুরের অসুখের সময় প্রস্তুত করা হয়, ৩রা কার্তিক ১২৮৬, ইংরেজী ১৮৭৯। উহাতে জন্মদিন লেখা আছে ১৭৫৬ শক, ১০ই ফাল্গুন, বুধবার, শুক্লা দ্বিতীয়া, পূর্বভাদ্রপদ নক্ষত্র। তাঁহার গণনা ১৭৫৬।১০।৯।৫৯।১২।

ক্ষেত্রনাথ ভট্টের ১৩০০ সালে গণনা, ১৭৫৪।১০।৯।০।১২। এই মতে ১৭৫৪ শক, ১০ই ফাল্গুন, বুধবার, শুক্লা দ্বিতীয়া, পূর্বভাদ্রপদ — সব মিলে। ১২৩৯ সাল, ২০শে ফেব্রুয়ারি ১৮৩৩। লগ্নে রবি চন্দ্র বুধের যোগ।কুম্ভরাশি। বৃহস্পতি শুক্রের যোগহেতু, “সম্প্রদায়ের প্রভু হইবেন।”

নারায়ণ জ্যোর্তিভূষণের নূতন কোষ্ঠী (মঠে প্রস্তুত)। এ-গণনা অনুসারে ১২৪২ সালে, ৬ই ফাল্গুন বুধবার; ১৮৩৬, ১৭ই ফেব্রুয়ারি ভোর রাত্রি ৪টা ফাল্গুন শুক্লা দ্বিতীয়া, ত্রিগ্রহের যোগ, নক্ষত্র — সব মিলে। কেবল অম্বিকা আচার্যের লিখিত ১০ই ফাল্গুন হয় না। ১৭৫৭।১০।৫।৫৯।২৮।২১।

ঠাকুর মানব-শরীরে ৫১/৫২ বৎসর কাল ছিলেন।

ঠাকুরের পিতা ৺ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় অতি নিষ্ঠাবান ও পরম ভক্ত ছিলেন। মা ৺চন্দ্রমণি দেবী সরলতা ও দয়ার প্রতিমূর্তি ছিলেন। পূর্বে তাঁহাদের দেরে নামক গ্রামে বাস ছিল। কামারপুকুর হইতে দেড় ক্রোশ দূরে। সেই গ্রামস্থ জমিদারের হইয়া মোকদ্দমায় ক্ষুদিরাম সাক্ষ্য দেন নাই। পরে স্বজন লইয়া কামারপুকুরে আসিয়া বাস করেন।

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ছেলেবেলার নাম গদাধর। পাঠশালে সামান্য লেখাপড়া শিখিবার পর বাড়িতে থাকিয়া ৺রঘুবীরের বিগ্রহ সেবা করিতেন। নিজে ফুল তুলিয়া আনিয়া নিত্যপূজা করিতেন। পাঠশালে। “শুভঙ্করী ধাঁধাঁ লাগত”।

নিজে গান গাহিতে পারিতেন — অতিশয় সুকণ্ঠ। যাত্রা শুনিয়া প্রায় অধিকাংশ গান গাহিয়া দিতে পারিতেন। বাল্যকালাবধি সদানন্দ। পাড়ায় আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই তাঁহাকে ভালবাসিতেন।

বাড়ির পাসে লাহাদের বাড়ি, সেখানে অতিথিশালা — সর্বদা সাধুদের যাতায়াত ছিল। গদাধর সেখানে সাধুদের সঙ্গ ও তাঁহাদের সেবা করিতেন। কথকেরা যখন পুরাণ পাঠ করিতেন, তখন নিবিষ্ট মনে সমস্ত শুনিতেন। এইরূপে রামায়ণ, মহাভারত, শ্রীমদ্ভাগবত-কথা — সমস্ত হৃদয়ঙ্গম করিলেন।

একদিন মাঠ দিয়া বাড়ির নিকটবর্তী গ্রাম আনুড়ে যাইতেছিলেন। তখন ১১ বৎসর বয়স। ঠাকুর নিজ মুখে বলিয়াছেন, হঠাৎ তিনি অদ্ভুত জ্যোতিঃ দর্শন করিয়া বাহ্যশূন্য হয়েন। লোকেরা বলিল, মূর্ছা — ঠাকুরের ভাবসমাধি হইয়াছিল।

৺ক্ষুদিরামের মৃত্যুর পর ঠাকুর জ্যেষ্ঠভ্রাতার সঙ্গে কলিকাতায় আসিলেন। তখন তাঁহার বয়স ১৭/১৮ হইবে। কলিকাতায় কিছুদিন নাথের বাগানে, কিছুদিন ঝামাপুকুরে গোবিন্দ চাটুজ্যের বাড়িতে থাকিয়া, পূজা করিয়া বেড়াইতেন। এই সূত্রে ঝামাপুকুরের মিত্রদের বাড়িতে কিছুদিন পূজা করিয়াছিলেন।

রাণী রাসমণি কলিকাতা হইতে আড়াই ক্রোশ দূরে, দক্ষিণেশ্বরে কালীবাড়ি স্থাপন করিলেন। ১২৬২ সাল ১৮ই জৈষ্ঠ, বৃহস্পতিবার, স্নানযাত্রার দিন।(ইংরেজী ৩১শে মে, ১৮৫৫ খ্রীষ্টাব্দ)। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের জ্যেষ্ঠভ্রাতা পণ্ডিত রামকুমার কালীবাড়িতে প্রথম পূজারী নিযুক্ত হইলেন। ঠাকুরও মাঝে মাঝে কলিকাতা হইতে আসিতেন ও কিছুদিন পরে নিজে পূজাকার্যে নিযুক্ত হইলেন। তখন তাঁহার বয়স ২১/২২ হইবে। মধ্যমভ্রাতা রামেশ্বরও মাঝে মাঝে কালীবাড়ির পূজা করিতেন। তাঁহার দুই পুত্র — শ্রীযুক্ত রামলাল ও শ্রীযুক্ত শিবরাম ও এক কন্যা শ্রীমতী লক্ষ্মী দেবী।

কয়েকদিন পূজা করিতে করিতে শ্রীরামকৃষ্ণের মনের অবস্থা আর একরকম হইল। সর্বদাই বিমনা ও ঠাকুর প্রতিমার কাছে বসিয়া থাকিতেন।

আত্মীয়েরা এই সময় তাঁহার বিবাহ দিলেন — ভাবিলেন, বিবাহ হইলে হয়তো অবস্থান্তর হইতে পারে। কামারপুকুর হইতে দুই ক্রোশ দূরে জয়রামবাটী গ্রামস্থ ৺রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কন্যা শ্রীশ্রীসারদামণি দেবীর সঙ্গে বিবাহ হইল, ১৮৫৯ খ্রীষ্টাব্দ। ঠাকুরের বয়স ২২/২৩, শ্রীশ্রীমার ৬ বৎসর।

বিবাহের পর দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ফিরিয়া আসিবার কিছুদিন পরে তাঁহার একেবারে অবস্থান্তর হইল। কালী-বিগ্রহ পূজো করিতে করিতে কী অদ্ভুত ঈশ্বরীয় রূপ দর্শন করিতে লাগিলেন। আরতি করেন, আরতি আর শেষ হয় না। পূজা করিতে বসেন, পূজা শেষ হয় না; হয়তো অপনার মাথায় ফুল দিতে থাকেন।

পূজা আর করিতে পারিলেন না — উন্মাদের ন্যায় বিচরণ করিতে লাগিলেন। রানী রাসমণির জামাতা মথুর তাঁহাকে মহাপুরুষবোধে সেবা করিতে লাগিলেন ও অন্য ব্রাহ্মণ দ্বারা মা-কালীর পূজার বন্দোবস্ত করিয়া দিলেন। ঠাকুরের ভাগিনেয় শ্রীযুক্ত হৃদয় মুখোপাধ্যায়ের উপর মথুরবাবুর এই পূজার ও ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সেবার ভার দিলেন।

ঠাকুর আর পূজাও করিলেন না, সংসারও করিলেন না — বিবাহ নামমাত্র হইল। নিশিদিন মা! মা! কখন জড়বৎ — কাষ্ঠপুত্তলিকার ন্যায়, কখনও উন্মাদবৎ বিচরণ করেন। কখনও বালকের ন্যায় — কখনও কামিনী-কাঞ্চনাসক্ত বিষয়ীদের দেখিয়া লুকাইতেন। ঈশ্বরীয় লোক ও ঈশ্বরীয় কথা বই আর কিছু ভালবাসেন না। সর্বদাই মা! মা!

