Skip to content

ADVOCATETANMOY LAW LIBRARY

Research & Library Database

Primary Menu
  • News
  • Opinion
  • Countries198
    • National Constitutions: History, Purpose, and Key Aspects
  • Judgment
  • Book
  • Legal Brief
    • Legal Eagal
  • Glossary
  • HLJ
    • Supreme Court Case Notes
    • Daily Digest
  • Sarvarthapedia
    • Sarvarthapedia (Twelve Core Areas)
    • Systemic-and-systematic
    • Volume One
    • Volume Two
    • Volume Three
    • Volume Four
    • Volume Five
    • Volume Six
14/04/2026
  • Bengali Page

দুর্গা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Durga by Bankim Chandra)

দুর্গা এবং শ্রীকৃষ্ণ বঙ্গদেশের প্রধান আরাধ্য দেবতা। দুর্গা পূজার গুরুত্ব এখানে অত্যন্ত উজ্জ্বল, এবং শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই তাঁর নাম উচ্চারণ করে। যদিও দুর্গার উল্লেখ বেদে পরিষ্কারভাবে নেই, কিছু স্থানীয় প্রথা ও স্তবের মধ্যে তাঁর নাম পাওয়া যায়। বিভিন্ন দেবতার নাম আছে, তবে দুর্গা বা কালী নাম específica উল্লেখ নেই। দুর্গার বিভিন্ন নাম যেমন উমা, অম্বিকা, এবং কালী উল্লেখ পাওয়া গেলেও, এসব কিছুর ব্যাখ্যা ও গবেষণা চলমান। দুর্গা কিভাবে পূজিত হন, তা নিয়ে প্রশ্ন ও আলোচনা প্রধানত দ্বিধাগ্রস্ত।
advtanmoy 12/06/2020 1 minute read

© Advocatetanmoy Law Library

  • Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
  • Share on X (Opens in new window) X
  • Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
  • Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
Bankimchandra-Chattapadhay

Home » Law Library Updates » Law Library » Bengali Page » দুর্গা: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Durga by Bankim Chandra)

Durga by Bankim Chandra

দুর্গা : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

শ্রীকৃষ্ণ এবং দুর্গা এই বঙ্গদেশের প্রধান আরাধ্য দেবতা। ইঁহাদিগের পূজা না করে এমত হিন্দু প্রায় বঙ্গদেশে নাই। কেবল পূজা নহে, কৃষ্ণভক্তি ও দুর্গাভক্তি এ দেশের লোকের সর্বকর্মব্যাপী হইয়াছে। প্রভাতে উঠিয়া শিশুরাও “দুর্গা দুর্গা” বলিয়া গাত্রোত্থান করে। যে কিছু লেখা পড়া আরম্ভ করিতে হইলে, আগে দুর্গা নাম লিখিতে হয়। “দুর্গে” “দুর্গে” “দুর্গতিনাশিনি” ইত্যাদি শব্দ অনেকের প্রতিনিঃশ্বাসেই নির্গত হয়। আমাদের প্রধান পর্বাহ দুর্গোৎসব। সেই উৎসব অনেকের জীবনমধ্যে প্রধান কর্ম বা প্রধান আনন্দ। সম্বৎসর তাহারই উদ্যোগে যায়। পথে পথে কালীর মঠ। অমাবস্যায় অমাবস্যায় কালীপূজা। কোন গ্রামে পীড়া আরম্ভ হইলে রক্ষাকালীপূজা। কাহারও কিছু অশুভ সম্ভাবনা হইলেই চণ্ডীপাঠ —অর্থাৎ কালীর মহিমা কীর্তন। ইঁহার প্রীত্যর্থে পূর্ববঙ্গে অনেক প্রাচীন বিজ্ঞ ব্যক্তিও মদ্যপান ও অন্যান্য কুৎসিত কর্মে রত। ফলে এই দেবী বঙ্গদেশ শাসন করিতেছেন। ডাকাইতেরা ইঁহার পূজা না দিয়া ডাকাইতি করে না।

