Tappa Gan by Ram Nidhi Gupta @ Nidhu Babu (টপ্পা গান)
Home » Law Library Updates » Law Library » Bengali Page » Tappa Gan by Ram Nidhi Gupta @ Nidhu Babu (টপ্পা গান)
নিধু বাবুর টপ্পা (Tappa Gan of Ran Nidhi Guppta)
Tappa Style Bengali Song
টপ্পা (ধাপ্পা) হল উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের হালকা একটি রূপ। টপ্পা গানের ভাষা সাধারণ প্রেম মূলক হলেও গানের ভাবধারা যথেষ্ট গম্ভীর হতো এবং কাফী, খাম্বাজ, পিলু, ভৈরবী, তিলককামোদ ইত্যাদি রগে গাওয়া হতো । টপ্পা গানের ভাষা সাধারণ প্রেম মূলক হলেও গানের ভাবধারা যথেষ্ট গম্ভীর হতো এবং কাফী, খাম্বাজ, পিলু, ভৈরবী, তিলককামোদ ইত্যাদি রগে গাওয়া হতো । বাংলা ভাষায় টপ্পা গানের বিষয় বস্তু রাগ, অনুরাগ, আকর্ষণ ও বিরহ কে আশ্রয় করেই নিধু বাবুর গীত সংকলনে পাওয়া যায়।
টপ্পার জন্ম সম্পর্কে রাধামোহন সেন তার ‘সঙ্গীত-তরঙ্গ (Sangeet Taranga) বইয়ে লিখেছেন
পাঞ্জাব হইতে হইল টপ্পার জনম ,
দুই চরণের মধ্যে তাহার নিয়ম।
বর্ধমানের মহারাজা প্রতাপচন্দ্রের সভাগায়ক ও রাজা রামমোহন রাইয়ের (22 May 1772 – 27 September 1833) সঙ্গীত শিক্ষক কালিদাস মুখোপাধ্যায় বাংলায় টপ্পা গানের প্রচলন করেন। পারে নিধুবাবু (রামনিধি)১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় এই গানের প্রচার করেন। শোনা যায় ১৮২৮ সালে ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে রামনিধির গানের আসার বসত। রামনিধির পর এই গানের ধারা কে বজায় রেখেছিলেন শ্রীধর কথক ও তার পর মহেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। রামকুমার চট্টোপাধ্যায় (১৯২১-২০০৯) ও তার পুত্র এই গানের ধারা কে আজও সজীব রেখেছেন।
নিধুবাবুর নামের সঙ্গে ‘টপ্পা’ শব্দটি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে গেছে। রামনিধি গুপ্ত (নিধু বাবু) এর উদ্ভাবক বলে পরিচিত। টপ্পা বলতে আমরা আন্দোলনযুক্ত তানবিশিষ্ট গানকে বুঝি। ধ্রুপদ, খেয়ালের মতো টপ্পাও প্রচলিত সংগীত রীতি থেকে গড়ে উঠেছে। কাপ্তেন উইলার্ভকে উদ্ধৃত করে রাজ্যেশ্বর মিত্র টপ্পার উৎস সম্পর্কে জানিয়েছেন – ‘টপ্পা ছিল রাজপুতনার উষ্ট্র চালকদের গীত (। শোনা যায়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যেসব বণিক উটের পিঠে চেপে বাণিজ্য করতে আসত, তারা সারারাত নিম্নস্বরে টপ্পার (ধাপ্পা) মতো একপ্রকার গান গাইতে গাইতে আসত। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অনেকাংশই খুঁজে পাওয়া যাবে নিধুবাবুর টপ্পায়। যদিও এই টপ্পা এক সময় গৃহীত হয়নি, নিষিদ্ধ হয়েছিল সাধারণ সমাজে এবং নিধুবাবুর মৃত্যুর পরই অনেকে মনে করেছিলেন আর টিকবে না এই টপ্পা। (Nidhi Babu-2014)