কালীবাড়িতে সদাব্রত ছিল (এখনও আছে) — সাধু-সন্ন্যাসীরা সর্বদা আসিতেন। তোতাপুরী এগার মাস থাকিয়া ঠাকুরকে বেদান্ত শুনাইলেন; একটু শুনাইতে শুনাইতে তোতা দেখিলেন, ঠাকুরের নির্বিকল্পসমাধি হইয়া থাকে। সম্ভবতঃ ১৮৬৬ খ্রীষ্টাব্দ।

ব্রাহ্মণী পূর্বেই (১৮৫৯) আসিয়াছেন, তিনি তন্ত্রোক্ত অনেক সাধন করাইলেন ও ঠাকুরকে শ্রীগৌরাঙ্গজ্ঞানে শ্রীচরিতামৃতাদি বৈষ্ণবগ্রন্থ শুনাইলেন। তোতার কাছে ঠাকুর বেদান্ত শ্রবণ করিতেছেন দেখিয়া, ব্রাহ্মণী তাঁহাকে সাবধান করিয়া দিতেন ও বলিতেন, “বাবা, বেদান্ত শুন না — ওতে ভাব-ভক্তি সব কমে যাবে।”

বৈষ্ণব পণ্ডিত বৈষ্ণবচরণও সর্বদা আসিতেন। তিনিই ঠাকুরকে কলুটোলায় চৈতন্যসভায় লইয়া যান। এই সভাতে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবাবিষ্ট হইয়া শ্রীচৈতন্যদেবের আসনে গিয়া উপবিষ্ট হইয়াছিলেন। বৈষ্ণবচরণ চৈতন্যসভার সভাপতি ছিলেন

বৈষ্ণবচরণ মথুরকে বলিয়াছিলেন, এ-উন্মাদ সামান্য নহে — প্রেমোন্মাদ। ইনি ঈশ্বরের জন্য পাগল। ব্রাহ্মণী ও বৈষ্ণবচরণ দেখিলেন, ঠাকুরের মহাভাবের অবস্থা। শ্রীচৈতন্যদেবের ন্যায় কখনও অন্তর্দশা (তখন জড়বৎ সমাধিস্থ), কখন অর্ধবাহ্য, কখনও বা বাহ্যদশা।

ঠাকুর‘মা’‘মা’করিয়া কাঁদিতেন, মার কাছে উপদেশ লইতেন। বলিতেন, “মা তোর কথা কেবল শুনব; আমি শাস্ত্রও জানি না, পন্ডিতও জানি না। তুই বুঝাবি তবে বিশ্বাস করব।” ঠাকুর জানিতেন ও বলিতেন, যিনি পরব্রহ্ম, অখন্ড সচ্চিদানন্দ, তিনিই মা।

ঠাকুরকে জগন্মাতা বলিয়াছিলেন, “তুই আর আমি এক। তুই ভক্তি নিয়ে থাক — জীবের মঙ্গলের জন্য। ভক্তেরা সকলে আসবে। তোর তখন কেবল বিষয়ীদের দেখতে হবে না; অনেক শুদ্ধ কামনাশূন্য ভক্ত আছে, তারা আসবে।” ঠাকুরবাড়িতে আরতির সময় যখন কাঁসরঘন্টা বাজিত, তখন শ্রীরামকৃষ্ণ কুঠিতে গিয়া উচ্চৈঃস্বরে ডাকিতেন, “ওরে ভক্তেরা, তোরা কে কোথায় আছিস, শীঘ্র আয়।”

মাতা চন্দ্রমণি দেবীকে ঠাকুর জগজ্জননীর রূপান্তরজ্ঞান করিতেন ও সেইভাবে পূজা করিতেন। জ্যেষ্ঠভ্রাতা রামকুমারের স্বর্গলাভের পর মাতা পুত্রশোকে কাতরা হইয়াছিলেন; তিন-চারি বৎসরের মধ্যে তাঁহাকে কালীবাড়িতে আনাইয়া নিজের কাছে রাখিয়া দিয়াছিলেন ও প্রত্যহ দর্শন, পদধূলি গ্রহণ ও “মা কেমন আছ” জিজ্ঞাসা করিতেন।

ঠাকুর দুইবার তীর্থে গমন করেন। প্রথমবার মাকে সঙ্গে লইয়া যান, সঙ্গে শ্রীযুক্ত রাম চাটুজ্যে ও মথুরবাবুর কয়েকট পুত্র। তখন সবে কাশির রেল খুলিয়াছে। তাঁহার অবস্থান্তরের ৫/৬ বৎসরের মধ্যে। তখন অহর্নিশ প্রায়ই সমাধিস্থ বা ভাবে গরগর মাতোয়ারা। এবার বৈদ্যনাথ দর্শনান্তর ৺কাশীধাম ও প্রয়াগ দর্শন হইয়াছিল। ১৮৬৩ খ্রীষ্টাব্দ।

দ্বিতীয়বার তীর্থগমন ইহার ৫ বৎসর পরে, ইংরেজী জানুয়ারি, ১৮৬৮ খ্রীষ্টাব্দে। মথুরবাবু ও তাঁহার স্ত্রী জগদম্বা দাসীর সঙ্গে। ভাগিনেয় হৃদয় এবার সঙ্গে ছিলেন। এ-যাত্রায় ৺কাশীধাম, প্রয়াগ, শ্রীবৃন্দাবন দর্শন করেন। কাশীতে মণিকর্ণিকায় সমাধিস্থ হইয়া বিশ্বনাথের গম্ভীর চিন্ময় রূপ দর্শন করেন — মুমূর্ষুদিগের কর্ণে তারকব্রহ্ম নাম দিতেছেন। আর মৌন ব্রতধারী ত্রৈলঙ্গ স্বামীর সহিত আলাপ করেন। মথুরায় ধ্রুবঘাটে বসুদেবের কোলে শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীবৃন্দাবনে সন্ধ্যা সময়ে ফিরতিগোষ্ঠে শ্রীকৃষ্ণ ধেনু লইয়া যমুনা পার হইয়া আসিতেছেন ইত্যাদি লীলা ভাবচক্ষে দর্শন করিয়াছিলেন, নিধুবনে রাধাপ্রেমে বিভোরা গঙ্গামাতার সহিত আলাপ করিয়া বড়ই আনন্দিত হইয়াছিলেন।

শ্রীযুক্ত কেশব সেন যখন বেলঘরের বাগানে ভক্তসঙ্গে ঈশ্বরের ধ্যান চিন্তা করেন, তখন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ভাগিনেয় হৃদয়ের সঙ্গে তাঁহাকে দেখিতে যান; ১৮৭৫ খ্রীষ্টাব। বিশ্বনাথ উপাধ্যায়, নেপালের ‘কাপ্তেন’এই সময়ে আসিতে থাকেন। সিঁথির গোপাল (‘বুড়ো গোপাল’) ও মহেন্দ্র কবিরাজ, কৃষ্ণনগরের কিশোরী ও মহিমাচরণ এই সময়ে ঠাকুরকে দর্শন করিয়াছিলেন।

ঠাকুরের অন্তরঙ্গ ভক্তেরা ইং ১৮৭৯, ১৮৮০ খ্রীষ্টাব্দ হইতে ঠাকুরের কাছে আসিতে থাকেন। তাঁহারা যখন ঠাকুরকে দেখেন, তখন উন্মাদ অবস্থা প্রায় চলিয়া গিয়াছে। তখন শান্ত সদানন্দ বালকের অবস্থা। কিন্তু প্রায় সর্বদা সমাধিস্থ — কখন জড়সমাধি — কখন ভাবসমাধি — সমাধি ভঙ্গের পর ভাবরাজ্যে বিচরণ করিতেছেন। যেন পাঁচ বৎসরের ছেলে। সর্বদাই মা! মা!

