বারেন্দ্র ব্রাঙ্মণ-বিবরণ – শ্রীনগেন্দ্রনাথ প্রণীত (Barendra Brahman Vivaran)
Home » Law Library Updates » বারেন্দ্র ব্রাঙ্মণ-বিবরণ – শ্রীনগেন্দ্রনাথ প্রণীত (Barendra Brahman Vivaran)
প্রাচীন বরেন্দ্রভূমির প্রকৃত অবস্থান
বর্তমান মালদহ, দিনাজপুর, রাজসাহী, বগুড়া ও পাবনা এই কয় জেলা এবং রঙ্গপুর ও ময়মনসিংহের কতকাংশ লইয়া বরেন্দ্র ভূমি। ইহার উত্তরে কোচরাজ্য, দক্ষিণে পদ্মা, পশ্চিমে মহানন্দা ও পূর্বে করতোয়া।
প্রায় তিন শত বর্ষপূর্বে রচিত কবিরামের দিগবিজয় প্রকাশে লিখিত আছে-
পদ্মা নদীর পূর্বধারে ব্রন্মাপুত্রের পশ্চিমে নানা নদনদীযুত বরেন্দ্র নামক দেশ। এই দেশ শর্তীর্ধযোজন বিস্তৃত ও কুশকাসাদি-সংযুত, উপবঙ্গের নিকট ও মলদের দক্ষিণে অবস্থিত। যেখানে ঘর্ঘরা নামক ক্ষুদ্র সরিৎ নিয়ত প্রবাহিত, যেখানে ইন্দ্রের নিকট পর্বতগণের দর্পচূর্ণ হইয়াছিল, যেখানে বহু সংখ্যক কায়স্তের বাস ও কায়স্তেরা ব্রাহ্মণের মন্ত্রিত্ব করিয়া থাকে, স্থানে স্থানে ব্রাহ্মণের রাজত্ব, যেখানকার অধিবাসী প্রায়শ মংস্যাশী এবং সাধারণে দেবীভক্ত বা বিষুর্ভক্ত |
“রাটরী ও বারেন্দ্রে বিয়ে না ভাবিয়া আন।
রাট্রী ও বারেন্দ্র হয় একের সম্তান।।” (রঘুনন্দন দাসের প্রেমবিলাস)
রাট়ীয় ও বারেন্দ্র এই উভয় সমাজ মধ্যে তৎকালে বিশালকায়া গঙ্গা ব্যবধান, ভিন্ন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী রাজগণের অধিকার এবং পরবর্তীকালে স্বতন্ত্র গাঞ্চি নামে পরিচয় দিবার প্রথা প্রচলনের সঙ্গে সম্ভবত এই দুই সমাজ স্কুলে এক হইলেও সম্পূর্ণ পৃথক হইয়া যায়। অনেকে মনে করেন যে, যে সময় হইতে গাঞ্জি নামে পরিচয় দিবার প্রথা প্রচলিত হইল, সেই সময় হইতেই উভয় সমাজের আত্মীয়তা উভয়ে বিস্মৃত হইতে লাগিলেন।
রাজসাহী জেলার সর্বত্রই জলাজমি-পরিবেষ্টিত উচ্চভূমি ‘বরিন্দ’ নামে পরিচিত, এই বিরিন্দ” হইতেই “বরেন্দ্র বা ‘বরেন্দ্রী” নাম হইয়াছে। গৌড়াধিপ বল্লাল সেনের দানসাগরের উপক্রমে সর্বপ্রথম ‘বরেন্দ্রী’ শব্দের সাহিত্যিক উল্লেখ দৃষ্ট হয়।
বারেন্দ্র ব্রাঙ্মণ-বিবরণ
বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস
বিশ্বকোধ-সঞ্চলয়িতা প্রাচ্যবিষ্কামহার্ণ
শ্রীনগেন্দ্রনাথ বস্তু সিদ্ধান্তবারিধি-প্রণীত
Asara Purnima 1334 Bengal Era
মুখবন্ধ
.