এই দেবী কোথা হইতে আসিলেন? ইনি কে? আমাদিগের হিন্দু ধর্মকে সনাতন ধর্ম বলিবার কারণ এই যে, এই ধর্ম বেদমূলক। যাহা বেদে নাই, তাহা হিন্দু ধর্মের অন্তর্গত কি না সন্দেহ। যদি হিন্দু ধর্ম সম্বন্ধে কোন গুরুতর কথা বেদে না থাকে, তবে হয় বেদ অসম্পূর্ণ, না হয় সেই কথা হিন্দুধর্মান্তর্গত নহে। বেদ অসম্পূর্ণ ইহা আমরা বলিতে পারি না, কেন না তাহা হইলে হিন্দু ধর্মের মূলোচ্ছেদ করিতে হয়। তবে দ্বিতীয় পক্ষই এমন স্থলে অবলম্বনীয় কি না, তাহা হিন্দুদিগের বিচার্য।

দুর্গার কথা বেদে আছে কি? সকল হিন্দুরই কর্তব্য যে এ কথার অনুসন্ধান করেন। আমরা অদ্য তাঁহাদের এ বিষয়ে কিছু সাহায্য করিব।

অনেকেই জানেন যে বেদ একখানি গ্রন্থ নয়। অথবা চারি বেদ চারিখানি গ্রন্থ মাত্র নহে। কতকগুলিন মন্ত্র, কতকগুলিন “ব্রাহ্মণ” নামক গ্রন্থ, এবং কতকগুলিন উপনিষদ্ লইয়া এক একটি বেদ সম্পূর্ণ। তন্মধ্যে মন্ত্রই বেদের শ্রেষ্ঠাংশ বলা যাইতে পারে।

ইহা একপ্রকার নিশ্চিত যে কোন বৈদিক সংহিতায় এই দেবীর বিশেষ কোন উল্লেখ নাই। ইন্দ্র, মিত্র, বরুণ, বায়ু, সোম, অগ্নি, বিষ্ণু, রুদ্র, অশ্বিনীকুমার প্রভৃতি দেবতার ভূরি ভূরি উল্লেখ ও স্তুতিবাদ আছে; পুষণ, অর্যমন প্রভৃতি এক্ষণে অপরিচিত অনেক দেবতার উল্লেখ আছে, কিন্তু দুর্গা বা কালী বা তাঁহার অন্য কোন নামের বিশেষ উল্লেখ নাই।

ঋগ্বেদ সংহিতার দশম মণ্ডলের অষ্টমাষ্টকে “রাত্রি পরিশিষ্টে” একটি দুর্গা-স্তব আছে মাত্র। কিন্তু তাহাতে যদিও দুর্গা নাম ব্যবহৃত হইয়াছে, তথাপি তাঁহাকে আমাদের পূজিতা দুর্গা বলা যাইতে পারে না। উহা রাত্রি-স্তোত্র মাত্র। সন্দিহান পাঠকের সন্দেহ ভঞ্জনার্থ, আমরা উহা উদ্ধৃত করিলাম।

