ADVOCATETANMOY LAW LIBRARY

Research & Library Database

Home » Law Library » Sanskrit Documents » Vṛddhir Ādaich (Patanjali Mahābhāṣya) Aṣṭādhyāyī-1.1.1

Vṛddhir Ādaich (Patanjali Mahābhāṣya) Aṣṭādhyāyī-1.1.1

Mahabhasya of Patanjali: Bengali Commentary By Tanmoy Bhattacharyya
The term "वृद्धिरादैच्" (1.1.1) from Aṣṭādhyāyī refers to the three long vowels "आ", "ऐ", and "औ," termed as "वृद्धि." This concept encompasses the larger aspects of vowel forms in Sanskrit grammar, distinguished between basic (इ, उ), quality (ए, ओ), and increased forms. Pāṇini’s usage of "वृद्धि" indicates both its application and restrictions in various linguistic contexts, ensuring clarity on pronunciation rules. The significance lies in its role in defining subsequent grammatical rules related to vowel modifications and combinations. The discourse highlights the interdependence of the terms, establishing "वृद्धि" as a foundational aspect of Sanskrit grammar with broader implications.

Patanjali Mahabhasya: Bengali Commentary by Tanmoy Bhattacharyya

१.१.१ वृद्धिरादैच्

Aṣṭādhyāyī-এর প্রথম সূত্র “বৃদ্ধিরাদৈচ্”-এ দুটি অংশ আছে—বৃদ্ধি এবং আদৈচ্। এর অর্থ হলো আ, ঐ ও ঔ এই তিনটি স্বরকে “বৃদ্ধি” বলা হয়। এখানে “আদৈচ্” একটি সংক্ষিপ্ত সংকেত শব্দ, যার দ্বারা আ, ঐ ও ঔ এই তিনটি স্বরকে একসাথে বোঝানো হয়েছে (অর্থাৎ আদৈচ্ = আ + ঐ + ঔ)। “বৃদ্ধি” বলতে স্বরের বড় বা শক্ত রূপ বোঝায়; সংস্কৃত স্বরের তিনটি স্তর ধরা হয়—মূল (ই, উ), গুণ (এ, ও) এবং বৃদ্ধি (ঐ, ঔ), আর অ থেকে আ হওয়াকেও বৃদ্ধির মধ্যে ধরা হয়, তাই আ, ঐ ও ঔ এই তিনটি বৃদ্ধি স্বর। Pāṇini তাঁর ব্যাকরণে অনেক স্থানে “বৃদ্ধি” শব্দ ব্যবহার করেছেন—কোথাও বলা হয়েছে বৃদ্ধি হবে, কোথাও আবার বৃদ্ধি নিষেধ—তাই শুরুতেই কোন স্বরগুলোকে বৃদ্ধি বলা হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার জন্য এই সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এখানে “সংজ্ঞা” মানে একটি বিশেষ নাম; যেমন বাস্তবে কোনো ব্যক্তির নাম দেবদত্ত হলে সেই নামেই তাকে চেনা যায়, তেমনি ব্যাকরণে আ, ঐ, ঔ এই তিনটি স্বরের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছে “বৃদ্ধি”। 

Patanjali তাঁর Mahābhāṣya-এ প্রশ্ন করেন—বৃদ্ধি শব্দটি আগে কেন বলা হয়েছে, কারণ সাধারণত আগে বস্তু তারপর তার নাম বলা হয়; কিন্তু এখানে নাম আগে এসেছে। তিনি বলেন, এটি আচার্যের মঙ্গলকামনার জন্য—শাস্ত্রের শুরুতেই “বৃদ্ধি” শব্দ ব্যবহার করে বিদ্যা ও শাস্ত্রের উন্নতির কামনা করা হয়েছে। আরও বলা হয়, ব্যাকরণ নতুন শব্দ তৈরি করে না; শব্দ আগে থেকেই আছে, ব্যাকরণের কাজ হলো সঠিক ব্যবহার শেখানো। সংজ্ঞা বোঝা যায় শিক্ষকদের ব্যবহার থেকেও—যেমন বাবা-মা সন্তানের নাম রাখলে সবাই সেই নামেই তাকে ডাকে, তেমনি আচার্যরা বলেন আ, ঐ, ঔ-ই বৃদ্ধি। কেউ যদি প্রশ্ন করে যে “বৃদ্ধি” না জানলে “আদৈচ্” বোঝা যাবে না এবং “আদৈচ্” না জানলে “বৃদ্ধি” বোঝা যাবে না, অর্থাৎ পারস্পরিক নির্ভরতা হবে, তবে তার উত্তর হলো—শব্দগুলো আগে থেকেই আছে, শাস্ত্র শুধু তাদের সম্পর্ক স্পষ্ট করে। তাই এই ছোট সূত্রটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরবর্তী বহু ব্যাকরণ নিয়মে বৃদ্ধি-সংক্রান্ত বিধান ব্যবহৃত হয়েছে—শব্দ পরিবর্তন, প্রত্যয় যোগ বা ধ্বনির রূপান্তর বোঝাতে। সংক্ষেপে, “বৃদ্ধিরাদৈচ্ (১.১.১)” সূত্রের অর্থ হলো—আ, ঐ ও ঔ এই তিনটি স্বরকে বৃদ্ধি বলা হয়; এটি একটি সংজ্ঞা-সূত্র এবং পরবর্তী বহু নিয়মে এর ব্যবহার হয়।