বহু অসুবিধার মধ্যে বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ-বিবরণ প্রকাশিত হইল। দ্বাবিংশ বর্ষ পূর্বে রাটীয় ব্রাহ্মণ- বিবরণ শেষ করিয়া বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ-বিবরণ প্রকাশে অগ্রসর হইয়াছিলাম। এই সময়ে রাজসাহী জেলার নানা স্থানে বারেন্দ্র কুলগ্রস্থ সংগ্রহের জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করিয়াছিলাম। তৎকালে প্রসিদ্ধ এঁতিহাসিক শ্রীযুক্ত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, প্রসিদ্ধ উকিল শশধর রায়, ব্রজসুন্দর সান্যাল, তালন্দার বৈষ্ঞব জমিদার ‘ললিতমোহন মৈত্র, দিঘাপতিয়ার কুমার শরৎকুমার রায় প্রভৃতি রাজসাহীর নানা স্থানে গিয়া যাহাতে আমি কুলগ্রন্থ সংগ্রহ করিতে পারি, তৎপক্ষে আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করিয়াছিলেন। লালৌর, মাঝেরগা, নাটোর, ঘোড়ামারা প্রভৃতি স্থানে গিয়া বারেন্দ্র কুলজ্ঞ ও তাহাদের বংশধরগণের সহিত দেখা সাক্ষাৎ এবং বারেন্দ্র-কুলতত্ব সম্বন্ধে অনেক আলোচনা করিয়াছিলাম। তৎকালে লালৌর ও মাঝের/গায়ে প্রসিদ্ধ কুলজ্ঞগণ জীবিত ছিলেন। তাহাদের গৃহে রক্ষিত প্রাচীন বাঙ্গালা গদ্যে লিখিত বৃহৎ বৃহৎ কুলগ্রন্থ লক্ষ্য করিয়াছিলাম। এই সকল প্রকাণ্ড কুলগ্রন্থ কুলজ্ঞদিগের কণ্স্থ ছিল। তাহাদের নিকট হইতে অনেক বিষয় লিখিয়া আনিয়াছিলাম, কিন্তু বহচেষ্টায়ও তাহাদের গৃহস্থিত কুলগ্রস্থগুলি হস্তান্তর করিতে তাহারা সম্মত হন নাই। পরে পাবনা জেলার ভারেঙ্গার কুলজ্ঞদিগের গৃহ হইতে কতকগুলি পাতৃড়া সংগ্রহ করিতে সমর্থ হইয়াছিলাম। এই সকল পাতুড়ার উপর নির্ভর করিয়া সামাজিক ইতিহাস লিখিত হইতে পারে না ভাবিয়া কিছুকাল বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ-বিবরণ লিখিতে বিরত ছিলাম। কিছুদিন পরে নদীয়া জেলাস্থ চকচণ্ডীপুরের প্রসিদ্ধ কুলজ্ঞ ‘এককড়ি রায় মহাশয়ের আত্মীয় ‘রামতারণ বায় মহাশয়ের সাক্ষাৎ লাভ করি। তাহার নিকট শুনিলাম, প্রথমত তিনি কুলজ্ঞের ব্যবসায়ে থাকিলেও তাহার জীবিকানির্বাহের উপযোগী না হওয়ায় তিনি জমিদারের অধীনে তহসীলদার বা গমস্তার কার্যে নিযুক্ত হন। তাহাকে আমি বিশেষ যত্ব করিয়া বর্ধাধিককাল আমার গৃহে রাখিয়া বারেন্দ্র কুলতত্ব শিক্ষা করি। তিনি তাহার পূর্বপুরুষের সংগৃহীত কুলগ্রস্থগুলি আমাকে আনিয়া দিয়াছিলেন। এতত্তিন্ন অনেক বিষয় যাহা সহজে হৃদয়ঙ্গম করিবার উপায় নাই, সেই সকল কঠিন অংশ তিনি নিজে লিখিয়া দিয়াছিলেন। বলিতে কি, তাহার নিকট হইতে এরূপ সাহায্য এবং তাহার এই প্রাচীন কুলগ্রন্থগুলি না পাইলে এই বারেন্দ্র ব্রান্মণ-বিবরণ কখনই প্রকাশ করিতে সমর্থ হইতাম না।
