রামমোহন রায় (Rammohan ray) by Rabindranath-1896

একদা পিতৃদেবের নিকট শুনিয়াছিলাম যে, বাল্যকালে অনেক সময়ে রামমোহন রায় তাঁহাকে গাড়ি করিয়া স্কুলে লইয়া যাইতেন; তিনি রামমোহন রায়ের সম্মুখবর্তী আসনে বসিয়া সেই মহাপুরুষের মুখ হইতে মুগ্ধদৃষ্টি ফিরাইতে পারিতেন না, তাঁহার মুখচ্ছবিতে এমন একটি সুগভীর সুগম্ভীর সুমহৎ বিষাদচ্ছায়া সর্বদা বিরাজমান ছিল।

Remembering Achal Bhattacharya by Alak Bhattacharya

অচল বাবু ছিলেন নিয়মিত লেখক ।দেখালেন নিরস বিষয় কে সরস করে পরিবেশনের মুন্সীয়ানা। বন্ধু জগৎ রঞ্জন মজুমদার এর ছিল নাটকের দল, আর সাহিত্য পত্রিকা সাহিত্য ভারতী। তাতে অচল বাবু লিখতেন গল্প প্রবন্ধ নাটক । ওনার নাটক বহুবার মঞ্চস্থ হয়েছে । হাওড়ায় বাসা বদল অচল বাবুর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট এ মানতেই হবে

সুভাষচন্দ্র বসু সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ – Ravindranath on Subhas Chandra – 1939

বাঙ্গালী কবি আমি, বাঙ্গালাদেশের হয়ে তােমাকে দেশনায়কের পদে বরণ করি। গীতায় বলেন, সুকৃতের রক্ষা ও দুষ্কৃতের বিনাশের জন্য রক্ষাকর্তা বারংবার আবির্ভূত হন। দুর্গতির জালে রাষ্ট্র যখন জড়িত হয়, তখনই পীড়িত দেশের অন্তর্বেদনার প্রেরণায় আবির্ভূত হয় দেশের অধিনায়ক। রাজশাসনের দ্বারা নিষ্পিষ্ট, আত্মবিরােধের দ্বারা বিক্ষিপ্তশক্তি বাংলাদেশের অদৃষ্টাকাশে দুর্যোগ আজ ঘনীভূত।

ইতিহাস : – উত্তরে উত্তরপাড়া (Uttare Uttarpara-Alak Bhattacharyya)

ক অতি সমৃদ্ধশালী প্রাচীন ঐতিহাসিক নগর, বয়সে কলকাতা মহানগরের থেকে মোটেই ছোট নয় । আচ্ছা, উত্তরপাড়া নাম কেন ? আমার নাতনি উত্তর দিলো, উত্তরে তাই উত্তরপাড়া। তা হলে, কার উত্তরে ? উত্তর আছে মানচিত্রে । হাওড়ার শেষ উত্তরে বালিগ্রাম / এখন শহর। তার লাগোয়া উত্তরে বালিখাল পেরিয়ে হুগলি জেলার প্রথম শহরটি উত্তরপাড়া। একটি অতি সুন্দর তোরণ আপনাকে স্বাগত জানাবে, ইউ আর নাও উত্তরপাড়া। ডানদিকে ঘাড়টা কাত করুন , দেখতে পাবেন গঙ্গার ওপর পারে রাণীরাসমনির সেই বিখ্যাত ভবতারিণী মন্দির, পরমাহংসদেবের লীলাক্ষেত্র।

হাওড়া মিউনিসিপাল কর্পোরেশান – Howrah Municipal Corporation by Alak Bhattacharya

১৯৮০ সালে পাস হলো হাওড়া মিউনিসিপাল কর্পোরেশান এক্ট। লাগু হয় [নোটিফিকেশন] ৩০ নভেম্বর ১৯৮১। হাওড়ার যে সব বিশিষ্ট মানুষ হাওড়া মিউনিসিপালিটির কর্মকর্তা রূপে বিশেষ সুনামের সঙ্গে কাজ করেছিলেন তাদের মধ্যে কয়েক জন হলেন, বিশিষ্ট আইনজীবী বরোদা প্রসন্ন পাইন, সাহিত্যিক শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শৈলো মুখার্জী , বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, নরসিংহ দত্ত, রামেশ্বর মালিয়া অমৃতলাল পাইন চন্দ্র কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ ।