আরাত্রি পার্থিবং রজঃ পিতুরপ্রায়ি ধামভিঃ।
দিবঃ সদাংসি বৃহতী বিতিষ্ঠসে ত্বেষাং বর্ততে তমঃ || ১ ||
যে তে রাত্রি নৃচাক্ষসো যুক্তাসো নবতির্নব।
অশীতিঃ সন্ত্বষ্টা উতো তে সপ্ত সপ্ততীঃ || ২ ||
রাত্রিং প্রপদ্যে জননীং সর্বভূতনিবেশনীং।
ভদ্রাং ভগবতীং কৃষ্ণাং বিশ্বস্য জগতো নিশাং || ৩ ||
সম্বেশনীং সংযমনীং গ্রহনক্ষত্রমালিনীম্।
প্রপন্নোহং শিবাং রাত্রিং
ভদ্রে পারং অশীমহি ভদ্রে পারং অশীমহি ওঁ নমঃ || ৪ ||
স্তোষ্যামি প্রযতো দেবীং শরণ্যাং বহ্বৃচপ্রিয়াং।
সহস্রসংমিতাং দুর্গাং জাতবেদসে সুনবাম সোমম্ || ৫ ||
শান্ত্যর্থং তদ্বিজাতীনামৃষিভিঃ সোমপাশ্রিতাঃ
ঋগ্বেদে ত্বং সমুৎপন্নারাতীয়তো নিদহাতি বেদঃ || ৬ ||
যে ত্বাং দেবি প্রপদ্যন্তে ব্রাহ্মণাঃ হব্যবাহিনাং।
অবিদ্যা বহুবিদ্যা বা স নঃ পর্ষদতিদুর্গানি বিশ্বাঃ || ৭ ||
অগ্নিবর্ণাং শুভাং সৌম্যাং কীর্তয়িষ্যন্তি যে দ্বিজাঃ।
তান তারয়তি দুর্গানি নাবেব সিন্ধুং দুরিতাত্যগ্নিঃ || ৮ ||
দুর্গেষু বিষমে ঘোরে সংগ্রামে রিপুসঙ্কটে।
অগ্নিচোরনিপাতেষু দুষ্টগ্রহনিবারণে || ৯ ||
দুর্গেষু বিষমেষু ত্বাং সংগ্রামেষু বনেষু চ।
মোহয়িত্বা প্রপদ্যন্তে তেষাং মে অভয়ং কুরু তেষাং মে অভয়ং কুরু ওঁ নমঃ || ১০ ||
কেশিনীং সর্বভূতানাং পঞ্চমীতি চ নাম চ।
সা মাং সমা নিশা দেবী সর্বতঃ পরিরক্ষতু সর্বতঃ পরিরক্ষতু ওঁ নমঃ || ১১ ||
তামগ্নিবর্ণান্তপসা জ্বলন্তীং বৈরোচনীং কর্মফলেষু জুষ্টাম্।
দুর্গাং দেবীং শরণমহং প্রপদ্যে সুতরসি তরসে নমঃ || ১২ ||
দুর্গা দুর্গেষু স্থানেষু সন্নোদেবীরভীষ্টয়ে।
য ইমং দুর্গাস্তবং পুণ্যং রাত্রৌ রাত্রৌ সদা পঠেৎ।
রাত্রি কুশিকঃ সৌভরো রাত্রিস্তবো গায়ত্রী রাত্রিসূক্তং জপেন্নিত্যং তৎকালমুপপদ্যতে || ১৩ ||

এই সংস্কৃত এক এক স্থানে অত্যন্ত দুরূহ, এজন্য আমরা ইহার অনুবাদে সাহসী হইলাম না। ডাক্তার জন মিয়োর কৃত ইংরেজি অনুবাদের অনুবাদ নিম্নে লিখিলাম। তাঁহার অনুবাদও সন্তোষজনক নহে।