বর্তমান গ্রস্থখানি অষ্টাদশ বর্ষ পূর্বে ছাপা হইতে আরম্ভ হইয়াছিল। এই সময়ে সুহৃদ্বর শ্রীযুক্ত অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ও মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিত যাদবেশ্বর তর্করত্ব মহাশয় কয়েকটি ফর্মার প্রুফও দেখিয়া দিয়াছিলেন। ১৬ ফর্মা পর্যন্ত মুদ্রণের পর নানা কারণে পুস্তক বন্ধ থাকে। তৎপরে কয়েকজন মহাত্মার আগ্রহে প্রথমত ময়ুরভপ্জের ও পরে আসামের পুরাতত্ব অনুসন্ধানে বিশেষরূপে বাপৃত হইয়া পড়ি। কয়েক বর্ষের অত্যধিক পরিশ্রমের ফলে স্নায়বিক দুর্বলতা ও হৃদরোগে আক্রান্ত হই। ক্রমশ রোগ বৃদ্ধি হওয়ায় প্রায় ৮ বর্য কাল গৃহমধ্যে আবদ্ধ থাকিতে হইয়াছে। এই গ্রন্থখানি শেষ করিতে পারিব, সে আশা আদৌ ছিল না। অষ্টাদশ বর্ষ পূর্বে যে ফর্ম ছাপা হইতেছিল, ছাপা হইবা মাত্র প্রত্যেক ফর্মা দপ্তরী লইয়া যায়। গত বর্ষে দপ্তরী আসিয়া সংবাদ দেয় যে ফর্মাগুলি কীটদষ্ট হইয়া নষ্ট হইতেছে, এ সময় পুক্তক শেষ করিয়া বাহির করিতে না পারিলে সমত্তই নষ্ট হইয়া যাইবে। এ সংবাদে প্রাণে বড়ই আঘাত লাগিয়াছিল। এই গ্রন্থের জন্য বহু পরিশ্রম করিয়াছি, বহু অর্থব্যয় করিয়াছি সকলই কি বৃথা হইবে? পুস্তকখানি শেষ করিবার ইচ্ছা হইল। রোগ শয্যায় বসিয়া সহকারিগণের সাহায্যে পুস্তক ছাপাইবার ব্যবস্থা করিলাম।
৩৫ বর্ষের বহু চেষ্টায় প্রভৃত অর্থব্যয়ে বঙ্গের নানা জাতির প্রায় দ্বিশতাধিক কুলপগ্রন্থ সংগ্রহ করিতে সমর্থ হইয়াছি। যাহারা এই সকল কুলগ্রস্থ রচনা করিয়া গিয়াছেন, তাহারা কেহই রাজনীতিক ছিলেন না। তাহারা যে সমাজের লোক, সেই সমাজের আচার ব্যবহার লক্ষ্য করিয়া কুলকথা লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন। তাহাদের অনেক কথাই রাজনীতিক ইতিহাসের সহিত মিলিবে না, কিন্তু তাহারা যে সমাজতত্ব প্রকাশ করিয়া গিয়াছেন, তাহাতে সেই সেই সমাজের প্রকৃত চিত্র, আভিজাত্য এবং সার্বজনীন প্রথার একটি আভাস লক্ষ্য করিতেছি। অপরাপর ব্রাহ্মণ জাতি বা শ্রেণীর এরূপ কুলগ্রন্থগুলি সংস্কৃত শ্লোকে বা