Bengali to English Translation-page-19

TRANSLATE WITHIN 40 MINUTES

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ হুগলী জেলার অন্তঃপাতী কামারপুকুর গ্রামে এক সদ্‌ব্রাহ্মণের ঘরে ফাল্গুনের শুক্লা দ্বিতীয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। কামারপুকুর গ্রাম জাহানাবাদ (আরামবাগ) হইতে চার ক্রোশ পশ্চিমে, আর বর্ধমান হইতে ১২।১৩ ক্রোশ দক্ষিণে।

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মদিন সম্বন্ধে মতভেদ আছে:

অম্বিকা আচার্যের কোষ্ঠী। এই কোষ্ঠী ঠাকুরের অসুখের সময় প্রস্তুত করা হয়, ৩রা কার্তিক ১২৮৬, ইংরেজী ১৮৭৯। উহাতে জন্মদিন লেখা আছে ১৭৫৬ শক, ১০ই ফাল্গুন, বুধবার, শুক্লা দ্বিতীয়া, পূর্বভাদ্রপদ নক্ষত্র। তাঁহার গণনা ১৭৫৬।১০।৯।৫৯।১২।

ক্ষেত্রনাথ ভট্টের ১৩০০ সালে গণনা, ১৭৫৪।১০।৯।০।১২। এই মতে ১৭৫৪ শক, ১০ই ফাল্গুন, বুধবার, শুক্লা দ্বিতীয়া, পূর্বভাদ্রপদ — সব মিলে। ১২৩৯ সাল, ২০শে ফেব্রুয়ারি ১৮৩৩। লগ্নে রবি চন্দ্র বুধের যোগ।কুম্ভরাশি। বৃহস্পতি শুক্রের যোগহেতু, “সম্প্রদায়ের প্রভু হইবেন।”

নারায়ণ জ্যোর্তিভূষণের নূতন কোষ্ঠী (মঠে প্রস্তুত)। এ-গণনা অনুসারে ১২৪২ সালে, ৬ই ফাল্গুন বুধবার; ১৮৩৬, ১৭ই ফেব্রুয়ারি ভোর রাত্রি ৪টা ফাল্গুন শুক্লা দ্বিতীয়া, ত্রিগ্রহের যোগ, নক্ষত্র — সব মিলে। কেবল অম্বিকা আচার্যের লিখিত ১০ই ফাল্গুন হয় না। ১৭৫৭।১০।৫।৫৯।২৮।২১।

ঠাকুর মানব-শরীরে ৫১/৫২ বৎসর কাল ছিলেন।

ঠাকুরের পিতা ৺ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় অতি নিষ্ঠাবান ও পরম ভক্ত ছিলেন। মা ৺চন্দ্রমণি দেবী সরলতা ও দয়ার প্রতিমূর্তি ছিলেন। পূর্বে তাঁহাদের দেরে নামক গ্রামে বাস ছিল। কামারপুকুর হইতে দেড় ক্রোশ দূরে। সেই গ্রামস্থ জমিদারের হইয়া মোকদ্দমায় ক্ষুদিরাম সাক্ষ্য দেন নাই। পরে স্বজন লইয়া কামারপুকুরে আসিয়া বাস করেন।

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ছেলেবেলার নাম গদাধর। পাঠশালে সামান্য লেখাপড়া শিখিবার পর বাড়িতে থাকিয়া ৺রঘুবীরের বিগ্রহ সেবা করিতেন। নিজে ফুল তুলিয়া আনিয়া নিত্যপূজা করিতেন। পাঠশালে। “শুভঙ্করী ধাঁধাঁ লাগত”।

নিজে গান গাহিতে পারিতেন — অতিশয় সুকণ্ঠ। যাত্রা শুনিয়া প্রায় অধিকাংশ গান গাহিয়া দিতে পারিতেন। বাল্যকালাবধি সদানন্দ। পাড়ায় আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই তাঁহাকে ভালবাসিতেন।

বাড়ির পাসে লাহাদের বাড়ি, সেখানে অতিথিশালা — সর্বদা সাধুদের যাতায়াত ছিল। গদাধর সেখানে সাধুদের সঙ্গ ও তাঁহাদের সেবা করিতেন। কথকেরা যখন পুরাণ পাঠ করিতেন, তখন নিবিষ্ট মনে সমস্ত শুনিতেন। এইরূপে রামায়ণ, মহাভারত, শ্রীমদ্ভাগবত-কথা — সমস্ত হৃদয়ঙ্গম করিলেন।

একদিন মাঠ দিয়া বাড়ির নিকটবর্তী গ্রাম আনুড়ে যাইতেছিলেন। তখন ১১ বৎসর বয়স। ঠাকুর নিজ মুখে বলিয়াছেন, হঠাৎ তিনি অদ্ভুত জ্যোতিঃ দর্শন করিয়া বাহ্যশূন্য হয়েন। লোকেরা বলিল, মূর্ছা — ঠাকুরের ভাবসমাধি হইয়াছিল।