অষ্টাধ্যায়ীতে ‘বৃদ্ধিঃ’ এই সংজ্ঞাটি নয়টি সূত্রে প্রত্যক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়েছে—

১. इको गुणवृद्धी (১.১.৩)
২. वृद्धिर्यस्याचामादिस्तद् वृद्धम् (১.১.৭৩)
৩. वृद्धिरेचि (৬.১.৮৮)
৪. उत्तरपदवृद्धौ सर्वं च (৬.২.১০৫)
৫. इद्वृद्धौ (৬.৩.২৮)
৬. वृद्धिनिमित्तस्य च तद्धितस्यारक्तविकारे (৬.৩.৩৯)
৭. सिचि वृद्धिः परस्मैपदेषु (৭.২.১)
৮. मृजेर्वृद्धिः (৭.২.১১৪)
৯. उतो वृद्धिर्लुकि हलि (৭.৩.৮৯)


आत्-ऐच् वृद्धिः (বৃদ্ধিসংজ্ঞা)

বলা হয়— “শব্দ ও অর্থের সম্পর্ক নিত্য” (नित्यः शब्दार्थसम्बन्धः) —এই দর্শন অনুযায়ী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শব্দ মানুষের ব্যবহারের আগেই কোনো অর্থের নির্দেশক (বাচক) হিসেবে বিদ্যমান থাকে; কিন্তু মানুষের ব্যবহার দ্বারা সেটিকে আবার বাচক রূপে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। সেই কারণে সমস্ত শব্দই সংজ্ঞারূপে সমস্ত অর্থ প্রকাশ করতে সক্ষম। তবে যেহেতু অনির্দিষ্ট অর্থ নিয়ে ব্যবহার সম্ভব নয়, তাই নির্দিষ্ট অর্থ স্থির করার জন্য মানুষের প্রয়াস প্রয়োজন হয়। যেমন— “আমি যে ‘বৃদ্ধি’ শব্দটি ব্যবহার করেছি, তার অর্থ ‘আদৈজ্’।” এইভাবে প্রথমে পদার্থ (শব্দের অর্থ) ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এরপর বাক্যের প্রসঙ্গে আটটি সম্ভাব্য বিকল্প উল্লেখ করা হয়েছে— (১) অনর্থক, (২) সাধু ব্যবহারের নির্দেশ, (৩) প্রয়োগের নিয়ম স্থাপন, (৪) আদেশার্থ, (৫) আগমার্থ, (৬) বিশেষণার্থ, (৭) তদ্গুণ আরোপার্থ, এবং (৮) সংজ্ঞার্থ।

আ, ঐ এবং ঔ—এই তিনটি বর্ণকে ‘বৃদ্ধি’ বলা হয়। “বৃদ্ধি” শব্দটি ( वृधु वृद्धौ धातु ) এখানে একটি সংজ্ঞা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যার দ্বারা সাধারণভাবে এই তিনটি বর্ণকে নির্দেশ করা হয়। এগুলি কখনও বৃদ্ধি-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হতে পারে, আবার কখনও স্বাভাবিকভাবেও উপস্থিত থাকতে পারে। সূত্রে ‘ত’কারের সংযোজনের উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট ধ্বনিগত সীমা নির্ধারণ করা, যাতে ত্রিমাত্রা বা চতুর্মাত্রা উচ্চারণের সম্ভাবনা দূর হয়। উদাহরণস্বরূপ— আশ্বলায়ন, ঐতিকায়ন, ঔপগব, ঔপমন্যব, শালীয়, মালীয় প্রভৃতি শব্দে এই বৃদ্ধি-বর্ণের ব্যবহার দেখা যায়।

ব্যাকরণশাস্ত্রে বর্ণ ও শব্দকে সংক্ষেপে নির্দেশ করার জন্য বিভিন্ন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম সংজ্ঞা হলো ‘বৃদ্ধি’, যা এই সূত্রে নির্ধারিত হয়েছে। অর্থাৎ ‘আ’, ‘ঐ’ ও ‘ঔ’—এই তিনটি বর্ণকে এই সূত্রের দ্বারা বৃদ্ধিসংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। যেমন— “রামঃ” শব্দে র-কারের পরে যে আকার রয়েছে, “শৈবঃ” শব্দে শ-কারের পরে ঐকার, এবং “গৌরবঃ” শব্দে গ-কারের পরে ঔকার—এগুলি সবই বৃদ্ধিসংজ্ঞক বর্ণ।

অষ্টাধ্যায়ীতে বৃদ্ধিসংজ্ঞার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বিধান দেওয়া হয়েছে। যেমন— “অত উপধায়াঃ” (৭.২.১১৬) সূত্রে অকারের বৃদ্ধি বিধান করা হয়েছে; অর্থাৎ অকারের স্থানে আকার ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, “পঠ্” ধাতুর সঙ্গে “ঘঞ্” প্রত্যয় যুক্ত হলে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে “পাঠ” শব্দটি গঠিত হয়, যেখানে অকারের স্থানে আকারের বৃদ্ধি ঘটে। আবার “অচো ঞ্ণিতি” (৭.২.১১৫) সূত্রে ইকারের বৃদ্ধি ঐকারে রূপান্তরিত হয়। যেমন “নী” ধাতুর সঙ্গে “ণিচ্” প্রত্যয় যুক্ত হয়ে বিভিন্ন ধাপের মধ্য দিয়ে “নায়ি” রূপটি গঠিত হয়। তদ্রূপ “তদ্ধিতেষ্বচামাদেঃ” (৭.২.১১৭) সূত্রে উকারের বৃদ্ধি ঔকারে রূপান্তরিত হয়। যেমন “উপগু” শব্দের সঙ্গে “অণ্” প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ধাপে ধাপে “ঔপগব” শব্দটি গঠিত হয়।

যে সন্ধিতে দুইটি স্বর একত্রিত হয়ে তাদের স্থানে একটি বৃদ্ধি-বর্ণ স্থাপিত হয়, সেই সন্ধিকে সাধারণত ‘বৃদ্ধিসন্ধি’ বলা হয়। যেমন— “বন + ঔষধি” মিলিত হয়ে “বনৌষধি” হয়। এখানে “বৃদ্ধিরেচি” (৬.১.৮৮) সূত্র অনুসারে অকার ও ওকারের স্থানে ঔকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই কারণে এই সন্ধিকে বৃদ্ধিসন্ধি বলা হয়।

অষ্টাধ্যায়ীতে ‘বৃদ্ধি’ সংজ্ঞাটি মোট নয়টি সূত্রে সরাসরি ব্যবহৃত হয়েছে— যেমন “ইকো গুণবৃদ্ধী” (১.১.৩), “বৃদ্ধির্যস্যাচামাদিস্তদ্ বৃদ্ধম্” (১.১.৭৩), “বৃদ্ধিরেচি” (৬.১.৮৮), “উত্তরপদবৃদ্ধৌ সর্বং চ” (৬.২.১০৫), “ইদ্বৃদ্ধৌ” (৬.৩.২৮), “বৃদ্ধিনিমিত্তস্য চ তদ্ধিতস্যারক্তবিকারে” (৬.৩.৩৯), “সিচি বৃদ্ধিঃ পরস্মৈপদেষু” (৭.২.১), “মৃজের্বৃদ্ধিঃ” (৭.২.১১৪) এবং “উতো বৃদ্ধির্লুকি হ’লি” (৭.৩.৮৯)। এছাড়া অনুবৃত্তির মাধ্যমে অন্য অনেক সূত্রেও এই সংজ্ঞার প্রয়োগ দেখা যায়।

“আদৈচ্” পদটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত— “আত্” এবং “ঐচ্”। এখানে আকারের পরে যে তকার যুক্ত হয়েছে, তা ধ্বনিগত সীমা নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এর দ্বারা বোঝানো হয় যে এখানে কেবল দীর্ঘ স্বরগুলিকেই গ্রহণ করা হবে, প্লুত বা অতিদীর্ঘ স্বরগুলিকে নয়। অর্থাৎ প্লুত ঐকার বা ঔকারকে বৃদ্ধিসংজ্ঞা দেওয়া হয় না। তাই এই সীমা নির্ধারণের জন্য তকার সংযোজন করা হয়েছে।

কাশিকাকার এই সূত্রের ব্যাখ্যায় “তদ্ভাবিত” এবং “অতদ্ভাবিত”—এই দুই ধরনের বর্ণের কথা উল্লেখ করেছেন। “তদ্ভাবিত” বলতে সেই আ, ঐ বা ঔ বর্ণকে বোঝায়, যা বৃদ্ধি-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হয়েছে। যেমন “ঔপগব” শব্দে ঔকারটি উকারের বৃদ্ধির ফলে সৃষ্টি হয়েছে, তাই এটি তদ্ভাবিত বর্ণ। অপরদিকে “অতদ্ভাবিত” হলো সেই বর্ণ, যা বৃদ্ধি নির্দেশ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত থাকে। যেমন “মালা” শব্দে যে আকার রয়েছে, তা ধাতুর স্বাভাবিক রূপ থেকেই এসেছে; তাই এটি অতদ্ভাবিত বর্ণ।

এইভাবে কাশিকাকার দেখিয়েছেন যে তদ্ভাবিত এবং অতদ্ভাবিত—উভয় প্রকার আ, ঐ ও ঔ বর্ণই এই সূত্র অনুযায়ী বৃদ্ধিসংজ্ঞা লাভ করে। ফলে “মালা” শব্দের আদ্য আকারও বৃদ্ধিসংজ্ঞক বলে বিবেচিত হয় এবং সেই অনুযায়ী অন্যান্য সূত্র প্রয়োগ করে “মালীয়” প্রভৃতি শব্দও গঠিত হয়।

অবশেষে, “আদৈচ্” পদটির শেষে যে ‘চ’কার রয়েছে, ব্যাকরণের নিয়ম অনুসারে তা ‘কুত্ব’ হয়ে ‘গ’ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এই সূত্রকে বৈদিক বা ছন্দোবদ্ধ রীতির অন্তর্ভুক্ত ধরে বিশেষ বিধানের মাধ্যমে সেই পরিবর্তন রোধ করা হয়েছে। ফলে সূত্রটির মূল রূপ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং অনিচ্ছিত ধ্বনি-পরিবর্তন ঘটে না।


“বৃদ্ধিরাদৈচ্”—এখন অন্যান্য সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে গিয়ে প্রথমে ‘বৃদ্ধি’ সংজ্ঞাটি বলা হচ্ছে— “বৃদ্ধিরাদৈচ্”। যদিও পাণিনির অষ্টাধ্যায়ীতে এটি প্রথম সূত্র হিসেবে স্থাপিত হয়েছে, তবুও প্রকৃতপক্ষে এটি আলোচনার একেবারে সূচনায় উপস্থাপন করা হয়নি। কারণ এই সূত্রে ‘ত্’কারের সংযোজন এবং প্রত্যাহারের অন্তর্নিহিত বিধানের মাধ্যমে যে গ্রহণ-নিয়ম নির্ধারিত হয়েছে, তা প্রত্যাহারশাস্ত্রের বিস্তৃত ব্যাখ্যার পূর্বে স্থাপন করা উপযুক্ত নয়। সেই কারণে প্রত্যাহারশাস্ত্রের বিশদ আলোচনা হওয়ার পরেই এই সূত্রের প্রকৃত তাৎপর্য স্পষ্ট হয়।

এখানে কেউ বলতে পারে—যেহেতু সূত্রকার নিজেই এই সূত্রটিকে প্রথমে স্থাপন করেছেন, তাহলে তা কেন অবিলম্বে গ্রহণ করা হবে না? এর উত্তরে বলা হয় যে মহর্ষি পাণিনি ছিলেন স্বতন্ত্র ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন ঋষি; তাঁর রচনার বিন্যাসকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা বা প্রশ্ন করা সম্ভব নয়।

“আচ্চ” এবং “ঐচ্চ”—এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে এখানে সমাহার-দ্বন্দ্ব সমাস গঠিত হয়েছে। তবে “দ্বন্দ্বাচ্চুদষহান্তাত্” সূত্র অনুযায়ী যে সমাসান্ত বিধান হওয়ার কথা, তা এখানে প্রয়োগ হয়নি; কারণ নির্দেশের মাধ্যমে সমাসান্ত বিধান সব সময় বাধ্যতামূলক নয়। একইভাবে “চোঃ কুঃ” নিয়ম অনুযায়ী পদান্তে কুত্ব হওয়ার সম্ভাবনাও এখানে কার্যকর হয় না। কারণ “অয়স্ময়াদীনি ছন্দসি” সূত্র অনুসারে এটি ভৎ-সংজ্ঞক হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

যদি “বৃদ্ধিরাদৈজদেঙ্” রূপে সংহিতা-পাঠ ধরা হয়, তবে “ঝলাং জশোऽন্তে” সূত্র অনুসারে পদান্তে জশ্ত্ব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবু বৈদিক ভাষায় উভয় ধরনের সংজ্ঞাই দেখা যায়। “ছন্দোবৎসূত্রাণি ভবন্তি” এই উক্তি অনুসারে ছান্দসিক বিধান অনেক সময় সূত্রেও প্রযোজ্য হয়।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে—যদি এটি পদ হয়, তবে কুত্ব কেন হবে না এবং ভৎ হওয়ার ফলে জশ্ত্ব কেন হবে না? এর উত্তরে বলা হয় যে “ছন্দসি দৃষ্টানুবিধিঃ” এই নীতির কারণে বৈদিক প্রয়োগে যেভাবে দেখা যায়, সেভাবেই গ্রহণ করা হয়—এতটুকু বলাই যথেষ্ট।

অন্যভাবে ব্যাখ্যা করলে “আচ্চ” এবং “ঐচ্চ”—এই দুটি পদকে ইতরেতরযোগ-দ্বন্দ্ব হিসেবেও ধরা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সূত্রে একবচনের প্রয়োগটি শাস্ত্রগত রীতিতেই হয়েছে। আচার্যদের পরম্পরায় যে সংজ্ঞাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার ভিত্তিতেই এখানে ‘সংজ্ঞা’ শব্দটি অনুধাবন করা হয়।


“বৃদ্ধিরাদৈচ্” (১.১.১) পতঞ্জলির মহাভাষ্য

এখানে প্রশ্ন ওঠে—“চোঃ কুঃ পদস্য” এই নিয়ম অনুযায়ী কেন কুত্ব (ধ্বনি বদল) হয় না?
কারণ এখানে ভ-সংজ্ঞা থাকার জন্য তা হয় না।

আবার প্রশ্ন—ভ-সংজ্ঞা কীভাবে হয়?
কারণ বলা হয়েছে “অয়সময়াদীনি ছন্দসি”। এখানে “ছন্দস্” বলা হয়েছে, যদিও এটি প্রকৃতপক্ষে ছন্দ নয়। তবে কিছু নিয়ম ছন্দের মতো আচরণ করে।

যদি ভ-সংজ্ঞা ধরা হয়, তাহলে “বৃদ্ধিরাদৈজদেঙ্ গুণঃ” এই নিয়মে জশ্ত্বও পাওয়া যায় না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে কখনো কখনো দুই ধরনের সংজ্ঞাই ছন্দে একসাথে দেখা যায়। যেমন—
“স সুষ্টুভা স ঋক্বতা গণেন”—এখানে পদ হওয়ার কারণে কুত্ব হয়, কিন্তু ভ-সংজ্ঞা থাকার জন্য জশ্ত্ব হয় না।
ঠিক তেমনি এখানেও পদ হওয়ার কারণে জশ্ত্ব হবে না এবং ভ-সংজ্ঞার কারণে কুত্বও হবে না।

এখন প্রশ্ন—এখানে “বৃদ্ধি” শব্দ দিয়ে কি সেই স্বরগুলোকেই ধরা হয়েছে যেগুলো পরে তৈরি হয় (যেমন আ, ঐ, ঔ), নাকি শুধু আ-ঐ-ঔ এই ধ্বনিগুলোই বোঝানো হয়েছে?

যদি বলা হয় যে পরে তৈরি হওয়া রূপগুলো বোঝানো হয়েছে, তাহলে “শালীয়”, “মালীয়” ইত্যাদি ক্ষেত্রে বৃদ্ধির নিয়মে “ছ” ধ্বনি পাওয়া যাবে না।
তেমনি “আম্রময়”, “শালময়” ক্ষেত্রেও ময়ণ প্রত্যয় পাওয়া যাবে না।
আবার “আম্রগুপ্তায়নি”, “শালগুপ্তায়নি” ইত্যাদিতেও প্রত্যয় লাগবে না।

কিন্তু যদি শুধু আ-ঐ-ঔ ধ্বনি বোঝানো হয়, তাহলে “সর্বভাস” ইত্যাদি ক্ষেত্রে শেষ পদের বৃদ্ধির নিয়ম প্রযোজ্য হয়ে যাবে।
এছাড়া “যার এত স্ত্রী আছে” ধরনের বাক্যে পুরুষের মতো রূপ না হওয়ার যে নিয়ম আছে, সেটাও লাগতে পারে।

তাই বলা হয়—এখানে আ-ঐ-ঔ ধ্বনিগুলোকেই ধরা হয়েছে।

তবে আপত্তি ওঠে—তাহলে “সর্বভাস → সর্বভাস” ধরনের নিয়মও লাগবে।
কিন্তু আসলে এখানে সেই অর্থ বোঝানো হয়নি।

এখানে অর্থ এই—
যে মূল শব্দে বৃদ্ধি আছে, সেই ধরনের শেষ পদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হবে।

এইভাবে বুঝলে আগের আপত্তিগুলো আর থাকে না।

এরপর বলা হয়—
ব্যাকরণে অনেক শব্দের জন্য আলাদা নাম দেওয়া হয়।

এই জন্য “সংজ্ঞা-অধিকার” রাখা হয়েছে, যাতে বোঝা যায় যে “বৃদ্ধি” ইত্যাদি শব্দগুলো বিশেষ নাম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

যদি এই নিয়ম না রাখা হয়, তাহলে অনেক সূত্র অর্থহীন হয়ে যাবে।

দুনিয়াতেও দেখা যায়—কিছু বাক্য অর্থপূর্ণ, কিছু অর্থহীন।
যেমন—
“দেবদত্ত, সাদা গরুটাকে লাঠি দিয়ে তাড়াও”—এটা অর্থপূর্ণ।

আর কিছু বাক্য সম্পূর্ণ অর্থহীন—
যেমন এলোমেলোভাবে “দশটা ডালিম, ছয়টা পিঠা, কুণ্ড, ছাগলের চামড়া…” ইত্যাদি।

আবার প্রশ্ন—
কীভাবে বোঝা যাবে যে “বৃদ্ধি” শব্দটা নাম আর “আদৈচ্” তার বস্তু?

এর উত্তরে বলা হয়—
শিক্ষকদের ব্যবহারের মাধ্যমে এটি বোঝা যায়।

যেমন সাধারণ জীবনে—
বাবা-মা যখন সন্তানের নাম রাখেন “দেবদত্ত” বা “যজ্ঞদত্ত”, তখন অন্যরাও সেই নাম ব্যবহার করতে শুরু করে।

ঠিক তেমনি বেদে যজ্ঞকারীরা কিছু জিনিসের নাম রাখেন—
যেমন “স্ফ্য”, “যূপ” ইত্যাদি।

এভাবেই নাম স্থির হয়ে যায়।

ব্যাকরণেও তেমনই—
কিছু শিক্ষক বলেন “বৃদ্ধি” হল নাম, আর “আদৈচ্” হল সেই নামের বস্তু।

আরেকভাবে বলা যায়—
যার নিজস্ব আকার নেই সেটাই নাম, আর যাদের আকার আছে তারা সেই নামের বস্তু।

দুনিয়াতেও দেখা যায়—
একটা মাংসের পিণ্ডকে আমরা “দেবদত্ত” নাম দিই।

আবার কেউ বলেন—
যেটা আগে বলা হয় সেটা বস্তু, আর পরে বলা শব্দটা তার নাম।

কারণ কাজ করার জন্য আগে বস্তু থাকতে হয়, তারপর তার নাম দেওয়া হয়।

শেষে বলা হয়েছে—
আচার্য মঙ্গল কামনায় সূত্রের শুরুতেই “বৃদ্ধি” শব্দ ব্যবহার করেছেন।

কারণ শুভ শব্দ দিয়ে শুরু করলে বিদ্যা বৃদ্ধি পায়, শাস্ত্র প্রসারিত হয়, এবং পাঠকের কল্যাণ হয়।

এরপর আলোচনা আসে—
শব্দ ও তাদের নাম একে অপরের ওপর নির্ভর করলে সমস্যা তৈরি হয়।

কিন্তু বলা হয়—
শব্দ চিরস্থায়ী, তাই এই সমস্যা হয় না।

ব্যাকরণের কাজ হলো ভুল ব্যবহার দূর করা, যেমন কোনো শব্দ ভুলভাবে ব্যবহৃত হলে নিয়ম দিয়ে ঠিক করা।

এরপর বলা হয়েছে—
“বৃদ্ধি” এবং “গুণ” এই দুই সংজ্ঞা আলাদা আলাদা করে বলা দরকার, যাতে দুটিকে একসাথে ধরে না নেওয়া হয়।

কারণ ব্যাকরণে যেখানে একসাথে কাজ করতে হয় সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয় “সহ” (একসাথে)।

শেষে “আকার”-এর পরে “ত্” যোগ করার কারণ বলা হয়েছে।

এর উদ্দেশ্য হলো একই ধরনের ধ্বনিগুলোকে বোঝানো।

স্বরের ওঠানামা (উচ্চ, নিচু, মিশ্র) শব্দের অর্থ আলাদা করতে পারে।
তাই এগুলো আলাদা করে ধরা হয়।

কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে গুণ (ধ্বনির বৈশিষ্ট্য) অর্থ আলাদা করে না।
তাই সেখানে আলাদা করে ধরার দরকার হয় না।

এইভাবে “বৃদ্ধিরাদৈচ্” সূত্রের বিশদ আলোচনা শেষ হয়।


ভট্টাচার্য্য : – একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন যে Pāṇini তাঁর Aṣṭādhyāyī গ্রন্থে মূলত দুই ধরনের নিয়মের ব্যবস্থা করেছেন। প্রথম সেটের নিয়ম প্রযোজ্য ১.১.১ থেকে ৮.১ পর্যন্ত অংশে, আর দ্বিতীয় সেটের নিয়ম প্রযোজ্য ৮.১ থেকে ৮.৪ পর্যন্ত অংশে। এই কারণেই ব্যাকরণশাস্ত্রে বলা হয়— “सपादसप्ताध्यायीं प्रति त्रिपाद्यसिद्धा, त्रिपाद्यामपि पूर्वं प्रति परं शास्त्रमसिद्धं स्यात्।” অর্থাৎ সপাদসপ্তাধ্যায়ীর (প্রথম সাত অধ্যায় ও অষ্টম অধ্যায়ের প্রথম পাদ) দৃষ্টিতে ত্রিপাদী (অষ্টম অধ্যায়ের শেষ তিন পাদ) অসিদ্ধ বলে গণ্য হয়; আবার ত্রিপাদীর মধ্যেও পূর্ববর্তী সূত্রের তুলনায় পরবর্তী সূত্রকে অসিদ্ধ বলে ধরা হয়।

এই নীতিই Aṣṭādhyāyī-এর “पूर्वत्रासिद्धम् (৮.২.১)” সূত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর অর্থ হল—এই সূত্রের দৃষ্টিতে অষ্টম অধ্যায়ের শেষ তিন পাদ, অর্থাৎ ত্রিপাদী (৮.২–৮.৪)-এর সূত্রগুলি পূর্ববর্তী অংশের তুলনায় অসিদ্ধ বলে বিবেচিত হবে। তাই সপাদসপ্তাধ্যায়ীর নিয়ম প্রয়োগের সময় ত্রিপাদীর নিয়মগুলিকে কার্যত অদৃশ্য বা অকার্যকর বলে ধরে নেওয়া হয়।


अष्टाध्यायी

1-1-1 वृद्धिरादैच् ।
1-1-2 अदेङ् गुणः ।
1-1-3 इको गुणवृद्धी ।
1-1-4 न धातुलोप आर्धधातुके ।
1-1-5 ग्क्ङिति च ।
1-1-6 दीधीवेवीटाम् ।
1-1-7 हलोऽनन्तराः संयोगः ।
1-1-8 मुखनासिकावचनोऽनुनासिकः ।
1-1-9 तुल्यास्यप्रयत्नं सवर्णम् ।
1-1-10 नाज्झलौ ।
1-1-11 ईदूदेद्द्विवचनं प्रगृह्यम् ।
1-1-12 अदसो मात् ।
1-1-13 शे ।
1-1-14 निपात एकाजनाङ् ।
1-1-15 ओत् ।
1-1-16 सम्बुद्धौ शाकल्यस्येतावनार्षे ।
1-1-17 उञः ।
1-1-18 ऊँ ।
1-1-19 ईदूतौ च सप्तम्यर्थे ।
1-1-20 दाधा घ्वदाप् ।
1-1-21 आद्यन्तवदेकस्मिन् ।
1-1-22 तरप्तमपौ घः ।
1-1-23 बहुगणवतुडति संख्या ।
1-1-24 ष्णान्ता षट् ।
1-1-25 डति च ।
1-1-26 क्तक्तवतू निष्ठा ।
1-1-27 सर्वादीनि सर्वनामानि ।
1-1-28 विभाषा दिक्समासे बहुव्रीहौ ।
1-1-29 न बहुव्रीहौ ।
1-1-30 तृतीयासमासे ।
1-1-31 द्वन्द्वे च ।
1-1-32 विभाषा जसि ।
1-1-33 प्रथमचरमतयाल्पार्धकतिपयनेमाश्च ।
1-1-34 पूर्वपरावरदक्षिणोत्तरापराधराणि -व्यवस्थायामसंज्ञायाम् ।
1-1-35 स्वमज्ञातिधनाख्यायाम् ।
1-1-36 अन्तरं बहिर्योगोपसंव्यानयोः ।
1-1-37 स्वरादिनिपातमव्ययम् ।
1-1-38 तद्धितश्चासर्वविभक्तिः ।
1-1-39 कृन्मेजन्तः ।
1-1-40 क्त्वातोसुन्कसुनः ।
1-1-41 अव्ययीभावश्च ।
1-1-42 शि सर्वनामस्थानम् ।
1-1-43 सुडनपुंसकस्य ।
1-1-44 न वेति विभाषा ।
1-1-45 इग्यणः सम्प्रसारणम् ।
1-1-46 आद्यन्तौ टकितौ ।
1-1-47 मिदचोऽन्त्यात्परः ।
1-1-48 एच इग्घ्रस्वादेशे ।
1-1-49 षष्ठी स्थानेयोगा ।
1-1-50 स्थानेऽन्तरतमः ।
1-1-51 उरण् रपरः ।
1-1-52 अलोऽन्त्यस्य ।
1-1-53 ङिच्च ।
1-1-54 आदेः परस्य ।
1-1-55 अनेकाल्शित्सर्वस्य ।
1-1-56 स्थानिवदादेशोऽनल्विधौ ।
1-1-57 अचः परस्मिन् पूर्वविधौ ।
1-1-58 न पदान्तद्विर्वचन वरेयलोप स्वर सवर्णानुस्वार दीर्घ- जश्चर्विधिषु ।
1-1-59 द्विर्वचनेऽचि ।
1-1-60 अदर्शनं लोपः ।
1-1-61 प्रत्ययस्य लुक्‌श्लुलुपः ।
1-1-62 प्रत्ययलोपे प्रत्यय लक्षणम् ।
1-1-63 न लुमताऽङ्गस्य ।
1-1-64 अचोऽन्त्यादि टि ।
1-1-65 अलोऽन्त्यात् पूर्व उपधा ।
1-1-66 तस्मिन्निति निर्दिष्टे पूर्वस्य ।
1-1-67 तस्मादित्युत्तरस्य ।
1-1-68 स्वं रूपं शब्दस्याशब्दसंज्ञा ।
1-1-69 अणुदित् सवर्णस्य चाप्रत्ययः ।
1-1-70 तपरस्तत्कालस्य ।
1-1-71 आदिरन्त्येन सहेता ।
1-1-72 येन विधिस्तदन्तस्य ।
1-1-73 वृद्धिर्यस्याचामादिस्तद् वृद्धम् ।
1-1-74 त्यदादीनि च ।
1-1-75 एङ् प्राचां देशे ।