“হে রাত্রি! পার্থিব রজঃ তোমার পিতার কিরণে পরিপূর্ণ হইয়াছিল। হে বৃহতি! তুমি দিব্যালয়ে থাক, অতএব তমঃ বর্তে। যে নরদর্শকেরা তোমাতে যুক্ত তাহারা নবনবতি বা অষ্টাশীতি বা সপ্তসপ্ততি হউক (অর্থ কি?) সর্বভূতনিবেশনী, জননী, ভদ্রা, ভগবতী, কৃষ্ণা, এবং বিশ্বজগতের নিশাস্বরূপ রাত্রিকে প্রাপ্ত হই। সকলের প্রবেশকারিণী শাসনকত্রী (?) গ্রহনক্ষত্রমালিনী, মঙ্গলযুক্তা রাত্রিকে আমি প্রাপ্ত হইয়াছি; হে ভদ্রে! আমরা যেন পারে যাই, আমরা যেন পারে যাই, ওঁ নমঃ। দেবী, শরণ্যা বহ্বৃচপ্রিয়া, সহস্রাতুল্যা দুর্গাকে আমি যত্নে তুষ্ট করি। আমরা জাতবেদাকে (অগ্নি) সোমদান করি। দ্বিজাতিগণের শান্ত্যর্থ তুমি ঋষিদিগের আশ্রয় (?) ঋগ্বেদে তুমি সমুৎপন্না অগ্নি অরাতিদিগের দহন করেন (?) দেবি! যে ব্রাহ্মণেরা, অবিদ্যা হউন, বা বহুবিদ্যা হউন, তোমার কাছে আসেন, তিনি (?) আমাদের সকল বিপদে ত্রাণ করিবেন। যে ব্রাহ্মণেরা অগ্নিবর্ণা, শুভা, সৌম্যাকে কীর্তিত করিবে, সমুদ্রে নৌকার ন্যায় অগ্নি তাহাদিগকে বিপদ হইতে পার করিবেন। বিপদে ঘোর বিষম সংগ্রামে, সঙ্কটে বিষয় বিপদে সংগ্রামে, বনে অগ্নিনিপাতে, চোরনিপাতে, দুষ্টগ্রহ নিবারণে, তোমার কাছে আসে, এ সকল হইতে আমাকে অভয় কর! এ সকল হইতে আমাকে অভয় কর! ওঁ নমঃ। যিনি সর্বভূতের কেশিনী, পঞ্চমী নাম যাঁর, সেই দেবী প্রতিরাত্রে সকল হইতে পরিরক্ষণ করুন‌! সকল হইতে আমাকে পরিরক্ষণ করুন! ওঁ নমঃ। অগ্নিবর্ণা তপের দ্বারা জ্বালাবিশিষ্টা, বৈরোচনী কর্মফলে জুষ্টা, দুর্গাদেবীর শরণাগত হই, হে সুবেগবতি! তোমার বেগকে নমস্কার। দুর্গাদেবী বিপদস্থলে আমাদের মঙ্গলার্থ হউন। এই পবিত্র দুর্গা স্তব যে রাত্রে সদা পাঠ করিবে—রাত্রি, কুশিক, সৌভর, রাত্রিস্তব, গায়ত্রী, যে রাত্রিসূক্ত নিত্য জপ করে যে তৎকাল প্রাপ্ত হয়।”

ইহার সকল স্থলে অনুবাদ হইয়া উঠে নাই, এবং যাহা অনুবাদ হইয়াছে তাহার সকল স্থলের কেহ অর্থ করিতে পারে না। কিন্তু এত দূর বুঝা যাইতেছে যে, যদি এই দেবী আমাদের পূজিতা দুর্গা হয়েন, তবে দুর্গা রাত্রির অন্যেতর নাম মাত্র।

ইহা ভিন্ন যজুর্বেদের (বাজসনেয়) সংহিতায় এক স্থানে অম্বিকার উল্লেখ আছে। কিন্তু সেখানে অম্বিকা শিবের ভগিনী, যথা—

“এষ তে রুদ্র ভাগঃ স্বস্রা অম্বিকয়া ত্বং জুষস্ব স্বাহা ।।”

আর কোন সংহিতায় কোথাও দুর্গার কোন নামের কোন উল্লেখ নাই।

তৎপরে ব্রাহ্মণ। কোন ব্রাহ্মণে কোন নামে ইঁহার কোন উল্লেখ নাই। তারপর উপনিষদ্। উপনিষদে দুর্গার নাম কোথাও নাই; এক স্থানে উমা হৈমবতী, আর এক স্থানে কালী করালী নামে উল্লেখ আছে। ঐ দুইটি স্থানই আমরা ক্রমশঃ উদ্ধৃত করিতেছি।