৺ক্ষুদিরামের মৃত্যুর পর ঠাকুর জ্যেষ্ঠভ্রাতার সঙ্গে কলিকাতায় আসিলেন। তখন তাঁহার বয়স ১৭/১৮ হইবে। কলিকাতায় কিছুদিন নাথের বাগানে, কিছুদিন ঝামাপুকুরে গোবিন্দ চাটুজ্যের বাড়িতে থাকিয়া, পূজা করিয়া বেড়াইতেন। এই সূত্রে ঝামাপুকুরের মিত্রদের বাড়িতে কিছুদিন পূজা করিয়াছিলেন।

রাণী রাসমণি কলিকাতা হইতে আড়াই ক্রোশ দূরে, দক্ষিণেশ্বরে কালীবাড়ি স্থাপন করিলেন। ১২৬২ সাল ১৮ই জৈষ্ঠ, বৃহস্পতিবার, স্নানযাত্রার দিন।(ইংরেজী ৩১শে মে, ১৮৫৫ খ্রীষ্টাব্দ)। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের জ্যেষ্ঠভ্রাতা পণ্ডিত রামকুমার কালীবাড়িতে প্রথম পূজারী নিযুক্ত হইলেন। ঠাকুরও মাঝে মাঝে কলিকাতা হইতে আসিতেন ও কিছুদিন পরে নিজে পূজাকার্যে নিযুক্ত হইলেন। তখন তাঁহার বয়স ২১/২২ হইবে। মধ্যমভ্রাতা রামেশ্বরও মাঝে মাঝে কালীবাড়ির পূজা করিতেন। তাঁহার দুই পুত্র — শ্রীযুক্ত রামলাল ও শ্রীযুক্ত শিবরাম ও এক কন্যা শ্রীমতী লক্ষ্মী দেবী।

কয়েকদিন পূজা করিতে করিতে শ্রীরামকৃষ্ণের মনের অবস্থা আর একরকম হইল। সর্বদাই বিমনা ও ঠাকুর প্রতিমার কাছে বসিয়া থাকিতেন।

আত্মীয়েরা এই সময় তাঁহার বিবাহ দিলেন — ভাবিলেন, বিবাহ হইলে হয়তো অবস্থান্তর হইতে পারে। কামারপুকুর হইতে দুই ক্রোশ দূরে জয়রামবাটী গ্রামস্থ ৺রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কন্যা শ্রীশ্রীসারদামণি দেবীর সঙ্গে বিবাহ হইল, ১৮৫৯ খ্রীষ্টাব্দ। ঠাকুরের বয়স ২২/২৩, শ্রীশ্রীমার ৬ বৎসর।

বিবাহের পর দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ফিরিয়া আসিবার কিছুদিন পরে তাঁহার একেবারে অবস্থান্তর হইল। কালী-বিগ্রহ পূজো করিতে করিতে কী অদ্ভুত ঈশ্বরীয় রূপ দর্শন করিতে লাগিলেন। আরতি করেন, আরতি আর শেষ হয় না। পূজা করিতে বসেন, পূজা শেষ হয় না; হয়তো অপনার মাথায় ফুল দিতে থাকেন।

পূজা আর করিতে পারিলেন না — উন্মাদের ন্যায় বিচরণ করিতে লাগিলেন। রানী রাসমণির জামাতা মথুর তাঁহাকে মহাপুরুষবোধে সেবা করিতে লাগিলেন ও অন্য ব্রাহ্মণ দ্বারা মা-কালীর পূজার বন্দোবস্ত করিয়া দিলেন। ঠাকুরের ভাগিনেয় শ্রীযুক্ত হৃদয় মুখোপাধ্যায়ের উপর মথুরবাবুর এই পূজার ও ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সেবার ভার দিলেন।

ঠাকুর আর পূজাও করিলেন না, সংসারও করিলেন না — বিবাহ নামমাত্র হইল। নিশিদিন মা! মা! কখন জড়বৎ — কাষ্ঠপুত্তলিকার ন্যায়, কখনও উন্মাদবৎ বিচরণ করেন। কখনও বালকের ন্যায় — কখনও কামিনী-কাঞ্চনাসক্ত বিষয়ীদের দেখিয়া লুকাইতেন। ঈশ্বরীয় লোক ও ঈশ্বরীয় কথা বই আর কিছু ভালবাসেন না। সর্বদাই মা! মা!

কালীবাড়িতে সদাব্রত ছিল (এখনও আছে) — সাধু-সন্ন্যাসীরা সর্বদা আসিতেন। তোতাপুরী এগার মাস থাকিয়া ঠাকুরকে বেদান্ত শুনাইলেন; একটু শুনাইতে শুনাইতে তোতা দেখিলেন, ঠাকুরের নির্বিকল্পসমাধি হইয়া থাকে। সম্ভবতঃ ১৮৬৬ খ্রীষ্টাব্দ।

ব্রাহ্মণী পূর্বেই (১৮৫৯) আসিয়াছেন, তিনি তন্ত্রোক্ত অনেক সাধন করাইলেন ও ঠাকুরকে শ্রীগৌরাঙ্গজ্ঞানে শ্রীচরিতামৃতাদি বৈষ্ণবগ্রন্থ শুনাইলেন। তোতার কাছে ঠাকুর বেদান্ত শ্রবণ করিতেছেন দেখিয়া, ব্রাহ্মণী তাঁহাকে সাবধান করিয়া দিতেন ও বলিতেন, “বাবা, বেদান্ত শুন না — ওতে ভাব-ভক্তি সব কমে যাবে।”

