দুর্গোৎসব- কালীপ্রসন্ন সিংহ Durgotsab-Kaliprasanna Simha

দুর্গোৎসব-1861

দুর্গোৎসব বাঙ্গালা দেশের পরব, উত্তরপশ্চিম প্রদেশে এর নামগন্ধও নাই; বোধ হয়, রাজা কৃষ্ণচন্দরের আমল হতেই বাঙ্গালায় দুর্গোৎসবের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। পূর্ব্বে রাজা-রাজড়া ও বনেদী বড় মানুষদের বাড়ীতেই কেবল দুর্গোৎসব হত, কিন্তু আজকাল অনেক পুঁটে তেলীকেও প্রতিমা আনতে দেখা যায়; পূৰ্ব্বেকার দুর্গোৎসব ঔএখনকার দুর্গোৎসব অনেক ভিন্ন।

ক্রমে দুর্গোৎসবের দিন সংক্ষেপ হয়ে পড়লো; কৃষ্ণনগরের কারিগরেরা কুমারটুলী ও সিদ্ধেশ্বরীতলা জুড়ে বসে গেল। জায়গায় জায়গায় রং-করা পাটের চুল, তবলকীর মালা, টীন ও পেতলের অসুরের ঢাল-তলওয়ার, নানারঙ্গের ছোবান প্রতিমার কাপড় ঝুলতে লাগলো; দর্জ্জিরা ছেলেদের টুপি, চাপকান ও পেটী নিয়ে দরোজায় দরজায় বেড়াচ্চে; ‘মধু চাই। শাঁকা নেবে গো!’ বোলে ফিরিওয়ালারা ডেকে ডেকে ঘুরছে। ঢাকাই ও শান্তিপুরে কাপুড়ে মহাজন, আতরওয়ালারা ও যাত্রার দালালেরা আহার-নিদ্রে পরিত্যাগ করেচে। কোনখানে কাঁসারীর দোকানে রাশীকৃত মধুপক্কের বাটী, চুমকী ঘটি ও পেতলের থালা ওজন হচ্ছে। ধূপ-ধুনো, বেণে মসলা ও মাখাঘষার একষ্ট্রা দোকান বসে গেছে। কাপড়ে মহাজনেরা দোকানে ডবল পর্দ্দা ফেলেচে; দোকানঘর অন্ধকারপ্রায়, তারি ভিতরে বসে যথার্থ ‘পাই-লাভে’ বউনি হচ্ছে। সিন্দুরচুপড়ী, মোমবাতি, পিঁড়ে ও কুশাসনের অবসর বুঝে দোকানের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তার ধারে ‘অ্যাকুডক্টের’ উপর বার দিয়ে বসেচে। বাঙ্গাল ও পাড়াগেঁয়ে চাকরেরা আরসি, ঘুনসি, গিণ্টির গহনা ও বিলাতী মুক্তো একচেটেয় কিনচেন; রবরের জুতো, কনফরটার, ষ্টিক ও ন্যাজওয়ালা পাগড়ী অগুন্তি উঠচে; ঐ সঙ্গে বেলোয়ারি চুড়ী, আঙ্গিয়া, বিলাতী সোনার শীল আংটী ও চুলের গার্ডচেনেরও অসঙ্গত খদ্দের। এত দিন জুতোর দোকান ধূলো ও মাকড়সার জালে পরিপূর্ণ ছিল, কিন্তু পূজোর মোর্‌সমে বিয়ের কনের মত কেঁপে উঠছে, দোকানের কপাটে কাই দিয়ে নানা রকম রঙ্গিণ কাগজ মারা হয়েচে, ভিতরে চেয়ার পাতা, তার নীচে একটুকরা ছেঁড়া কারপেট। সহরে সকল দোকানেরই, শীতকালের কাগের মত চেহারা ফিরেছে। যত দিন ঘুনিয়ে আসছে, ততই বাজারের কেনা-বেচা বাড়চে; কলকেতা তত গরম হয়ে উঠছে। পল্লীগ্রামের টুলো অধ্যাপকেরা বৃত্তি ও বার্ষিক সাধতে বেরিয়েচেন; রাস্তায় রকম রকম তরবেতর চেহারার ভিড় লেগে গেছে।

Continue Reading

কলিকাতায় চড়ক পার্ব্বণ – Kolikatar Charak Parbban- কালীপ্রসন্ন সিংহ

কলিকাতায় চড়ক পার্ব্বণ

“কহই টুনেয়া——

শহর শিখাওয়ে কোতোয়ালি”——-টুনোয়ার টপ্পা।

হে শারদে! কোন দোষে দুষি দাসী ও চরণতলে,
কোন্ অপরাধে ছলিলে দাসীরে দিয়ে এ সন্তান?
এ কুৎসিতে! কোন লাজে সপত্নী-সমাজে পাঠাইব,
হেরিলে মা এ কুরূপে—দুষিবে জগৎ—হাসিবে
সতিনী পোড়া; অপমানে উভরায়ে কাঁদিবে
কুমার সে সময় মনে য্যান থাকে; চির অনুগত লেখনীরে।

১২০২ সাল। কলকাতা সহরের চারদিকেই ঢাকের বাদ্দি শুনা যাচ্চে, চড়কীর পিঠ সড় সড় কচ্চে, কামারেরা বাণ, দশলকি, কাঁটা ও বঁটি প্রস্তুত কচ্চে,–সর্বাঙ্গে গয়না, পায়ের নূপুর, মাতায় জরীর টুপী, কোমোরে চন্দ্রহার আর সেপাইপেড়ে ঢাকাই শাড়ী মালকোচা করে পরা, ছোপানে তারকেশ্বরে গামছা হতে, বিল্বপত্ৰ-বাঁধা সূতা গলায় যত ছুতর, গয়লা, গন্ধবেণে ও কাঁসারীর আনন্দেরর সীমা নাই—“আমাদের বাবুদের বাড়ী গাজন!”

Continue Reading

Vedic Santi Patah for minimizing COVID 19 Effect

भद्रं कर्णेभिः शृणुयाम देवा भद्रं पश्येमाक्षभिर्यजत्राः ॥ स्थिरैरङ्गैस्तुष्टुवाँ सस्तनूभिर्व्यशेम देवहितं यदायुः ॥

स्वस्ति न इन्द्रो वृद्धश्रवाः स्वस्ति नः पूषा विश्ववेदाः ॥ स्वस्ति नस्तार्क्ष्यो अरिष्टनेमिः स्वस्ति नो बृहस्पतिर्दधातु॥

शं नो मित्रः शं वरुणः । शं नो भवत्वर्यमा । शं न इन्द्रो बृहस्पतिः । शं नो विष्णुरुरुक्रमः ।
नमो ब्रह्मणे । नमस्ते वायो । त्वमेव प्रत्यक्षं ब्रह्मासि । त्वमेव प्रत्यक्षं ब्रह्म वदिष्यामि । ऋतं वदिष्यामि ।
सत्यं वदिष्यामि । तन्मामवतु । तद्वक्तारमवतु । अवतु माम् । अवतु वक्तारम् ।

अग्ने नय सुपथा राये अस्मान्विश्वानि देव वयुनानि विद्वान् ॥ युयोध्यस्मज्जुहुराणमेनो भुयिष्ठां ते नमौक्तिं विधेम ॥

पूर्णमदः पूर्णमिदं पूर्णात्पूर्णमुदच्यते ॥ पूर्णस्य पूर्णमादाय पूर्णमेवावशिष्यते ॥

॥ ॐ तत्सत् ॥


 

Mahanirvana Tantra

Chapter 1 – Questions relating to the Liberation of Beings
Chapter 2 – Introduction to the Worship of Brahman
Chapter 3 – Description of the Worship of the Supreme Brahman
Chapter 4 – Introduction of the Worship of the Supreme Prakriti
Chapter 5 – The Formation of the Mantras, Placing of the Jar, and Purification of the Elements of Worship
Chapter 6 – Placing of the Shri-patra, Homa, Formation of the Chakra, and other Rites
Chapter 7 – Hymn of Praise (Stotra), Amulet (Kavacha), and the description of the Kula-tattva
Chapter 8 – The Dharmma and Customs of the Castes and Ashramas
Chapter 9 – The Ten Kinds of Purificatory Rites (Sangskara)
Chapter 10 – Rites relating to Vriddhi Shraddha, Funeral Rites, and Purnabhisheka
Chapter 11 – The Account of Expiatory Rites
Chapter 12 – An Account of the Eternal and Immutable Dharmma
Chapter 13 – Installation of the Devata
Chapter 14 – The Consecration of Shiva-linga and Description of the Four Classes of Avadhutas

Continue Reading

Marichjhapi: Biggest Communist Sponsored Murder of Hindu Refugees in West Bengal

Marichjhapi is one of the 102 islands in the Sundarbans, the delta dominated by mangroves cover one-third of which lies in West Bengal, and the rest is in Bangladesh. The Sunderbans with its mangrove forests is not easy to cultivate. The forests are thick with tigers and the rivers with crocodiles. Yet nothing can deter these men and women. In the year of 1978, around 30,000 Hindu refugees were settled in the Marichjhapi  Island near the Sundarbans area. The population of Marichjhapi swelled to 40,000 from the initial 10,000. It had become a functional village with three lanes, a bazaar, a school, a dispensary, a library, a boat manufacturing unit, and a fisheries department.