প্রথম, কেনোপনিষদে আছে—

“অথ ইন্দ্রম্ অব্রুবন্ মঘবন্নেতদ্বিজানীহি কিমেতদ্‌যক্ষমিতি। তথেতি তদভ্যদ্রবত্তস্মাত্তিরোদধে। স তস্মিন্নেবাকাশে স্ত্রিয়মাজগাম বহুশোভমানামুমাং হৈমবতীম্। তং হোবাচ কিমেতদ্যক্ষমিতি। সা ব্রহ্মেতি হোবাচ ব্রহ্মণো বা এতদ্বিজয়ে মহীয়ধ্বমিতি। ততো হৈব বিদাঞ্চকার ব্রহ্মেতি”

“তাঁহারা তখন ইন্দ্রকে বলিলেন, “মঘবন্ এ যক্ষ কি জানুন।” ইন্দ্র “তাই” বলিয়া তাহার কাছে গেলেন, সে অন্তর্ধান হইল।

সেই আকাশে বহুশোভমানা উমা হৈমবতী নামক স্ত্রীলোকের নিকট আসিলেন। তাঁহাকে বলিলেন, “কি এ যক্ষ?” তিনি কহিলেন, “এ ব্রহ্মা, ব্রহ্মার এই বিজয়ে আপনারা মহৎ হউন।” তাহাতে জানিলেন যে, ইতি ব্রহ্ম।”

ইহার অর্থ কি, আমরা বুঝিতে পারিব না, কিন্তু সায়নাচার্য বুঝিয়াছিলেন সন্দেহ নাই। সায়নাচার্য এই উমা হৈমবতীকে ব্রহ্মজ্ঞান বলেন। তৈত্তিরীয় আরণ্যকান্তর্গত এক স্থানে সোম শব্দের ব্যাখ্যায় বলেন, “হিমবৎপুত্র্যা গৌর্যা ব্রহ্মবিদ্যাভিমানিরূপত্বাৎ গৌরীবাচকো উমাশব্দো ব্রহ্মবিদ্যাং উপলক্ষয়তি। অতএব তলবকারোপনিষদি (ইহারই নামান্তর কেনোপনিষদ্) ব্রহ্মবিদ্যামূর্তিপ্রস্তাবে ব্রহ্মবিদ্যামূর্তিঃ পঠ্যতে। বহুশোভমানামুমাং হৈমবতীং তাং হোবাচ ইতি। তদ্বিষয়তয়া তয়া উময়া সহিতবর্তমানত্বাৎ সোমঃ।”

তবে কেনোপনিষদের উমা হৈমবতী ব্রহ্মবিদ্যামাত্র। মহাভারতীয় ভীষ্মপর্বে অর্জুনকৃত একটি দুর্গাস্তব আছে, তাহাতে দুর্গাকে “ব্রহ্মবিদ্যা” বলা হইয়াছে। যথা—

ত্বং ব্রহ্মবিদ্যা বিদ্যানাং মহানিদ্রা চ দেহিনাং।

দ্বিতীয়, মুণ্ডকোপনিষদে এক স্থানে কালী ও করালী নামের উল্লেখ আছে। কিন্তু সে কোন দেবীর নাম বলিয়া উল্লিখিত হয় নাই—অগ্নির সপ্তজিহ্বার নামের মধ্যে কালী ও করালী দুইটি নাম, ইহাই কথিত আছে, যথা—

কালী করালী চ মনোজবা চ সুলোহিতা যা চ সুধূম্রবর্ণা।
স্ফুলিঙ্গিনী বিশ্বরূপী চ দেবী লোলায়মানা ইতি সপ্ত জিহ্বা।।

কালী, করালী, মনোজবা, সুলোহিতা, সুধূম্রবর্ণা, স্ফুলিঙ্গিনী, এবং বিশ্বরূপী এই সাতটি অগ্নির জিহ্বা।