রাম ও মনোমোহন ১৮৭৯ খ্রীষ্টাব্দের শেষ ভাগে আসিয়া মিলিত হইলেন; কেদার, সুরেন্দ্র তার পরে আসিলেন। চুনী, লাটু, নিত্যগোপাল, তারকও পরে আসিলেন। ১৮৮১-র শেষ ভাগে ও ১৮৮২-র প্রারম্ভ, এই সময়ের মধ্যে নরেন্দ্র, রাখাল, ভবনাথ, বাবুরাম, নিরনঞ্জন, মাস্টার, যোগীন আসিয়া পড়িলেন। ১৮৮৩/৮৪ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে কিশোরী, অধর, নিতাই, ছোটগোপাল, বেলঘরের তারক, শরৎ, শশী; ১৮৮৪-র মধ্যে সান্যাল, গঙ্গাধর, কালী, গিরিশ, দেবেন্দ্র, সারদা, কালীপদ, উপেন্দ্র, দ্বিজ ও হরি; ১৮৮৫-র মধ্যে সুবোধ, ছোট নরেন্দ্র, পল্টু, পূর্ণ, নারায়ণ, তেজচন্দ্র, হরিপদ আসিলেন। এইরূপে হরমোহন, যজ্ঞেশ্বর, হাজরা, ক্ষীরোদ, কৃষ্ণনগরের যোগীন, মণীন্দ্র, ভূপতি, অক্ষয়, নবগোপাল, বেলঘরের গোবিন্দ, আশু, গিরীন্দ্র, অতুল, দুর্গাচরণ, সুরেশ, প্রাণকৃষ্ণ, নবাইচৈতন্য, হরিপ্রসন্ন, মহেন্দ্র (মুখো), প্রিয় (মুখুজ্জে), সাধু প্রিয়নাথ (মন্মথ), বিনোদ, তুলসী, হরিশ মুস্তাফী, বসাক, কথকঠাকুর, বালির শশী (ব্রহ্মচারী), নিত্যগোপাল (গোস্বামী), কোন্নগরের বিপিন, বিহারী, ধীরেন, রাখাল (হালদার) ক্রমে আসিয়া পড়িলেন

ঈশ্বর বিদ্যাসাগর, শশধর পণ্ডিত, ডাক্তার রাজেন্দ্র, ডাক্তার সরকার, বঙ্কিম (চাটুজ্যে), আমেরিকার কুক্‌সাহেব, ভক্ত উইলিয়ামস্‌, মিসির সাহেব, মাইকেল মধুসূদন, কৃষ্ণদাস (পাল), পণ্ডিত দীনবন্ধু, পণ্ডিত শ্যামাপদ, রামনারায়ণ ডাক্তার, দুর্গাচরণ ডাক্তার, রাধিকা গোস্বামী, শিশির (ঘোষ), নবীন (মুন্সী), নীলকন্ঠ ইহারাও দর্শন করিয়াছিলেন। ঠাকুরের সঙ্গে ত্রৈলঙ্গ স্বামীর কাশীধামে ও গঙ্গামাতার শ্রীবৃন্দাবনে সাক্ষাৎ হয়। গঙ্গামাতা ঠাকুরকে শ্রীমতী রাধাজ্ঞানে বৃন্দাবন হইতে ছাড়িতে চান নাই।

অন্তরঙ্গ ভক্তেরা আসিবার আগে কৃষ্ণকিশোর, মথুর, শম্ভু মল্লিক, নারায়ণ শাস্ত্রী, ইঁদেশের গৌরী পণ্ডিত, চন্দ্র, অচলানন্দ সর্বদা ঠাকুরকে দর্শন করিতেন। বর্ধমানের রাজার সভাপন্ডিত পদ্মলোচন, আর্যসমাজের দয়ানন্দও দর্শন করিয়াছিলেন। ঠাকুরের জন্মভূমি কামারপুকুর এবং সিওড় শ্যামবাজার ইত্যাদি স্থানের অনেক ভক্তেরা তাঁহাকে দেখিয়াছেন।

ব্রাহ্মসমাজের অনেকে ঠাকুরের কাছে সর্বদা যাইতেন। কেশব, বিজয়, কালী (বসু), প্রতাপ, শিবনাথ, অমৃত ত্রৈলক্য, কৃষ্ণবিহারী, মণিলাল, উমেশ, হীরানন্দ, ভবানী, নন্দলাল ও অন্যান্য অনেক ব্রাহ্মভক্ত সর্বদা যাইতেন; ঠাকুরও ব্রাহ্মদের দেখিতে আসিতেন। মথুরের জীবদ্দশায় ঠাকুর তাঁহার সহিত দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে তাঁহার বাটীতে ও উপাসনাকালে আদি ব্রাহ্মসমাজ দেখিতে গিয়াছিলেন। পরে কেশবের ব্রাহ্মমন্দির ও সাধারণসমাজ — উপাসনাকালে — দেখিতে গিয়াছিলেন। কেশবের বাড়িতে সর্বদা যাইতেন ও ব্রাহ্মভক্তসঙ্গে কত আনন্দ করিতেন। কেশবও সর্বদা, কখন ভক্তসঙ্গে, কখন বা একাকী আসিতেন।

কালনাতে ভগবান দাস বাবাজীর সঙ্গে দেখা হইয়াছিল ঠাকুরের সমাধি আবস্থা দেখিয়া বলিয়াছিলেন — আপনি মহাপুরুষ, চৈতন্যদেবের আসনে বসিবার আপনিই উপযুক্ত।

ঠাকুর সর্বধর্ম-সমন্বয়ার্থ বৈষ্ণব, শাক্ত, শৈব ইত্যাদি ভাব সাধন করিয়া অপরদিকে আল্লা মন্ত্রজপ ও যীশুখ্রীষ্টের চিন্তা করিয়াছিলেন। যে-ঘরে ঠাকুর থাকিতেন সেখানে ঠাকুরদের ছবি ও বুদ্ধদেবের মূর্তি ছিল। যীশু জলমগ্ন পিতরকে উদ্ধার করিতেছেন, এ-ছবিও ছিল। এখনও সে-ঘরে গেলে দেখিতে পাওয়া যায়। আজ ওই ঘরে ইংরেজ ও আমেরিকান ভক্তেরা আসিয়া ঠাকুরের ধ্যান চিন্তা করেন, দেখা যায়।

একদিন মাকে ব্যাকুল হইয়া বলিলেন, “মা তোর খ্রীষ্টান ভক্তেরা তোকে কিরূপে ডাকে দেখব, আমায় নিয়ে চ।” কিছুদিন পরে কলিকাতায় গিয়া এক গির্জার দ্বারদেশে দাঁড়াইয়া উপাসনা দেখিয়াছিলেন। ঠাকুর ফিরিয়া আসিয়া ভক্তদের বলিলেন, “আমি খাজাঞ্চীর ভয়ে ভিতরে গিয়া বসি নাই — ভাবলাম, কি জানি যদি কালীঘরে যেতে না দেয়।”

ঠাকুরের অনেক স্ত্রীলোক ভক্ত আছেন। গোপালের মাকে ঠাকুর মা বলিয়াছিলেন ও “গোপালের মা” বলিয়া ডাকিতেন। সকল স্ত্রীলোককেই তিনি সাক্ষাৎ ভগবতী দেখিতেন ও মা-জ্ঞানে পূজা করিতেন। কেবল যত দিন না স্ত্রীলোককে সাক্ষাৎ মা-বোধ হয়, যত দিন না ঈশ্বরে শুদ্ধাভক্তি হয়, ততদিন স্ত্রীলোক সম্বন্ধে পুরুষদের সাবধান থাকিতে বলিতেন। এমন কি পরম ভক্তিমতী হইলেও তাঁহাদের সম্পর্কে যাইতে বারণ করিতেন। মাকে নিজে বলিয়াছিলেন, “মা, আমার ভিতরে যদি কাম হয়, তাহলে কিন্তু মা গলায় ছুরি দিব।”

