Sadhana O Samapti – Rabindranath Tagore সাধনা ও সমাপ্তি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

RAVINDRANATH TAGORE

In truth, thou ocean of joy, this shore and the other shore are one and the same in thee. When I call this my own, the other lies estranged; and missing the sense of that completeness which is in me, my heart incessantly cries out for the other. All my this, and that other, are waiting to be completely reconciled in thy love.

This “I” of mine toils hard, day and night, for a home which it knows as its own. Alas, there will be no end of its sufferings so long as it is not able to call this home thine. Till then it will struggle on, and its heart will ever cry, “Ferryman, lead me across.” When this home of mine is made thine, that very moment is it taken across, even while its old walls enclose it. This “I” is restless. It is working for a gain which can never be assimilated with its spirit, which it never can hold and retain. In its efforts to clasp in its own arms that which is for all, it hurts others and is hurt in its turn, and cries, “Lead me across”. But as soon as it is able to say, “All my work is thine,” everything remains the same, only it is taken across.

Where can I meet thee unless in this mine home made thine? Where can I join thee unless in this my work transformed into thy work? If I leave my home I shall not reach thy home; if I cease my work I can never join thee in thy work. For thou dwellest in me and I in thee. Thou without me or I without thee are nothing.

SĀDHANĀ -THE REALISATION OF LIFE
By Rabindranath Tagore 1916


আপনাকে এই জানা আমার ফুরাবে না

আপনাকে এই জানা আমার ফুরাবে না।

এই জানারই সঙ্গে সঙ্গে তোমায় চেনা ॥

কত জনম-মরণেতে তোমারি ওই চরণেতে

আপনাকে যে দেব, তবু বাড়বে দেনা ॥

আমারে যে নামতে হবে ঘাটে ঘাটে,

বারে বারে এই ভুবনের প্রাণের হাটে।

ব্যাবসা মোর তোমার সাথে চলবে বেড়ে দিনে রাতে,

আপনা নিয়ে করব যতই বেচা কেনা ॥


ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু

ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু,

পথে যদি পিছিয়ে পড়ি কভু॥

এই-যে হিয়া থরোথরো কাঁপে আজি এমনতরো

এই বেদনা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু ॥

এই দীনতা ক্ষমা করো প্রভু,

পিছন-পানে তাকাই যদি কভু।

দিনের তাপে রৌদ্রজ্বালায় শুকায় মালা পূজার থালায়,

সেই ম্লানতা ক্ষমা করো, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো প্রভু ॥


চরণ ধরিতে দিয়ো গো

চরণ ধরিতে দিয়ো গো
আমারে, নিয়ো না, নিয়ো না সরায়ে—
জীবন মরণ সুখ দুখ দিয়ে
বক্ষে ধরিব জড়ায়ে ॥

স্খলিত শিথিল কামনার
ভার বহিয়া বহিয়া বহিয়া বহিয়া
ফিরি কত আর—
নিজ হাতে তুমি গেঁথে
নিয়ো হার, ফেলো না আমারে
ছড়ায়ে-

চিরপিপাসিত বাসনা
বেদনা বাঁচাও তাহারে মারিয়া ।
শেষ জয়ে যেন হয় সে
বিজয়ী তোমারি কাছেতে
হারিয়া ।(2)
বিকায়ে বিকায়ে দীন আপনারে
পারি না ফিরিতে দুয়ারে দুয়ারে (2)
তোমারি করিয়া নিয়ো গো
আমারে বরণের মালা পরায়ে ॥


প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে মোরে আরো আরো আরো দাও প্রাণ

প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে

মোরে আরো আরো আরো দাও প্রাণ।

তব ভুবনে তব ভবনে

মোরে আরো আরো আরো দাও স্থান ॥

আরো আলো আরো আলো

এই  নয়নে, প্রভু, ঢালো।

সুরে সুরে বাঁশি পুরে

তুমি আরো আরো আরো দাও তান ॥

আরো বেদনা আরো বেদনা,

প্রভু, দাও মোরে আরো চেতনা।

দ্বার ছুটায়ে বাধা টুটায়ে

মোরে করো ত্রাণ মোরে করো ত্রাণ।

আরো প্রেমে আরো প্রেমে

মোর আমি ডুবে যাক নেমে।

সুধাধারে আপনারে

তুমি আরো আরো আরো করো দান ॥


আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে

আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে।
এ জীবন পুণ্য কর দহন-দানে॥
আমার এই দেহখানি তুলে ধরো,
তোমার ওই দেবালয়ের প্রদীপ করো–
নিশিদিন আলোক-শিখা জ্বলুক গানে॥

আঁধারের গায়ে গায়ে পরশ তব
সারা রাত ফোটাক তারা নব নব।
নয়নের দৃষ্টি হতে ঘুচবে কালো,
যেখানে পড়বে সেথায় দেখবে আলো–
ব্যথা মোর উঠবে জ্বলে ঊর্ধ্ব-পানে॥


তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম

তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম

নিবিড় নিভৃত পূর্ণিমানিশীথিনী-সম॥

মম জীবন যৌবন মম অখিল ভুবন

তুমি ভরিবে গৌরবে নিশীথিনী-সম॥

জাগিবে একাকী তব করুণ আঁখি,

তব অঞ্চলছায়া মোরে রহিবে ঢাকি।

মম দুঃখবেদন মম সফল স্বপন

তুমি ভরিবে সৌরভে নিশীথিনী-সম॥


চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে

চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে।

অন্তরে আজ দেখব, যখন আলোক নাহি রে॥

ধরায় যখন দাও না ধরা হৃদয় তখন তোমায় ভরা,

এখন তোমার আপন আলোয় তোমায় চাহি রে॥

তোমায় নিয়ে খেলেছিলেম খেলার ঘরেতে।

খেলার পুতুল ভেঙে গেছে প্রলয় ঝড়েতে।

থাক্‌ তবে সেই কেবল খেলা, হোক-না এখন প্রাণের মেলা–

তারের বীণা ভাঙল, হৃদয়-বীণায় গাহি রে॥


দাঁড়িয়ে আছ তুমি আমার গানের ও পারে

দাঁড়িয়ে আছ তুমি আমার গানের ও পারে–

আমার সুরগুলি পায় চরণ, আমি পাই নে তোমারে ॥

বাতাস বহে মরি মরি, আর বেঁধে রেখো না তরী–

এসো এসো পার হয়ে মোর হৃদয়মাঝারে ॥

তোমার সাথে গানের খেলা দূরের খেলা যে,

বেদনাতে বাঁশি বাজায় সকল বেলা যে।

কবে নিয়ে আমার বাঁশি বাজাবে গো আপনি আসি

আনন্দময় নীরব রাতের নিবিড় আঁধারে


আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে

আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে,
আমার মুক্তি ধুলায় ধুলায় ঘাসে ঘাসে॥

দেহমনের সুদূর পারে হারিয়ে ফেলি আপনারে,
গানের সুরে আমার মুক্তি ঊর্ধ্বে ভাসে॥

আমার মুক্তি সর্বজনের মনের মাঝে,
দুঃখবিপদ-তুচ্ছ-করা কঠিন কাজে।
বিশ্বধাতার যজ্ঞশালা, আত্মহোমের বহ্নি জ্বালা–
জীবন যেন দিই আহুতি মুক্তি-আশে॥


যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে

যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে
আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে,
চুকিয়ে দেব বেচা কেনা,
মিটিয়ে দেব গো, মিটিয়ে দেব লেনা দেনা,
বন্ধ হবে আনাগোনা এই হাটে–
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।।

যখন জমবে ধুলা তানপুরাটার তারগুলায়,
কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায়, আহা,
ফুলের বাগান ঘন ঘাসের পরবে সজ্জা বনবাসের,
শ্যাওলা এসে ঘিরবে দিঘির ধারগুলায়–
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।।

তখন এমনি করেই বাজবে বাঁশি এই নাটে,
কাটবে দিন কাটবে,
কাটবে গো দিন আজও যেমন দিন কাটে, আহা,
ঘাটে ঘাটে খেয়ার তরী এমনি সে দিন উঠবে ভরি–
চরবে গোরু খেলবে রাখাল ওই মাঠে।
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।

তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি।
সকল খেলায় করবে খেলা এই আমি– আহা,
নতুন নামে ডাকবে মোরে, বাঁধবে নতুন বাহু-ডোরে,
আসব যাব চিরদিনের সেই আমি।
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।।


 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Compiled by Tanmoy Bhattacharyya