ইহা ভিন্ন বেদে আর কোথাও দুর্গা, কালী, উমা, অম্বিকা প্রভৃতি কোন নামে এই দেবীর কোন উল্লেখ নাই।

তৈত্তিরীয় আরণ্যকে দুর্গাগায়ত্রী আছে। তাহা এই—

কাত্যায়নায় বিদ্মহে কন্যাকুমারী ধীমহি। তন্নো দুর্গীঃ প্রচোদয়াৎ।

পাঠক দেখিবেন, স্ত্রীলিঙ্গান্ত দুর্গা শব্দের পরিবর্তে পুংলিঙ্গান্ত দুর্গী শব্দ ব্যবহৃত হইয়াছে। ইহার জন্য সায়নাচার্য লিখিয়াছেন, “লিঙ্গাদিব্যত্যয়ঃ সর্বত্র ছান্দসো দ্রষ্টব্য।” তিনি কাত্যয়ন শব্দের এই ব্যাখ্যা করেন, “কৃতিং বস্তে ইতি কত্যো রুদ্রঃ। স এবায়নং যস্য সা কাত্যায়নী। অথবা কতস্য ঋষিবিশেষস্য অপত্যং কাত্যঃ।” কন্যাকুমারীর এই রূপ ব্যাখ্যা করেন, “কুৎসিতং অনিষ্টং মায়রতি ইতি কুমারী, কন্যা দীপ্যমানা চাসৌ কুমারী চ কন্যাকুমারী।”

এতদ্ভিন্ন ঋগ্বেদান্তর্গত রাত্রিপরিশিষ্ট হইতে যে দুর্গাস্তব উদ্ধৃত হইয়াছে, তাহার ১২ সংখ্যক শ্লোক ঐ তৈত্তিরীয় আরণ্যকের দ্বিতীয় অনুবাকে অগ্নিস্তবে আছে। তাহাতে দুর্গার উল্লেখ আছে, দেখা গিয়াছে।

কৈবল্যোপনিষদে “উমা সহায়ম্” বলিয়া মহাদেবের উল্লেখ আছে। কৈবল্যোপনিষদ্ অপেক্ষাকৃত আধুনিক। ঐস্থলে আশ্বলায়ন বক্তা।

ওয়েবর বলেন তৈত্তিরীয় আরণ্যের অষ্টাদশ অনুবাদকে “উমাপতয়ে” শব্দ আছে—কিন্তু ঐ বচন আমরা দেখি নাই।

উপনিষদে বা আরণ্যকে আর কোথাও দুর্গার উল্লেখ পাওয়া যায় না।

এক্ষণে জিজ্ঞাস্য, আমাদিগের পূজিত দুর্গা কি রাত্রি, না মহাদেবের ভগিনী, না ব্রহ্মবিদ্যা, না অগ্নিজিহ্বা?

এই প্রবন্ধে যাহা কিছু বেদ হইতে উদ্ধৃত হইয়াছে তাহা ডাক্তার জন মিয়োরের সংগ্রহ (Sanskrit Texts) হইতে নীত। সেই সংগ্রহই প্রবন্ধের অবলম্বন।


SOURCE: ‘বঙ্গদর্শন’, জ্যৈষ্ঠ ১২৮০, পৃ. ৪৯-৫৩।

Read more:

  • श्री दुर्गा सप्तशती (Durga Saptashati) चण्डीपाठः
  • (মহিষাসুরমর্দ্দিনী) Original Bengali Script (1962)
  • Loka Rahashya by Bankimchandra Chattopadhyay (1878)
  • Bidyapati O Joydeva by Bankimchandra (বিদ্যাপতি ও জয়দেব) 1876
  • কপালকুণ্ডলা – KapalKundala by Bankim Chandra (1870)
  • The Study of Hindu Philosophy – Bankim Chandra Chattopadhyay
  • An Essay on Hinduism – By Bankim Chandra Chattopadhyay
  • Vedic Literature: Bankim Chandra Chattopadhyay (1894)
  • গীতার ভাষ্য ভূমিকা (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) Preface of Bhagavad Gita (Bankim Chandra)