ঠাকুরের ভক্তেরা অসংখ্য — তাঁহারা কেহ প্রকাশিত আছেন, কেহ বা গুপ্ত আছেন — সকলের নাম করা অসম্ভব। শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃতে অনেকের নাম পাওয়া যাইবে। বাল্যকালে অনেকে — রামকৃষ্ণ, পতু, তুলসী, শান্তি, শশী, বিপিন, হীরালাল, নগেন্দ্র মিত্র, উপেন্দ্র, সুরেন্দ্র, সুরেন ইত্যাদি; ও ছোট ছোট অনেক মেয়েরা ঠাকুরকে দেখিয়াছিলেন। এক্ষণে তাঁহারাও ঠাকুরের সেবক।

লীলা সংবরণের পর তাঁহার কত ভক্ত হইয়াছেন ও হইতেছেন। মাদ্রাজ, লঙ্কাদ্বীপ, উত্তর-পশ্চিম, রাজপুতনা, কুমাউন, নেপাল, বোম্বাই, পাঞ্জাব, জাপান; আবার আমেরিকা, ইংলণ্ড — সর্বস্থানে ভক্ত-পরিবার ছড়াইয়া পড়িয়াছে ও উত্তরোত্তর বাড়িতেছে। [WORDS:-1620]

Sri Ramakrishna was born to a pious brahmin family in the inland village of Kamarpukur on the second lunar day of the bright fortnight of Phalgun. The village is in the Hooghly district, about eight miles west of Jehanabad (Aram Bag) and about twenty-six miles south of Burdwan. 

There is a difference of opinion on the date of his birth.

During Sri Ramakrishna’s illness, Ambika Acharya read his horoscope and dated his birth on the third of Kartik, 1286 B.Y., A.D. 1879. This gives a date of 1756 Shaka, the 10th of Phalgun, Wednesday, the second day of the bright fortnight, Purva Bhadrapada Nakshatra. His calculation is:  1756/109/59/12. On the other hand Kshetra Nath Bhatt’s calculation in 1300 B.Y. is 1754/10/9/0/12. According to this calculation it is 1754 Shaka, the 10th of Phalgun, Wednesday, the second day of the bright fortnight, Purva Bhadrapada, 1239 B.Y., 20 February 1833. All tally. At this time there is a conjunction of the sun, the moon, and Mercury. It is the sign of Aquarius. Because of the conjunction of Jupiter and Venus, he would be the chief of a religious sect.

Narayana Jyotirbhushan made a new horoscope (at Belur Math). According to his calculation, 1242 B.Y., 6th of Phalgun, Wednesday; 17 February 1836, 4 a.m., the second day of the bright fortnight of Phalgun, when there is a conjunction of the three planets, all the points tally except the 10th of Phalgun given by Ambika Acharya: 1757/10/5/59/28/21. Sri Ramakrishna lived for fifty years. Thakur’s father, Sri Khudiram Chatterji, was a man of firm faith and great devotion. His mother, Chandramani Devi, was the personification of simplicity and kindness. They had lived in a village called Dere about three miles from Kamarpukur, but because of problems relating to Khudiram’s refusal to give evidence in a lawsuit in favour of the landlord at Dere, he moved to Kamarpukur with his family.

Sri Ramakrishna’s childhood name was Gadadhar. He learned elementary reading in primary school but the arithmetic book by Shuvankara confused him, so he left school to stay at home and attend to the household deity, Raghuvir. He himself plucked flowers for worship and performed the daily puja.

His voice was exquisitely sweet, and he could sing almost all the songs he heard in theatrical performances. He was cheerful from childhood. Everyone in the neighbourhood – men and women and children – loved him dearly and felt the attraction of his cheerful nature.

Holy men frequently visited a guesthouse at the garden of the Lahas, near Gadadhar’s home. He would visit them there and serve them. And when the storytellers read from the Puranas, he would listen with rapt attention. In this way he learned all the stories of the Ramayana, the Mahabharata, and the Srimad Bhagavata.

One day when he was eleven years old, Thakur crossed a field to Anur, a nearby village. He later narrated how he had suddenly lost all sense-consciousness when he saw a miraculous light. People thought he had fainted, but he had attained the superconscious state of bhava samadhi.

After the death of his father, Khudiram, Thakur came to Calcutta with his elder brother. He was then seventeen or eighteen years old. In Calcutta he spent some days at Nathair Bagan and a few days at the house of Govinda Chatterji in Jhamapukur.  He performed puja there, as well as at the house of the Mittra family in Jhamapukur.

Rani Rasmani dedicated the Kali Temple at Dakshineswar, which is about five miles from Calcutta, on the 18th of Jaishtha, 1262 B.Y., on the Snana Yatra day, Thursday, 31 May 1855. Sri Ramakrishna’s elder brother, Pundit Ramkumar, was appointed the first priest of the Kali Temple. Thakur used to go there often from Calcutta.  Intime he also was engaged for the puja work. He was at that time twenty-one or twenty-two years old. His second brother, Rameswar, also sometimes performed puja in the Kali Temple. He had two sons, Ramlal and Shivaram, and a daughter, Lakshmi Devi.

After Sri Ramakrishna had performed the worship for some time, a change came over him. He would remain sitting before the image of the Mother, completely absorbed.

Soon after this, his family arranged his marriage. They thought that marriage might change his state of mind. He was married in 1859 to Saradamani Devi, the daughter of Ramchandra Mukherji of Jayrambati, a village about four miles from Kamarpukur. Thakur was twenty-two or twenty-three years old; Saradamani was six.

After his marriage, Sri Ramakrishna returned to the Dakshineswar Kali Temple. Within a few days, his state of mind suddenly changed. When worshiping Mother Kali, he began to have wonderful divine visions. He would perform arati but not bring the arati to a close. He would sit down to perform puja but the puja would not end. At times he offered flowers on his own head. Sometimes he could not carry on the puja, but would wander around like a madman.

Rani Rasmani’s son‑in-law, Mathur, began to revere him as a great man and to serve him.  He arranged for another priest to perform Mother Kali’s worship and for Hriday Mukherji, Thakur’s sister’s son, to be his attendant.

After this, Thakur neither attended to the duties of a priest, nor did he enter into the life of a householder. His marriage was in name only. Day and night “Mother, Mother” was on his lips. First he would be like a wooden figure, then he would move around like a mad person. Sometimes he would appear like a child; sometimes he would hide himself at the sight of worldly people attached to  ‘lust and greed.’ He liked nothing but divine talk and continually murmured, “Mother! Mother!”

In the Kali Temple compound there was (and still is) a free kitchen. Holy men and sannyasins would frequently visit it. Totapuri stayed there for eleven months and expounded the philosophy of Vedanta to Thakur. Within only a few days, Totapuri observed that Thakur went into nirvikalpa samadhi. About the year 1866 the Bhairavi Brahmani (who had come in 1859) led Thakur through several Tantric practices. Looking upon him as Sri Chaitanya, she read him Sri Charitamrita and other Vaishnava holy books. When she saw him listening to Vedanta from Totapuri, the Brahmani warned him, “Baba, don’t listen to Vedanta. It will dilute your ecstasy and love for God.”

Vaishnavcharan, a pundit of the Vaishnava sect, often visited Sri Ramakrishna. It was he who took Thakur to an assembly of Chaitanya’s devotees in Calootola. He was president of the group. In this assembly, Sri Ramakrishna experienced the state of God‑consciousness and stepped up to occupy the seat of Sri Chaitanya.

Vaishnavcharan had said to Mathur, “This madness is not ordinary; it is the madness of love. He is mad for God.” Vaishnavcharan and the Brahmani had seen Thakur’s state of divine ecstasy. Like Chaitanya Deva he sometimes passed into samadhi, the state of superconscious awareness, appearing like a piece of wood, unmindful of the world around him. Then he passed through semi-consciousness and returned again to normal consciousness.