Continue Reading

Rousing Call to Hindu Nation: Swami Vivekananda

swami-vivekananda- Narendranath

STAND UP IN DEFENSE OF YOUR RELIGION

Rejuvenated glorious Bharat

“It is only the Vedic religion which considers ways and means and lays down rules for the fourfold attainment of man, comprising Dharma, Artha, Kama, and Moksha. Buddha ruined us, and so did Christ ruin Greece and Rome! Then, in due course of time, fortunately, the Europeans became Protestants, shook off the teachings of Christ as represented by Papal authority, and heaved a sigh of relief. In India, Kumârila again brought into currency the Karma-Mârga, the way of Karma only, and Shankara and Râmânuja firmly re-established the Eternal Vedic religion, harmonising and balancing in due proportions Dharma, Artha, Kama, and Moksha. Thus the nation was brought to the way of regaining its lost life; but India has three hundred million souls to wake, and hence the delay”.

“When a man has begun to be ashamed of his ancestors, the end has come. Here am I, one of the least of the Hindu race, yet proud of my race, proud of my ancestors. I am proud to call myself a Hindu, I am proud that I am one of your unworthy servants. I am proud that I am a countryman of yours, you the descendants of the sages, you the descendants of the most glorious Rishis the world ever saw”.

Rousing Call to Hindu Nation or Swami Vivekananda’s Rousing Call to the Hindu Nation (1963) is a compilation of Indian Hindu monk Swami Vivekananda’s writings and speeches edited by Eknath Ranade the leader of Rashtriya Swayamsevak Sangh. The book was published in 1963, in the birth centenary of Vivekananda.

Rousing Call To Hindu Nation[Dounload PDF]

Continue Reading

India is a Hindu Nation

Hindu Nation

India is as much a Hindu nation as England and America are Christian nations

Understanding Bharat from a Mimamsa Perspective 

A wrong argument: That by virtue of its majority being the deciding factor in a democracy, India is a Hindu nation.

The correction[Mimamsa]: We the people of India have descended from a common Hindu patriarchy and then we adopted multiple ways of prayer system for our salvation and peace. For the administration and management of the wealth pertain the Hindu Rastra(Nation), we commissioned a set of secular rule and judicial system in the country.

For the political unity and emancipation, we adopted from the west the pattern of parliament for Indian State headed by an elected President, to be advised by Prime minister- in- cabinet.

The soul of Nationhood [ Bidhi Bakyam]: We worship Mother India(Bharat Mata) by chanting Vande Mataram and establish equity and justice through Satameva Jayate [ सत्यमेव जयते in Deva Nagari script, taken from Mundaka Upanishad ].

It is said [Salpa vistaram]

“Even a cursory perusal of our history shows that, since times immemorial, Hindus have grown up as the true children of this soil. To them, it is more than a motherland, a holy land. Generation after generation, the flower of their heroic manhood have offered their life-blood in defence of her freedom. They have held aloft the banner of her sacred religion and culture.

They wrote her holy books, the Ramayana and the Maha Bharata, the Gita and the Vedas. They produced great saints and rishis who set up the highest standards in each and every walk of national life. Therefore, without a shadow of doubt, Hindus are the real builders of the national life of this land, its real nationals. In a nutshell, this is Hindu nation.”

Again it can be argued

[Purba Pakshya]

Constitution of India does not recognize any form of nationalism that there should not be any Hindu nation, Muslim nation, Sikh nation, Buddhist nation or Christian nation. These expressions or thoughts are antithesis and abhorrent to the Constitution of India. The Constitution, as already stated, has created one nation called India. In our constitutional philosophy, there is only one ism that is Indianism. All other isms are sworn enemies of Indianism. Any person claiming to be Hindu nationalist, Muslim nationalist, Sikh nationalist, Buddhist nationalist or Christian nationalist is not only working against the Indianism but against the very though of India. In India, there can be forces, which can be bracketed into two groups only, Indians, who are for India and communals/extremists, who are enemies of India. If India, which is created by its Constitution, which we the people have given to ourselves, has to survive, then it is only Indianism, which has to be there and all other isms have to disappear from the firmament of the country called India.

It appears that in terms of Constitution of India, which guarantees all the rights, which include right to practice and profess ones religion and faith, there was no requirement of bringing in expression secularism in the preamble of the Constitution. This expression has evoked sharp reaction from a section of population and divided people of the country into different pigeon holes of different isms. A very serious and potential threat is posed to the very existence of the idea of India by the fringe elements, who take cover under various types of isms other than Indianism. India is not a Hindu, Muslim, Sikh, Buddhist or Christian India. It is India, which is born from the bosom of unrelenting struggle of millions of people, who, as already stated, were subjected to untold sufferings and miseries by external aggressors. India is a land, which is not only inhabited by people belonging to different religions, faiths, colours, castes and creeds but it also has different geographical dimensions and constraints. This heterogeneous conglomerate is and will be held together by one theme and one concept of being one nation called India, which is born from the bosom of Constitution.

The Constitution has created State called India. The State comprises of different organs, viz. Executive, Legislature and Judiciary. Each organ of the State has to perform its constitutional duties within the boundaries delineated by the Constitution itself. When the Constitution itself is threatened, which, in turn, poses potential threat to the very existence of State, then the organs thereof cannot display ostrich syndrome but have to stand up and perform their constitutional duties and obligations so as to ensure that the Constitution and the State created by it, does survive. It is this constitutional obligation, which has impelled upon the conscience of constitutional Court to perform its constitutional duties.

The concept of Indianism or Bharatiyata is the soul of the Constitution. All other isms, in essence, pose a potential threat to the soul as well as the conscience of the Constitution. India and Indians are unique in the whole world as they resemble to different colours of a bright rainbow.

The Arbitrator

[Madhyastham ]

The Constitution, which is given by the people to themselves and has created the State called India, which State comprises of three principal organs, viz. Executive, Legislature and Judiciary, the affairs thereof are to be conducted in accordance with the spirit and mandate of the Constitution itself. The discussion made in this order would show that the State has no religion. Thus, no office in the State can be occupied by any person and no Legislative Body can be controlled by any organization by invoking the mandate of the people on the basis of religion. Person/s and organization/s, who does not believe in the Constitution of India, by using extra-constitutional methods, cannot be permitted to occupy the high constitutional/political Offices and/or Legislative Bodies. Article 356 of the Constitution of India provides that the President, on receipt of report from the Governor of a State or otherwise if he is satisfied that a situation has arisen, in which the Government of a State cannot be carried in accordance with the provisions of the Constitution, he, by issuance of Proclamation, may assume unto himself all or any function/s of the Government of the State and all or any powers vested in or exercisable by the Governor or anybody or authority in the State other than the Legislature of the State; can declare that the power of Legislature of the State shall be exercisable by or under the authority of the Parliament. The President’s further power is to make such incidental and consequential provisions as appear to him to be necessary or desirable for giving effect to the objects of the Proclamation, goes a long way to show that the Government, in all circumstances, has to be carried in accordance with the provisions of the Constitution. Thus, any person/s and organization/s can assume any constitutional Office and/or a secure berth in Legislative Body only when such person/sand organization/s believes in and conducts its affairs strictly in accordance with the mandate contained in the Constitution. If any person/s and organization/s, in the process of securing high constitutional Office or place in the Legislative Bodies, act in cruel disregard to the constitutional mandate, then the constitutional and statutory authorities have to take steps in accordance with the laws of the land to stop the forward progress of such people. Besides these authorities, the Election Commissioner of India, in terms of article 324, is under constitutional obligation to ensure that person/s and organization/s, who, practice and profess their thoughts, which are outside the purview of Constitution and which constitute potential threat to it, are halted in their tracks in the manner which not only secures but safeguards the unity of India. The Election Commissioner of India, besides taking recourse to the provisions of Representation of Peoples Act can also issue administrative instructions in this behalf.

The facts and factors: the issues that  Den-e-Islam was given to the Muslim Umma of Arabian Nation and in the same way in the city of Constantinople( CE 325 ) Christianity was delivered through the Emperor Constantine of Roman empire to a group of worshipper ( without any socio-political capacity) headed by local Bishops.  Shiks, Buddhist, Jains, Ram Krishna religion of Belur math followers of particular Holy men and they are not aligned to the concept of Hindu Nation. Parishes migrated from Iran due to Muslim persecution and settled in India and protected by the Hindu kings.

Bal Thackeray `s oversimplified version of Hindu Nationalism such as, “According to me all nationalist minded persons are Hindus and the people of all worship would be called Hindus” and “Hindutva is nationalism. All those who are opposed to Hindutva are anti-nationalists” can be tested or denied on the basis of leading more correct appreciation of sense.

There could be several version of Hindu nationhood which can be debated but can on be denied in the core and again it can not be stopped for further inquiry.


 

হিন্দুজাতি – তাহার বর্ত্তমান অভাব ও তাহার কর্ত্তব্য৷

Akhanda Bharat

এক সময় ছিল, যখন পৃথিবীতে হিন্দু দৃশ্য ভিন্ন লোক ব্যবহারের মধ্যে আর সুদৃশ্য কিছুই ছিল না। তখন হিন্দুগণ অন্যান্য জাতির উন্নতি সাধক ছিলেন । তখন প্রকৃত অর্থে আর কোন জাতিরই জাতিত্ব উৎপন্ন হয় নাই; হিন্দু জাতিকে আর কোন জাতির সহিত প্রতিযোগিতায় পড়িয়া উন্নতি শিক্ষা করিতে হয় নাই। হিন্দুগণ আর কোন জাতিকে আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেখেন নাই বলিয়া, তাঁহারা আপনাদের কোন জাতীয় নাম, জাতীয় আকার বা জাতীয় বন্ধন ব্যবস্থাপিত করেন নাই। তাঁহারা আর্য্য নামে প্রথিত হইয়াছেন—তাহাই তাঁহারদের তখনকার ভাবসঙ্গত ও তাঁহাদের উপযুক্ত নাম।

Hindu Jati – Tahar Bartaman Abhab o Kartabya -1871

হিন্দুজাতি;

তাহার বর্ত্তমান অভাব ও তাহার কর্ত্তব্য৷

হিন্দুভ্রাতৃগণ!

