translation Bengali to english

Bengali to English translation: Difficult Composition-1

মা গো, আজ মনে পড়ছে তোমার সেই সিঁথের সিঁদুর, চওড়া সেই লাল-পেড়ে শাড়ি, সেই তোমার দুটি চোখ– শান্ত, স্নিগ্ধ, গভীর।

Mother, today there comes back to mind the vermilion mark at the parting of your hair, the sari which you used to wear, with its wide red border, and those wonderful eyes of yours, full of depth and peace.

আমি মায়ের মতো দেখতে এই কথা সকলে বলে। তা নিয়ে ছেলেবেলায় একদিন আয়নার উপর রাগ করেছি। মনে হত আমার সর্বাঙ্গে এ যেন একটা অন্যায়– আমার গায়ের রঙ, এ যেন আমার আসল রঙ নয়, এ যেন আর-কারো জিনিস, একেবারে আগাগোড়া ভুল।

Everyone says that I resemble my mother. In my childhood, I used to resent this. It made me angry with my mirror. I thought that it was God’s unfairness which was wrapped around my limbs—that my dark features were not my due, but had come to me by some misunderstanding.

রাজার ঘরে আমার বিয়ে হল।  ছেলেবেলায় রূপকথার রাজপুত্রের কথা শুনেছি, তখন থেকে মনে একটা ছবি আঁকা ছিল।

I was married into a Rajah’s house. When I was a child, I was quite familiar with the description of the Prince of the fairy story.

বহুকাল হল আমার শ্বশুর-শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। আমার দিদিশাশুড়িই ঘরের কর্ত্রী। আমার স্বামী তাঁর বক্ষের হার, তাঁর চক্ষের মণি। এইজন্যেই আমার স্বামী কায়দার গণ্ডি ডিঙিয়ে চলতে সাহস করতেন। এইজন্যেই তিনি যখন মিস গিল্‌বিকে আমার সঙ্গিনী আর শিক্ষক নিযুক্ত করলেন তখন ঘরে বাইরে যত রসনা ছিল তার সমস্ত রস বিষ হয়ে উঠল, তবু আমার স্বামীর জেদ বজায় রইল।

My husband’s parents had died long ago, and his old grandmother was mistress of the house. My husband was the apple of her eye, the jewel on her bosom. And so he never met with much difficulty in overstepping any of the ancient usages. When he brought in Miss Gilby, to teach me and be my companion, he stuck to his resolve in spite of the poison secreted by all the wagging tongues at home and outside.

আমি লেখাপড়া করেছি, সুতরাং এখনকার কালের সঙ্গে আমার এখনকার ভাষাতেই পরিচয় হয়ে গেছে। আমার আজকের এই কথাগুলো আমার নিজের কাছেই কবিত্বের মতো শোনাচ্ছে।

Since then, I have been educated and introduced to the modern age in its own language, and therefore these words that I write seem to blush with shame in their prose setting.

আমার স্বামী বরাবর বলে এসেছেন, স্ত্রীপুরুষের পরস্পরের প্রতি সমান অধিকার, সুতরাং তাদের সমান প্রেমের সম্বন্ধ। এ নিয়ে আমি তাঁর সঙ্গে কোনোদিন তর্ক করি নি। কিন্তু আমার মন বলে, ভক্তিতে মানুষকে সমান হবার বাধা দেয় না। ভক্তিতে মানুষকে উপরের দিকে তুলে সমান করতে চায়। তাই সমান হতে থাকবার আনন্দ তাতে বরাবর পাওয়া যায়, কোনোদিন তা চুকে গিয়ে হেলার জিনিস হয়ে ওঠে না।

My husband used to say, that man and wife are equal in love because of their equal claim on each other. I never argued the point with him, but my heart said that devotion never stands in the way of true equality; it only raises the level of the ground of meeting. Therefore the joy of the higher equality remains permanent; it never slides down to the vulgar level of triviality.

প্রিয়তম, তুমি আমার পূজা চাও নি সে তোমারই যোগ্য, কিন্তু পূজা নিলে ভালো করতে। তুমি আমাকে সাজিয়ে ভালোবেসেছ, শিখিয়ে ভালোবেসেছ, যা চেয়েছি তা দিয়ে ভালাবেসেছ, যা চাই নি তা দিয়ে ভালাবেসেছ, আমার ভালোবাসায় তোমার চোখে পাতা পড়ে নি তা দেখেছি, আমার ভালোবাসায় তোমার লুকিয়ে নিশ্বাস পড়েছে তা দেখেছি। আমার দেহকে তুমি এমন করে ভালোবেসেছ যেন সে স্বর্গের পারিজাত, আমার স্বভাবকে তুমি এমনি করে ভালোবেসেছ যেন সে তোমার সৌভাগ্য!