Thakur always talked to the Divine Mother and took instructions from Her. He would also weep, calling out, “Mother, Mother.” He would say, “O Mother, I shall hear You and You alone. I don’t know the sacred books, nor do I know scholars. If You explain to me, only then will I believe.” Thakur knew, and he would say, that He who is the Supreme Being, indivisible Sat-chit-ananda, is the Mother.

The Divine Mother told him, “You and I are one. Live in love and devotion to God for the good of mankind. Many devotees will come to you. Then you won’t have to see only worldly-minded people. There are many devotees who are pure and free from worldly desires.  They will come.”

In the temple at the time of arati, when bells and cymbals rang, Sri Ramakrishna would go to the roof of the kuthi and cry out in a loud voice, “O you devotees, who are you? Where are you? Come soon!”

Thakur looked upon his mother, Chandramani Devi, as another form of the Mother of the Universe and served her with this same spirit. When his elder brother, Ramkumar, passed away, the bereaved mother was stricken with grief. Within three or four years, Thakur asked her to come and stay with him at the Kali Temple. He would go to see her every day, take the dust of her feet, and ask about her welfare.

Thakur went on pilgrimage twice. The first time he took his mother with him. Ram Chatterji and some of Mathur’s sons accompanied them on the first railway line laid to Kashi. This was in 1863, within the period of five or six years of the change in his spiritual state. At that time he was either in samadhi day and night, or he remained overwhelmed and intoxicated in ecstasy. During the pilgrimage, after visiting Vaidyanath, he visited Kashi and Prayag.

His second pilgrimage took place five years later, in January 1868, with Mathur Babu and his wife, Jagadamba Dasi. This time Thakur’s sister’s son, Hriday, was with him. During the journey he visited Kashi, Prayag, and Vrindavan. In Kashi he went into samadhi at the Manikarnika ghat and had a divine vision of Lord Vishvanath whispering the name of Tarak Brahman into the ears of the dying. He also met and spoke to Trailanga Swami, who had taken a vow of silence. In Mathura at the Dhruva ghat, he saw Sri Krishna on the lap of Vasudeva; in holy Vrindavan he saw Sri Krishna with his cows returning in the evening from across the Jamuna.  Such sport he saw with his spiritual eye. In Nidhuvan he was overjoyed to meet and talk with Mother Ganga, who was immersed in love for Radha.

One day in 1875 Sri Ramakrishna went with his nephew, Hriday, to see Keshab Sen at Belgharia.  Keshab was meditating in his garden house with his disciples. By this time Vishwanath Upadhyaya, the Captain from Nepal, had begun to visit him. Gopal of Sinti (the Elder Gopal), Mahendra Kaviraj, Kishori of Krishnanagar, and Mahimacharan had also met Thakur by this time.

The devotees of Sri Ramakrishna’s inner circle began coming to him in 1879-80. When they met him, he had almost passed the state of “divine madness.” He was like a child then, calm and always cheerful. But he was almost always in the state of samadhi, sometimes in jada samadhi (appearing inert, like a piece of wood, unmindful of the world around), at other times in bhava samadhi (immersed in God). Even when not in samadhi, he remained in a state of ecstasy. He seemed like a five-year-old child, always saying, “Mother! Mother!”

Ram and Manmohan met Thakur toward the end of 1879. Kedar and Surendra came next, as well as Chuni, Latu, Nityagopal, and Tarak. During the end of 1881 and the beginning of 1882, Narendra, Rakhal, Bhavanath, Baburam, Balaram, Niranjan, M., and Yogen came. Kishori, Adhar, Nitai, the younger Gopal, Tarak of Belgharia, Sarat, and Sashi came in 1883 and 1884. In the middle of 1884 Sanyal, Gangadhar, Kali, Girish, Devendra, Sarada, Kalipada, Upendra, Dwija, and Hari came.  Subodh, the Younger Narendra, Paltu, Purna, Narayan, Tejchandra, and Haripada came in the middle of 1885. Likewise came Hara Mohan, Yajneshwar, Hazra, Kshirode, Yogen of Krishnanagar, Manindra, Bhupati, Akshay, Navagopal, Govinda of Belgharia, Ashu, Girendra, Atul, Durgacharan, Suresh, Prankrishna, Nabai Chaitanya, Hari Prasanna, Mahendra (Mukherji), Priya Mukherji, Sadhu Priyanath (Manmath), Vinod, Tulasi, Harish Mustafi, Basakh, Kathak Thakur, Sashi of Bali (Brahmachari), Nityagopal (Goswami), Vipin of Konnagar, Bihari, Dhiren, and Rakhal (Haldar) came – one after another.

Ishwar  Vidyasagar, Shashadhar Pundit, Dr. Rajendra, Dr. Sarkar, Bankim (Chatterji), Mr. Cook from the United States, devotee Williams, Mr. Missir, Michael Madhusudan, Krishnadas (Pal), Pundit Dina Bandhu, Pundit Shyamapada, Dr. Ramnarayan, Dr. Durgacharan, Radhika Goswami, Shishir (Ghosh), Navin (a clerk), and Nilkantha had all met Thakur by 1885. He had visited Trailanga Swami in holy Kashi and Mother Ganga in Vrindavan. Taking him as (the incarnation of) Radha (divine love), Mother Ganga had not wanted Thakur  to leave Vrindavan.

Before the devotees of the inner circle came, Krishnakishore, Madhura, Sambhu Mallick, Narayan Shastri, Gauri Pundit of Indesh, Chandra, and Achalananda were frequent visitors to Thakur. The court pundit of the King of Burdwan, Padmalochan, and Dayananda (the founder) of the Arya Samaj also met Thakur. Many devotees of Thakur’s native village, Kamarpukur, and of Sihore and Shyambazar had been drawn to him.

Many members of the Brahmo Samaj met Thakur. Keshab, Vijay, Kali (Bose), Pratap, Shivanath, Amrit, Trailokya, Krishna Bihari, Manilal, Umesh, Hirananda, Bhavani, Nanda Lal, and many other Brahmo devotees often visited him. Thakur also visited them. During Mathur’s lifetime, he and Thakur went to Devendranath Tagore’s house and paid a visit to the Adi Brahmo Samaj during service hours. Later he went to see Keshab’s Brahmo temple and the Sadharan Samaj during the time of worship. He would frequently visit Keshab’s house. How much he would rejoice in the company of Brahmo devotees! Keshab visited him frequently, sometimes with devotees, some-times alone.

At Kalna he met Bhagavan Das Babaji. Seeing Thakur’s state of samadhi, Babaji said, “You are indeed a great spiritual soul. Only you are fit to take the seat of Chaitanya Deva.”

Thakur practiced the disciplines of the Vaishnavas, the Shaktas, the Shaivas; he also recited the name of Allah and meditated upon Christ. He realized that they all led to the same goal. In his room there were pictures of gods and goddesses and an image of the Buddha. There was also a picture showing Jesus Christ saving Peter from drowning. These pictures can still be seen if you go to that room. English and American devotees can now be seen meditating upon Thakur in the room.

One day he implored the Divine Mother, “O Mother, I would like to see how your Christian devotees pray to You. Please take me to a place where they worship You.” In a few days, he went to Calcutta and watched a Christian service, standing at the entrance to the church. When he returned, Thakur said to the devotees, “I didn’t enter the church to sit for fear of the steward [of the Kali Temple]. I said to myself, ‘Maybe he wouldn’t allow me to enter the temple.’”

Thakur had many women devotees. He called Gopal’s Mother “Mother” and referred to her as “Gopal’s Mother.” He looked upon and worshiped all women as incarnations of Bhagavati (the Divine Mother). He said, “As long as a man cannot see a woman as Mother Herself, he cannot have pure love for God.” He warned men to guard themselves against women till that stage is reached. He went so far as to forbid young men to keep the company of even the most devout woman. He once said to the Divine Mother, “Mother, I will run a knife across my throat if any lustful thought arises in my mind.”