রামনিধি গুপ্ত (নিধু বাবু)
রামনিধি গুপ্ত (নিধু বাবু) (১৭৪১-১৮৩৯) সাধারণত নিধু বাবু নামে পরিচিত, বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের একজন মহান সংস্কারক। তাঁর পূর্ব পর্যন্ত টপ্পা এক ধরণে অরুচিকর গান হিসেবে বিবেচিত হতো। তিনি উত্তর কলকাতার কুমারটুলি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা হরিনারায়ণ গুপ্ত, জিনি কলকাতার কুমারটুলি অঞ্চলে চিকিত্সক ছিলেন, সেখানেই তিনি জনৈক ইংরেজ পাদ্রীর কাছে ফার্সি ও ইংরেজি শেখেন এবং শুরু করেন সংগীত চর্চা। তিনি কিছুদিন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর অধীনে ও পরে ছাপরা অঞ্চলের কালেক্টরি অফিসে কেরানি হিসেবে চাকরি করেন। এই স্থানে তিনি কিছুদিন একজন মুসলিম ওস্তাদের নিকট সঙ্গীতের তালিম নেন। কিন্তু কয়েকদিন পর তিনি স্বাধীনভাবে হিন্দী সঙ্গীতকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করতে শুরু করেন। ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে ছাপরা থেকে কলকাতায় ফিরে আসেন। ১৮০৪ সালে তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সাধনার উদ্দেশ্যে একটি আখড়া স্থাপন করেন। এই সময় রচিত তাঁর আখড়াই গান ও টপ্পা গানের জন্য তিনি বিখ্যাত হন। তাঁর একটি গীতিকা সংকলনের নাম ‘গীতিরত্ন’ (১৮৩৭)।
অনুগত জনে কেন
অনুগত জনে কেন
করো এত প্রবঞ্চনা,
তুমি মারিলে মারিতে পারো,
তবে রাখিতে কে করে মানা !
যদি ক’রে থাকি অপরাধ
প্রেমডোরে দিয়ে বাঁধো,
এ যে বিনা অপরাধে বধ,
এ কি রে তোর বিবেচনা।
আমি কি কখনো
আমি কি কখনো তোমারে
না দেখে থাকিতে পারি,
বিনা দরশনে প্রাণ
শুন্য দেহ শুন্য প্রাণ,
সচেতন হয় পুনঃ
তব মুখ হেরি।
প্রথম মিলন ‘বধি
বুঝিয়াছি মনে,
কদাচিত নহি সুখী
তোমারি বিহনে,
এতে এই নিবেদন
বিচ্ছেদ না হয় যেন,
নয়ন নিকটে থাকো।
তোমারি তুলনা
তোমারি তুলনা তুমি প্রাণ
এ মহীমন্ডলে,
তোমারি তুলনা তুমি প্রাণ।
যেমন আকাশে পূর্ণ শশী
সে কাঁদে কলঙ্ক-ছলে,
তোমারি তুলনা তুমি প্রাণ।
সৌরভে গৌরবে
কে তব তুলনা হবে?
আপনি আপন-সম্ভবে
যেমন গঙ্গাপূজা গঙ্গাজলে।
দূরে থেকো
দূরে থেকো, কাছে এসো না
যদি হৃদয়-মাঝারে অধীর কামনা
পুষে থাকো, তবে ভালোবেসো না।
মানসকমলে উদিত প্রণয়
অরুণকিরণে ছুঁয়ো না,
তুমি জানো না তো প্রাণ, অযতনে সুখ,
ওগো যতনেতে র’লে যাতনা।
নয়নে আমার বিধি
নয়নে আমার বিধি
কেন পলক দিয়েছে,
ওগো, দরশন সুখে আমায়
বিমুখ করেছে।
আমার মন যারে সদা চায়
নয়ন বিবাদী তায়,
আমার সুখসাধে এ কী দায়
প্রমাদ ঘটেছে।
নানান দেশে নানান ভাষা
নানান দেশে নানান ভাষা,
বিনা স্বদেশীয় ভাষা পূরে কি আশা?