বৈষ্ণব পণ্ডিত বৈষ্ণবচরণও সর্বদা আসিতেন। তিনিই ঠাকুরকে কলুটোলায় চৈতন্যসভায় লইয়া যান। এই সভাতে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবাবিষ্ট হইয়া শ্রীচৈতন্যদেবের আসনে গিয়া উপবিষ্ট হইয়াছিলেন। বৈষ্ণবচরণ চৈতন্যসভার সভাপতি ছিলেন

বৈষ্ণবচরণ মথুরকে বলিয়াছিলেন, এ-উন্মাদ সামান্য নহে — প্রেমোন্মাদ। ইনি ঈশ্বরের জন্য পাগল। ব্রাহ্মণী ও বৈষ্ণবচরণ দেখিলেন, ঠাকুরের মহাভাবের অবস্থা। শ্রীচৈতন্যদেবের ন্যায় কখনও অন্তর্দশা (তখন জড়বৎ সমাধিস্থ), কখন অর্ধবাহ্য, কখনও বা বাহ্যদশা।

ঠাকুর‘মা’‘মা’করিয়া কাঁদিতেন, মার কাছে উপদেশ লইতেন। বলিতেন, “মা তোর কথা কেবল শুনব; আমি শাস্ত্রও জানি না, পন্ডিতও জানি না। তুই বুঝাবি তবে বিশ্বাস করব।” ঠাকুর জানিতেন ও বলিতেন, যিনি পরব্রহ্ম, অখন্ড সচ্চিদানন্দ, তিনিই মা।

ঠাকুরকে জগন্মাতা বলিয়াছিলেন, “তুই আর আমি এক। তুই ভক্তি নিয়ে থাক — জীবের মঙ্গলের জন্য। ভক্তেরা সকলে আসবে। তোর তখন কেবল বিষয়ীদের দেখতে হবে না; অনেক শুদ্ধ কামনাশূন্য ভক্ত আছে, তারা আসবে।” ঠাকুরবাড়িতে আরতির সময় যখন কাঁসরঘন্টা বাজিত, তখন শ্রীরামকৃষ্ণ কুঠিতে গিয়া উচ্চৈঃস্বরে ডাকিতেন, “ওরে ভক্তেরা, তোরা কে কোথায় আছিস, শীঘ্র আয়।”

মাতা চন্দ্রমণি দেবীকে ঠাকুর জগজ্জননীর রূপান্তরজ্ঞান করিতেন ও সেইভাবে পূজা করিতেন। জ্যেষ্ঠভ্রাতা রামকুমারের স্বর্গলাভের পর মাতা পুত্রশোকে কাতরা হইয়াছিলেন; তিন-চারি বৎসরের মধ্যে তাঁহাকে কালীবাড়িতে আনাইয়া নিজের কাছে রাখিয়া দিয়াছিলেন ও প্রত্যহ দর্শন, পদধূলি গ্রহণ ও “মা কেমন আছ” জিজ্ঞাসা করিতেন।

ঠাকুর দুইবার তীর্থে গমন করেন। প্রথমবার মাকে সঙ্গে লইয়া যান, সঙ্গে শ্রীযুক্ত রাম চাটুজ্যে ও মথুরবাবুর কয়েকট পুত্র। তখন সবে কাশির রেল খুলিয়াছে। তাঁহার অবস্থান্তরের ৫/৬ বৎসরের মধ্যে। তখন অহর্নিশ প্রায়ই সমাধিস্থ বা ভাবে গরগর মাতোয়ারা। এবার বৈদ্যনাথ দর্শনান্তর ৺কাশীধাম ও প্রয়াগ দর্শন হইয়াছিল। ১৮৬৩ খ্রীষ্টাব্দ।

দ্বিতীয়বার তীর্থগমন ইহার ৫ বৎসর পরে, ইংরেজী জানুয়ারি, ১৮৬৮ খ্রীষ্টাব্দে। মথুরবাবু ও তাঁহার স্ত্রী জগদম্বা দাসীর সঙ্গে। ভাগিনেয় হৃদয় এবার সঙ্গে ছিলেন। এ-যাত্রায় ৺কাশীধাম, প্রয়াগ, শ্রীবৃন্দাবন দর্শন করেন। কাশীতে মণিকর্ণিকায় সমাধিস্থ হইয়া বিশ্বনাথের গম্ভীর চিন্ময় রূপ দর্শন করেন — মুমূর্ষুদিগের কর্ণে তারকব্রহ্ম নাম দিতেছেন। আর মৌন ব্রতধারী ত্রৈলঙ্গ স্বামীর সহিত আলাপ করেন। মথুরায় ধ্রুবঘাটে বসুদেবের কোলে শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীবৃন্দাবনে সন্ধ্যা সময়ে ফিরতিগোষ্ঠে শ্রীকৃষ্ণ ধেনু লইয়া যমুনা পার হইয়া আসিতেছেন ইত্যাদি লীলা ভাবচক্ষে দর্শন করিয়াছিলেন, নিধুবনে রাধাপ্রেমে বিভোরা গঙ্গামাতার সহিত আলাপ করিয়া বড়ই আনন্দিত হইয়াছিলেন।