Thakur’s devotees are countless. Some are known, others unknown. It is impossible to name all of them. The names of many of them will be found in Sri Sri Ramakrishna Kathamrita. Those who visited him during their boyhood are: Ramakrishna, Paltu, Tulasi, Shanti, Sashi, Vipin, Hiralal, Nagendra Mitra, Upendra, Surendra, and Suren.  A number of little girls also saw Thakur. Now they, too, are his devotees.

Many became his devotees after he ended his divine play and others are still coming. In Madras, Sri Lanka, Uttar Pradesh, Rajputana, Kumaon, Nepal, Bombay, Punjab, Japan, and also in America and England – at all these places the family of devotees continues to grow

 

Subordinate Courts in Bangladesh

Dhaka

Bengali to English Translation-page-18

TRANSLATE WITHIN 60 MINUTES

1

যেহেতু [WHEREAS]সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদের বিধানাবলী পূর্ণরূপে কার্যকর করিবার এবং তৎসংক্রান্ত বিষয়ের জন্য বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন[ expedient to provide] ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

১৷ সংক্ষিপ্ত শিরোনামা[short title]

১৷ (১) এই আইন বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭ নামে অভিহিত হইবে৷

(২) ইহা অবিলম্বে বলবৎ হইবে৷

সংজ্ঞা

২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী[anything repugnant] কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে “অনুচ্ছেদ” অর্থে সংবিধানের অনুচ্ছেদ বুঝাইবে।

প্রবর্তন ও কার্যকরী

৩। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারী অফিস, আদালত, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সাথে যোগাযোগ ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতের সওয়াল জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখিতে হইবে।

(২) ৩(১) উপ-ধারায়[sub-clause] উল্লেখিত কোন কর্ম স্থলে যদি কোন ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় আবেদন বা আপীল করেন তাহা হইলে উহা বেআইনী ও অকার্যকর বলিয়া গণ্য হইবে।

(৩) যদি কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই আইন অমান্য করেন তাহা হইলে উক্ত কার্যের জন্য তিনি সরকারী কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপীল বিধির অধীনে অসদাচরণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং তাহার বিরুদ্ধে সরকারী কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপীল বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৪৷ সরকার সরকারী গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেন৷

______________________________________

2

Translate into Bengali

No one has any right to endanger the life of the people which includes their health and normal longevity[স্বাভাবিক দীর্ঘমেয়াদী ]of an ordinary healthy person. Articles 31 and 32 of the Constitution not only means protection of life and limbs necessary for full enjoyment of life but also includes amongst others protection of health and normal longevity of an ordinary human being. It is the obligation of the State to discourage smoking and consumption of tobacco materials and the improvement of public health by preventing advertisement of tobacco made products[তামাকজাত দ্রব্যগুলির ধূমপান,ব্যবহার এবং তামাকজাত দ্রব্যগুলির বিজ্ঞাপনের]. Though the obligation under Article 18(1) of the Constitution cannot be enforced, State is bound to protect the health and longevity of the people living in the country as right to life guaranteed under Articles 31 and 32 of the Constitution includes protection of health and longevity[দীর্ঘায়ু] of a man free from threats of man-made hazards. Right to life under the aforesaid Articles of the Constitution being fundamental right it can be enforced by this Court to remove any unjustified threat to health and longevity of the people as the same are included in the right to life.

__________________________________________________

3

আদালতের এখতিয়ার এবং প্রদেয় কোর্ট ফির পরিমান নির্ধারনের উদ্দেশ্যে দেওয়ানী মামলার মূল্য বা প্রার্থিত প্রতিকারের বা মামলার বিষয়বস্তুর মূল্য দেখাতে হয় । একে মামলার মূল্যমান (valuation of the suit) বলে । মামলার সঠিক মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে কিনা এবং সঠিক কোর্ট ফি দেয়া হয়েছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব আদালতের ।

কোনো মামলার মূল্যমান এবং প্রদেয় মূল্যানুপাতিক কোর্ট ফির হার কিভাবে নির্ধারিত হবে তা Court Fees Act, ১৮৭০ এর ৭ ধারার বিভিন্ন উপ-ধারায় বর্নিত আছে :-

১. ৭ ধারার (১) ও (২) উপধারা অনুযায়ী টাকার মামলায় দাবীকৃত টাকাই হলো মামলার মূল্যমান ।

২. ৭ ধারার (৩) উপধারা অনুযায়ী টাকা ব্যতীত অস্হাবর মামলা যার বিষয়বস্তুর বাজার মূল্য আছে সেই বাজার মূল্য অনুসারে মামলার মূল্য নির্ধারিত হবে ।

৩. ৭ ধারার (৪) উপধারার ক্লজ (সি), (ডি), (ই) এবং (এফ) অনুযায়ী আনুসঙ্গিক প্রতিকার (consequential relief) সহ ঘোষনামূলক মামলা, নিষেধাÁvর মামলা, জমি সংক্রান্ত বর্তসত্বের মামলা এবং হিসাব সংক্রান্ত মামলায় আরজিতে উল্লেখিত প্রতিকারের মূল্য অনুসারে মামলার মূল্য নির্ধারিত হবে । তবে এই সব মামলার এমন মূল্য নির্ধারন করা যাবেনা যার advalorem court fee ৩০০/- র নিচে হয় ।

৪. ৭ ধারার (৫) উপধারা অনুযায়ী জমি/বাড়ীর দখল সংক্রান্ত মামলায় জমি বা বাড়ীর বাজার মূল্য বা মামলা দায়ের করার আগের ১৫ বছরে এই জমি হতে আয় এর ১৫ গুন ধরে মামলার মূল্যমান নির্ধারিত হবে ।

৫. ৭ ধারার (৬) উপধারা অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার মামলায় নালিশী জমি/ বাড়ীর মূল্য অনুসারে মামলার মূল্য নির্ধারিত হবে ।

৬. ৭ ধারার (৬এ) উপধারা অনুযায়ী সত্ব ঘোষনা সহ এজমালী সম্পত্তি বণ্টন এবং খাস দখল পাওয়ার মামলায় বাদীর অংশের বাজার মূল্য অনুসারে মামলার মূল্য নির্ধারিত হবে ।

৭. ৭ ধারার (৮) উপধারা অনুযায়ী ডিক্রি রদের মামলায় তর্কিত ডিক্রি নির্ধারিত মূল্যমানের হয়ে থাকলে সেই মূল্যই হবে মামলার মূল্য । আর তর্কিত ডিক্রি নির্ধারিত মূল্যমানের না হয়ে থাকলে আগের মামলায় যে কোর্ট ফি দেয়া হয়েছে এই মামলাতেও সেই একই কোর্ট ফি প্রদেয় ।

৮. ৭ ধারার (৯) উপধারা অনুযায়ী বন্ধকী সম্পত্তি বন্ধক মুক্ত করা (redemption of mortgage) এবং বন্ধকী সম্পত্তি বন্ধক খালাসের অধিকার হরণের (foreclosure of mortgage) মামলায় বন্ধকী দলিলে উল্লেখিত কর্জের টাকা অনুসারে মামলার মূল্য নির্ধারিত হবে ।

৯. ৭ ধারার (১০) উপধারা অনুযায়ী চুক্তি প্রবলের মামলায় চুক্তিকৃত পণ অনুসারে মামলার মূল্য নির্ধারিত হবে ।

১০. ৭ ধারার (১১) উপধারা অনুযায়ী ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের মামলায় মামলা দায়ের করার আগের ১ বছরের ভাড়ার সমান মামলার মূল্য নির্ধারিত হবে ।

Court Fees Act, ১৮৭০ এর ৮গ ধারা অনুযায়ী আদালত যদি মনে করে যে আরজিতে মামলার যে মূল্যমান দেয়া হয়েছে তা সঠিক নয় তাহলে আদালত সঠিক মূল্যমান নির্ণয় করতে এবং মূল্যমান পরিবর্তন করতে পারবেন ।[WORDS:-400]

