CIVIL

বাংলা থেকে ইংরেজী অনুবাদ

1

পল্লীবাসিনী কোনো-এক হতভাগিনীর অন্যায়কারী অত্যাচারী স্বামীর দুষ্কৃতিসকল সবিস্তারে বর্ণনপূর্বক প্রতিবেশিনী তারা অত্যন্ত সংক্ষেপে নিজের রায় প্রকাশ করিয়া কহিল, “এমন স্বামীর মুখে আগুন।”

শুনিয়া জয়গোপালবাবুর স্ত্রী শশী অত্যন্ত পীড়া অনুভব করিল— স্বামীজাতির মুখে চুরটের আগুন ছাড়া অন্য কোনো প্রকার আগুন কোনো অবস্থাতেই কামনা করা স্ত্রীজাতিকে শোভা পায় না।

অতএব এ সম্বন্ধে তিনি কিঞ্চিৎ সংকোচ প্রকাশ করাতে কঠিনহৃদয় তারা দ্বিগুণ উৎসাহের সহিত কহিল, “এমন স্বামী থাকার চেয়ে সাতজন্ম বিধবা হওয়া ভালো।” এই বলিয়া সে সভাভঙ্গ করিয়া চলিয়া গেল।

শশী মনে মনে কহিল, স্বামীর এমন কোনো অপরাধ কল্পনা করিতে পারি না, যাহাতে তাঁহার প্রতি মনের ভাব এত কঠিন হইয়া উঠিতে পারে। এই কথা মনের মধ্যে আলোচনা করিতে করিতেই তাহার কোমল হৃদয়ের সমস্ত প্রীতিরস তাহার প্রবাসী স্বামীর অভিমুখে উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠিল; শয্যাতলে তাহার স্বামী যে অংশে শয়ন করিত সেই অংশের উপর বাহু প্রসারণ করিয়া পড়িয়া শূন্য বালিশকে চুম্বন করিল, বালিশের মধ্যে স্বামীর মাথার আঘ্রাণ অনুভব করিল এবং দ্বার রুদ্ধ করিয়া কাঠের বাক্স হইতে স্বামীর একখানি বহুকালের লুপ্তপ্রায় ফোটাগ্রাফ এবং হাতের লেখা চিঠিগুলি বাহির করিয়া বসিল। সেদিনকার নিস্তব্ধ মধ্যাহ্ন এইরূপে নিভৃত কক্ষে নির্জন চিন্তায় পুরাতন স্মৃতিতে এবং বিষাদের অশ্রুজলে কাটিয়া গেল।

Having described at length the misdeeds of an unfortunate woman’s wicked, tyrannical husband, Tara, the woman’s neighbour in the village, very shortly declared her verdict: “Fire be to such a husband’s mouth.”

At this Joygopal Babu’s wife felt much hurt; it did not become womankind to wish, in any circumstances whatever, a worse species of fire than that of a cigar in a husband’s mouth.

When, therefore, she mildly disapproved the verdict, hard-hearted Tara cried with redoubled vehemence: “‘Twere better to be a widow seven births over than the wife of such a husband,” and saying this she broke up the meeting and left.

Sasi said within himself: “I can’t imagine any offence in a husband that could so harden the heart against him.” Even as she turned the matter over in her mind, all the tenderness of her loving soul gushed forth towards her own husband now abroad. Throwing herself with outstretched arms on that part of the bed whereon her husband was wont to lie, she kissed the empty pillow, caught the smell of her husband’s head, and, shutting the door, brought out from a wooden box an old and almost faded photograph with some letters in his handwriting, and sat gazing upon them. Thus she passed the hushed noontide alone in her room, musing of old memories and shedding tears of sadness.


2

শশিকলা এবং জয়গোপালের যে নবদাম্পত্য তাহা নহে। বাল্যকালে বিবাহ হইয়াছিল, ইতিমধ্যে সন্তানাদিও হইয়াছে। উভয়ে বহুকাল একত্রে অবস্থান করিয়া নিতান্ত সহজ সাধারণ ভাবেই দিন কাটিয়াছে। কোনো পক্ষেই অপরিমিত প্রেমোচ্ছ্বাসের কোনো লক্ষণ দেখা যায় নাই। প্রায় ষোলো বৎসর একাদিক্রমে অবিচ্ছেদে যাপন করিয়া হঠাৎ কর্মবশে তাহার স্বামী বিদেশে চলিয়া যাওয়ার পর শশীর মনে একটা প্রবল প্রেমাবেগ জাগ্রত হইয়া উঠিল। বিরহের দ্বারা বন্ধনে যতই টান পড়িল কোমল হৃদয়ে প্রেমের ফাঁস ততই শক্ত করিয়া আঁটিয়া ধরিল; ঢিলা অবস্থায় যাহার অস্তিত্ব অনুভব করিতে পারে নাই এখন তাহার বেদনা টন্‌টন্‌ করিতে লাগিল।