হিন্দুমেলার বয়ঃক্রম পাঁচ বৎসর পূর্ণ হইল। আমরা প্রতিবৎসর বন্ধুবান্ধবের সহিত মহোল্লাসে এই মেলা ক্ষেত্রে সমাগত হইয়া থাকি; এখানকার সমাহৃত দ্ৰব্যজগত এবং সঙ্গীত ব্যায়াম ক্রীড়া প্রভৃতি দর্শন ও শ্রবণ করিয়া পরিতৃপ্তি লাভ করি। আমাদের উৎসাহ উদ্যম সৌহার্দ্য ও অনুরাগ দর্শন করিয়া মেলার উদ্যোগীগণ কতই না আনন্দ অনুভব করেন? কেই বা এই মহৎ উদ্যোগ দেখিয়া সুখী না হইবে? যে দেখিবে যে হিন্দুগণ হিন্দু বলিয়া আপনাদিগকে জানিতেছে, হিন্দু বলিয়া আপনাদের পূর্ব্ব কীৰ্ত্তি স্মরণ করিতেছে এবং হিন্দু বলিয়া সেই নষ্ট কীর্ত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করিতেছে—তাহারই হৃদয়ে বিমল আনন্দের সঞ্চার হইবে। হিন্দু নাম নিতান্ত মলিন ও ধূলিধূসরিত হইয়া লোকসাধারণের অদৃশ্য অগ্রাহ্য হইয়া যাইতেছিল; হিন্দুমেলা সেই হিন্দু নামকে উৰ্দ্ধে উত্থাপিত করিয়াছে এবং ইহার মলিনতা বিধৌত করিয়া ইহার পূর্ব্ব পরিচয় সকল প্রকাশ করিতেছে। হিন্দুমেলা সংস্থাপনাবধি হিন্দুদিগের এই সংস্কার জন্মিবার উপায় হইয়াছে যে আমাদের জাতিসাধণরণের বলিয়া একটী কিছু আছে, যাহাতে সকল হিন্দুরই অধিকার—যাহা হিন্দুদিগের দুর্গ স্বরূপ- যেখানে যাহা কিছু হিন্দু বলিয়া পরিজ্ঞাত হয় তাহা স্থান প্রাপ্ত হইবে—যেখানে কেবল হিন্দু দৃশ্যই দৃশ্যমান হইবে।

এক সময় ছিল, যখন পৃথিবীতে হিন্দু দৃশ্য ভিন্ন লোক ব্যবহারের মধ্যে আর সুদৃশ্য কিছুই ছিল না। তখন হিন্দুগণ অন্যান্য জাতির উন্নতি সাধক ছিলেন । তখন প্রকৃত অর্থে আর কোন জাতিরই জাতিত্ব উৎপন্ন হয় নাই; হিন্দু জাতিকে আর কোন জাতির সহিত প্রতিযোগিতায় পড়িয়া উন্নতি শিক্ষা করিতে হয় নাই। হিন্দুগণ আর কোন জাতিকে আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেখেন নাই বলিয়া, তাঁহারা আপনাদের কোন জাতীয় নাম, জাতীয় আকার বা জাতীয় বন্ধন ব্যবস্থাপিত করেন নাই। তাঁহারা আর্য্য নামে প্রথিত হইয়াছেন—তাহাই তাঁহারদের তখনকার ভাবসঙ্গত ও তাঁহাদের উপযুক্ত নাম। এখন আমরা দেখিতেছি, পৃথিবীতে নানা জাতি উৎপন্ন হইয়াছে—এক একটী জাতি সভ্যতা পদবীতে অধিরূঢ় হইয়া আপনাদের জাতীয় গৌরব বৃদ্ধি করিতেছে—এখন স্বজাতির নামে এক এক লোকের শরীর রোমাঞ্চিত হইতে দৃষ্ট হয়। এমন কালে এই প্রাচীন হিন্দুজাতি অন্যান্য জাতির সহিত প্রতিদ্বম্বিতায় প্রবৃক্ত না হইলেও চিরপ্রথিত আপনার স্বতন্ত্র রীতি নীতির গুণে আপনি একটা পৃথক জাতি হইয়া দাঁড়াইয়াছে। অতঃপর এই জাতির ভাগ্যলক্ষী ইহার কি প্রকার গতি বিধান করেন তাই বলা যায় না।

এক্ষণে এই সাগর সমান হিন্দুজাতির রীতি নীতি জ্ঞান ধৰ্ম্ম মান ও মহত্ত্ব বহু প্রকার দোষে মলিনীভূত হইয়াছে। তথাপি তৎসমুদায়ের মধ্যে যে সকল গভীর অর্থ আমরা দেখিতে পাই, তাহা বাক্যেতে বলিব কি, মনেতেও সম্পূর্ণ রূপে আয়ত্ত করিতে পারি না। যেমন শৈলরাজ হিমাচল, যেমন সিন্ধু ও গঙ্গানদী, এই হিন্দুজাতিও তদ্রুপ। এখনো ভারতের মহত্ত্বের পরিচয় স্বরূপ ঐ সকল পৃথিবীবিখ্যাত প্রাকৃতিক বস্তু যেমন বিদ্যমান আছে, সেই রূপ হিন্দুজাতিও ভারতের দীপক স্বরূপ হইয়া দীপ্তি পাইতেছে। যে জন্য ঈশ্বরনির্দেশে এই হিন্দুজাতি মনুষ্য জাতির আদিম উন্নতির প্রমাণ স্বরূপ দণ্ডায়মান আছে—যে জন্য তাঁহারই বিধানে এই প্রলয়ঙ্কর কাল হিন্দুজাতির কোন প্রধান ধৰ্ম্ম ও নীতি শাস্ত্রকে বিলুপ্ত করিতে পারে নাই—যে জন্য হিন্দু রীতি নীতি তৎসহোযোগিনী মিশ্রণভাববর্জ্জিতা সংস্কৃত ভাষার ন্যায় এখনো অন্য কোন দেশীয় রীতি নীতির সহিত মিশ্রিত হইয়া কলঙ্কিত হয় নাই—যে জন্য হিন্দুগণ ভিন্ন ভিন্ন রাজার অধীন হইয়াও সামাজিক রীতি নীতি সম্পর্কে এখনো সম্পূর্ণ স্বাধীন রহিয়াছেন—সেই জন্য এখনো সেই হিন্দুজাতিকে সুদৃঢ় বন্ধনে রক্ষিত হইতে হইতেছে। সেই জন্য এখন আবশ্যক হইতেছে যে, হিন্দুগণ আপনাদের জ্ঞান শক্তি মহত্ত্বে উত্থিত হউন এবং উচ্চশির হইয়া পৃথিবীস্থ সমুদায় উন্নত ও সুসভ্য জাতির সহিত মনুষ্যত্বের মহোচ্চ প্রতিষ্ঠা লাভ করুন। এই নিমিত্ত এখন চেষ্টা হইতেছে যে সমুদায় ভারতবর্ষের সর্ব্বত্র-বিস্তারিত সকল প্রকার হিন্দু দৃশ্য একত্রিত হয়—হিন্দুদিগের কি আছে তাহা হিন্দুগণ বিজ্ঞাত ও তৎতাবতের সহিত পরিচিত হয়েন এবং যত্নের সহিত সমুদায় রক্ষা ও ধারণ করেন। আমি এই মাত্র যাহা বলিলাম তাহা যদি সত্য হয়—যদি এই প্রাচীন ঋগ্বেদের একটী অক্ষর মাত্র বিনষ্ট না হইবার কোন বিশেষ গূঢ় তাৎপৰ্য্য থাকে—যদি এই মহানিধি স্বরূপ মহাভারত ও অতুল্য রামায়ণ এখনো উন্নত-জ্ঞান-সমন্বিত সুপণ্ডিত দিগের হৃদ্য পথ্য বলিয়া পরিগণিত হয়—এবং যদি আমাদের রীতি নীতি এখনো সেই সকল আৰ্য্য শাস্ত্রের উদাহরণ বা ছায়া স্বরূপ হয়, তবে হিন্দুগণ! প্রাণপণে হিন্দু নাম, হিন্দু শাস্ত্র, হিন্দু রীতি নীতি রক্ষা কর—হিন্দুসমাজকে দোষবিমুক্ত ও সেই নামের উপযুক্ত করিয়া ধারণ কর; তাহা হইলে কেবল বঙ্গদেশের কেন—কেবল ভারতবর্ষের কেন—সমস্ত পৃথিবীর মঙ্গল লাভ হইবে।

ভ্রাতৃগণ! এখন প্রণিধান কর, হিন্দুমেলার উদ্দেশ্য কি? আমরা হিন্দু, আমরা একটী স্বতন্ত্র জাতি—এইটা ভালরূপে আমাদের হৃদয়ঙ্গম করান ইহার প্রধান তাৎপৰ্য্য। পৃথিবীতে যেমন আর পাঁচটী জাতি আছে, যাহারা ধন ধান্য সমৃদ্ধিতে সুসম্পন্ন—যাহাদের নাম যশ সৰ্ব্বত্র শ্রুত হওয়া যায়—যাহারা পৃথিবীর উপরিস্থিত এক এক খণ্ড আকাশকে আলোকিত করিয়া রাখিয়াছে—আমরাও সেই রূপ একটী জাতি, আমাদেরও অন্যান্য জাতির ন্যায় ঐ রূপ প্রতিভান্বিত হওয়া আবশ্যক। ইহাই আমাদের হৃদয়ঙ্গম হইলে হিন্দু মেলার উদ্দেশ্য সফল হয়।