জজ্ শম্ভুনাথ পণ্ডিত – কালীময় ঘটক – 1873

অপরাপর এজ‍্লাসের বিচারপতিগণও উপরি উক্ত রূপ বক্ত‌ৃতা করিয়া, সকলেই সে দিবস আদালত বন্ধ করেন। জজ্ বেলি এরূপ শোকার্ত্ত হইয়াছিলেন যে, বাস্তবিক তাঁহার অশ্রুপাত হইয়াছিল। হাইকোর্ট বন্ধ হইলে গবর্ণমেণ্ট উকিল কৃষ্ণকিশোর ঘোষের পশ্চাৎ পশাৎ প্রায় দুইশত ভদ্রলোক মৃতদেহের সঙ্গে শবদাহের ঘাট পর্যন্ত গমন করেন। তাঁহার চরিত্র, কার্য্য ক্ষমতা ও সাধারণ গুণ সম্বন্ধে হাইকোর্টের বিচারপতিগণ যাহা বলিয়াছেন, তৎসম্বন্ধে তদতিরিক্ত আর কিছুই বলিবার প্রয়োজন নাই। তাঁহার যে সকল গুণ কার্য্যস্থলে প্রকাশ পাইবার সম্ভাবনা ছিল না, কেবল বন্ধুজন ও পরিজনের মধ্যেই প্রকাশ পাইত, এখন সেই সম্বন্ধে কিছু বলিবার প্রয়োজন আছে। কারণ বাহিরে অনেকেই সৎ হইতে পারেন; যিনি অন্তুরে সৎ, তিনিই অধিকতর সাধুবাদের যোগ্য।

হাওড়া – আইন আদালত, সেকাল থেকে একাল

এই ঘরে এক সময় বসতেন বহু বিখ্যাত আইনজীবী। তাঁদের মধ্যে দু একটি নাম উল্লেখ করছি । নকড়ি মুখার্জী, অমূল্য ধন মুখার্জী ,অনিল সরকার,পঞ্চানন সমাদ্দার।তারা শঙ্কর মুখার্জী,হিমাংশু মুখার্জী।আর একজনের নাম তো করতেই হবে, যার সাথে পক্ষে বিপক্ষে বহু মামলা করেছি, তিনি আলোক আদক । আমি প্রথম কোর্টে এসে অবাক হয়ে দেখেছিলাম এক তরুণ আইনজীবী সিভিল কোর্টের বাঘা বাঘা লইয়ার দের বিরুদ্ধে লড়াই করছে । আমাদের দুর্ভাগ্য অল্প বয়েসেই প্রাকটিসের মধ্যগগনে হটাৎ মারা যান। চলুন এবার ৩ নং ঘরে। এ ঘর যিনি আলো করে থাকতেন তিনি হলেন, নান আদার দেন রঞ্জিত কুমার মিত্র। সুদর্শন সুপুরুষ প্রাণবন্ত খুরোধার বুদ্ধি। খুব ব্যাস্ত উকিল ছিলেন ।

মহাভারতীয় স্বপ্নপর্ব্ব-কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস Mahabharatiya Swapna Parva-Kashiram Das-1856

বেদে আর অনেক বৈষ্ণব পুরাণেতে। মাদ্য অন্ত মধ্যে হরি সর্ব্বত্র গায়তে॥ বেদে রামায়ণে আর পুরাণ ভারতে। নানা মত শাস্ত্র যত আছয়ে জগতে॥ শাস্ত্র যত বিবরিয়া বুঝিহ উত্তম। আদ্য অন্ত মধ্যে পরে সার হরিনাম॥

কলকাতার বিশেষ খাবার – না খেলে জীবন বৃথা

আওধের বিরিয়ানি । আগমনীর লাল ক্ষীর দই আর সরভাজা। আহিরিটোলা- ভূতনাথ লিট্টি। আহিরিটোলা সাধুর চা। ইন্ডিয়ান কফি হাউসে কফি এম জি রোড বড়বাজার দেশবন্ধু মিষ্টান্নর সীতাভোগ ও সিঙাড়া।

আফগানিস্থান ভ্রমণ – রামনাথ বিশ্বাস 1942

আফগানিস্থান ভ্রমণ করার সময় যাহা দেখেছি এবং শুনেছি তাই লিখেছি। ১৯১৯ সালের মে মাসে আফগানিস্থান স্বাধীন হয় এবং ইহা একটি বাফার স্টেটে পরিণত হয়। যদিও আফগানিস্থান স্বাধীনতালাভ করেছিল কিন্তু নানা কারণে সাধারণ লােকের কোন উন্নতি হয় নি। রক্ষণশীলতা ও সনাতন আচার-পদ্ধতির বেড়াজাল ছাড়িয়ে যেতে যে পরিমাণ শিক্ষা এবং আন্দোলনের আবশ্যক, আফগানিস্থানে তার অভাব দেখেছি। রাজা আমানউল্লা নূতন জগতের নূতন ধারায় দেশটাকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন কিন্তু সে অবসর তিনি পান নি। যে পরিবর্তন ও উন্নতি আফগানিস্থানে এখনও আসে নি এক দিন সেই পরিবর্তন নিশ্চয় আসবে, আফগানিস্থানের জনগণ চারিদিকের দৃষ্টান্ত দেখে উদ্বুদ্ধ হবে।

