Advocatetanmoy Law Library

Policy Research and Legal Database

Library Home » Light Page » আবোল তাবোল-সুকুমার রায় (Abol Tabol by Sukumar Roy-1923)

আবোল তাবোল-সুকুমার রায় (Abol Tabol by Sukumar Roy-1923)

Collection of weird and absurd poems by Sukumar Roy in Bengali language, Katth Buro-Head Officer Borobabu-Kumro Potash-Sat Patro-Chandidaser Khuroe -Bombagorer Raja- Hnukumukho Hyangla-Ramgorurer Chhana 
image_print

ENGLISH TRANSLATION: Rhymes of Whimsy – The Complete Abol Tabol by Niladri Roy, Haton Cross Press, 2017

Nonsense Rhymes translated by Satyajit Ray, Calcutta: Writer’s Workshop, 1970.

 

“In contradiction to the relations and harmonies of life, Nonsense sets itself to discover and bring forward the incongruities of all things within and without us. […] For while Sense is, and must remain, essentially prosaic and commonplace, Nonsense has proved not to be an equally prosaic and commonplace negative of Sense, not a mere putting forward of incongruities and absurdities, but a bringing out a new and deeper harmony of life in and through its contradictions. Nonsense in fact, in this use of the word, has shown itself to be a true work of the imagination, a child of genius, and its writing one of the Fine Arts” [Edward Strachey-1888]

 

“The domain of nonsense as in the setting of the quality of nonsense in picturesque surroundings. The chorus itself, whimsical though it is, translates what ought to be Pelicanese into a kind of pidgin English, which one can easily imagine to be the nearest approximation in human language of the thoughts and emotions of the pelican”[Master of nonsense].

Weird and the Absurd poems from আবোল তাবোল

 

আবোল তাবোল

আয়রে ভোলা খেয়াল খোলা
স্বপনদোলা নাচিয়ে আয়,
আয়রে পাগল আবোল তাবোল
মত্ত মাদল বাজিয়ে আয় ৷
আয় যেখানে ক্ষ্যাপার গানে
নাইকো মানে নাইকো সুর,
আয়রে যেথায় উধাও হাওয়ায়
মন ভেসে যায় কোন্ সুদূর ৷
আয় ক্ষ্যাপা–মন ঘুচিয়ে বাঁধন
জাগিয়ে নাচন তাধিন্ ধিন্,
আয় বেয়াড়া সৃষ্টিছাড়া
নিয়মহারা হিসাব–হীন ৷
আজগুবি চাল বেঠিক বেতাল
মাতবি মাতাল রঙ্গেতে,
আয়রে তবে ভুলের ভবে
অসম্ভবের ছন্দেতে ৷৷

 

কুমড়োপটাশ

(যদি) কুম্‌ড়োপটাশ নাচে—
খবরদার এসো না কেউ আস্তাবলের কাছে ;
চাইবে নাকো ডাইনে বাঁয়ে চাইবে নাকো পাছে ;
চার পা তুলে থাকবে ঝুলে হট্টমূলার গাছে ।

(যদি) কুম্‌ড়োপটাশ কাঁদে—
খবরদার ! খবরদার ! বসবে না কেউ ছাদে ;
উপুড় হয়ে মাচায় শুয়ে লেপ কম্বল কাঁধে,
বেহাগ সুরে গাইবে খালি ‘রাধে কৃষ্ণ রাধে !’

(যদি) কুম্‌ড়োপটাশ হাসে—
থাকবে খাড়া একটি ঠ্যাঙে রান্নাঘরের পাশে ;
ঝাপসা গলায় ফার্সি কবে নিশ্বাসে ফিস্‌ফাসে ;
তিনটি বেলা উপোস করে থাকবে শুয়ে ঘাসে !

(যদি) কুম্‌ড়োপটাশ ছোটে—
সবাই যেন তড়বড়িয়ে জানালা বেয়ে ওঠে ;
হুঁকোর জলে আলতা গুলে লাগায় গালে ঠোঁটে ;
ভুলেও যেন আকাশ পানে তাকায় না কেউ মোটে !