আমাদের যে সকল অভাব তন্মমধ্যে প্রধান অভাব এই যে আমাদের ঐ সামাজিক ভাব বা যথার্থ জাতি বোধটী নাই। এইটি থাকিলে আর সমুদায় শীঘ্র বা বিলম্বে লাভ হইতে পারে। অতএব এই বিষয়টীর সবিশেষ আলোচনা করা কর্ত্তব্য। আমরা সৰ্ব্ব সাধারণ মনুষ্যের প্রতি যে কৰ্ত্তব্য তাহা যেমন পূর্ব্ব পুরুষদিগের নিকট শিখিয়াছি, জাতি সাধারণের প্রতি কৰ্ত্তব্য তেমন শিক্ষা করিতে পারি নাই। পরন্তু ইহাও সুস্পষ্ট সত্য যে আমাদের পূর্ব্ব পুরুষের জাতীয় ভাব বন্ধনে বা তাহার শিক্ষা দানে অপারগ ছিলেন তাছা নহে। তাহারা যে সময়ে জীবিত ছিলেন সে সময়ের উপযোগী যেরূপ কৰ্ত্তব্য তাহা তাঁহারা করিয়া গিয়াছেন। তাঁহারা তাঁহাদের উচ্চশিরষ্কতা বহুদৰ্শিতা ও সৰ্ব্ব বিষয়ে দক্ষতা গুণে আমাদের যে সকল সমাজিক নিয়ম বদ্ধন করিয়া দিয়া গিয়াছেন, সে সকল নিয়ম আমাদিগকে বহুল বিপ্লব হইতে এত কাল পর্য্যন্ত রক্ষা করিয়া আসিতেছে—আরো কত কাল পর্য্যন্ত আমাদিগকে রক্ষা করিবে তাহা কে বলিতে পারে? অামাদের ক্রটি এই যে আমরা সেই সকল সমাজিক নিয়মাবলীর অর্থ বা ভাব বিশিষ্ট রূপে অবগত নহি, অথচ আমরা তাহা লোকাচার বা কুলাচার বলিয়া প্রতিপালন করিয়া আসিতেছি। এই কারণে দুইটী অশুভ ফল উৎপন্ন হয়। এক এই যে, আমরা যখন তখন তাহা ভাঙ্গিয়া ফেলিতে চাই; দ্বিতীয় এই যে, সেই সকল সামাজিক ভাব হইতে যে জাতি সাধারণের প্রতি কর্ত্তব্য কৰ্ম্মের শিক্ষা হয়, তাহা আমাদের নাই। এই শেষোক্ত বিষয়টী এস্থলে বিবেচ্য। সকলেই স্বীকার করিবেন যে, আমাদের বোধ এই রূপ যে আমরা কেবল এক একটী স্বতন্ত্র মনুষ্য। আমরা সামাজিক লোক, সমাজের সহিত আমাদের কোন সম্পর্ক আছে, এরূপ আমাদের ধারণা নাই; সমাজের জন্য আমাদের কিছু করিতে হইবে তাহা আমাদের স্বপ্নের অগোচর। সমাজের প্রতি এই রূপ উদাসীন থাকিয়া, জাতি সাধারণের প্রতিও আমরা সেই রূপ সম্পর্কশূন্য হইয় পড়িয়ছি।

এইটী আমাদের প্রধান দোষ ও প্রধান অভাব; অতএব এই বিষয়টী আমাদের আরো বিশেষ আলোচনা করা কৰ্ত্তব্য। ইহারই উপরে আমাদের জাতীয় উন্নতি অনেক নির্ভর করিতেছে।

আমরা এক্ষণে যে রূপ জীবন যাপন করিতেছি, ইহাতে আমরা সামাজিক মনুষ্য, ইহা কখনই বলা যাইতে পারে না। সমাজের শুভাশুভ বিষয়ে আমরা বিশেষ তত্ত্ব লই না; সমাজের কোন ব্যক্তি পুণ্য অনুষ্ঠান করিলে, কোন ব্যক্তি পাপাচারে রত হইলে, কোন ব্যক্তি অন্যায় রূপে কোন ব্যক্তি কর্ত্তৃক অত্যাচরিত হইলে বা বলাভাবে কোন সৎ পুরুষের দেশহিতকর কোন মহদুদ্দেশ্য সিদ্ধির বাধা জন্মিলে, আমদের তাহাতে কোন ক্ষতি বৃদ্ধি বোধ হয় না। তজ্জনিত সমাজের কোন মঙ্গলামঙ্গলের বিষয়ে আমরা চিন্তা করি না। যাহা আমাদের গাত্রে অসিয়া প্রবল রূপে আঘাত না করে, তাহার প্রতি আমাদের দৃষ্টিপাত হয় না। আমাদের প্রথম সম্বন্ধ আপনার সহিত, দ্বিতীয় সম্বন্ধ পরিবারের সহীত, তৃতীয় সম্বন্ধ জীবিকার সহিত; তাহার পর আর কাহা্রো সহিত আমাদের কোন সম্বন্ধ আছে কিনা তাহা আমাদের গোচর নাই। তাহার এক বিশিষ্ট প্রমাণ এই যে, এপর্য্যন্ত আমাদের দেশের সাময়িক ও সংবাদ পত্রাদিতে ঐ রূপ সামাজিক বিষয় সকলের আলোচনা দৃষ্ট হয় না। কেবল মধ্যে মধ্যে কোন কোন মহাত্মা কর্ত্তৃক যে সকল সামাজিক সংস্কার ঘটনা বা তাহার প্রস্তাব উত্থিত হয়, সংবাদ পত্রাদি তাহারই সম্বন্ধে দুই চারি কথা বলিয়া, তাহা সেই সময়ের কাগজ, ইহারই মাত্র পরিচয় দেয়। লোকদিগেরও চর্চ্চা এই রূপ বিপথগামিনী হইয়াছে যে, তাঁহারা সংবাদ পত্রাদিতে কেবল ভিন্ন ভিন্ন দেশের যুদ্ধ বিবরণ, আশ্চৰ্য্য শিশু ও পশুর জন্ম বৃত্তান্ত, রাজকৰ্ম্মচারীদিগের নিয়োগ বা অবকাশের তালিকা প্রভৃতি কৌতূহল জনক বা স্বার্থসম্বন্ধীয় সংবাদ দেখেন, আর কিছুই দেখিতে চান না। নগরের বা গ্রামের কোন স্থানে বিজ্ঞাপন পত্র আলম্বিত হইলে, তাহা কোন দ্রব্য বিক্রয়ের তালিকা অথবা মিউনিসিপালিটী সংক্রান্ত কি না, লোকে প্রথমত এই দেখিতে তথায় আগমন করে; যদি তাহা সেরূপ না হয়, তবে আর, যাহাই হউক, তাহার সহিত তাহদের কোন সম্পর্ক আছে, এরূপ বিবেচনা হয় না।

আমাদের ত এই রূপ ভাব, এই রূপ আচরণ, তার যাহারা জাতীয় গৌরবে গৌরবান্বিত, তাহাদের ব্যবহার কি রূপ, তাহাও প্রণিধান করিয়া দেখা যাউক। আমাদের মধ্যে যাঁহারা সেই সকল দেশে গিয়াছিলেন তাঁহারা স্বচক্ষে দেখিয়াছেন যে জাতীয় কোন একটী মহৎ কাৰ্য্যে তাহাদের সমুদায় লোকে আসিয়া যোগ দেয়,—চিকিৎসা শিল্প বিজ্ঞান প্রভূতির নিমিত্ত প্রত্যেক ব্যক্তি যথাশক্তি সাহায্য ও উৎসাহ দান করিয়া থাকে,—দূর দেশে বিদেশে অবস্থান করিয়াও তাহারা স্বজাতির প্রতি এক অবিচ্ছেদ্য স্নেহশৃঙ্খলেবদ্ধ থাকেন—স্বজাতির নামে তাঁহাদের আনন্দাশ্রু বিনির্গত হইতে থাকে। এই সকল দেখিয়া আমরা বিশিষ্ট রূপে জানিতে পারিতেছি যে, কেবল বসিয়া বসিয়া অবকাশ কালে দেশোন্নতির আলোচনা করিলে দেশোন্নতি হয় না। তজ্জন্য মনের প্রগাঢ় অভিনিবেশ আবশ্যক এবং দৃঢ় যত্ন ও অধ্যবসায় অবশ্যক। যাহারা ইতিহাসে কোন জাতির অভ্যুদয় বৃত্তান্ত পাঠ করিয়াছেন, তাহারাও দেখিয়াছেন যে, দেশের নিমিত্ত যাঁছাদের মরণে ভয় নাই, বন্ধনে ক্লেশ নাই, দুঃখ দারিদ্র্যে পরিতাপ নাই, রোগ শোকাদিতে সঙ্কপের ভঙ্গ নাই—এমন সকল লোকই সমাজের হিত—জাতির গৌরব—দেশের উন্নতি সাধন করিতে সমর্থ হইয়াছেন। তাহারা পরের দুঃখ আপনার বলিয়া জ্ঞান করেন, সমাজের মঙ্গলের জন্য সমস্ত জীবন ক্ষেপণ করেন, শয়নে স্বপ্নে দেশের উন্নতি চিন্তা করেন। তাঁহারা এই সকল কার্য্যে সর্ব্বস্ব সমর্পণ করেন—স্বদেশের নিমিত্ত প্রাণ দেওয়াকেও তাঁহারা অতি সামান্য কৰ্ম্ম মনে করেন। এমন সকল মহাশয় ব্যক্তি বিপক্ষ হস্তে আপনার রক্তস্রোত বহাইয়া দিয়া সমাজে শান্তির স্রোত প্রবাহিত করিয়াছেন, কত অন্যায়াচরণ সহ্য করিয়া ন্যায় স্থাপন করিয়াছেন; কত কাল ধরিয়া অশেষ কষ্ট স্বীকার করিয়া তাঁহারা এক একটী রাক্ষস সমাজকে সহৃদয় জন সমাজে পরিণত করিয়া গিয়াছেন।