গৌরবকান্তি দীর্ঘকায় পুরুষের মুখের মধ্যে একটি দৃপ্ত তেজ দেখিলাম (বঙ্কিমচন্দ্র) – রবীন্দ্রনাথ -1941

তাঁহাকে প্রথম যখন দেখি সে অনেক দিনের কথা। তখন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ছাত্রের মিলিয়া একটি বার্ষিক সম্মিলনী স্থাপন করিয়াছিলেন। চন্দ্রনাথ বসু মহাশয় তাহার প্রধান উদ্যোগী ছিলেন।

ডাক্তারি ও কবিরাজি-রাজশেখর বসু

বিজ্ঞান কেবল বিজ্ঞানীর সম্পত্তি নয়। সাধারণ লোক আর বিজ্ঞানীর এই মাত্র প্রভেদ যে বিজ্ঞানীর সিদ্ধান্ত অধিকতর সূক্ষ্ম শৃঙ্খলিত ও ব্যাপক। আমরা সকলেই বিজ্ঞানের উপর নির্ভর করিয়া জীবনযাত্রা নির্বাহ করি। অগ্নিপক্ব দ্রব্য সহজে পরিপাক হয় এই সিদ্ধান্ত অবলম্বন করিয়া রন্ধন করি, দেহ-আবরণে শীতনিবারণ হয় এই তথ্য জানিয়া বস্ত্রধারণ করি। কতক সংস্কারবশে করি, কতক দেখিয়া শুনিয়া বুঝিয়া করি। অসত্য সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করিয়াও অনেক কাজ করি বটে, কিন্তু জীবনের যাহা কিছু সফলতা তাহা সত্য সিদ্ধান্ত দ্বারাই লাভ করি।

চাণক্যশ্লোক-Chanakya Sloka in Bengali

মূলসূত্রং প্রবক্ষ্যামি চাণক্যেন যথোদিতং।
যস্য বিজ্ঞানমাত্রেণ মূর্খো ভবতি পণ্ডিতঃ॥

যে প্রকার কহিলেন চাণক্য পণ্ডিত। সেই মত মূলসূত্র কহিব নিশ্চিত॥ যাহা জ্ঞাত হবা মাত্র জ্ঞাত হয় নীত। মূর্খের মূর্খত্ব যায় সে হয় পণ্ডিত॥

প্রাচীন ভারতবর্ষের রাজনীতি-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-Politics of Ancient India-Bankim Chandra

মহাভারতের সভাপর্ব্বে দেবর্ষি নারদ যুধিষ্ঠিরকে প্রশ্নচ্ছলে কতকগুলি রাজনৈতিক উপদেশ দিয়াছেন। প্রাচীন ভারতে রাজনীতি কত দূর উন্নতি প্রাপ্ত হইয়াছিল, উহা তাহার পরিচয়। মুসলমানদিগের অপেক্ষা হিন্দুরা যে রাজনীতিতে বিজ্ঞতর ছিলেন, উহা পাঠ করিলে সংশয় থাকে না। প্রাচীন রোমক এবং আধুনিক ইউরোপীয়গণ ভিন্ন আর কোন জাতি তাদৃশ উন্নতি লাভ করিতে পারে নাই। ভারতবর্ষীয় রাজারা যে অন্যান্য সকল জাতির অপেক্ষা অধিক কাল আপনাদিগের গৌরব রক্ষা করিয়াছিলেন, এই রাজনীতিজ্ঞতা তাহার এক কারণ। হিন্দুদিগের ইতিবৃত্ত নাই; এক একটি শাসনকর্ত্তার গুণগান করিয়া শত শত পৃষ্ঠা লিখিবার উপায় নাই। কিন্তু তাঁহাদিগের কৃত কার্য্যের যে কিছু পরিচয় পাওয়া যায়, তাহাতেই অনেক কথা বলা যাইতে পারে।

Books and Articles by Nirad C. Chaudhuri in Bengali

The conduct of American women, however, I cannot even now understand unless I attribute it to the sad but inexorable law of American impingement on Asia that the United States will never export any of its products to the East except those of which every decent American is ashamed, taken with its compliment that in retaliation, the East will set its lowest adventurers on the distributors of American money.