বাঙ্গালা পদ্যে অধিকাংশই গ্রথিত ; কিন্তু আমাদের আলোচ্য বারেন্দ্র-সমাজের কুলগ্রন্থগুলির বিশেষত্ব এই যে প্রায় সমস্তই মাতৃভাষায় গদ্যে লিখিত হইয়াছে। নিতান্ত অল্প অংশই সংস্কৃত শ্লোক বা বাঙ্গালা পদ্যে নিবন্ধ দেখা যায়। বরেন্দ্রভূমে দীর্ঘকাল বৌদ্ধ প্রাধান্য চলিয়াছিল। সাধারণের সুবিধার জন্য পূর্বতন দেশপ্রচলিত ভাষায় বুদ্ধ ও বৌদ্ধাচার্যগণের ধর্মতত্ব প্রচারিত হইত।
আমার মনে হয় পূর্বতন প্রথা অনুসারেই বারেন্দ্র সমাজের আদি কুলকথা বাঙ্গালা ভাষায় গদ্যে লিখিত হইয়াছিল। তাহাই ক্রমশ পরিবর্ধিত হইয়া বিশাল আকার ধারণ করিয়াছে। যাহারা বাঙ্গালা গদ্যের উৎপত্তির ইতিহাস অনুসন্ধান করিতেছেন, বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ-সমাজের আদি কুলগ্রন্থগুলি তাহাদের বিশেষ প্রণিধানযোগ্য। বারেন্দ্র সমাজের অংশবংশ, পটীব্যাখ্যা, কুলপঞ্জী বা কুলব্যাখ্যা, নিগুঢ় কল্প কাপ ও পটীব্যাখ্যা সমস্ত একত্র করিলে আধুনিক বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ-কুলগ্রস্থ মহাভারত অপেক্ষা বৃহত গ্রন্থ হইবে সন্দেহ নাই। যাহারা সামাজিক ইতিহাসের সুবর্ণসূত্র এই কুলগ্রন্থগুলি রক্ষা করিয়াছেন, তাহাদের নিকট বাঙ্গাদী চিরকৃতজ্ঞ থাকিবে, সন্দেহ নাই। কিন্তু নিতান্ত দুঃখের বিষয়, উপযুক্ত আলোচনা ও উৎসাহের অভাবে এই অমূল্য জাতীয় গ্রন্থগুলি অধুনা ক্রমশই ধ্বংসমুখে পতিত হইতেছে। যাহারা পুরুষানুক্রমে সামাজিক বিশুদ্ধি-রক্ষাকল্পে এই সকল গ্রন্থ রক্ষা করিতেন, আজ তাহারা অনেকেই কালগ্রাসে পতিত হওয়ায় এবং তাহাদের বংশধরগণ প্রায় সকলেই বংশগত কুলজ্ঞের কার্য পরিত্যাগ করায় এই সকল অমূল্য গ্রন্থের সমাদর সমাজ হইতে লোপ পাইতে চলিয়াছে। অতীত সামাজিক ইতিহাসের স্মৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস লিখিতে আরম্ভ করি। প্রত্যেক গ্রন্থেই মূল কুলগ্রস্থের বচন যথা স্থানে উদ্ধৃত করিয়াছি।
আলোচ্য গ্রন্থের অবসাদ” ও “পটীর বিবরণ” যাহা লিপিবদ্ধ হইয়াছে, তাহা মূল গ্রন্থের যথাযথ নকল। মূল পুথিতে যেরূপ ভাষা বিবরণ দেওয়া আছে, দুই একটি অবোধ্য শব্দ বাদ দিয়া প্রায় সমস্তই আদর্শ অনুরূপ ছাপা হওয়ায় মুলগ্রস্থ কতকটা রক্ষিত হইল। অষ্টাদশ বর্ষ পূর্বে রচিত এই গ্রন্থের প্রথমাংশে যে এতিহাসিক তত্ব লিপিবদ্ধ হইয়াছে, পরবর্তীকালে শিলালিপি ও তান্রশাসন আবিষ্কারের সহিত তাহার কতক