সুভাষচন্দ্র বসু সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ – Ravindranath on Subhas Chandra – 1939

বাঙ্গালী কবি আমি, বাঙ্গালাদেশের হয়ে তােমাকে দেশনায়কের পদে বরণ করি। গীতায় বলেন, সুকৃতের রক্ষা ও দুষ্কৃতের বিনাশের জন্য রক্ষাকর্তা বারংবার আবির্ভূত হন। দুর্গতির জালে রাষ্ট্র যখন জড়িত হয়, তখনই পীড়িত দেশের অন্তর্বেদনার প্রেরণায় আবির্ভূত হয় দেশের অধিনায়ক। রাজশাসনের দ্বারা নিষ্পিষ্ট, আত্মবিরােধের দ্বারা বিক্ষিপ্তশক্তি বাংলাদেশের অদৃষ্টাকাশে দুর্যোগ আজ ঘনীভূত।

হরিপুরা কংগ্রেস—সভাপতির অভিভাষণ—প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনার বিরোধিতা (Presidential address by Subhas Chandra at Haripura Congress-1938)

১৯শে ফেব্রুয়ারী অপরাহ্ণে বিচিত্র সমারোহে ও মনোহর দৃশরাজির মধ্যে ‘বিটলনগরে’ ভারতীয় জাতীয় মহাসভার ৫১তম অধিবেশন আরম্ভ হয়। সুভাষচন্দ্র এই জাতীয় যজ্ঞের ঋত্বিক। ভারতের বিভিন্ন স্থান হইতে আগত দুই লক্ষাধিক নর-নারীর সমাবেশে ‘বিটলনগর’ জনসমুদ্রে পরিণত হইয়াছে। বাঙ্‌লার একদল গায়িকা কর্ত্তৃক সুললিত কণ্ঠে বন্দেমাতরম্ সঙ্গীত গীত হওয়ার পর অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি গোপালদাস সমাগত প্রতিনিধি ও দর্শক বৃন্দকে সাদর সম্ভাষণ জানাইয়া তাঁহার সংক্ষিপ্ত অথচ চিত্তাকর্ষক অভিভাষণ পাঠ করেন

আজাদ হিন্দ গবর্নমেন্ট – সুভাষচন্দ্র বসু – Ajad Hind Government by Subhas Chandra Bose (1945)

আজাদ-হিন্দ সংঘ (ইণ্ডিয়ান ইণ্ডিপেণ্ডেন্স লীগ) হেড কোয়ার্টার্স থেকে Blood-bath (রক্ত স্নান) নামে নেতাজির কতকগুলি রচনা ও বক্তৃতা প্রকাশিত হয়। সেই বইটির সমগ্র এবং আরও চারটি বক্তৃতার প্রাঞ্জল অনুবাদ সুষ্ঠু মূদ্রণে পরম শ্রদ্ধায় গ্রন্থাকারে উপস্থাপিত হয়েছে। আজাদ-হিন্দ গবর্নমেণ্টের উদ্দেশ্য, ইউরোপ, পূর্ব্ব-এশিয়া ও ভারতবর্ষের সমসাময়িক ঘটনাবলীর সুনিপুণ বিশ্লেষণ এবং নেতাজির অনন্য দেশপ্রেমের পরিচয় রচনাগুলির ছত্রে ছত্রে প্রকাশ পেয়েছে।

দিল্লী চলো-সুভাষচন্দ্র বসু – Dilli Cholo by Subhas Chandra Bose

আমি তোমাদের কর্ত্তব্য স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি,—সে কর্ত্তব্য দ্বিবিধ। অস্ত্রবলের দ্বারা এবং নিজেদের শোণিতোৎসর্গ করে ভারতের স্বাধীনতা অর্জ্জন করতে হবে। তারপর ভারত যখন স্বাধীন হবে, তখন স্বাধীন ভারতের জন্যে স্থায়ী সেনাবাহিনী গড়ে তুলবে তোমরাই। তখন কর্ত্তব্য হবে ভারতের স্বাধীনতা রক্ষা করা। তোমরা আমাদের দেশরক্ষার শক্তি এমন অটল ভিত্তির উপর স্থাপন করবে যেন আর কোনদিন, আমরা স্বাধীনতা না হারাই। সৈনিক হিসাবে তোমাদের তিনটি আদর্শ হৃদয়ে পোষণ করতে হবে এবং তদনুযায়ী নিজেদের জীবন পরিচালিত করতে হবে।