(যদি) কুম্‌ড়োপটাশ ডাকে—
সবাই যেন শ্যামলা এঁটে গামলা চড়ে থাকে ;
ছেঁচকি শাকের ঘন্ট বেটে মাথায় মলম মাখে ;
শক্ত ইঁটের তপ্ত ঝামা ঘষতে থাকে নাকে ।

তুচ্ছ ভেবে এ–সব কথা করছ যারা হেলা,
কুম্‌ড়োপটাশ জানতে পেলে বুঝবে তখন ঠেলা ।
দেখবে তখন কোন্ কথাটি কেমন করে ফলে,
আমায় তখন দোষ দিও না, আগেই রাখি বলে ।

 

কাতুকুতু বুড়ো

আর যেখানে যাও না রে ভাই সপ্তসাগর পার,
কাতুকুতু বুড়োর কাছে যেও না খবরদার !
সর্বনেশে বৃদ্ধ সে ভাই যেও না তার বাড়ী—
কাতুকুতুর কুল্‌পি খেয়ে ছিঁড়বে পেটের নাড়ী ৷
কোথায় বাড়ী কেউ জানে না, কোন্ সড়কের মোড়ে,
একলা পেলে জোর ক’রে ভাই গল্প শোনায় প’ড়ে ৷
বিদ্‌ঘুটে তার গল্পগুলো না জানি কোন্ দেশী,
শুনলে পরে হাসির চেয়ে কান্না আসে বেশী ৷
না আছে তার মুণ্ডু মাথা, না আছে তার মানে,
তবুও তোমায় হাসতে হবে তাকিয়ে বুড়োর পানে ৷
কেবল যদি গল্প বলে তাও থাকা যায় সয়ে,
গায়ের উপর সুড়সুড়ি দেয় লম্বা পালক লয়ে ৷
কেবল বলে, “হোঃ হোঃ হোঃ, কেষ্টদাসের পিসি—
বেচ্‌ত খালি কুমড়ো কচু হাঁসের ডিম আর তিসি ৷
ডিমগুলো সব লম্বা মতন, কুমড়োগুলো বাঁকা,
কচুর গায়ে রঙ–বেরঙের আল্‌পনা সব আঁকা ৷
অষ্ট প্রহর গাইত পিসি আওয়াজ ক’রে মিহি,
ম্যাও ম্যাও ম্যাও বাকুম বাকুম ভৌ ভৌ ভৌ চ‌ীঁহি ৷”
এই না বলে কুটুৎ ক’রে চিমটি কাটে ঘাড়ে,
খ্যাংরা মতন আঙুল দিয়ে খোঁচায় পাঁজর হাড়ে ৷
তোমায় দিয়ে সুড়সুড়ি সে আপনি লুটোপুটি,
যতক্ষণ না হাসবে তোমার কিচ্ছুতে নাই ছুটি ৷

 

হুঁকো মুখো হ্যাংলা

হুঁকোমুখো হ্যাংলা বাড়ী তার বাংলা
মুখে তার হাসি নাই দেখেছ ?
নাই তার মানে কি ? কেউ তাহা জানে কি ?
কেউ কভু কাছে তার থেকেছ ?

শ্যামদাস মামা তার আফিঙের থানাদার
আর তার কেউ নেই এ–ছাড়া—
তাই বুঝি একা সে মুখখানা ফ্যাকাশে,
ব’সে আছে কাঁদ–কাঁদ বেচারা ?

থপ্ থপ্ পায়ে সে নাচ্‌ত যে আয়েসে,
গালভরা ছিল তার ফুর্তি,
গাইতো সে সারাদিন ‘সারে গামা টিম্‌টিম্’
আহলাদে গদ–গদ মূর্তি ৷

এই তো সে দুপুরে বসে ওই উপরে,
খাচ্ছিল কাঁচকলা চট্‌কে—
এর মাঝে হল কি ? মামা তার মোলো কি ?
অথবা কি ঠ্যাং গেল মট্‌ কে ?

 

দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম্ !

ছুটছে মটর ঘটর ঘটর ছুটছে গাড়ী জুড়ি,
ছুটছে লোকে নানান্ ঝোঁকে করছে হুড়োহুড়ি ;
ছুটছে কত ক্ষ্যাপার মতো পড়ছে কত চাপা,
সাহেবমেমে থমকে থেমে বলছে ‘মামা পাপা !’
আমরা তবু তবলা ঠুকে গাচ্ছি কেমন তেড়ে
“দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম্ ! দেড়ে দেড়ে দেড়ে !”
বর্ষাকালে বৃষ্টিবাদল রাস্তা জুড়ে কাদা,
ঠাণ্ডা রাতে সর্দিবাতে মরবি কেন দাদা ?
হোক্ না সকাল হোক্ না বিকাল
হোক্ না দুপুর বেলা,
থাক্ না তোমার আপিস যাওয়া
থাক্ না কাজের ঠেলা—
এই দেখ না চাঁদনি রাতের গান এনেছি কেড়ে,
“দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম্ ! দেড়ে দেড়ে দেড়ে !”