কতক পরিবর্তিত হইয়াছে। সে সময় মুদ্রিত গ্রন্থে বিজয় সেন ও শ্যামল বর্মাকে একই বংশীয় বলা হইয়াছে; কিন্তু নবাবিস্কৃত তাম্রশাসন ছ্বারা তাহা ভ্রমাত্মক স্থির হইয়াছে। বাস্তবিক শ্যামল বর্মা বর্ম-বংশীয় জাতবর্মার পুত্র হইতেছেন। যে সময় সেন বংশীয় রাজা বিজয় সেন রাটরদেশে আধিপত্য করিতেছিলেন, সেই সময় সামল বর্মা পূর্ববঙ্গের অধিপতি ছিলেন।
আলোচ্য গ্রন্থে “প্রেমবিলাস’ হইতে যে দুই পংক্তি উদ্ধৃত হইয়াছে, তাহার পূর্ব দুই পংস্তি রাটীয় ব্রাহ্মণ বিবরণে ২য় সংস্করণ ১০০ পৃষ্ঠায় এইরূপ প্রকাশিত হইয়াছে:
“নিত্যানন্দ প্রভুর কন্যা হয় গঙ্গানাম। মাধব আচার্ষে প্রভু কৈলা কন্যাদান।
রাট়ীতে বারেন্দ্র বিয়ে না ভাবিও আন। রাট়ী ও বারেন্দ্র হয় একের সন্তান।”
কিন্ত এক্ষণে ধবানন্দ মিশ্রের মহাবংশ ও মহেশ মিশ্রের রাটীয় নির্দোষ কুলপঞ্জিকা হইতে স্পক্টই পাইতেছি যে, মাধবাচার্য রাটটীয় কুলীন ও চাটুতি গাঞ্ছি। সুতরাং প্রেমবিলাসের উক্ত প্রক্ষিপ্ত বলিয়া অগ্রাহ্য ।
এই পুস্তকে বীরদেবের প্রপৌত্র দর্ভপাণিকে শাগ্ডিল্য ভট্টনারায়ণ বংশোদ্তব বলিয়া ধরা হইয়াছে। কিন্তু পরবর্তী আলোচনার কালে বীরদেবের বংশ শাকদ্বীপী ব্রাহ্মণ বলিয়া অভিহিত হইয়াছেন। (বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস, রাজন্যকাণ্ড, ১৫০-১৬০ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)
বারেন্দ্র ব্রান্মাণদিগের গাঞ্চি সম্বন্ধে এই পুস্তকে লিখিত হইয়াছে, “অধুনা অনেক গাঞ্জির সন্ধান পাওয়া যায় না।” এই প্রসঙ্গে বলিতেছি মালদহ, রাজসাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর আদি জেলার মধ্যে এবং ঢাকার পশ্চিমাংশস্থিত ভূখণ্ডে বারেন্দ্রব্রান্দণদিগের পূর্বতন বাস ছিল, সুতরাং এ সকল স্থান অনুসন্ধান করিলে নির্দেশক গ্রামগুলি বাহির হইবে।
উপসংহারে বক্তব্য যে সকল প্রথিত বংশের পরিচয় গ্রস্থাস্তরে বাহুল্য রূপে বিবৃত হইয়াছে, এই গ্রন্থে তাহাদের পরিচয় সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ হইল এবং যে সকল খ্যাত বংশের কথা অন্যত্র প্রকাশিত হয় নাই, তাহাদের পরিচয় এই গ্রন্থে কিছু বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হইয়াছে।