জাতীয় উন্নতির পক্ষে অন্যান্য দেশে যেমন ঘটিয়াছে,—এখানেও তাহাই ঘটিবে—তবে আমাদিগের উন্নতির সম্ভাবনা। তদ্ভিন্ন এদেশের উন্নতির আশা করা বৃথা। আমরা দুগ্ধফেণ-নিভ সুকোমল শয্যায় শয়ান থাকিয়া আপনাপন ধন মান সম্পদ ভাবিতে ভাবিতে এবং সুখের স্বপ্ন দেখিতে দেখিতে কখনই জাতীয় উন্নতি সাধনে সমর্থ, হইব না। ইহা নিশ্চয়ই জানিতেছি—নিশ্চয়ই জানিতেছি। আমাদিগেরও শরীর হইতে ঘৰ্ম্ম ও রক্ত প্রবাহ্নিত হইবে—আমরাও এই দেশের ও সমাজের উন্নতির চেষ্টায় দুঃখ দারিদ্র্যের ভার লইয়া দেশ বিদেশে ভ্রমণ করিব—আমরাও সেই সকল বিদেশে বা স্বদেশে হয়ত খলস্বভাব লোকদিগের ষড়্‌ যন্ত্রে উৎপীড়িত হইব—হয়ত বা কোথাও কারারুদ্ধ হইয়া জীবনের অবশিষ্টাংশ বৃথায় অবসান করিব। আমরাও রৌদ্র রাষ্ট ঝটিকাদি সহ্য করিয়া—অনাহারে ক্লিষ্ট শরীর হইয়া—কখন সমুদ্রোপরি, কখন অরণ্য মধ্যে কেবল দেশের কল্যাণ ধ্যান করিতে করিতে রজনী অতিবাহিত করিব। যদি কখন এই দেশ এই জাতি পুনরুন্নত হয়, তাহার শুল্ক স্বরূপ এই সকল কষ্ট ক্লেশ আমাদিগকে সহ্য করিতেই হইবে, ইহার সন্দেহ নাই। এজন্য আমাদিগকে অকাতরে দিন যামিনী পরিশ্রম করিতে হইবে—শরীরের অস্থি গুলি পৰ্য্যন্ত দান করিতে হইবে এবং সহস্র বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করিয়া উদ্দেশ্য সিদ্ধির পথে অগ্রসর হইতে হইবে। এতদ্ভিন্ন এতৎসদৃশ কার্য্যের অন্য কোন উপায় নাই; দেশোন্নতির জন্য কোন সুগম রাজবর্ত্ম প্রস্তুত হইতে পারে না।

সকল দেশেই দেশোন্নতির এই সকল উপায়। আমরা কি শুনি নাই যে, এক জন সম্রাট্‌ স্বয়ং ভিন্ন দেশে গিয়া পোত নিৰ্ম্মাণ করিতে শিক্ষা করিয়া স্বদেশীয়দিগকে তাহা শিখাইয়াছিলেন? আমরা কি জানি না যে, যে সকল বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আমরা প্রাপ্ত হইয়াছি−যাহা শৈশবাবধি আমাদের পরিচিত হইয়াছে, তাহার এক এক তত্ত্ব উদ্ভাবন করিতে কত শত লোকের সাহায্য এবং কত বিজ্ঞানবেত্তা পণ্ডিতের ২৷৩ শত বৎসরের অপ্রতিহত যত্ন আবশ্যক হইয়াছে। আমরা কি শুনি নাই যে, কোন লোকহিতব্ৰত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুকালে আপনার শরীরকে চিকিৎসা শিক্ষার্থীদিগের শারীরস্থান তত্ত্ব পরীক্ষার নিমিত্ত খণ্ডিত বিখণ্ডিত হইতে দিয়া মহানন্দে স্বীয় অমূল্য জীবন ব্ৰত উদ্‌যাপন করিয়া ছিলেন? আমাদের দেশের উন্নতির পক্ষেও ঐ সকল উপায়; তদ্ভিন্ন অন্য উপায় নাই।

ভ্রাতৃগণ! ইহার জন্য তোমাদিগকে উত্থিত হইতেই হইবে। এই কাল—এই দেশ—এই কালের সমুদায় ঘটনাবলি—তোমাদিগকে উত্থিত হইতে বলিতেছে। তোমরা যদি স্বেচ্ছাপূর্বক এই ভারত মাতার উন্নতির নিমিত্ত বদ্ধপরিকর না হও, অন্য প্রকারে বাধ্য হইয়া তোমাদিগকে তাহা হইতে হইবে। যখন সকল দেশ সুসভ্যতার অালোকে সমুজ্জ্বলিত, ভারতবর্ষ কখনই দীন ও মলিন হুইয়া থাকিবে না। যখন অন্যান্য জাতি উন্নতি শিখরে অধিরোহণ করিতেছে—হিন্দুজাতি সকলের অধম হইয়া থাকিবে না, বিলুপ্ত হইয়াও যাইবে না। ইহার নিমিত্ত সহস্ৰ অনুকূল ঘটনা প্রত্যক্ষ করিতেছি; যাহা প্রতিকূল বলিয়া আপাততঃ বোধ হয়, তাহাও অন্য প্রকারে অনুকূল ঘটনা বলিয়াই প্রতীয়মান হইতেছে। ভারতের কল্যাণ নিমিত্ত সকলে মুক্ত-হস্ত ও বদ্ধ-পরিকর হও, আর নিরস্ত থাকিলে চলিবে না। পূর্ব্বেই উল্লেখ করিয়াছি—এক কাল ছিল, যখন হিন্দুজাতি ভিন্ন আর কোন জাতি সভ্যতার স্বাদ জানিত না, যখন উন্নতি হউক বা না হউক, হিন্দুজাতিকে কাহারো সহিত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিয়োজিত হইতে হইত না। সুতরাং সে সময়ে হিন্দুগণ কিছু কাল কোন নূতনতর উন্নতির সোপানে পদ নিঃক্ষেপ না করিলেও কতক অংশে এক প্রকার স্থিরপদে থাকিতে পারিয়াছিলেন। এখন আর সেরূপ থাকিবার যো নাই। এখন পৃথিবীর বহুল দেশে সভ্যতার আলোক বিকীর্ণ হইয়াছে এবং ঘটনা বশতঃ সেই সকল আলোক কিরণ এই ভারতবর্ষে—আমাদের গৃহাভ্যন্তরে—আসিয়া প্রকাশ পাইতেছে। জ্ঞান-ধর্ম্ম-সমুন্বত হিন্দুগণ চিরাস্বাদিত সভ্যতার সেই সকল প্রতিভাপুঞ্জ যেমন দেখিতেছেন; অমনি তাহার মৰ্ম্ম বুঝিতে সমর্থ হইতেছেন এবং কেহ বা তাহা গ্রহণ করিতে ব্যস্ত হইতেছেন। এই সময়ে, হিন্দুগণ! আর এক স্থানে সংস্থিত হইয়া। থাকিতে পার না। হয় অগ্রসর হও, নতুবা পশ্চাদ্বর্ত্তী হইতে হইবে। পশ্চাদ্বর্ত্তী হইয়াও সচ্ছন্দে থাকিতে পরিবে না, ঘরে বাহিরে সহস্র প্রকারে আঘাত ও নির্যাতন সহ্য করিতে হইবে। উদ্ভিদের বর্দ্ধন পক্ষে এই রূপ এক নিয়ম দেখা যায় যে, সে যদি আপনার মস্তকোপরি রৌদ্রের উত্তাপ প্রাপ্ত হয়, তাহা হইলে সে সেই উর্দ্ধ দিকেই উত্থিত হইতে থাকে এবং সুস্থ সবল ও সরল শরীরে শাখা পল্লবে সুশোভিত হয়। কিন্তু যদি আপনার মস্তকোপরি সূর্য্য-রশ্মি প্রাপ্ত না হয়, তাহা হইলে চতুষ্পার্শ্বের আর যে দিকে তাহা প্রাপ্ত হয়, সেই দিকেই সে বক্রভাবে উত্থিত হয় এবং যথাকথঞ্চিত রূপে সেই সূর্য্য কিরণ গ্রহণ করিয়া, কতকঅংশে বিশুদ্ধ কতক অংশে প্রফুল্লিত, এইরূপ বিকলাঙ্গ লাভ করে। ঠিক ইহাই এখন হিন্দু-সমাজের অবস্থা। হিন্দুগণ! তোমরা যদি তোমাদের সমাজের উন্নতি সাধন না কর, যদি ইহার নিমিত্ত তোমাদের হৃদয় মন চেষ্টা ও যত্ন প্রযুক্ত না হয়, তাহা হইলে তোমরা অকৰ্ম্মণ্য হইয়া কেবল পরপ্রত্যাশী ও পরভাগ্যোপজীবী হইবে। তাহা হইলে সুখ স্বচ্ছন্দতার অন্যে যে আদর্শ প্রদান করিবে তাহাই তোমাদের শিরোধাৰ্য্য হইবে;—আর তাহা হইলে ইহাও জানিবে যে, সেই অন্য দেশীয়—অন্য জাতীয় উন্নতির আদর্শ উদ্ভিদের পার্শ্ববর্ত্তী আলোকের ন্যায় তোমাদিগকে কেবল বিকলাঙ্গ করিবে—কখনই সুস্থ ও প্রকৃতিস্থ হইতে দিবে না—কখনই যথার্থ উন্নত হইতে দিবে না। ইহার উদাহরণ এখনই সহস্ৰ সহস্ৰ লক্ষিত হইতেছে। অনেকে বিজাতীয় সভ্যতা দর্শন করিয়া তল্লাভার্থ নিতান্ত লোলুপ হইতেছেন। তাঁহারা উন্নতি বলিয়া এমন কিছু গ্রহণ করিতেছেন, যাহা হিন্দুদিগের চিরকালের রুচি-বিরুদ্ধ; তাঁহারা মঙ্গলকর বলিয়া যাহা মনে করিতেছেন, হিন্দুগণ হয়ত বহুকালের পরীক্ষা দ্বারা তাহা নিশ্চয় অমঙ্গলকর বলিয়া জানিয়া রহিয়াছেন। এই জন্যই, যাঁহারা সেই সকল আদর্শকে আপনাদেরও সমুদায় হিন্দুদিগের আদর্শ করিতে চান, তাঁহারা হিন্দুদিগের পক্ষে বিকৃত-দর্শন ও গর্হণীয় হইয়া উঠিতেছেন। পরে এরূপ উদাহরণ আরো কত দেখা যাইবে, তাহার আশ্চৰ্য্য নাই। এমন অবস্থায় হিন্দুগণ! কোন্‌ দিকে গমন করিবেন? কেমন করিয়া আপনাদের উন্নতির স্পৃহা চরিতার্থ করিবেন? কি রূপে সমাজের শান্তি রক্ষা ও মঙ্গল বিধান করিবেন? ইহার নিমিত্ত আপনারা চিন্তা আলোচনা ও সর্ব্ব প্রযত্নে চেষ্টা করুন্‌, নতুবা আপনাদের পরস্পরের মধ্যে মতের ও ভাবের ও স্বাদের বিভিন্নতা ও অস্থিরতা প্রযুক্ত উত্তরোত্তর সমাজের আরো দুৰ্গতিই দর্শন করিতে হইবে। সংক্ষেপে এই বলা যাইতেছে, যে এক্ষণে আমাদের রাশি রাশি অভাব, তৎপুরণার্থ আমাদের বহুল শিক্ষার প্রয়োজন; সেই শিক্ষার এই উপযুক্ত সময়; যদি আমরা আত্ম চেষ্টা দ্বারা সুশিক্ষা প্রাপ্ত না হই, কুশিক্ষকে আমাদের সর্বনাশ করিবে।