My beloved, it was worthy of you that you never expected worship from me. But if you had accepted it, you would have done me a real service. You showed your love by decorating me, by educating me, by giving me what I asked for, and what I did not. I have seen what depth of love there was in your eyes when you gazed at me. I have known the secret sigh of pain you suppressed in your love for me. You loved my body as if it were a flower of paradise. You loved my whole nature as if it had been given you by some rare providence.

আজ মনে পড়ছে সেদিন আমার সৌভাগ্যে সংসারে কত লোকের মনে কত ঈর্ষার আগুন ধিকিধিকি জ্বলেছিল। ঈর্ষা হবারই তো কথা– আমি যে অমনি পেয়েছি, ফাঁকি দিয়ে পেয়েছি। কিন্তু ফাঁকি তো বরাবর চলে না। দাম দিতেই হবে। নইলে বিধাতা সহ্য করেন না– দীর্ঘকাল ধরে প্রতিদিন সৌভাগ্যের ঋণ শোধ করতে হয়, তবেই স্বত্ব ধ্রুব হয়ে ওঠে। ভগবান আমাদের দিতেই পারেন, কিন্তু নিতে যে হয় নিজের গুণে। পাওয়া জিনিসও আমরা পাই নে এমনি আমাদের পোড়া কপাল।

It comes back to me to-day how, in the days of our happiness, the fires of envy sprung up all around us. That was only natural, for had I not stepped into my good fortune by a mere chance, and without deserving it? But providence does not allow a run of luck to last forever, unless its debt of honour be fully paid, day by day, through many a long day, and thus made secure. God may grant us gifts, but the merit of being able to take and hold them must be our own. Alas for the boons that slip through unworthy hands!

আমাদের ঘরে এই ভোগের সংসারে খুব অল্প স্ত্রীই যথার্থ স্ত্রীর সম্মান পেয়েছেন। কিন্তু সেটাই নাকি এখানকার নিয়ম, তাই মদের ফেনা আর নটীর নূপুরনিক্কণের তলায় তাঁদের জীবনের সমস্ত কান্না তলিয়ে গেলেও তাঁরা কেবলমাত্র বড়ো ঘরের ঘরনীর অভিমান বুকে আঁকড়ে ধরে মাথাটাকে উপরে ভাসিয়ে রেখেছিলেন।

অথচ আমার স্বামী মদও ছুঁলেন না, আর নারীমাংসের লোভে পাপের পণ্যশালার দ্বারে দ্বারে মনুষ্যত্বের থলি উজাড় করে ফিরলেন না, এ কি আমার গুণে?

পুরুষের উদ্‌ভ্রান্ত উন্মত্ত মনকে বশ করবার মতো কোন্‌ মন্ত্র বিধাতা আমাকে দিয়েছিলেন? কেবলমাত্রই কপাল, আর-কিছুই না!

সন্ধ্যা হতে না হতেই তাঁদের ভোগের উৎসব মিটে গেল, কেবল রূপযৌবনের বাতিগুলো শূন্য সভায় সমস্ত রাত ধরে মিছে জ্বলতে লাগল! কোথাও সংগীত নেই, কেবলমাত্রই জ্বলা!

In this house of luxury, but few of its ladies had received their meed of respect. They had, however, got used to the ways of the family, and managed to keep their heads above water, buoyed up by their dignity as Ranis of an ancient house, in spite of their daily tears being drowned in the foam of wine, and by the tinkle of the dancing girls’ anklets.

Was the credit due to me that my husband did not touch liquor, nor squander his manhood in the markets of woman’s flesh?

What charm did I know to soothe the wild and wandering minds of men? It was my good luck, nothing else.

Her festivity died out, while yet the evening was early, leaving the light of her beauty shining in vain over empty halls—burning and burning, with no accompanying music!

আমার স্বামী সমস্তই জানতেন। কিন্তু মেয়েদের উপর যে তাঁর হৃদয় করুণায় ভরা। তিনি আমাকে বারবার বলতেন, রাগ কোরো না।

মনে আছে আমি একবার তাঁকে বলেছিলুম, মেয়েদের মন বড়োই ছোটো, বড়ো বাঁকা। তিনি জবাব দিয়েছিলেন, চীন-দেশের মেয়েদের পা যেমন ছোটো, যেমন বাঁকা।

সমস্ত সমাজ যে চার দিক থেকে আমাদের মেয়েদের মনকে চেপে ছোটো করে বাঁকিয়ে রেখে দিয়েছে। ভাগ্য যে ওদের জীবনটাকে নিয়ে জুয়ো খেলছে– দান পড়ার উপরই সমস্ত নির্ভর, নিজের কোন্‌ অধিকার ওদের আছে?

My husband was aware of all this, but his gentleness about women knew no bounds. He used to implore me for not getting angry.

I remember I once told him: ‘Women’s minds are so petty, so crooked!’ ‘Like the feet of Chinese women, it is as small and as bend,’ he replied.

‘Has not the pressure of society cramped them into pettiness and crookedness? They are but pawns of the fate which gambles with them. What responsibility have they of their own?’