পুস্তকের প্রথমাংশ প্রকাশকালে যেরূপ শারীরিক ও মানসিক শক্তি ছিল, বর্তমান অবস্থায় সেই শক্তি ও অধ্যবসায় কিছুই নাই বলিলেও অতযুক্তি হয় না। মাতা আদ্যা-শক্তি ও শ্রীগুরুর চরণের উপর নির্ভর করিয়া গ্রস্থখানি প্রকাশ করিতে সাহসী হইলাম। গ্রন্থখানির মধ্যে অনেক অভাব রহিয়া গিয়াছে। মধ্যে মধ্যে পীড়া বৃদ্ধির কারণ সহকারিগণের উপর নির্ভর করিতে হইয়াছে ও মুদ্রাকরের অসাবধানতা বশতঃ অনেক দোষ থাকিয়া গিয়াছে ও উল্টা পাল্টা হইয়াছে। বারেন্দ্র সামাজিকগণের প্রতি আমার সানুনয় অনুরোধ, এই প্রচ্থের যে সকল অভাব ও ভ্রম পাইবেন, সুবিধামত আমাকে জানাইলে দ্বিতীয় সংস্করণে সেই সকল সংশোধন করিয়া প্রকাশ করিবার চেষ্টা করিব। আশা করি পাঠক ও সামাজিকগণ আমার শোচনীয় শারীরিক অবস্থা লক্ষ্য করিয়া আমার অনিচ্ছাকৃত ভ্রুটি নিজগুণে ক্ষমা করিবেন। আষাটী পূর্ণিমা, ১৩৩৪ সাল।
বিশ্বকোষ কুটীর
৮নং বিশ্বকোষ লেন, শ্রীনগেন্দ্রনাথ বসু
বাগবাজার, কলকাতা ।
সূচিপত্র
বিষয়
প্রথম অধ্যায়
বারেন্দ্র ব্রাহ্মণ-বিবরণ
বারেন্দ্র নামকরণ
বরেন্দ্রের সীমা
কনোজাগত ব্রাহ্মণের সংখ্যানির্ণয়
শ্রেণীভেদের কারণ
বহুসংখ্যক কনোজীয় ব্রা্মণাগমনের কারণ
আদিশাসন গ্রাম
ধর্মপালের অভ্যুদয়
প্রথম রাট়ীয় ও বারেন্দ্র সমাজ
বৈদিক-মার্গ চ্যুতির কারণ
দ্বিতীয় অধ্যায়
বারেন্দ্র গাঞ্জি-বিবরণ
শাগ্ডল্য গোত্র-ভট্টনারায়ণ বংশ
কাশ্যপ গোত্র-সুষেণ বংশ
তৃতীয় অধ্যায়
বল্লালী বারেন্দ্র সমাজ
চতুর্থ অধ্যায়
বারেন্ত্র কুলীন সমাজ
বল্লালী কুলীন
ভরছ্বাজ গোত্র-গৌতম বংশ
সাবর্ণ গোত্র–পরাশর বংশ
বাৎন্য গোত্র-স্বরাধর বংশ
পঞ্চম অধ্যায়
উদ্যনাগাবের কুলপিধি
কাশ্যপ গোত্র-কৈতে বা তুন্ত ভাদুড়ী রঃ
গাত্র ভাঙ্কর বেদাস্তী বংশ
শাণ্ডিল্য গোত্র অচ্যুতানন্দ বংশ
উদয়নাচার্যের করণ
করণের পদ্ধতি
কাপোতপত্তি
ষষ্ঠ অধ্যায়
প্রধান প্রধান সমাজ নির্ণয়
সমাজস্থান
করঞ্জ গাঞ্জি
সাধু বাগছির বংশে
রুদ্র বাগছির বংশে
লাহিড়ী বংশে
নন্দনাবাসী
সিহরী গাঞ্জি
বাৎস্যগোত্রে সান্যাল বংশে
বাৎস্যগোত্র ভীম কালিহাই বংশে
ভট্টশালী বংশে
কামদেব কালিহাই বং
ভরঘ্বাজগোত্র ভাদড়ী বংশে
সপ্তম অধ্যায়
আঘাতের বিবরণ
অস্টম অধ্যায়
নবসাদের বিবরণ
১। আল্মস্থানী অবসাদ রি
২। শুভরাজখানী অবসাদ
৩। কালির দাগ অবসাদ
৪| জুগেবাদ অবসাদ
৫। ছাগীপোড়া অবসাদ
৬। চড়িয়া-দোষ
৭ কালাপুরা অবসাদ
৮। ভগাঞ্জ-দোষ
৯ । আসামী-দোষ
১০। নসিবখানী অবসাদ
১১। সৈয়দখানী অবসাদ
১২। নাটুয়াডাঙ্গা অবসাদ
১৩। মল্লিক যদুনাথী দোষ
১৪। বক্তারি অবসাদ .
