ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ: আমেরিকার সোনালি যুগের শুরু
Mon 20 Jan 2025
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন: “আমেরিকার সোনালি যুগ শুরু হলো আজ থেকে”
ওয়াশিংটন ডিসি: সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অধ্যায় শুরু হলো। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণের সময় তিনি “আমেরিকাকে প্রথমে” রাখার প্রতিশ্রুতি দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি “সোনালি যুগ” আনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মার্কিন ক্যাপিটল ভবনের রোটান্ডায় তীব্র ঠান্ডার কারণে আয়োজিত এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের কাছ থেকে ট্রাম্প শপথ (Oath) গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে এলেন, যা এক সময় ছিল অসম্ভব বলে ধরা হতো।
উদ্বোধনী ভাষণে জাতীয়তাবাদী সুর
শপথ গ্রহণের পর তাঁর ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আজ থেকে আমেরিকার সোনালি যুগ শুরু হলো। আমাদের দেশ আবার সমৃদ্ধ হবে এবং সারা বিশ্বে শ্রদ্ধার পাত্রে পরিণত হবে। প্রতিটি দিন আমি শুধু এটাই করব – আমেরিকাকে প্রথমে রাখব। আমেরিকার পতন আজ থেকেই শেষ।”
তিনি আরও বলেন, “আমার নির্বাচনী জয় ছিল আমেরিকার জনগণের প্রতি বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের জন্য একটি ম্যান্ডেট। এই যাত্রা সহজ ছিল না, কিন্তু আমি ঈশ্বরের ইচ্ছায় বেঁচে আছি, কারণ আমাকে আমেরিকাকে আবার মহান করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
প্রথম দিনেই কার্যকর নির্দেশনার ঘোষণা
ট্রাম্প তাঁর শাসনামলের প্রথম দিন থেকেই একাধিক নির্বাহী আদেশ জারি করার ঘোষণা দেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল:
- দক্ষিণ সীমান্তে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন
- জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ
- অভিবাসন (immigration) নিয়ে কঠোর নীতি গ্রহণ
- মাদক চক্রকে বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা
- বৈদ্যুতিক যানবাহন সংক্রান্ত ম্যান্ডেট বাতিল
- পণ্য আমদানিতে শুল্ক সংগ্রহের জন্য একটি নতুন সংস্থা গঠন
এছাড়াও তিনি পানামা খাল “ফিরিয়ে নেওয়া” এবং মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে “আমেরিকা উপসাগর” রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
বিতর্কিত অতীত ও পুনরুত্থান
৬ জানুয়ারি, ২০২১ সালে ক্যাপিটল ভবনে তাঁর সমর্থকদের দাঙ্গার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ট্রাম্প আর কখনোই প্রেসিডেন্ট পদে ফিরে আসবেন না। তবে ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্প তাঁর “মেগা” (Make America Great Again) আন্দোলনের সমর্থকদের নিয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে শক্তিশালীভাবে ফিরে এসেছেন।
রবিবার ক্যাপিটাল ওয়ান এরিনায় আয়োজিত একটি সমাবেশে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের মাটি থেকে সোনা বের করব। আমাদের শহরে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনব। এবং আমাদের সামরিক বাহিনী থেকে চরমপন্থী ‘জাগ্রত’ মতাদর্শকে বিদায় জানাব।”
বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সতর্কতা
শপথ গ্রহণের আগে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্যাপিটল থেকে বিদায় নেন। বিদায়ের সময় বাইডেন আমেরিকার ধনী শ্রেণির ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা এবং প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেন। বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, “আজ আমেরিকায় গড়ে উঠছে এমন একটি ধনিকতন্ত্র যা আমাদের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।”
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং-এর মতো বিদেশি নেতারা। তবে সাবেক প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের উপস্থিতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যিনি গত নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।
এই শপথ অনুষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল, যেখানে সম্ভাবনা এবং অনিশ্চয়তা একসঙ্গে বিরাজ করছে।