আমার অত্যন্ত দুঃখোদয় হয়, যখন দেখি যে ইংলণ্ডীয়গণ আমাদের বিবাহ নিয়মের দোষ গুণ বিচার করিয়া থাকেন। আমাদের বিবাহ নিয়মের বাস্তবিক কয়েকটী দোষ আছে, তজ্জন্য আমরা বাক্য নিঃসারণ করিতে পারি না, যদি তাহা না থাকে, তাহা হইলে সমুদায় পৃথিবীকে আমরাই দেখাইতে পারি, বিবাহ কি গুরুতর ও পবিত্র বন্ধন। আমাদের আতিথ্যের যে নিয়ম আছে, তাহা আমরা অতি অল্পই পালন করিয়া থাকি; যদি তাহা যথাবৎ প্রতিপালিত হয়, তাহা হইলে আর কোন দেশের আতিথ্যের নিয়মকে তাহা অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর বলিয়া আমাদের বোধ জন্মে না। আমাদের কতক খানি বৃথা মর্য্যাদা বোধ আছে এবং আমরা পরিশ্রমে কাতর; এই দুইটী দোষ যদি পরিত্যক্ত হয়, তাহা হইলে আমরা দেখাইতে পারি যে আমাদের গার্হস্থ্য নিয়ম ও পরিবার বন্ধন যথার্থ মনুষ্যোচিত, সুখকর ও মঙ্গলদায়ক। বিবিধ দোষে আমাদের হৃদয় ও মন সঙ্কুচিত সংক্ষোভিত ও মলিন হইয়া রহিয়াছে। আমাদের এক ক্রটি অন্য ক্রটির পোষকতা করতেছে—এক অভাব অন্য অভাবের উদ্ভব করিয়া দিতেছে—এই সকল দোষসমাকীর্ণ আমাদের এই হিন্দু সমাজের যদি দোষ সকল পরিত্যক্ত হয়, তাহা হইলে আমরা একবারেই উন্নত হইয়া দাড়াইতে পারি। পিতৃপিতামহ কর্ত্তৃক উপার্জ্জিত যে অমূল্য রত্নরাজি আমরা প্রাপ্ত হইয়াছি, যদি উপযুক্ত হইয় তাহার সদ্ব্যবহার করিতে পারি, তাহা হইলেই আমরা উন্নত পদবীতে অধিরূঢ় হইয়া ক্রমশঃ উৎকৃষ্টতর গতি প্রাপ্ত হইতে পারিব, সন্দেহ নাই।

হে ভ্রাতৃণণ! অসীম আকাশের প্রতিচ্ছায়া একখানি ক্ষুদ্র অস্পষ্ট আদর্শে যেমন অতি অল্প মাত্র প্রতিফলিত হয়, সমুদায় হিন্দুজাতির ভাব ও অভাব সেইরূপ এই ক্ষুদ্র বক্তৃতার মধ্যে যৎসামান্য মাত্র পরিব্যক্ত হইল। কত কথা স্মরণ হইল না, কত কথা সুস্পষ্টরূপে ব্যক্ত করিতে পারিলাম না। বিস্তীর্ণ সাগর সদৃশ হিন্দুজাতি চিন্তার চক্ষুতে আবির্ভূত, এ দিকে আপনার অক্ষমতা অনুভূত, এ অবস্থায় কেবল ক্ষোভ মাত্র মনোমধ্যে উদিত হইতেছে। কিন্তু যাঁহারা হিন্দুদিগের ভাব ও অবস্থা সম্যক পৰ্য্যালোচনা করিয়া দেখিরাছেন—এই মহতী মেলাতে যে সকল স্বদেশহিতৈষী মহাশয়েরা সমাগত হইয়াছেন—তাঁহাদের কিছু অপরিজ্ঞাত নাই। এখন সকলে বিবেচনা করুন, অামাদের কর্ত্তব্য কৰ্ম্ম কি? আমরা কি করিব? কোথায় যাইব? কি প্রকারে ভারত মাতার দুঃখ নিবারণ করিতে সমর্থ হইব? ইহার জন্য সকলে সচেষ্ট হও; যাহা কৰ্ত্তব্য বিবেচনা হইবে তাহাই করিব, এইরূপ প্রতিজ্ঞারূঢ় হও; সকলে এক-হৃদয় এক-প্রাণ হইয়া উদ্দেশ্য সিদ্ধির পথে পদ নিঃক্ষেপ কর। আমরা জাত্যভিমানপরবশ হইয়া কিছুই করিব না, আমরা ভারত মাতার এই সকল প্রত্যক্ষ দৃষ্ট নিদারুণ দুঃখের প্রতীকারের উপায় অন্বেষণ করিব—হিন্দুজাতির অসামান্য জ্ঞান ও গৌরবকে বিলোপ দশা হইতে রক্ষা করিতে চেষ্টা করিব। প্রভাব বিস্তার আমাদের লক্ষ্য নহে, আমরা কেবল মনুষ্য নামের যোগ্য হইব, এই আকাঙ্ক্ষা করি। আমরা বিজয় পতাকা উড্‌ডীন করিতে অভিলাষী নহি—সুখে স্বচ্ছন্দে ঈশ্বর সেবায় জীবন যাত্রা নির্ব্বাহ করিব, এই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা কোন কুসংস্কারে বদ্ধ থাকিব না, কোন বৃথা অভিমানেরও দাসত্ব করিব না, সৰ্ব্ব প্রকারে মনুষ্যোচিত সুখ স্বচ্ছন্দ অবস্থায় কল্যাণের পথে বর্ত্তমান থাকিয়া মনুষ্য জীবনের সার্থকতা লাভ করিব এই আমাদের সঙ্কল্প। বিদেশীয় সাহায্য—অন্য জাতির উন্নতির উপাদান যতদূর আমাদিগকে স্বপদে প্রতিষ্ঠিত রাখে, তাহা গ্রহণ করিতে আমরা সঙ্কুচিত হইব না, কিন্তু আমরা চির দিন হিন্দুই থাকিব, হিন্দু নাম কদাচ পরিত্যাগ করিতে পারিব না। হিন্দু ভাব পরিত্যাগ করিলে আমরা মনুষ্যত্ব হইতেই কতক বঞ্চিত হইব। আমরা স্ত্রী শিক্ষার বিরোধী নহি, আমরা জানি যে সুশিক্ষা ব্যতীত স্ত্রীলোকেরা কখন সুরক্ষিত হইতে পারে না। কিন্তু আমরা সুশিক্ষাই চাই, কুশিক্ষার আমরা সম্পূর্ণ বিরোধী। আমাদের স্ত্রীলোকেরা যদি অবরোধ পরিত্যাগ করিয়া সতী লক্ষ্মীর ন্যায় স্বামীর বামপার্শ্ব শোভান্বিত করেন, তাহাই বা কেন অবাঞ্ছনীয় হইবে? কিন্তু যথেচ্ছাচারের সহিত আমাদের সম্মুখ সংগ্রাম। হিন্দুগণ সকল দেশের ভাষা ও সকল দেশের শাস্ত্র অধ্যয়ন করিবেন, তাহার সন্দেহ কি? কিন্তু তাঁহারা আপনাদের দেশীয় ভাষা ও সংস্কৃত শাস্ত্রকে কখনই অবহেলা করিতে পরিবেন না। তদুভয় অগ্ৰেই আয়ত্ত করিতে হইবে, নতুবা তাঁহারা উন্নতির সুপথ প্রাপ্ত হইবেন না। যথার্থ সুখ, যথার্থ স্বচ্ছন্দতা, যথার্থ স্বাধীনতা, যথার্থ সভ্যতা, যথার্থ মঙ্গল, হিন্দুদিগের চিরদিনের আকাঙ্ক্ষিত ও উপভোগ্য বিষয়; এক দিনের নিমিত্তও আমরা তাহা গ্রহণ করিতে কুণ্ঠিত হইব না ; এক দিনও আমরা উন্নতি-বিমুখ হুইব না; উন্নতির গণনায় কোন জাতির—কোন মনুষ্যের নিকট হীন প্রতিপন্ন হওয়া আর্য্য-ধৰ্ম্ম-সঙ্গত নহে, ইহা চির দিনই আমাদের স্মরণে থাকিবে।