১৫। হাউলখানী অবসাদ
১৬। পেগম্বরী অবসাদ
১৭। ভালার দাগ অবসাদ
১৮। রাঙ্গাবড়ু অবসাদ
১৯। মথুরাকোপা অবসাদ
২০। আলেখানী রর
২১। সেরখানী বা সূরখানী অবসাদ
২২। পহরখাগী অবসাদ
২৩। তের আনী অবসাদ
২৪। পীরালি অবসাদ
২৫। পীতান্বর তকি অবসাদ
২৬। পয়নালী অবসাদ
২৭। পেয়ারী অবসাদ
২৮। সাতখানী অবসাদ
২৯। সাদেখানী অবসাদ
৩০। হিরণ্যতকি অবসাদ
৩১। পরাণ-মৌলিকী
৩২। কপর্দখানী অবসাদ
৩৩। সাতর্শিড়ি উমানন্দী
৩৪। মুদাখানী অবসাদ
৩৫। রতিগুরু রঞ্জিংখানী
৩৬। দুই শ্রীগর্ভের দংশিত
৩৭। রেটা চৌয়াই অবসাদ
৩৮। আবদুল রহমানী
৩৯। দর্পনারায়ণী অবসাদ
৪০। হাসনখানী অবসাদ
৪১। উমানন্দী অবসাদ
৪২। খোজাম্বরী অবসাদ
৪৩। নওরঙ্গখানী অবসাদ
৪৪ অদৃষ্টকন্যা
৪৫। সিম্বিদোষ
৪৬। চাঁদি অবসাদ
৪৭। বগা অবসাদ
৪৮। রোহেলা অবসাদ
৪৯। হাড়ীবাদ
৫০। গরবাহাদুরী অবসাদ
৫১। সাধকনামা দোষ
৫২। কাকশেয়ালি অবসাদ
৫৩। ওয়াখানী অবসাদ
নবম অধ্যায়
পর্টীর বিবরণ
দশম অধ্যায়
বারেন্দ্রকুলের সমালোচনা
একাদশ অধ্যায়
কাশ্যপগোত্র-পরিচয়
তাহিরপুরের রাজবংশ
মুক্তাগাছার আচার্য বংশ
বালিয়াটির পরমানন্দ রায় ভাদুড়ী বংশ
শ্রীর্ভ তর্কবাগীশের বংশ
শিবরাম বাচস্পতি ও কৃষ্ণদেব ন্যায়বাগীশের বংশ
মহামহোপাধ্যায় শ্রীরাম শিরোমণির বংশ
সুসঙ্গের দু’আনী রাজবংশ
হিমাইতপুরের ভাদুড়ী চৌধুরী বংশ
মৈত্র কুলপরিচয়
নাটোর রাজবংশ
আগমবাগীশ ভট্টাচার্যবংশ
তালন্দ গ্রামের মৈত্র জমিদার বংশ
কৃষ্গানন্দ পাতশার বংশ
মেড়তলার ভট্টাচার্য বংশ
হরিপুরের চৌধুরী বংশ
যাত্রাওয়াল৷ মতিলাল রায়ের বংশ
পরশুরাম পঞ্চাননের বংশ-বিবরণ
অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের বংশ-পরিচয়
মিতরার অর্ধকালী বংশ
সিদ্ধ শ্রোত্রিয় করপ্জ গাঞ্ডি বংশতরু
গৌরীপুর জমিদার বংশ
মণ্ডলজানি মৈত্র আগমবাগীশের বংশ
দ্বাদশ অধ্যায়
শান্ডিল্য গোত্র বিবরণ
পুীয়ার রাজ বংশ
জোয়াড়ীর বিশীবংশ
জয়গোপাল তর্কালঙ্কারের বংশ
বোয়ালিয়ার বাগছী বংশ
হরিহর অগ্নিহোত্রীর বংশ
নন্দনাবাসী কুল্লুকভট্ট ও তাহিরপুরের প্রাচীন রাজবংশ
গণাই লাহিড়ীর বংশ
রঙ্গপুরবাসী লোকনাথ লাহিড়ীর বংশ
রুদ্র বাগছীর ধারা-ভারেঙ্গা তারা নগরের চক্রবর্তী বংশ
সিদ্ধাশ্রোত্রিয় সিহরীডেমরায় রায়বংশ