আরজন ঘরময় নীল কালি গুলে,
কপ্ কপ্ মাছি ধ’রে মুখে দেয় তুলে !
বাপ্‌রে কি ডানপিটে ছেলে !
খুন হ’ত টম্ চাচা ওই রুটি খেলে !
সন্দেহে শুঁকে বুড়ো মুখে নাহি তোলে,
রেগে তাই দুই ভাই ফোঁস ফোঁস ফোলে ৷
নেড়াচুল খাড়া হয়ে রাঙা হয় রাগে,
বাপ বাপ ব’লে চাচা লাফ দিয়ে ভাগে

 

রাম গরুড়ের ছানা

রামগরুড়ের ছানা হাসতে তাদের মানা,
হাসির কথা শুনলে বলে,
“হাসব না–না, না–না !”
সদাই মরে ত্রাসে– ঐ বুঝি কেউ হাসে !
এক চোখে তাই মিটমিটিয়ে
তাকায় আশেপাশে ।
ঘুম নেই তার চোখে আপনি ব’কে ব’কে
আপনারে কয়, “হাসিস যদি
মারব কিন্তু তোকে !”
যায় না বনের কাছে, কিম্বা গাছে গাছে,
দখিন হাওয়ার সুড়সুড়িতে
হাসিয়ে ফেলে পাছে !

সোয়াস্তি নেই মনে– মেঘের কোণে কোণে
হাসির বাষ্প উঠছে ফেঁপে
কান পেতে তাই শোনে ।
ঝোপের ধারে ধারে রাতের অন্ধকারে
জোনাক জ্বলে আলোর তালে
হাসির ঠারে ঠারে ।
হাসতে হাসতে যারা হচ্ছে কেবল সারা,
রামগরুড়ের লাগছে ব্যাথা
বুঝছে না কি তারা ?
রামগরুড়ের বাসা ধমক দিয়ে ঠাসা,
হাসির হাওয়া বন্ধ সেথায়,
নিষেধ সেথায় হাসা ।

 

ভয় পেয়োনা

ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না, তোমায় আমি মারব না—
সত্যি বলছি কুস্তি ক’রে তোমার সঙ্গে পারব না ।
মনটা আমার বড্ড নরম, হাড়ে আমার রাগটি নেই,
তোমায় আমি চিবিয়ে খাব এমন আমার সাধ্যি নেই !
মাথায় আমার শিং দেখে ভাই ভয় পেয়েছ কতই না—
জানো না মোর মাথার ব্যারাম, কাউকে আমি গুঁতোই না ?
এস এস গর্তে এস, বাস ক’রে যাও চারটি দিন,
আদর ক’রে শিকেয় তুলে রাখব তোমায় রাত্রিদিন ।
হাতে আমার মুগুর আছে তাই কি হেথায় থাকবে না ?
মুগুর আমার হাল্‌কা এমন মারলে তোমায় লাগবে না ।
অভয় দিচ্ছি, শুনছ না যে ? ধরব নাকি ঠ্যাং দুটা ?
বসলে তোমার মুণ্ডু চেপে বুঝবে তখন কাণ্ডটা !
আমি আছি, গিন্নী আছেন, আছেন আমার নয় ছেলে—
সবাই মিলে কামড়ে দেব মিথ্যে অমন ভয় পেলে ।

 

Nonsense texts are not explicitly parodic, they turn parody into a theory of serious literature-Jean-Jacques Lecercle

 

নারদ ! নারদ !

“হ্যাঁরে হ্যাঁরে তুই নাকি কাল শাদাকে বল্‌ছিলি লাল ?
(আর) সেদিন নাকি রাত্রি জুড়ে নাক ডেকেছিস বিশ্রী সুরে ?
(আর) তোদের পোষা বেড়ালগুলো শুনছি নাকি বেজায় হুলো ?
(আর) এই যে শুনি তোদের বাড়ি কেউ নাকি রাখে না দড়ি ?
ক্যান্‌রে ব্যাটা ইসটুপিড ? ঠেঙিয়ে তোরে কর্‌ব ঢিট্ !”
“চোপরাও তুম্ স্পিকটি নট্, মার্‌ব রেগে পটাপট্—”
“ফের যদি টেরাবি চোখ কিম্বা আবার কর্‌বি রোখ,
কিম্বা যদি অম্‌নি করে মিথ্যেমিথ্যে চ্যাঁচাস জোরে—”
“আই ডোন্ট কেয়ার্ কানাকড়ি–জানিস্ আমি স্যাণ্ডো করি ?”
“ফের লাফাচ্ছিস্ অল্‌রাইট কামেন্ ফাইট্ ! কামেন্ ফাইট্ !”
“ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখনি, টেরটা পাবে আজ এখনি !
আজকে যদি থাকতো মামা পিটিয়ে তোমায় কর্‌ত ঝামা ৷—”
“আরে আরে ! মার্‌বি নাকি ? দাঁড়া একটা পুলিশ ডাকি !”
“হাঁহাঁহাঁহাঁ ! রাগ কোর না, কর্‌তে চাও কি তাই বল না !”
“হাঁ হাঁ তাতো সত্যি বটেই আমি তো চটিনি মোটেই !
মিথ্যে কেন লড়তে যাবি ? ভেরি–ভেরি সরি, মশলা খাবি ?”
“‘শেক্‌হ্যাণ্ড’ আর ‘দাদা’ বল সব শোধ–বোধ ঘরে চল ৷”
“ডোন্ট পরোয়া অল্ রাইট্ হাউ ডু য়ু ডু গুড্ নাইট্ ৷”