শ্রীযুক্ত কেশব সেন যখন বেলঘরের বাগানে ভক্তসঙ্গে ঈশ্বরের ধ্যান চিন্তা করেন, তখন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ভাগিনেয় হৃদয়ের সঙ্গে তাঁহাকে দেখিতে যান; ১৮৭৫ খ্রীষ্টাব। বিশ্বনাথ উপাধ্যায়, নেপালের ‘কাপ্তেন’এই সময়ে আসিতে থাকেন। সিঁথির গোপাল (‘বুড়ো গোপাল’) ও মহেন্দ্র কবিরাজ, কৃষ্ণনগরের কিশোরী ও মহিমাচরণ এই সময়ে ঠাকুরকে দর্শন করিয়াছিলেন।

ঠাকুরের অন্তরঙ্গ ভক্তেরা ইং ১৮৭৯, ১৮৮০ খ্রীষ্টাব্দ হইতে ঠাকুরের কাছে আসিতে থাকেন। তাঁহারা যখন ঠাকুরকে দেখেন, তখন উন্মাদ অবস্থা প্রায় চলিয়া গিয়াছে। তখন শান্ত সদানন্দ বালকের অবস্থা। কিন্তু প্রায় সর্বদা সমাধিস্থ — কখন জড়সমাধি — কখন ভাবসমাধি — সমাধি ভঙ্গের পর ভাবরাজ্যে বিচরণ করিতেছেন। যেন পাঁচ বৎসরের ছেলে। সর্বদাই মা! মা!

রাম ও মনোমোহন ১৮৭৯ খ্রীষ্টাব্দের শেষ ভাগে আসিয়া মিলিত হইলেন; কেদার, সুরেন্দ্র তার পরে আসিলেন। চুনী, লাটু, নিত্যগোপাল, তারকও পরে আসিলেন। ১৮৮১-র শেষ ভাগে ও ১৮৮২-র প্রারম্ভ, এই সময়ের মধ্যে নরেন্দ্র, রাখাল, ভবনাথ, বাবুরাম, নিরনঞ্জন, মাস্টার, যোগীন আসিয়া পড়িলেন। ১৮৮৩/৮৪ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে কিশোরী, অধর, নিতাই, ছোটগোপাল, বেলঘরের তারক, শরৎ, শশী; ১৮৮৪-র মধ্যে সান্যাল, গঙ্গাধর, কালী, গিরিশ, দেবেন্দ্র, সারদা, কালীপদ, উপেন্দ্র, দ্বিজ ও হরি; ১৮৮৫-র মধ্যে সুবোধ, ছোট নরেন্দ্র, পল্টু, পূর্ণ, নারায়ণ, তেজচন্দ্র, হরিপদ আসিলেন। এইরূপে হরমোহন, যজ্ঞেশ্বর, হাজরা, ক্ষীরোদ, কৃষ্ণনগরের যোগীন, মণীন্দ্র, ভূপতি, অক্ষয়, নবগোপাল, বেলঘরের গোবিন্দ, আশু, গিরীন্দ্র, অতুল, দুর্গাচরণ, সুরেশ, প্রাণকৃষ্ণ, নবাইচৈতন্য, হরিপ্রসন্ন, মহেন্দ্র (মুখো), প্রিয় (মুখুজ্জে), সাধু প্রিয়নাথ (মন্মথ), বিনোদ, তুলসী, হরিশ মুস্তাফী, বসাক, কথকঠাকুর, বালির শশী (ব্রহ্মচারী), নিত্যগোপাল (গোস্বামী), কোন্নগরের বিপিন, বিহারী, ধীরেন, রাখাল (হালদার) ক্রমে আসিয়া পড়িলেন

ঈশ্বর বিদ্যাসাগর, শশধর পণ্ডিত, ডাক্তার রাজেন্দ্র, ডাক্তার সরকার, বঙ্কিম (চাটুজ্যে), আমেরিকার কুক্‌সাহেব, ভক্ত উইলিয়ামস্‌, মিসির সাহেব, মাইকেল মধুসূদন, কৃষ্ণদাস (পাল), পণ্ডিত দীনবন্ধু, পণ্ডিত শ্যামাপদ, রামনারায়ণ ডাক্তার, দুর্গাচরণ ডাক্তার, রাধিকা গোস্বামী, শিশির (ঘোষ), নবীন (মুন্সী), নীলকন্ঠ ইহারাও দর্শন করিয়াছিলেন। ঠাকুরের সঙ্গে ত্রৈলঙ্গ স্বামীর কাশীধামে ও গঙ্গামাতার শ্রীবৃন্দাবনে সাক্ষাৎ হয়। গঙ্গামাতা ঠাকুরকে শ্রীমতী রাধাজ্ঞানে বৃন্দাবন হইতে ছাড়িতে চান নাই।

অন্তরঙ্গ ভক্তেরা আসিবার আগে কৃষ্ণকিশোর, মথুর, শম্ভু মল্লিক, নারায়ণ শাস্ত্রী, ইঁদেশের গৌরী পণ্ডিত, চন্দ্র, অচলানন্দ সর্বদা ঠাকুরকে দর্শন করিতেন। বর্ধমানের রাজার সভাপন্ডিত পদ্মলোচন, আর্যসমাজের দয়ানন্দও দর্শন করিয়াছিলেন। ঠাকুরের জন্মভূমি কামারপুকুর এবং সিওড় শ্যামবাজার ইত্যাদি স্থানের অনেক ভক্তেরা তাঁহাকে দেখিয়াছেন।

ব্রাহ্মসমাজের অনেকে ঠাকুরের কাছে সর্বদা যাইতেন। কেশব, বিজয়, কালী (বসু), প্রতাপ, শিবনাথ, অমৃত ত্রৈলক্য, কৃষ্ণবিহারী, মণিলাল, উমেশ, হীরানন্দ, ভবানী, নন্দলাল ও অন্যান্য অনেক ব্রাহ্মভক্ত সর্বদা যাইতেন; ঠাকুরও ব্রাহ্মদের দেখিতে আসিতেন। মথুরের জীবদ্দশায় ঠাকুর তাঁহার সহিত দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে তাঁহার বাটীতে ও উপাসনাকালে আদি ব্রাহ্মসমাজ দেখিতে গিয়াছিলেন। পরে কেশবের ব্রাহ্মমন্দির ও সাধারণসমাজ — উপাসনাকালে — দেখিতে গিয়াছিলেন। কেশবের বাড়িতে সর্বদা যাইতেন ও ব্রাহ্মভক্তসঙ্গে কত আনন্দ করিতেন। কেশবও সর্বদা, কখন ভক্তসঙ্গে, কখন বা একাকী আসিতেন।

কালনাতে ভগবান দাস বাবাজীর সঙ্গে দেখা হইয়াছিল ঠাকুরের সমাধি আবস্থা দেখিয়া বলিয়াছিলেন — আপনি মহাপুরুষ, চৈতন্যদেবের আসনে বসিবার আপনিই উপযুক্ত।

ঠাকুর সর্বধর্ম-সমন্বয়ার্থ বৈষ্ণব, শাক্ত, শৈব ইত্যাদি ভাব সাধন করিয়া অপরদিকে আল্লা মন্ত্রজপ ও যীশুখ্রীষ্টের চিন্তা করিয়াছিলেন। যে-ঘরে ঠাকুর থাকিতেন সেখানে ঠাকুরদের ছবি ও বুদ্ধদেবের মূর্তি ছিল। যীশু জলমগ্ন পিতরকে উদ্ধার করিতেছেন, এ-ছবিও ছিল। এখনও সে-ঘরে গেলে দেখিতে পাওয়া যায়। আজ ওই ঘরে ইংরেজ ও আমেরিকান ভক্তেরা আসিয়া ঠাকুরের ধ্যান চিন্তা করেন, দেখা যায়।

একদিন মাকে ব্যাকুল হইয়া বলিলেন, “মা তোর খ্রীষ্টান ভক্তেরা তোকে কিরূপে ডাকে দেখব, আমায় নিয়ে চ।” কিছুদিন পরে কলিকাতায় গিয়া এক গির্জার দ্বারদেশে দাঁড়াইয়া উপাসনা দেখিয়াছিলেন। ঠাকুর ফিরিয়া আসিয়া ভক্তদের বলিলেন, “আমি খাজাঞ্চীর ভয়ে ভিতরে গিয়া বসি নাই — ভাবলাম, কি জানি যদি কালীঘরে যেতে না দেয়।”

ঠাকুরের অনেক স্ত্রীলোক ভক্ত আছেন। গোপালের মাকে ঠাকুর মা বলিয়াছিলেন ও “গোপালের মা” বলিয়া ডাকিতেন। সকল স্ত্রীলোককেই তিনি সাক্ষাৎ ভগবতী দেখিতেন ও মা-জ্ঞানে পূজা করিতেন। কেবল যত দিন না স্ত্রীলোককে সাক্ষাৎ মা-বোধ হয়, যত দিন না ঈশ্বরে শুদ্ধাভক্তি হয়, ততদিন স্ত্রীলোক সম্বন্ধে পুরুষদের সাবধান থাকিতে বলিতেন। এমন কি পরম ভক্তিমতী হইলেও তাঁহাদের সম্পর্কে যাইতে বারণ করিতেন। মাকে নিজে বলিয়াছিলেন, “মা, আমার ভিতরে যদি কাম হয়, তাহলে কিন্তু মা গলায় ছুরি দিব।”

ঠাকুরের ভক্তেরা অসংখ্য — তাঁহারা কেহ প্রকাশিত আছেন, কেহ বা গুপ্ত আছেন — সকলের নাম করা অসম্ভব। শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃতে অনেকের নাম পাওয়া যাইবে। বাল্যকালে অনেকে — রামকৃষ্ণ, পতু, তুলসী, শান্তি, শশী, বিপিন, হীরালাল, নগেন্দ্র মিত্র, উপেন্দ্র, সুরেন্দ্র, সুরেন ইত্যাদি; ও ছোট ছোট অনেক মেয়েরা ঠাকুরকে দেখিয়াছিলেন। এক্ষণে তাঁহারাও ঠাকুরের সেবক।

লীলা সংবরণের পর তাঁহার কত ভক্ত হইয়াছেন ও হইতেছেন। মাদ্রাজ, লঙ্কাদ্বীপ, উত্তর-পশ্চিম, রাজপুতনা, কুমাউন, নেপাল, বোম্বাই, পাঞ্জাব, জাপান; আবার আমেরিকা, ইংলণ্ড — সর্বস্থানে ভক্ত-পরিবার ছড়াইয়া পড়িয়াছে ও উত্তরোত্তর বাড়িতেছে। [WORDS:-1620]

Sri Ramakrishna was born to a pious brahmin family in the inland village of Kamarpukur on the second lunar day of the bright fortnight of Phalgun. The village is in the Hooghly district, about eight miles west of Jehanabad (Aram Bag) and about twenty-six miles south of Burdwan. 