কত নদী সরোবর, কি বা ফল চাতকীর
ধারাজল বিনা কভু ঘুচে কি তৃষা?
পলকের তরে আঁখি
পলকের তরে আঁখি
তোমারে দেখিতে চায়,
সব আশাই মিটিয়াছে
প্রণয়ের হতাশায়।
যে দুখ হৃদয়ে মম
বিঁধেছে কণ্টকসম,
সে জ্বালা সহিব সখী
দাও গো চিরবিদায়।
ভালোবাসিবে ব’লে
ভালোবাসিবে ব’লে ভালোবাসি নে
আমার স্বভাব এই,
আমি তোমা বই আর জানি নে।
বিধুমুখে মধুর হাসি
আমি দেখতে বড়ো ভালোবাসি,
আমি তাই তোমারে দেখতে আসি
আমি দেখা দিতে আসি নে।
ভালোবেসে ভালো কাঁদালে
ভালোবেসে ভালো কাঁদালে
ভালো ভালোবাসা জানালে,
যদি মজিবে না মনে ছিল
ওগো, তবে কেন মন মজালে।
তুমি যে পরেরই সোনা
আমার আগে তা ছিল না জানা,
আমি জানতাম যদি পরের সোনা
দিতাম না কো কর্ণকূলে।
তুমি যে পরেরই প্রীত
পাষাণেতে বিরচিত,
আমায় কষ্ট দিলে যথোচিত
এ চিত সোঁপেছি ব’লে।
লুকিয়ে ভালোবাসব তারে
লুকিয়ে ভালোবাসব তারে
জানতে দিব না,
জানলে পরে প্রাণ নেবে সে
প্রাণ তো দিবে না।
সে যদি না করে আদর
করব না তায় অনাদর
চোখে চোখে চাইলে পরে
ফিরে চাইব না।
বসায়ে হৃদি-সিংহাসনে
হাসব কাঁদব আপন মনে,
ভেসেছি আপনি ভাসি
তায় ভাসাব না।
সে কেন রে করে অপ্রণয়
সে কেন রে করে অপ্রণয়
তার উচিত নয়,
জানি আমি তার সনে
কভু তো বিচ্ছেদ নয়।
কখন কি বলেছি মানে
আজ কি তা আছে মনে,
তা বলে কি মানে মানে
অভিমানে রইতে হয়।
সখী গো, আমার হয়ে
বলো তারে বোঝা দিয়ে,
পিরীতি করিতে গেলে
সুখ-দুঃখ সবই সয়।
দিনান্তে প্রাণান্ত হত
একবার যদি দেখা দিত,
তবে কেন অবিরত
হৃদয়মাঝে উদয় হয়।
শৈলেন্দ্রতনয়া শিবে
শৈলেন্দ্রতনয়া শিবে, সদাশিবে প্রদাভবে,
সুধাংশুশেখর সীমন্তিনি | মা |
বিকল পতিত জনে, ত্রাহি তারা নিজগুণে,
দয়াময়ী প্রণতপালিনী ||
আপনি কর্ম্মানুসারে, ভবে ভ্রমি বারে বারে,
শ্রমভরে কাতর তারিণি |
শিবদা অশিব হরা, ব্রহ্মমযী পরোত্পরা,
সদানন্দে সুখপ্রদায়িনী |
Source: Chakrabarty, Ramakanta. Nidhu Babu and his Tappā. Published in Banerjee, Jayasri (ed.), The Music of Bengal. Baroda: Indian Musicological Society, 1987.
Note: Ramkumar Chattopadhyay was also unparalleled in his rendition of Tappa songs composed by Nidhu Babu.
Read also:
ময়মনসিংহের গান-Mymensingher Gan