___________________________________________________

 GO TO FIRST PAGE – TRANSLATION

Bengali to English Translation-page-17

GO TO FIRST PAGE – TRANSLATION

Legal discourse

মেয়ের বিয়েতে উপহার দেওয়া খাট বছর ঘুরতে না-ঘুরতেই[before the completion of the year] ভেঙে গিয়েছে। খাট এত তাড়াতাড়ি[within a short time] ভাঙল কেন, তার উত্তর খুঁজতে বাবা দৌড়লেন জেলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালত থেকে রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা আদালত পর্যন্ত। একটা হেস্তনেস্ত[to see the end] চান তিনি। অভিযুক্ত সংস্থাকে রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের নির্দেশ, নতুন খাট দিতে হবে। সেই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ বাবদ দিতে হবে আট হাজার টাকা।

হুগলির গুড়াপের বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক সোমনাথ মিত্র ২০১২ সালে নভেম্বরে একমাত্র মেয়ের বিয়েতে উপহার দেওয়ার জন্য একটি কাঠের খাট কিনেছিলেন।[  Somnath Mitra,  a retired officer,resident of Gurap of Hoogly , bought a wooden cot to give gift to his only daughter in November 2012.] খাটটি তৈরি করেছিল ধনিয়াখালির একটি সংস্থা। সোমনাথবাবুর অভিযোগ, সেগুন কাঠের বক্সখাটের জন্য তিনি ওই সংস্থাকে ৩২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু এক বছর যেতে না-যেতেই খাট ভেঙে যায়। বারবার বলা সত্ত্বেও[Despite repeatedly saying] বিক্রেতা সংস্থার মালিক বিষয়টিকে আমল দেননি। ‘‘তিন বছর পরে, ২০১৫ সালে ওই সংস্থা লিলুয়ায় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে[at the  daughter-in-law’s house]দু’জন কর্মীকে পাঠায়। কিন্তু সেই কর্মীরা জানিয়ে দেন, খাট সারিয়ে লাভ নেই। ফের তা ভেঙে যেতে পারে,’’ বলেন সোমনাথবাবু।

বাধ্য হয়েই সোমনাথবাবু ২০১৫ সালের জুলাইয়ে ধনিয়াখালির অভিযুক্ত সংস্থা ‘ভারত ট্রেডিং কোম্পানি’র বিরুদ্ধে হুগলি জেলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে মামলা করেন।[Without having option, Somnath Babu  filed a case in July 2015 against the accused company ‘India Trading Company’ of Dhaniakhali in Hooghly District consumer Protection Court.] ২০১৬-র ডিসেম্বরে সেই আদালত নির্দেশ দেয়, অভিযুক্ত সংস্থাকে নতুন সেগুন কাঠের বক্সখাট এবং নগদ ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিযুক্ত সংস্থা মামলা করে রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে। সেই আদালতের বিচারক শ্যামল গুপ্ত ও বিচারক উৎপলকুমার ভট্টাচার্য গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁদের রায়ে বলেন, ‘‘অত্যন্ত নিম্ন মানের কাঠের জন্যই এক বছরের মধ্যে নতুন খাটের খুঁত ধরা পড়েছে। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী বেআইনি ভাবে ব্যবসা চালানোর দায় এড়াতে পারেন না।’’

রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা আদালত নির্দেশ দেয়, অভিযুক্ত সংস্থাকে দে়ড় মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণ বাবদ আট হাজার টাকা এবং নতুন খাট অথবা ২০ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হবে।[State CONSUMER Protection Court directed the accused company to pay eight thousand rupees for compensation within a fortnight and a new bed or  to pay Rs 20,500] কিন্তু মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণের টাকা বা নতুন খাট পাননি সোমনাথবাবু। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘‘এত দূর যখন এসেছি, শেষ দেখে ছাড়ব। আদালত অবমাননার অভিযোগে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে শীঘ্রই মামলা করব।’’ অভিযুক্ত সংস্থা ভারত ট্রেডিং কোম্পানির কর্ণধার শঙ্করচন্দ্র দত্ত অবশ্য বলেন, ‘‘আমরা আদালতের নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য। সোমনাথবাবুকে শীঘ্রই নগদ টাকা এবং নতুন খাট দিয়ে দেব।’’ [WORDS:-319]


2

আফশোস যাচ্ছে না বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের দুর্ঘটনায় জোধপুর পার্কের নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন ১৭ বছরের কিশোরের। [ A teenager undergoing treatment at the Jodhpur Park nursing home in an accident at Belghariya Expressway is notable to consume his grief.]

শনিবার রাতে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বাড়ি ফেরার সময় দশ চাকার লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় [was crushed to death by the wheelদমদমের বাসিন্দা অভিষেক আচার্য (১৮) এবং শিবনাথ টুডুর (১৭)। ঘটনার বাহাত্তর ঘণ্টা পরেও আতঙ্ক কাটেনি ঘটনাচক্রে বেঁচে যাওয়া ঋত্বিক সিংহের[Eventually surviving Ritika Singh failed to overcome the panic]। তিন বন্ধুর কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। স্থানীয় সূত্রের খবর, বাইকচালক অভিষেকের ড্রাইভিং লাইসেন্সও ছিল না। চোখের সামনে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা দুই বন্ধুর পরিণতি দেখার পরে মঙ্গলবার নার্সিংহোমের বিছানায় শুয়ে ঋত্বিক বলে, ‘‘বাইকে আর কোনও দিন চাপতে পারব কি না জানি না। যে ভুল আমরা করেছি, তা যেন আর কেউ না করে। হেলমেট না পরার এত বড় মাসুল দিতে[ to pay the cost] হবে, দু’বন্ধুকে হারিয়ে ফেলতে হবে, কখনও ভাবিনি।’’

ঋত্বিক জানিয়েছে, সুকুর আলি মোড়ে গৃহশিক্ষকের কাছে পড়া শেষে সাইকেল নিয়ে পাড়ায় ঘুরছিল সে। সেই সময় ফোন করে মালঞ্চের কুলিন অ্যাভিনিউয়ে তার বাড়িতে আসার জন্য ঋত্বিককে বলে শিবনাথ। সেখানে আগে থেকেই হাজির ছিল মানিকপুর খালপাড়ের বাসিন্দা অভিষেক। এর পর তিন বন্ধু মিলে ঘুরতে বেরোয় মোটরবাইকে। ঋত্বিকের কথায়, ‘‘প্রথমে নীচের রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিলাম। তখন শিবনাথ বাইক চালাচ্ছিল। এক জায়গায় খাওয়ার পরে ফিরছিলাম আমরা। সে সময়ে অভিষেক বাইক চালাচ্ছিল। একে বৃষ্টি, তার উপরে নীচের রাস্তা অন্ধকার[ It was raining, over that the road below was dark]। দেরি হয়ে যাচ্ছিল বলে[due to getting late] এক্সপ্রেসওয়ে ধরলাম। সেটাই কাল হল।’’

অভিষেকের সঙ্গে গত বছর মাধ্যমিকের পরে আলাপ। শিবনাথের সঙ্গে একেবারে নিচু ক্লাস থেকে বন্ধুত্ব। ঋত্বিক জানিয়েছে, তাদের বাইকের সামনে একটি চার চাকার ছোট গাড়ি ছিল। পিছনে বড় লরি। অভিষেক বাইক চালাচ্ছিল, মাঝে শিবনাথ। বাইকের একেবারে পিছনে বসেছিল ঋত্বিক। মুখ ঘুরিয়ে [turning around the face]ঋত্বিককে কিছু বলতে যায় অভিষেক। ‘‘কথা শেষ করে সামনের দিকে তাকিয়েই দেখে আচমকা ব্রেক কষেছেন সামনের গাড়ির চালক। সজোরে বাইকের ব্রেক কষলেও নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেনি অভিষেক। তিন জনেই রাস্তার উপরে ছিটকে পড়ি।’’— বলল ঋত্বিক। এর পরবর্তী দৃশ্য এখনও বিভীষিকার মতো তাড়া করছে[chasing like a horror] ঋত্বিককে।