বয়োবৃদ্ধ পিতৃগণ! বয়ঃকনিষ্ঠ ভ্রাতৃগণ! সমবয়স্ক বন্ধুগণ ! আইস আমরা সকলে সমবেত চেষ্টা দ্বারা আমাদের সমাজের উন্নতি—দেশের উন্নতি সংসাধন করি। আর্য্যদিগের উপাৰ্জ্জিত মহামূল্য জ্ঞান ধৰ্ম্মের উপযুক্ত সদ্ব্যবহার করি—হিন্দু নামের চির গৌরব রক্ষা করি। কি আশ্চৰ্য্য! পিতৃপুরুষগণ আমাদিগকে অক্ষয় ধনে ধনী করিয়া গিয়াছেন এবং আমাদের উন্নতির উচ্চতর ও বহুকালস্থায়ী সুদৃঢ় সোপান বাঁধিয়াও দিয়া গিয়াছেন। আমরা কি ঐ সকল সম্পদ ভোগ করিতেও পারিব না? সৎপুত্রের ন্যায় পিতৃ পুরুষ দিগের আসন পরিগ্রহ করিতে পারিব না? কিসের বিঘ্ন! কিসের বাধা! যদি আমরা সেই উন্নত পুরুষদিগের সন্তান হইয়া ঐ চিরপ্রথিত সুদৃঢ় উচ্চ পদবীতে অধিরোহণ করিতে সঙ্কুচিত বা অসমর্থ হই, তাছা হইলে আমাদিগকে ধিক্‌। আর বিলম্ব করিবার কাল নাই—অারো নিরস্ত থাকিলে নিশ্চিত অমঙ্গল। চারিদিকে নানা প্রকার কোলাহল শ্রুত হওয়া যাইতেছে; নানা আশঙ্কা উপস্থিত হইতেছে।—উত্থান কর, জাগ্রত হও, হিন্দুনাম বিলুপ্ত বা কলঙ্কিত হইতে দিও না। বঙ্গ দেশের জন্য—ভারতবর্ষের জন্য—সমুদায় পৃথিবীর জন্য হিন্দু নাম—হিন্দু কীৰ্ত্তি—হিন্দু গরিমা উজ্জ্বলভাবে রক্ষা কর। চারিদিকের ঘটনাবলী অামাদিগকে এই জন্য কৃতসঙ্কল্প হইতে বলিতেছে। যদি আমরা এই কার্য্যে অগ্রসর হই, আমাদের দুর্ব্বল শরীরে বল আসিবে, নির্ব্বীৰ্য্য মনে বীর্য্য আসিবে, উদ্যম চেষ্টা সাহস কিছুরই অভাব থাকিবে না; সকল বিঘ্ন চলিয়া যাইবে, যাহা এক্ষণে প্রতিবন্ধকতাচরণ করিতেছে, আমরা কাৰ্য্যানুবর্ত্তী হই, সে সকলই আমাদের অনুকূল হইয়া আসিবে। সিদ্ধিদাতা ঈশ্বর আমাদের সহায় হইবেন।


Source :১৭৯৩ শকের হিন্দুমেলা

Writer Unknown

विष्णु – Vishnu

ते होचुः यो नः श्रमेण तपसा श्रद्धया यज्ञेनाहुतिभिर्यज्ञस्योदृचम्पूर्वोऽवगच्छात्स नः श्रेष्ठोऽसत्तदु नः सर्वेषां सहेति तथेति – १४.१.१.[४]

तद्विष्णुः प्रथमः प्राप स देवानां श्रेष्ठोऽभवत्तस्मादाहुर्विष्णुर्देवानां श्रेष्ठ इति – १४.१.१.[५]

स यः स विष्णुर्यज्ञः सः। स यः स यज्ञोऽसौ स आदित्यस्तद्धेदं यशो विष्णुर्न शशाक संयन्तुं तदिदमप्येतर्हि नैव सर्व इव यशः शक्नोति संयन्तुम् – १४.१.१.[६]


शतपथब्राह्मणम्काण्डम् १४ अध्यायः१ ब्राह्मण १

Core Hinduttva Philosophy in Rig Veda

ऋग्वेदः – मण्डल १० [सूक्तं १०.१९०- १०.१९१]

Part -1

ऋतं च सत्यं चाभीद्धात्तपसोऽध्यजायत ।
ततो रात्र्यजायत ततः समुद्रो अर्णवः ॥१॥
समुद्रादर्णवादधि संवत्सरो अजायत ।
अहोरात्राणि विदधद्विश्वस्य मिषतो वशी ॥२॥
सूर्याचन्द्रमसौ धाता यथापूर्वमकल्पयत् ।
दिवं च पृथिवीं चान्तरिक्षमथो स्वः ॥३॥

‘ऋतम्’ इति तृचमेकोनचत्वारिंशं सूक्तं मधुच्छन्दसः पुत्रस्याघमर्षणस्यार्षमानुष्टुभम् । रात्र्यादीनां भावानां सृष्ट्यादिप्रतिपादकत्वात्तादृग्रूप एवार्थो देवता । तथा चानुक्रान्तम्—-ऋतं माधुच्छन्दसोऽघमर्षणो भाववृत्तमानुष्टुभं तु’ इति । लिङ्गाद्विनियोगोऽवगन्तव्यः ॥

ऋ॒तम् । च॒ । स॒त्यम् । च॒ । अ॒भी॑द्धात् । तप॑सः । अधि॑ । अ॒जा॒य॒त॒ ।

ततः॑ । रात्री॑ । अ॒जा॒य॒त॒ । ततः॑ । स॒मु॒द्रः । अ॒र्ण॒वः ॥१

ऋतमिति सत्यनाम । ऋतं मानसं यथार्थसंकल्पनं सत्यं वाचिकं यथार्थभाषणम् । चकाराभ्यामन्यदपि शास्त्रीयं धर्मजातं समुच्चीयते । तत्सर्वमभीद्धादभितप्ताद्ब्रह्मणा पुरा सृष्ट्यर्थं कृतात्तपसोऽधि । अध्युपर्यर्थे । उपर्यजायत । उदपद्यत । ‘ तपस्तप्त्वेदं सर्वमसृजत ‘ (तै. आ. ८. ६ ) इति श्रुतेः । तपश्चात्र स्रष्टव्यपर्यालोचनलक्षणम् ।’ यस्य ज्ञानमयं तपः’ ( मु. उ. १, १. ९) इति श्रुत्यन्तरात् ॥ अभिपूर्वदिन्धेः कर्मणि निष्ठा । ‘ श्वीदितो निष्ठायाम् ‘ ( पा. सू. ७. २. १४ ) इतीट्प्रतिषेधः। ‘ गतिरनन्तरः’ इति गतेः प्रकृतिस्वरत्वम् । ‘स्वरितो वानुदात्ते पदादौ ‘ इत्येकादेशः स्वर्यते ॥ यद्वा । अभीद्धादभितः प्रकाशमानात् परमात्मनो मायाधिष्ठानरूपादुपादानभूतादृतं सत्यं चाजायत । ‘जनिकर्तुः प्रकृतिः’ ( पा. सू. १. ४. ३०) इति प्रकृतेरपादानसंज्ञा ॥ ततस्तस्मादेवेश्वराद्रात्री । उपलक्षणमेतदह्रोऽपि । अहश्च रात्रिश्चाजायत ॥ ‘ रात्रेश्चाजसौ ‘ (पा. सू. ४. १. ३१) इति ङीप् । ततस्तस्मादेवेश्वरादर्णवोऽर्णसोदकेन युक्तः समुद्रश्चाजायत । समुद्रशब्दोऽन्तरिक्षोदध्योः साधारण इत्यभिमतार्थस्य प्रकाशनायार्णवशब्देन विशेष्यते । ‘ अर्णसः सलोपश्च'( का. ५. २. १०९. ३ ) इति मत्वर्थीयो वप्रत्ययः सलोपश्च ॥

