Mon 21 Jan 2025
ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাহারের নির্দেশে স্বাক্ষর করলেন
ওয়াশিংটন ডিসি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে ফিরে আসার প্রথম দিনেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের জন্য নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি জাতিসংঘকে (UNO) এই প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিয়েছেন।
পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের (USA) এই পদক্ষেপ জলবায়ু সংকট (Climate Crisis) মোকাবিলার আন্তর্জাতিক চেষ্টাকে বড় আঘাত করবে। ওয়াশিংটন ডিসিতে (Washington DC) তার সমর্থকদের সামনে এক মঞ্চে ট্রাম্প এই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। তিনি প্যারিস চুক্তিকে “অন্যায় ও একপাক্ষিক rip-off” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকা নিজের শিল্পকে ধ্বংস করতে দেবে না, যখন চীন (China) বিনা বাধায় দূষণ করে যাচ্ছে। চীন অনেক নোংরা জ্বালানি ব্যবহার করে। কিন্তু সেই দূষিত বায়ু বাতাসে ভেসে তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে আমেরিকায় পৌঁছে যায়।”
এক বছরের প্রক্রিয়া শুরু
ট্রাম্প জাতিসংঘকে যে চিঠি পাঠিয়েছেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে এক বছর সময় লাগবে। এই প্রত্যাহারের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরান, লিবিয়া ও ইয়েমেনের সঙ্গে যোগ দেবে, যারা ইতিমধ্যেই এই বৈশ্বিক চুক্তির বাইরে রয়েছে। উল্লেখ্য, জো বাইডেন ২০২১ সালে এই চুক্তিতে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে এনেছিলেন।
ফসিল ফুয়েল শিল্পে নজিরবিহীন সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি
ট্রাম্প তার অভিষেক ভাষণে “ড্রিল বেবি ড্রিল” স্লোগান তুলে ধরে আমেরিকার ফসিল ফুয়েল (fossil fuel) শিল্পকে আরও প্রসারিত করার অঙ্গীকার করেন। তিনি “গ্রিন নিউ স্ক্যাম” বলে পরিচিত বাইডেনের পরিষ্কার জ্বালানি উদ্যোগগুলিকে উড়িয়ে দিয়েছেন।
বাইডেন প্রশাসনের অধীনে আমেরিকা বিশ্বে সর্বাধিক গ্যাস উৎপাদক হয়ে উঠেছিল এবং গত বছর সর্বোচ্চ ৭৫৮টি তেল ও গ্যাস ড্রিলিং লাইসেন্স ইস্যু করেছিল। ট্রাম্পের পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০০ কোটি টন অতিরিক্ত কার্বন নির্গমন হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।
কঠোর সমালোচনা
বারাক ওবামা প্রশাসনের প্রাক্তন ইপিএ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর গিনা ম্যাকার্থি এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “প্যারিস চুক্তি ছেড়ে ট্রাম্প আমেরিকানদের প্রতি তার দায়িত্ব ত্যাগ করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।”
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকট মোকাবিলার লড়াইয়ে এই পদক্ষেপ এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Read More
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ: আমেরিকার সোনালি যুগের শুরু