There is a difference of opinion on the date of his birth.

During Sri Ramakrishna’s illness, Ambika Acharya read his horoscope and dated his birth on the third of Kartik, 1286 B.Y., A.D. 1879. This gives a date of 1756 Shaka, the 10th of Phalgun, Wednesday, the second day of the bright fortnight, Purva Bhadrapada Nakshatra. His calculation is:  1756/109/59/12. On the other hand Kshetra Nath Bhatt’s calculation in 1300 B.Y. is 1754/10/9/0/12. According to this calculation it is 1754 Shaka, the 10th of Phalgun, Wednesday, the second day of the bright fortnight, Purva Bhadrapada, 1239 B.Y., 20 February 1833. All tally. At this time there is a conjunction of the sun, the moon, and Mercury. It is the sign of Aquarius. Because of the conjunction of Jupiter and Venus, he would be the chief of a religious sect.

Narayana Jyotirbhushan made a new horoscope (at Belur Math). According to his calculation, 1242 B.Y., 6th of Phalgun, Wednesday; 17 February 1836, 4 a.m., the second day of the bright fortnight of Phalgun, when there is a conjunction of the three planets, all the points tally except the 10th of Phalgun given by Ambika Acharya: 1757/10/5/59/28/21. Sri Ramakrishna lived for fifty years. Thakur’s father, Sri Khudiram Chatterji, was a man of firm faith and great devotion. His mother, Chandramani Devi, was the personification of simplicity and kindness. They had lived in a village called Dere about three miles from Kamarpukur, but because of problems relating to Khudiram’s refusal to give evidence in a lawsuit in favour of the landlord at Dere, he moved to Kamarpukur with his family.

Sri Ramakrishna’s childhood name was Gadadhar. He learned elementary reading in primary school but the arithmetic book by Shuvankara confused him, so he left school to stay at home and attend to the household deity, Raghuvir. He himself plucked flowers for worship and performed the daily puja.

His voice was exquisitely sweet, and he could sing almost all the songs he heard in theatrical performances. He was cheerful from childhood. Everyone in the neighbourhood – men and women and children – loved him dearly and felt the attraction of his cheerful nature.

Holy men frequently visited a guesthouse at the garden of the Lahas, near Gadadhar’s home. He would visit them there and serve them. And when the storytellers read from the Puranas, he would listen with rapt attention. In this way he learned all the stories of the Ramayana, the Mahabharata, and the Srimad Bhagavata.

One day when he was eleven years old, Thakur crossed a field to Anur, a nearby village. He later narrated how he had suddenly lost all sense-consciousness when he saw a miraculous light. People thought he had fainted, but he had attained the superconscious state of bhava samadhi.

After the death of his father, Khudiram, Thakur came to Calcutta with his elder brother. He was then seventeen or eighteen years old. In Calcutta he spent some days at Nathair Bagan and a few days at the house of Govinda Chatterji in Jhamapukur.  He performed puja there, as well as at the house of the Mittra family in Jhamapukur.

Rani Rasmani dedicated the Kali Temple at Dakshineswar, which is about five miles from Calcutta, on the 18th of Jaishtha, 1262 B.Y., on the Snana Yatra day, Thursday, 31 May 1855. Sri Ramakrishna’s elder brother, Pundit Ramkumar, was appointed the first priest of the Kali Temple. Thakur used to go there often from Calcutta.  Intime he also was engaged for the puja work. He was at that time twenty-one or twenty-two years old. His second brother, Rameswar, also sometimes performed puja in the Kali Temple. He had two sons, Ramlal and Shivaram, and a daughter, Lakshmi Devi.

After Sri Ramakrishna had performed the worship for some time, a change came over him. He would remain sitting before the image of the Mother, completely absorbed.

Soon after this, his family arranged his marriage. They thought that marriage might change his state of mind. He was married in 1859 to Saradamani Devi, the daughter of Ramchandra Mukherji of Jayrambati, a village about four miles from Kamarpukur. Thakur was twenty-two or twenty-three years old; Saradamani was six.

After his marriage, Sri Ramakrishna returned to the Dakshineswar Kali Temple. Within a few days, his state of mind suddenly changed. When worshiping Mother Kali, he began to have wonderful divine visions. He would perform arati but not bring the arati to a close. He would sit down to perform puja but the puja would not end. At times he offered flowers on his own head. Sometimes he could not carry on the puja, but would wander around like a madman.

Rani Rasmani’s son‑in-law, Mathur, began to revere him as a great man and to serve him.  He arranged for another priest to perform Mother Kali’s worship and for Hriday Mukherji, Thakur’s sister’s son, to be his attendant.