 

বোম্বাগড়ের রাজা

কেউ কি জান সদাই কেন বোম্বাগড়ের রাজা
ছবির ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখে আমসত্ত ভাজা ?
রানীর মাথায় অষ্ট প্রহর কেন বালিশ বাঁধা ?
পাঁউরুটিতে পেরেক ঠোকে কেন রানীর দাদা ?
কেন সেথায় সর্দি হ’লে ডিগ্‌বাজি খায় লোকে ?
জোছনা রাতে সবাই কেন আলতা মাখায় চোখে ?
ওস্তাদেরা লেপ মুড়ি দেয় কেন মাথায় ঘাড়ে ?
টাকের ‘পরে পণ্ডিতেরা ডাকের টিকিট মারে ?

রাত্রে কেন ট্যাঁক্‌ঘড়িটা ডুবিয়ে রাখে ঘিয়ে ?
কেন রাজার বিছ্‌না পাতা শিরীষ কাগজ দিয়ে ?
সভায় কেন চেঁচায় রাজা ‘হুক্কা হুয়া’ ব’লে ?
মন্ত্রী কেন কল্‌সী বাজায় ব’সে রাজার কোলে ?
সিংহাসনে ঝোলায় কেন ভাঙা বোতল শিশি ?
কুমড়ো দিয়ে ক্রিকেট খেলে কেন রাজার পিসি ?
রাজার খুড়ো নাচেন কেন হুঁকোর মালা প’রে ?
এমন কেন ঘটছে তা কেউ বলতে পার মোরে ?

 

গোঁফ চুরি

হেড অফিসের বড়বাবু লোকটি বড় শান্ত,
তার যে এমন মাথার ব্যামো কেউ কখনো জানত ?
দিব্যি ছিলেন খোসমেজাজে চেয়ারখানি চেপে,
একলা বসে ঝিম্‌ঝিমিয়ে হঠাৎ গেলেন ক্ষেপে !
আঁৎকে উঠে হাত পা ছুঁড়ে চোখটি ক’রে গোল,
হঠাৎ বলেন, “গেলুম গেলুম, আমায় ধরে তোল !”
তাই শুনে কেউ বদ্যি ডাকে, কেউবা হাঁকে পুলিশ,
কেউবা বলে, “কামড়ে দেবে সাবধানেতে তুলিস ।”
ব্যস্ত সবাই এদিক ওদিক করছে ঘোরাঘুরি,
বাবু হাঁকেন, “ওরে আমার গোঁফ গিয়েছে চুরি !”
গোঁফ হারানো ! আজব কথা ! তাও কি হয় সত্যি ?
গোঁফ জোড়া তো তেমনি আছে, কমেনি এক রত্তি ।
সবাই তাঁকে বুঝিয়ে বলে, সামনে ধরে আয়না,
মোটেও গোঁফ হয়নি চুরি, কক্ষণো তা হয় না ।

রেগে আগুন তেলে বেগুন, তেড়ে বলেন তিনি,
“কারো কথার ধার ধারিনে, সব ব্যাটাকেই চিনি ।
নোংরা ছাঁটা খ্যাংরা ঝাঁটা বিচ্ছিরি আর ময়লা,
এমন গোঁফ তো রাখতো জানি শ্যামবাবুদের গয়লা ।
এ গোঁফ যদি আমার বলিস করব তোদের জবাই”—
এই না বলে জরিমানা কল্লেন তিনি সবায় ।
ভীষণ রেগে বিষম খেয়ে দিলেন লিখে খাতায়,
“কাউকে বেশি লাই দিতে নেই, সবাই চড়ে মাথায় ।
আফিসের এই বাঁদরগুলো, মাথায় খালি গোবর,
গোঁফ জোড়া যে কোথায় গেল কেউ রাখে না খবর ।
ইচ্ছে করে এই ব্যাটাদের গোঁফ ধরে খুব নাচি,
মুখ্যুগুলোর মুণ্ডু ধরে কোদাল দিয়ে চাঁচি ।
গোঁফকে বলে তোমার আমার–গোঁফ কি কারো কেনা ?
গোঁফের আমি গোঁফের তুমি, তাই দিয়ে যায় চেনা ।”



image_print
%d bloggers like this: