সাহিত্য কি ?
Home » Law Library Updates » Law Library » Bengali Page » সাহিত্য কি ?
15th March 2025
साहित्य- संगीतकलाविहीनः साक्षात् पशुः पुच्छविषाणहीनः
ভার্তৃহরির এই বিখ্যাত শ্লোক—
“साहित्य-संगीतकलाविहीनः साक्षात् पशुः पुच्छविषाणहीनः।”
Read Next
এর অর্থ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, তিনি বলতে চেয়েছেন যে সাহিত্য, সংগীত ও কলা থেকে বঞ্চিত ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে পশুর মতো, পার্থক্য কেবল এই যে তার লেজ ও শৃঙ্গ নেই।
শ্লোকটির ব্যাখ্যা:
ভার্তৃহরি একজন মহান সংস্কৃত কবি ও দার্শনিক ছিলেন, যিনি মূলত নীতি (নৈতিকতা), বৈরাগ্য (সংসারবিমুখতা) ও শ্রংগার (প্রেম) নিয়ে রচনা করেছেন। উপরের শ্লোকটি নীতিশতক থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি মানুষের আত্মবিকাশ ও সংস্কৃতির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন।
- “साहित्य” (সাহিত্য): এখানে সাহিত্য বলতে শুধু লেখা বা কবিতাই বোঝানো হয়নি, বরং সমস্ত জ্ঞান ও শিক্ষাকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি যদি শিক্ষাহীন হন, জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত থাকেন, তবে তিনি পশুর মতোই অজ্ঞান থাকবেন।
- “संगीत” (সংগীত): সংগীত মানুষের মন ও আত্মাকে শুদ্ধ করে, রুচিবোধ গঠনে সহায়ক। সংগীত চেতনার উন্নতি ঘটায় ও মানুষের মধ্যে মানবিকতা সৃষ্টি করে।
- “कला” (কলা): কলার বিভিন্ন শাখা যেমন চিত্রকলা, নৃত্যকলা, নাট্যকলা—সবই মানুষের সৌন্দর্যবোধ ও সৃজনশীলতাকে প্রকাশ করে।
“साक्षात् पशुः” (প্রকৃতপক্ষে পশু):
ভার্তৃহরি (Vartrihari) এখানে বোঝাতে চেয়েছেন যে, একজন মানুষ যদি সাহিত্য, সংগীত ও কলা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ বা বিমুখ হন, তাহলে তিনি আদতে পশুর মতোই। কারণ, তিনি মানবজীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য ও গুণাবলিকে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হন।
“पुच्छविषाणहीनः” (লেজ ও শৃঙ্গহীন):
পশুর দুটি লক্ষণ থাকে—পুচ্ছ (লেজ) ও বিষাণ (শৃঙ্গ), যা তাদের চিহ্নিত করে। কিন্তু এই শারীরিক বৈশিষ্ট্য ছাড়া, মানুষ যদি সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক চেতনা না রাখেন, তাহলে তার আর পশুর মধ্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য থাকে না। অর্থাৎ, শুধুমাত্র মানুষের আকৃতি ধারণ করলেই কেউ প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে না; তাকে সংস্কৃতি ও জ্ঞানের মাধ্যমে তার মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হয়।
Read Next
আজকের সমাজে যদি কেউ কেবল ভোগবাদী চিন্তায় নিমগ্ন হন এবং সাংস্কৃতিক বা শৈল্পিক চর্চার প্রতি অনাগ্রহী হন, তবে তিনি মানবসভ্যতার প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন। অতএব, শিক্ষা, সাহিত্য, সংগীত ও কলার প্রতি শ্রদ্ধা ও আগ্রহ থাকা প্রত্যেক মানুষের জন্য অপরিহার্য।
साहित्यपाथोनिधिमन्थनोत्थं कर्णामृतं रक्षत हे कवीन्द्राः
শ্লোকটির বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা
শ্লোকটি “साहित्यदर्पण” (Sahitya Darpana) থেকে নেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বনাথ কবিরাজ রচিত এক মহত্তম সংস্কৃত সাহিত্যশাস্ত্র। সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য ও কবিদের দায়িত্ব সম্পর্কে এই শ্লোকে অত্যন্ত গভীর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