After this, Thakur neither attended to the duties of a priest, nor did he enter into the life of a householder. His marriage was in name only. Day and night “Mother, Mother” was on his lips. First he would be like a wooden figure, then he would move around like a mad person. Sometimes he would appear like a child; sometimes he would hide himself at the sight of worldly people attached to  ‘lust and greed.’ He liked nothing but divine talk and continually murmured, “Mother! Mother!”

In the Kali Temple compound there was (and still is) a free kitchen. Holy men and sannyasins would frequently visit it. Totapuri stayed there for eleven months and expounded the philosophy of Vedanta to Thakur. Within only a few days, Totapuri observed that Thakur went into nirvikalpa samadhi. About the year 1866 the Bhairavi Brahmani (who had come in 1859) led Thakur through several Tantric practices. Looking upon him as Sri Chaitanya, she read him Sri Charitamrita and other Vaishnava holy books. When she saw him listening to Vedanta from Totapuri, the Brahmani warned him, “Baba, don’t listen to Vedanta. It will dilute your ecstasy and love for God.”

Vaishnavcharan, a pundit of the Vaishnava sect, often visited Sri Ramakrishna. It was he who took Thakur to an assembly of Chaitanya’s devotees in Calootola. He was president of the group. In this assembly, Sri Ramakrishna experienced the state of God‑consciousness and stepped up to occupy the seat of Sri Chaitanya.

Vaishnavcharan had said to Mathur, “This madness is not ordinary; it is the madness of love. He is mad for God.” Vaishnavcharan and the Brahmani had seen Thakur’s state of divine ecstasy. Like Chaitanya Deva he sometimes passed into samadhi, the state of superconscious awareness, appearing like a piece of wood, unmindful of the world around him. Then he passed through semi-consciousness and returned again to normal consciousness.

Thakur always talked to the Divine Mother and took instructions from Her. He would also weep, calling out, “Mother, Mother.” He would say, “O Mother, I shall hear You and You alone. I don’t know the sacred books, nor do I know scholars. If You explain to me, only then will I believe.” Thakur knew, and he would say, that He who is the Supreme Being, indivisible Sat-chit-ananda, is the Mother.

The Divine Mother told him, “You and I are one. Live in love and devotion to God for the good of mankind. Many devotees will come to you. Then you won’t have to see only worldly-minded people. There are many devotees who are pure and free from worldly desires.  They will come.”

In the temple at the time of arati, when bells and cymbals rang, Sri Ramakrishna would go to the roof of the kuthi and cry out in a loud voice, “O you devotees, who are you? Where are you? Come soon!”

Thakur looked upon his mother, Chandramani Devi, as another form of the Mother of the Universe and served her with this same spirit. When his elder brother, Ramkumar, passed away, the bereaved mother was stricken with grief. Within three or four years, Thakur asked her to come and stay with him at the Kali Temple. He would go to see her every day, take the dust of her feet, and ask about her welfare.

Thakur went on pilgrimage twice. The first time he took his mother with him. Ram Chatterji and some of Mathur’s sons accompanied them on the first railway line laid to Kashi. This was in 1863, within the period of five or six years of the change in his spiritual state. At that time he was either in samadhi day and night, or he remained overwhelmed and intoxicated in ecstasy. During the pilgrimage, after visiting Vaidyanath, he visited Kashi and Prayag.

His second pilgrimage took place five years later, in January 1868, with Mathur Babu and his wife, Jagadamba Dasi. This time Thakur’s sister’s son, Hriday, was with him. During the journey he visited Kashi, Prayag, and Vrindavan. In Kashi he went into samadhi at the Manikarnika ghat and had a divine vision of Lord Vishvanath whispering the name of Tarak Brahman into the ears of the dying. He also met and spoke to Trailanga Swami, who had taken a vow of silence. In Mathura at the Dhruva ghat, he saw Sri Krishna on the lap of Vasudeva; in holy Vrindavan he saw Sri Krishna with his cows returning in the evening from across the Jamuna.  Such sport he saw with his spiritual eye. In Nidhuvan he was overjoyed to meet and talk with Mother Ganga, who was immersed in love for Radha.

One day in 1875 Sri Ramakrishna went with his nephew, Hriday, to see Keshab Sen at Belgharia.  Keshab was meditating in his garden house with his disciples. By this time Vishwanath Upadhyaya, the Captain from Nepal, had begun to visit him. Gopal of Sinti (the Elder Gopal), Mahendra Kaviraj, Kishori of Krishnanagar, and Mahimacharan had also met Thakur by this time.

The devotees of Sri Ramakrishna’s inner circle began coming to him in 1879-80. When they met him, he had almost passed the state of “divine madness.” He was like a child then, calm and always cheerful. But he was almost always in the state of samadhi, sometimes in jada samadhi (appearing inert, like a piece of wood, unmindful of the world around), at other times in bhava samadhi (immersed in God). Even when not in samadhi, he remained in a state of ecstasy. He seemed like a five-year-old child, always saying, “Mother! Mother!”