समुद्रात् । अर्णवात् । अधि । संवत्सरः । अजायत ।

अहोरात्राणि । विऽदधत् । विश्वस्य । मिषतः । वशी ॥२

अर्णवात्समुद्रात्सृष्टादध्यूर्ध्वं संवत्सरः संवत्सरोपलक्षितः सर्वः कालोऽजायत । श्रूयते हि — ‘ सर्वे निमेषा जज्ञिरे विद्युतः पुरुषादधि कला मुहूर्ताः काष्ठाश्च ‘ (तै. आ. १०. १. २) इति । स चेश्वरोऽहोरात्राण्येतदुपलक्षितानि सर्वाणि भूतजातानि विदधत् कुर्वन् सृजन् ॥ ‘ अभ्यस्तानामादिः । इत्याद्युदात्तत्वम् । ततः समासे कृदुत्तरपदप्रकृतिस्वरत्वम् ॥ मिषतो निमिषादियुक्तस्य विश्वस्य सर्वस्य प्राणिजातस्य वशी स्वामी भूत्वा वर्तते ॥

सूर्याचन्द्रमसौ । धाता । यथापूर्वम् । अकल्पयत् ।

दिवम् । च । पृथिवीम् । च । अन्तरिक्षम् । अथो । स्वः ॥३

सूर्याचन्द्रमसौ कालस्य ध्वजभूतौ दिवं च पृथिवीं चान्तरिक्षं च इत्थं त्रिभुवनं स्वः । स्वःशब्दः सुखवाची । दिवो विशेषणम् । सुखरूपां दिवम् । तदेतत्सर्वं धाता विधाता यथापूर्वं पूर्वस्मिन् कल्पे अकल्पयत् सृष्टवान् तथैवागामिन्यपि कल्पे कल्पयिष्यतीत्यर्थः ॥ ॥ ४८ । [सायणभाष्यम्]


Part -2

संसमिद्युवसे वृषन्नग्ने विश्वान्यर्य आ ।
इळस्पदे समिध्यसे स नो वसून्या भर ॥१॥
सं गच्छध्वं सं वदध्वं सं वो मनांसि जानताम् ।
देवा भागं यथा पूर्वे संजानाना उपासते ॥२॥
समानो मन्त्रः समितिः समानी समानं मनः सह चित्तमेषाम् ।
समानं मन्त्रमभि मन्त्रये वः समानेन वो हविषा जुहोमि ॥३॥
समानी व आकूतिः समाना हृदयानि वः ।
समानमस्तु वो मनो यथा वः सुसहासति ॥४॥

‘ संसम्’ इति चतुर्ऋचं चत्वारिंशं सूक्तं संवननस्यार्षम् । ‘ समानो मन्त्रः’ इति तृतीया त्रिष्टुप् शिष्टास्तिस्रोऽनुष्टुभः । प्रथमाया अग्निर्देवता । शिष्टानां संज्ञानम् । अनुक्रम्यते —– संसं चतुष्कं संवननः संज्ञानमाद्याग्नेयी तृतीया त्रिष्टुप् तृतीया त्रिष्टुप् ‘ इति । ‘आनुष्टुभं तु ‘ इति पूर्वमुक्तत्वादवशिष्टानामनुष्टुप्त्वम् । सूक्तविनियोगो लैङ्गिकः ॥

सम्ऽस॑म् । इत् । यु॒व॒से॒ । वृ॒ष॒न् । अग्ने॑ । विश्वा॑नि । अ॒र्यः । आ ।

इ॒ळः । प॒दे । सम् । इ॒ध्य॒से॒ । सः । नः॒ । वसू॑नि । आ । भ॒र॒ ॥१

हे वृषन् कामानां वर्षितः अग्ने “अर्यः ईश्वरस्त्वम् ।’ अर्यः स्वामिवैश्ययोः’ (पा. सू. ३. १. १०३) इति यत्प्रत्ययान्तो निपातितः । ‘ अर्यः स्वाम्याख्यायाम् ‘ ( फि. सू. १. १८) इत्यन्तोदात्तत्वम् । स त्वं “विश्वानि सर्वाणि भूतजातानि “संसम् । ‘प्रसमुपोदः पादपूरणे’ (पा. सू. ८. १. ६) इति समो द्विर्वचनम् । इच्छब्दोऽवधारणे । “आ समन्तात् सं “युवसे मिश्रयसि । देवेषु मध्ये त्वमेव सर्वाणि भूतजातानि वैश्वानरात्मना व्याप्नोषि। नान्य इत्यर्थः । किंच “इळः इडायाः पृथिव्याः “पदे स्थाने उत्तरवेदिलक्षणे । एतद्वा इळायास्पदं यदुत्तरवेदीनाभिः ‘ ( ऐ. ब्रा. १.२८) इति ब्राह्मणम् । तत्र त्वं “समिध्यसे ऋत्विग्भिः संदीप्यसे । “सः तादृशस्त्वं “नः अस्माकं “वसूनि धनानि “आ “भर आहर ॥

सम् । ग॒च्छ॒ध्व॒म् । सम् । व॒द॒ध्व॒म् । सम् । वः॒ । मनां॑सि । जा॒न॒ता॒म् ।

दे॒वाः । भा॒गम् । यथा॑ । पूर्वे॑ । स॒म्ऽजा॒ना॒नाः । उ॒प॒ऽआस॑ते ॥२

हे स्तोतारः यूयं “सं “गच्छध्वम् । संगताः संभूता भवत” ॥ ‘समो गम्यृच्छि” इत्यादिना गमेरात्मनेपदम् ॥ तथा “सं “वदध्वं सह वदत । परस्परं विरोधं परित्यज्यैकविधमेव वाक्यं ब्रूतेति यावत् । ‘ व्यक्तवाचां समुच्चारणे ‘ ( पा. सू. १. ३. ४८) इति वदेरात्मनेपदम्। “वः युष्माकं “मनांसि “सं “जानताम् । समानमेकरूपमेवार्थमवगच्छन्तु ॥ ‘ संप्रतिभ्यामनाध्याने ‘ (पा. सू. १. ३. ४६ ) इति जानातेरात्मनेपदम् ॥ “यथा “पूर्वे पुरातनाः “देवाः “संजानानाः ऐकमत्यं प्राप्ता हविर्भागम् “उपासते यथास्वं स्वीकुर्वन्ति तथा यूयमपि वैमत्यं परित्यज्य धनं स्वीकुरुतेति शेषः ॥

स॒मा॒नः । मन्त्रः॑ । सम्ऽइ॑तिः । स॒मा॒नी । स॒मा॒नम् । मनः॑ । स॒ह । चि॒त्तम् । ए॒षा॒म् ।

स॒मा॒नम् । मन्त्र॑म् । अ॒भि । म॒न्त्र॒ये॒ । वः॒ । स॒मा॒नेन॑ । वः॒ । ह॒विषा॑ । जु॒हो॒मि॒ ॥३

पूर्वोऽर्धर्चः परोक्षकृतः उत्तरः प्रत्यक्षकृतः । “एषाम् एकस्मिन् कर्मणि सह प्रवृत्तानामृत्विजां स्तोतॄणां वा “मन्त्रः स्तुतिः शस्त्राद्यात्मका गुप्तभाषणं वा “समानः एकविधोऽस्तु । तथा “समितिः प्राप्तिरपि “समानी एकरूपास्तु ॥ ‘ केवलमामक° इत्यादिना समानशब्दात् ङीप् । उदात्तनिवृत्तिस्वरेण ङीप उदात्तत्वम् । तथा “मनः मननसाधनमन्तःकरणं चैषां “समानम् एकविधमप्यस्तु । “चित्तं विचारजं ज्ञानं तथा “सह सहितं परस्परस्यैकार्थेनैकीभूतमस्तु । अहं च “वः युष्माकं “समानम् एकविधं “मन्त्रम् “अभि “मन्त्रये । ऐकविध्याय संस्करोमि । तथा “वः युष्माकं स्वभूतेन “समानेन साधारणेन “हविषा चरुपुरोडाशादिना अहं “जुहोमि ॥ तृतीया च होश्छन्दसि’ (पा. सू. २. ३. ३) इति कर्मणि कारके तृतीया ॥ वषट्कारेण हविः प्रक्षेपयामीत्यर्थः ॥

स॒मा॒नी । वः॒ । आऽकू॑तिः । स॒मा॒ना । हृद॑यानि । वः॒ ।

स॒मा॒नम् । अ॒स्तु॒ । वः॒ । मनः॑ । यथा॑ । वः॒ । सुऽस॑ह । अस॑ति ॥४

हे ऋत्विग्यजमानाः “वः युष्माकम् “आकूतिः संकल्पोऽध्यवसायः “समानी एकविधोऽस्तु । तथा “वः युष्माकं “हृदयानि “समाना समानान्येकविधानि सन्तु । तथा “वः युष्माकं “मनः अन्तःकरणम् । प्रत्येकापेक्षयैकवचनम् । तदपि “समानमस्तु । “यथा “वः युष्माकं “सुसह शोभनं साहित्यम् “असति भवति तथा समानमस्त्वित्यन्वयः ॥ अस्तेर्लटि ‘बहुलं छन्दसि’ इति शपो लुगभावः ॥ ॥ ४९ ।। [सायणभाष्यम्]