🔹 শ্লোকটি:
“साहित्यपाथोनिधिमन्थनोत्थं कर्णामृतं रक्षत हे कवीन्द्राः।”
Read Next
🔹 শব্দার্থ ও অর্থ:
- “साहित्य” (সাহিত্য) = কাব্য, শাস্ত্র, জ্ঞানসম্পদ
- “पाथोनिधि” (পাথোনিধি) = সমুদ্র
- “मन्थन” (মন্থন) = মন্থন, মথিত করা, churn করা
- “उत्थं” (উৎথ) = উৎপন্ন হওয়া
- “कर्णामृतं” (কর্ণ-অমৃত) = শ্রবণের জন্য অমৃততুল্য বিষয় (অর্থাৎ মনোরম ও শ্রুতিমধুর কাব্য)
- “रक्षत” (রক্ষত) = সংরক্ষণ করো, রক্ষা করো
- “हे कवीन्द्राः” (হে কবিদের রাজগণ) = হে শ্রেষ্ঠ কবিগণ
📜 শ্লোকের অনুবাদ:
“হে শ্রেষ্ঠ কবিগণ! সাহিত্যের মহাসমুদ্র মন্থন করে যে কর্ণামৃত (শ্রুতিমধুর, মনোরম কাব্য) উৎপন্ন হয়, তাকে রক্ষা করো।”
শ্লোকটির ব্যাখ্যা ও বিশদ বিশ্লেষণ
এই শ্লোকটি সাহিত্যের মাহাত্ম্য এবং কবিদের দায়িত্ব সম্পর্কে এক গভীর তত্ত্ব উপস্থাপন করে।
১. সাহিত্যকে “সমুদ্র মন্থন” এর সঙ্গে তুলনা
বিশ্বনাথ কবিরাজ এখানে সাহিত্যকে এক বিশাল সমুদ্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা অসংখ্য জ্ঞানের রত্নভাণ্ডার ধারণ করে। ঠিক যেমন পুরাণ অনুযায়ী দেবতারা ও অসুররা সমুদ্র মন্থন করে অমৃত, লক্ষ্মী, ধন্বন্তরী, ঐরাবত, উচ্চৈঃশ্রবা প্রভৃতি মূল্যবান বস্তু উদ্ধার করেছিলেন, তেমনই সাহিত্য মন্থন করলে গভীর জ্ঞান, কাব্যিক সৌন্দর্য ও মঙ্গলজনক বক্তব্য পাওয়া যায়।
২. কর্ণামৃত – শ্রুতিমধুর ও জীবনদায়ী কাব্য
“কর্ণামৃত” শব্দটি এখানে গভীর তাৎপর্য বহন করে। “কর্ণ” (কান) এবং “অমৃত” (অমরতা দানকারী মধুর রস) – এর মিলিত অর্থ দাঁড়ায় সেই সাহিত্য বা কাব্য, যা শ্রবণে অত্যন্ত মধুর এবং মানুষের মন-প্রাণকে সুধার মতো পরিতৃপ্ত করে।
একজন প্রকৃত কবি সাহিত্যের গুণাগুণ ধরে রাখেন এবং পাঠকদের সামনে এমন কাব্য উপস্থাপন করেন যা শুধু আনন্দদায়ক নয়, বরং আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটায়।
৩. “हे कवीन्द्राः” – কবিদের আহ্বান
বিশ্বনাথ কবিরাজ (Viswanath Kabiraj) এখানে কাব্যশাস্ত্র রচনার মূল উদ্দেশ্য কবিদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলছেন, কবিদের উচিত সেই শ্রুতিমধুর, জ্ঞানসমৃদ্ধ সাহিত্য সংরক্ষণ করা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার সুফল পায়।
৪. কবিদের দায়িত্ব
এই শ্লোকটি বিশেষভাবে কবি ও সাহিত্যস্রষ্টাদের উদ্দেশে লেখা।
কবিদের উচিত—
✅ কাব্যচর্চায় নিষ্ঠ থাকা
✅ ভাষার সৌন্দর্য বজায় রাখা
✅ সাহিত্যের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ করা
✅ কাব্যের উৎকর্ষতা ধরে রাখা
এই শ্লোকটি সাহিত্যের গুণগত মান রক্ষা করার আহ্বান জানায় এবং কবিদের কাব্যের মূল্যবান রত্নসমূহ সংরক্ষণ করতে বলে।
এই শ্লোকটি সাহিত্যের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং কবিদের গুরুদায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশ্বনাথ কবিরাজ বোঝাতে চেয়েছেন যে, সাহিত্যের সঠিক অনুশীলন ও সংরক্ষণ না করলে তার প্রকৃত মূল্য হারিয়ে যাবে। তিনি কবিদের আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা জ্ঞানের মন্থন করে অমৃতসম সাহিত্য সৃষ্টি করেন এবং তা সংরক্ষণ করেন।
এই শিক্ষা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ সত্যিকারের ভালো সাহিত্য ও কাব্যশিল্প মানুষের মননশীলতাকে বিকশিত করে এবং সমাজকে উন্নত করে।
Read more : Sahitya Samrat Journal