Ram and Manmohan met Thakur toward the end of 1879. Kedar and Surendra came next, as well as Chuni, Latu, Nityagopal, and Tarak. During the end of 1881 and the beginning of 1882, Narendra, Rakhal, Bhavanath, Baburam, Balaram, Niranjan, M., and Yogen came. Kishori, Adhar, Nitai, the younger Gopal, Tarak of Belgharia, Sarat, and Sashi came in 1883 and 1884. In the middle of 1884 Sanyal, Gangadhar, Kali, Girish, Devendra, Sarada, Kalipada, Upendra, Dwija, and Hari came.  Subodh, the Younger Narendra, Paltu, Purna, Narayan, Tejchandra, and Haripada came in the middle of 1885. Likewise came Hara Mohan, Yajneshwar, Hazra, Kshirode, Yogen of Krishnanagar, Manindra, Bhupati, Akshay, Navagopal, Govinda of Belgharia, Ashu, Girendra, Atul, Durgacharan, Suresh, Prankrishna, Nabai Chaitanya, Hari Prasanna, Mahendra (Mukherji), Priya Mukherji, Sadhu Priyanath (Manmath), Vinod, Tulasi, Harish Mustafi, Basakh, Kathak Thakur, Sashi of Bali (Brahmachari), Nityagopal (Goswami), Vipin of Konnagar, Bihari, Dhiren, and Rakhal (Haldar) came – one after another.

Ishwar  Vidyasagar, Shashadhar Pundit, Dr. Rajendra, Dr. Sarkar, Bankim (Chatterji), Mr. Cook from the United States, devotee Williams, Mr. Missir, Michael Madhusudan, Krishnadas (Pal), Pundit Dina Bandhu, Pundit Shyamapada, Dr. Ramnarayan, Dr. Durgacharan, Radhika Goswami, Shishir (Ghosh), Navin (a clerk), and Nilkantha had all met Thakur by 1885. He had visited Trailanga Swami in holy Kashi and Mother Ganga in Vrindavan. Taking him as (the incarnation of) Radha (divine love), Mother Ganga had not wanted Thakur  to leave Vrindavan.

Before the devotees of the inner circle came, Krishnakishore, Madhura, Sambhu Mallick, Narayan Shastri, Gauri Pundit of Indesh, Chandra, and Achalananda were frequent visitors to Thakur. The court pundit of the King of Burdwan, Padmalochan, and Dayananda (the founder) of the Arya Samaj also met Thakur. Many devotees of Thakur’s native village, Kamarpukur, and of Sihore and Shyambazar had been drawn to him.

Many members of the Brahmo Samaj met Thakur. Keshab, Vijay, Kali (Bose), Pratap, Shivanath, Amrit, Trailokya, Krishna Bihari, Manilal, Umesh, Hirananda, Bhavani, Nanda Lal, and many other Brahmo devotees often visited him. Thakur also visited them. During Mathur’s lifetime, he and Thakur went to Devendranath Tagore’s house and paid a visit to the Adi Brahmo Samaj during service hours. Later he went to see Keshab’s Brahmo temple and the Sadharan Samaj during the time of worship. He would frequently visit Keshab’s house. How much he would rejoice in the company of Brahmo devotees! Keshab visited him frequently, sometimes with devotees, some-times alone.

At Kalna he met Bhagavan Das Babaji. Seeing Thakur’s state of samadhi, Babaji said, “You are indeed a great spiritual soul. Only you are fit to take the seat of Chaitanya Deva.”

Thakur practiced the disciplines of the Vaishnavas, the Shaktas, the Shaivas; he also recited the name of Allah and meditated upon Christ. He realized that they all led to the same goal. In his room there were pictures of gods and goddesses and an image of the Buddha. There was also a picture showing Jesus Christ saving Peter from drowning. These pictures can still be seen if you go to that room. English and American devotees can now be seen meditating upon Thakur in the room.

One day he implored the Divine Mother, “O Mother, I would like to see how your Christian devotees pray to You. Please take me to a place where they worship You.” In a few days, he went to Calcutta and watched a Christian service, standing at the entrance to the church. When he returned, Thakur said to the devotees, “I didn’t enter the church to sit for fear of the steward [of the Kali Temple]. I said to myself, ‘Maybe he wouldn’t allow me to enter the temple.’”

Thakur had many women devotees. He called Gopal’s Mother “Mother” and referred to her as “Gopal’s Mother.” He looked upon and worshiped all women as incarnations of Bhagavati (the Divine Mother). He said, “As long as a man cannot see a woman as Mother Herself, he cannot have pure love for God.” He warned men to guard themselves against women till that stage is reached. He went so far as to forbid young men to keep the company of even the most devout woman. He once said to the Divine Mother, “Mother, I will run a knife across my throat if any lustful thought arises in my mind.”

Thakur’s devotees are countless. Some are known, others unknown. It is impossible to name all of them. The names of many of them will be found in Sri Sri Ramakrishna Kathamrita. Those who visited him during their boyhood are: Ramakrishna, Paltu, Tulasi, Shanti, Sashi, Vipin, Hiralal, Nagendra Mitra, Upendra, Surendra, and Suren.  A number of little girls also saw Thakur. Now they, too, are his devotees.

Many became his devotees after he ended his divine play and others are still coming. In Madras, Sri Lanka, Uttar Pradesh, Rajputana, Kumaon, Nepal, Bombay, Punjab, Japan, and also in America and England – at all these places the family of devotees continues to grow