এ দিন সে বলে, ‘‘রাস্তার উপরে পড়ার পরে কয়েক মিনিটের জন্য জ্ঞান ছিল না। জ্ঞান ফিরলে দেখলাম আমি লরির মাঝ বরাবর পড়ে রয়েছি। চাকা চলছে। লরির চাকা অভিষেক এবং শিবনাথকে ঘষটে নিয়ে যাচ্ছে। ওই অবস্থায় শিবনাথকে চাকার তলা থেকে বার করার চেষ্টা করি। অভিষেক যে নেই তখনই বুঝে গিয়েছিলাম[ I understood that Avishek is no more] । ট্যাক্সিতে তোলার পরও শিবনাথ বেঁচে ছিল। আমার চোখের সামনে…[Sibnath  was still survived  after he was loaded into the taxi in front of my eyes]’’

বাক্য শেষ করতে পারল না বছর সতেরোর কিশোর। ঋত্বিকের বাবা তপন সিংহ বলেন, ‘‘ছেলে সুস্থ হয়ে উঠলে কাউন্সেলিং করাব। এ ভাবে বন্ধুদের মৃত্যু দেখেছে তো। কতটুকু আর বয়স।’’ ঋত্বিকের ডান পায়ের একাধিক জায়গা ভেঙে গিয়েছে। আজ, বুধবার অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পরে অভিষেক ও শিবনাথের বাড়ি যাবে বলে ঠিক করেছে সে। ‘‘ওদের বাড়ি যেতেই হবে। হয়তো অভিমান করবেন, হয়তো আমায় দেখে ওঁদের দুঃখ বহু গুণ বেড়ে যাবে। কিন্তু তবুও যাব[ but still I shall go ]।’’ এ কথা বলেই[having said so একরাশ আফশোস[with a load of regret] নিয়ে তার স্বগতোক্তি[in a mood of soliloquy], ‘‘কেন যে এত ঝুঁকি নিয়ে হেলমেট ছাড়া বড় রাস্তায় উঠলাম[Why  I took so much risk, and getting into a big street without helmets।’’[WORDS:- 432]


3

আজ, বুধবার সকাল ১১টা থেকে ত্রিস্তর[three tire] পঞ্চায়েতের মনোনয়ন[nomination paper] পত্রের স্ক্রুটিনির কাজ শুরু হওয়ার কথা। পাশাপাশি[besides] এ দিনই সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে মনোনয়ন দাখিল করতে না পারা নিয়ে বিরোধীদের দু’টি মামলার শুনানি হবে। সেই মামলা দুটি থেকে [out of this two cases] তৎক্ষণাৎ কোনও রায় না হলে আপাতত পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে কোনও রদবদলের সম্ভাবনা নেই বলেই কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে।

সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনার অমরেন্দ্রকুমার সিংহ মনোনয়ন জমা এক দিন বাড়িয়ে[extended] দিয়েছিলেন। তা নিয়ে প্রবল আপত্তি ছিল সরকার ও তৃণমূলের। মঙ্গলবার সকালেই মনোনয়ন বাড়ানো সংক্রান্ত নির্দেশটি প্রত্যাহার[withdrawn] করেন কমিশনার। তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যায় বিজেপি। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার কমিশনের সেই নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ[granted stay order] দেন। প্রশ্ন উঠেছিল, তা হলে কি মনোনয়নের দিনক্ষণ আবার বাড়বে। কিন্তু কমিশনের দাবি, সময় বাড়িয়ে ১০ এপ্রিল বেলা ৩টে পর্যন্ত করা হয়েছিল। আদালতের স্থগিতাদেশ তারা হাতে পেয়েছে সেই সময়ের পরে। ফলে দিন বাড়ানোর আর প্রশ্ন নেই। এখন আদালত নতুন করে[a fresh order from the court] কিছু না বললে নির্বাচন পুরনো নির্ঘন্ট[old schedule] মেনেই হবে।


4

মেধা চলে যাচ্ছে, আক্ষেপ শোনা যায়। এ রাজ্য থেকে মেধাবীরা পরিযায়ী হচ্ছেন বলে হা-হুতাশ শোনা যায়। কেন মেধার নির্গমন ঘটছে, তা কিন্তু অনেকেই তলিয়ে ভাবার চেষ্টা করি না। যদি বা কেউ তলিয়ে ভাবি, মেধাবীদের ধরে রাখার বৈধ উপায় আমরা খোঁজার চেষ্টা করি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পিয়ন পদে চাকরি পাওয়ার জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। বিএসসি, বি টেক, এম টেক-এর তো ছড়াছড়ি। পিয়ন পদের জন্য আবেদন করছেন এঁরা!

আমরা আঁতকে উঠছি আজ। কিন্তু আজ নয়, আরও অনেক আগে এই আঁতকে ওঠাটা জরুরি ছিল। উচ্চশিক্ষার মানের সঙ্গে যে দিন থেকে ভয়ঙ্কর আপসটা শুরু হয়েছিল, শিক্ষাকে ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত করার চেষ্টা যে দিন থেকে রূপ পেয়েছিল, তরুণ জনসংখ্যার মধ্যে দ্রুতবেগে বাড়তে থাকা উচ্চশিক্ষার হার যে দিন থেকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্ক পাতিয়ে ফেলেছিল, সেই দিনই আঁতকে ওঠা উচিত ছিল আমাদের। সেই মুহূর্তে বোঝার চেষ্টা করা উচিত ছিল, ভবিষ্যতটা কতখানি মেঘাচ্ছন্ন হয়ে উঠতে পারে। যদি সে দিন আঁতকে উঠতাম, আজ আর পিয়ন পদের জন্য গবেষকের দৌড়ঝাঁপ দেখতে হত না।

মেধার জন্য শুধু হা-হুতাশ করলেই চলে না। মেধার সমাদর করতেও জানতে হয়। সে আমরা কতটুকু করেছি? প্রশ্নটা নিজেদেরই করা দরকার।
মেধাবী ছেলেমেয়ের অভাব নেই এ রাজ্যে। কিন্তু মেধার বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ-পরিস্থিতি জরুরি, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো জরুরি।
মেধার সমাদর বলতে আমরা কী বুঝি? প্রথমত, মেধার বিকাশের বন্দোবস্তকে বুঝি। দ্বিতীয়ত, মেধা অনুযায়ী উপযুক্ত কর্মসংস্থানকে বুঝি।

মেধার বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো জরুরি। উচ্চশিক্ষার জন্য শ’য়ে শ’য়ে প্রতিষ্ঠান মাথা তুলেছে রাজ্য জুড়ে। কিন্তু সে সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পরিকাঠামো কেমন, মেধার বিকাশের সহায়ক বন্দোবস্ত কতটা রয়েছে, ভারতের অন্যান্য প্রদেশের বা পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মানের সঙ্গে আমাদের রাজ্যে মাথা তোলা এই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানের কোনও তুলনা আদৌ হয় কি না, আমরা খুব একটা খোঁজ নিয়ে দেখতে যাইনি। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ইতিউতি। কিন্তু সে সব প্রতিষ্ঠানে তীক্ষ্ণধী ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হয়, নাকি শুধু বি টেক বা এম টেক ডিগ্রি বিতরণ হয়, তা সে ভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি। ফলে বাংলার ছেলেমেয়েরা প্রতিযোগিতার বাজারে অন্য বেশ কিছু রাজ্যের পড়ুয়াদের থেকে পিছিয়ে পড়েছে।

কর্মসংস্থান তো আরওই দেওয়া যায়নি। না সরকারি প্রতিষ্ঠানে বড় সংখ্যক কর্মসংস্থান রয়েছে, না বেসরকারি উদ্যোগের বিপুল বিকাশ ঘটেছে এ রাজ্যে। অতএব, শিক্ষান্তে উপযুক্ত কাজ মিলবে, এমন নিশ্চয়তা বা প্রোত্সাহন পড়ুয়াদের অধিকাংশই পান না এ রাজ্যে।