সিদ্ধশ্রোত্রিয় নন্দনবাসী খোঁড়াচার্য বংশ
সিদ্ধশ্রোত্রিয় মন্দনাবাসী বিনায়ক বংশ
চম্পটি গাঞ্জি শেখর হাজরা ও মাধবের বংশ
চৌরগগায়ের রাজবংশ
রামগোপালপুরের বাগছী বংশ
সাঁতৈলের রাজবংশ
টেংরামরি ভট্টাচার্য বংশ
কাসিমপুরের রায় বাহাদুর বংশ
ভিটাদিয়া ও বাণীগ্রামের লাহিড়ী গ্রোস্বামী বংশ
ত্রয়োদশ অধ্যায়
বাৎস্যগোত্র নবদ্বীপের জটিয়া যাদু সান্যালের বংশ …
কাসিমপুরের চৌধুরী বংশ
বলিহার রাজবংশ
কানাই ঠাকুরের বংশ
চমটা সমাজ-ভবাই সান্যালের বংশ
সলপের সান্যাল জমিদার বংশ
প্রসিদ্ধ নৈয়ায়িক গদাধরের বংশ
দেওয়ান কার্তিকেয় রায়ের বংশ
ভষ্টশালী মহীধরের বংশ ময়ুরভট্রের ধারা
ভষ্টশালী গাঞ্জি সিদ্ধান্ত-বংশ
বিক্রমপুরের পাইকপাড়াণ্রামস্থ ভট্টশালী বংশ
ভীমকালীহাই রাজা দেবীদাস রায়ের বংশ
ইটাকুমারী-নিবাসী ঠাকুর কালিদাসের বংশ
চতুর্দশ অধ্যায়
ভরদ্বাজগোত্র উচ্ছরাখ সুসঙ্গ রাজবংশ
অদ্বৈত প্রভুর বংশ পরিচয়
সংযোজন
1 thought on “বারেন্দ্র ব্রাঙ্মণ-বিবরণ – শ্রীনগেন্দ্রনাথ প্রণীত (Barendra Brahman Vivaran)”
Comments are closed.
ভট্টাচার্য বংশ
ভট্টাচার্য বংশ পাণ্ডিত্যের জন্য চিরপ্রসিদ্ধ ও আদৃত হইয়াছে। কেবলরাম ও রঘুত্তম নাটোরে ও বলভদ্র কৃষ্ণনগরে সভা পণ্ডিত ছিলেন । হরচন্দ্ তর্কভূষণ হাতিবাগানে টোল খুলিয়াছিলেন এবং একজন দেশবিখ্যাত স্মার্ত ও নৈয়ায়িক ছিলেন। ভারতচন্দ্র নবদ্বীপ ও কান্দি স্কুলে হেডপগ্ডিত ছিলেন। জয়গোপাল তর্কালঙ্কার কেরি (William Carey) ও মার্শম্যানের সংস্কৃত শিক্ষক ছিলেন, পরে সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক হ’ন ও তদানীন্তন হাইকোর্টের জাজ পণ্ডিত ছিলেন। সংস্কৃত কলেজে তিনি অধ্যক্ষ হোরেস্ হেম্যান্ উইলসন্ কর্তৃক আনীত হ’ন। তাহার সাহিতাজ্ঞান ও বিদ্যাবন্তায় সকলে মুগ্ধ ছিল। যাঁহাদের গুণগরিমায় বঙ্গভূমি গৌরবান্বিত, সেই সকল স্বনামধন্য মহাত্মা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, প্রেমচন্দ্র তর্কবাগীশ, মদনমোহন তর্কালঙ্কার, তারাকান্ত বিদ্যাসাগর, তারানাথ তর্কবাচস্পতি, তারাশঙ্কর তর্করত্ব ও শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ব প্রভৃতি বঙ্গের সুসন্তানগণ জয়গোপালের ছাত্র ছিলেন।