তাই আজ এতদিন পরে এত বয়সে ছেলের মা হইয়া শশী বসন্তমধ্যাহ্নে নির্জন ঘরে বিরহশয্যায় উন্মেষিতযৌবনা নববধূর সুখস্বপ্ন দেখিতে লাগিল। যে প্রেম অজ্ঞাতভাবে জীবনের সম্মুখ দিয়া প্রবাহিত হইয়া গিয়াছে সহসা আজ তাহারই কলগীতিশব্দে জাগ্রত হইয়া মনে মনে তাহারই উজান বাহিয়া দুই তীরে বহুদূরে অনেক সোনার পুরী অনেক কুঞ্জবন দেখিতে লাগিল— কিন্তু সেই অতীত সুখসম্ভাবনার মধ্যে এখন আর পদার্পণ করিবার স্থান নাই। মনে করিতে লাগিল, “এইবার যখন স্বামীকে নিকটে পাইব তখন জীবনকে নীরস এবং বসন্তকে নিষ্ফল হইতে দিব না।” কতদিন কতবার তুচ্ছ তর্কে সামান্য কলহে স্বামীর প্রতি সে উপদ্রব করিয়াছে; আজ অনুতপ্তচিত্তে একান্ত মনে সংকল্প করিল, আর কখনোই সে অসহিষ্ণুতা প্রকাশ করিবে না, স্বামীর ইচ্ছায় বাধা দিবে না, স্বামীর আদেশ পালন করিবে, প্রীতিপূর্ণ নম্র হৃদয়ে স্বামীর ভালোমন্দ সমস্ত আচরণ সহ্য করিবে— কারণ, স্বামী সর্বস্ব, স্বামী প্রিয়তম, স্বামী দেবতা।

It was no new yoke this between Sasikala and Joygopal. They had been married at an early age and had children. Their long companionship had made the days go by in an easy, commonplace sort of way. On neither side had there been any symptoms of excessive passion. They had lived together nearly sixteen years without a break, when her husband was suddenly called away from home on business, and then a great impulse of love awoke in Sasi’s soul. As separation strained the tie, love’s knot grew tighter, and the passion, whose existence Sasi had not felt, now made her throb with pain.

So it happened that after so many long years, and at such an age, and being the mother of children, Sasi, on this spring noon, in her lonely chamber, lying on the bed of separation, began to dream the sweet dream of a bride in her budding youth. That love of which hitherto she had been unconscious suddenly aroused her with its murmuring music. She wandered a long way up the stream, and saw many a golden mansion and many a grove on either bank; but no foothold could she find now amid the vanished hopes of happiness. She began to say to herself that, when next she met her husband, life should not be insipid nor should the spring come in vain. How very often, in idle disputation or some petty quarrel, had she teased her husband! With all the singleness of a penitent heart she vowed that she would never show impatience again, never oppose her husband’s wishes, bear all his commands, and with a tender heart submit to whatever he wished of good or ill; for the husband was all-in-all, the husband was the dearest object of love, the husband was divine.


3

অনেকদিন পর্যন্ত শশিকলা তাহার পিতামাতার একমাত্র আদরের কন্যা ছিল। সেইজন্য জয়গোপাল যদিও সামান্য চাকরি করিত, তবু ভবিষ্যতের জন্য তাহার কিছুমাত্র ভাবনা ছিল না। পল্লীগ্রামে রাজভোগে থাকিবার পক্ষে তাহার শ্বশুরের যথেষ্ট সম্পত্তি ছিল।

এমন সময় নিতান্ত অকালে প্রায় বৃদ্ধবয়সে শশিকলার পিতা কালীপ্রসন্নের একটি পুত্রসন্তান জন্মিল। সত্য কথা বলিতে কি, পিতামাতার এইরূপ অনপেক্ষিত অসংগত অন্যায় আচরণে শশী মনে মনে অত্যন্ত ক্ষুন্ন হইয়াছিল; জয়গোপালও সবিশেষ প্রীতিলাভ করে নাই।

অধিক বয়সের ছেলেটির প্রতি পিতামাতার স্নেহ অত্যন্ত ঘনীভূত হইয়া উঠিল। এই নবাগত, ক্ষুদ্রকায়, স্তন্যপিপাসু, নিদ্রাতুর শ্যালকটি অজ্ঞাতসারে দুই দুর্বল হস্তের অতি ক্ষুদ্র বদ্ধমুষ্টির মধ্যে জয়গোপালের সমস্ত আশাভরসা যখন অপহরণ করিয়া বসিল, তখন সে আসামের চা-বাগানে এক চাকরি লইল।

নিকটবর্তী স্থানে চাকরির সন্ধান করিতে সকলেই তাহাকে পীড়াপীড়ি করিয়াছিল- কিন্তু সর্বসাধারণের উপর রাগ করিয়াই হউক অথবা চা-বাগানে দ্রুত বাড়িয়া উঠিবার কোনো উপায় জানিয়াই হউক, জয়গোপাল কাহারও কথায় কর্ণপাত করিল না; শশীকে সন্তানসহ তাহার বাপের বাড়ি রাখিয়া সে আসামে চলিয়া গেল। বিবাহিত জীবনে স্বামী-স্ত্রীর এই প্রথম বিচ্ছেদ।

Sasikala was the only and much-petted daughter of her parents. For this reason, though he had only a small property of his own, Joygopal had no anxieties about the future. His father-in-law had enough to support them in a village with royal state.

And then in his old age a son was born untimely to Sasikala’s father. To tell the truth, Sasi was very sore in her mind at this unlooked-for, improper, and unjust action of her parents; nor was Joygopal particularly pleased.

The parents’ love centred in this son of their advanced years, and when the newly arrived, diminutive, sleepy brother-in-law seized with his two weak tiny fists all the hopes and expectations of Joygopal, Joygopal found a place in a tea-garden in Assam.

His friends urged him to look for employment hard-by, but whether out of a general feeling of resentment, or knowing the chances of rapid rise in a tea-garden, Joygopal would not pay heed to anybody. He sent his wife and children to his father-in-law’s, and left for Assam. It was the first separation between husband and wife in their married life.


More Translation Bengali to English

বাংলা থেকে ইংরেজিতে সহজ অনুবাদ