Bengali to English translation: Difficult Composition-2

অতি বিস্তৃত অরণ্য। অরণ্যমধ্যে অধিকাংশ বৃক্ষই শাল, কিন্তু তদ্ভিন্ন আরও অনেকজাতীয় গাছ আছে। গাছের মাথায় মাথায় পাতায় পাতায় মিশামিশি হইয়া অনন্ত শ্রেণী চলিয়াছে। বিচ্ছেদশূন্য, ছিদ্রশূন্য, আলোকপ্রবেশের পথমাত্রশূন্য; এইরূপ পল্লবের অনন্ত সমুদ্র, ক্রোশের পর ক্রোশ, ক্রোশের পর ক্রোশ, পবনে তরঙ্গের উপরে তরঙ্গ বিক্ষিপ্ত করিয়া চলিয়াছে। নীচে ঘনান্ধকার। মধ্যাহ্নেও আলোক অস্ফূট, ভয়ানক! তাহার ভিতরে কখন মনুষ্য যায় না। পাতার অনন্ত মর্ম্মর এবং বন্য পশুপক্ষীর রব ভিন্ন অন্য শব্দ তাহার ভিতর শুনা যায় না।

Vast, very vast indeed, was the forest. Huge trees stood in endless rows. They entwined each other warmly, and danced with joyous waves in the air. Such was the thickness of the forest that even the blinding light of hot summer days was not visible on the ground. No human dared tread on these grounds.

একে এই বিস্তৃত অতি নিবিড় অন্ধতমোময় অরণ্য; তাহাতে রাত্রিকাল। রাত্রি দ্বিতীয় প্রহর। রাত্রি অতিশয় অন্ধকার কাননের বাহিরেও অন্ধকার, কিছু দেখা যায় না। কাননের ভিতরে তমোরাশি ভূগর্ভস্থ অন্ধকারের ন্যায়। পশুপক্ষী একেবারে নিস্তব্ধ। কত লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি পশু, পক্ষী, কীট, পতঙ্গ সেই অরণ্যমধ্যে বাস করে। কেহ কোন শব্দ করিতেছে না। বরং সে অন্ধকার অনুভব করা যায় – শব্দময়ী পৃথিবীর সে নিস্তব্ধভাব অনুভব করা যাইতে পারে না। সেই অন্তশূন্য অরণ্যমধ্যে, সেই সূচীভেদ্য অন্ধকারময় নিশীথে, সেই অননুভবনীয় নিস্তব্ধ মধ্যে শব্দ হইল, “আমার মনস্কাম কি সিদ্ধ হইবে না?”

It was midnight. On all sides darkness enveloped the forest. And the darkness within was like the darkness in the womb of the earth. The birds and other creatures were all in deep sleep. A heavy silence compounded the blackness of this forest. On such a night in the midst of the forest, a human voice broke the silence by saying, ‘Shall I ever attain my hearts desire?’

শব্দ হইয়া আবার সে অরণ্যানী নিস্তব্ধে ডুবিয়া গেল; তখন কে বলিবে যে, এ অরণ্যমধ্যে মনুষ্যশব্দ শুনা গিয়াছিল? কিছুকাল পরে আবার শব্দ হইল, আবার সেই নিস্তব্ধ মথিত করিয়া মনুষ্যকণ্ঠ ধ্বনিত হইল, “আমার মনস্কাম কি সিদ্ধ হইবে না?”

When silence returned, no one could ever believe that he had heard a human voice in such a forest! And yet, after a little while, the same voice cried out again, ‘Shall I ever attain my hearts desire?’

এইরূপ তিন বার সেই অন্ধকারসমুদ্র আলোড়িত হইল। তখন উত্তর হইল, “তোমার পণ কি?”

A third time the silence was thus disturbed when another voice inquired: ‘What can you sacrifice to win your heart’s desire?’

প্রত্যুত্তরে বলিল, “পণ আমার জীবনসর্ব্বস্ব।”

‘My life itself!’ was the reply.

প্রতিশব্দ হইল, “জীবন তুচ্ছ; সকলেই ত্যাগ করিতে পারে।”

‘Life is so insignificant that it is the simplest thing for anyone to sacrifice!’

“আর কি আছে? আর কি দিব?”

‘What more have I? What else can I offer?’

তখন উত্তর হইল, “ভক্তি।”

‘Devotion! My friend, devotion!’ declared the voice from above.


Second Translation

WIDE interminable forest. Most of the trees are sals, but other kinds are not wanting. Treetop mingling with tree-top, foliage melting into foliage, the interminable lines progress; without crevice, without gap, without even a way for the light to enter, league after league and again league after league the boundless ocean of leaves advances, tossing wave upon wave in the wind. Underneath, thick darkness; even at midday the light is dim and uncertain; a seat of terrific gloom. There the foot of man never treads; there except the illimitable rustle of the leaves and the cry of wild beasts and birds, no sound is heard.

In this interminable, impenetrable wilderness of blind gloom, it is night. The hour is midnight and a very dark midnight; even outside the woodland it is dark and nothing can be seen. Within the forest the piles of gloom are like the darkness in the womb of the earth itself.

Bird and beast are utterly and motionlessly still. What hundreds of thousands, what millions of birds, beasts, insects, flying things have their dwelling within that forest, but not one is giving forth a sound. Rather the darkness is within the imagination, but inconceivable is that noiseless stillness of the ever-murmurous, ever noise-filled earth. In that limitless empty forest, in the solid darkness of that midnight, in that unimaginable silence there was a sound, “Shall the desire of my heart ever be fulfilled?”

After that sound the forest reaches sank again into stillness. Who would have said then that a human sound had been heard in those wilds? A little while after, the sound came again, again the voice of man rang forth troubling the hush, “Shall the desire of my heart ever be fulfilled?”

Three times the wide sea of darkness was thus shaken. Then the answer came, “What is the stake put down?”

The first voice replied, “I have staked my life and all its riches.”

The echo answered, “Life! it is a small thing which all can sacrifice.”

“What else is there? What more can I give?”

This was the answer, “Thy soul’s worship.”