Tags: Bankim Chandra Durga HinduReligion

Post navigation

Previous: ঔরঙ্গজেব কর্ত্তৃক গোবিন্দ মাণিক্যের নিকট লিখিত পত্র- Aurangzeb`s letter to the Tripura king Govinda Manikya
Next: দেবতায় মনুষ্যত্ব আরোপ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর Devatai Manusatta Arop-Rabindranath
Communism
Sarvarthapedia

Manifesto of the Communist Party 1848: History, Context, and Core Concepts

Arrest
Sarvarthapedia

Latin Maxims in Criminal Law: Meaning, Usage, and Courtroom Application

Google’s Knowledge Graph: History, Evolution, and Impact on Search Engines

Religion, Faith, and Beliefs: History, Theology, Politics, and Conflict with Science 

Scientific Principles: Theories, Inventors, Patents, Universities, Industrial Growth and Global Contributions

Abolition of Slave Trade Act 1807: Facts, Enforcement, and Historical Context

British Slavery and the Church of England: History, Theology, and the Codrington Estates

United States of America: History, Government, Economy, and Global Power

Biblical Basis for Slavery: Old and New Testament Laws, Narratives, and Interpretations

Rule of Law vs Rule by Law and Rule for Law: History, Meaning, and Global Evolution

IPS Cadre Strength 2025: State-wise Authorised Strength

Uric Acid: From 18th Century Discovery to Modern Medical Science

Christian Approaches to Interfaith Dialogue: Orthodox, Catholic, Protestant, and Pentecostal Views

Origin of Central Banking in India: From Hastings to RBI and the History of Preparatory Years (1773–1934)

  • Sarvarthapedia

  • Delhi Law Digest

  • Howrah Law Journal

  • Amit Arya vs Kamlesh Kumari: Doctrine of merger
  • David Vs. Kuruppampady: SLP against rejecting review by HC (2020)
  • Nazim & Ors. v. State of Uttarakhand (2025 INSC 1184)
  • Geeta v. Ajay: Expense for daughter`s marriage allowed in favour of the wife
  • Ram v. Sukhram: Tribal women’s right in ancestral property [2025] 8 SCR 272
  • Naresh vs Aarti: Cheque Bouncing Complaint Filed by POA (02/01/2025)
  • Bharatiya Nagarik Suraksha Sanhita 2023 (BNSS)
  • Bharatiya Sakshya Adhiniyam 2023 (BSA): Indian Rules for Evidence
  • Bharatiya Nyaya Sanhita (BNS) 2023
  • The Code of Civil Procedure (CPC)
  • Supreme Court Daily Digest
  • U.S. Supreme Court Orders
  • U.k. Supreme Court Orders
Google-Search-SEO-tips

Google’s Knowledge Graph: History, Evolution, and Impact on Search Engines

Sarvarthapedia

Religion, Faith, and Beliefs: History, Theology, Politics, and Conflict with Science 

Sarvarthapedia

Scientific Principles: Theories, Inventors, Patents, Universities, Industrial Growth and Global Contributions

United Kingdom, UK

Abolition of Slave Trade Act 1807: Facts, Enforcement, and Historical Context

2026 © Advocatetanmoy Law Library

  • About
  • Global Index
  • Judicial Examinations
  • Indian Statutes
  • Glossary
  • Legal Eagle
  • Subject Guide
  • Journal
  • SCCN
  • Constitutions
  • Legal Brief (SC)
  • MCQs (Indian Laws)
  • Sarvarthapedia (Articles)
  • Contact Us
  • Privacy Policy
  • FAQs
  • Library Updates
2026 All rights reserved © MoreNews by AF themes.