বঙ্গদেশীয় কালী কীর্ত্তন সংগ্রহ
KALI KIRTAN SAMGRAHA
Kali Kirtan of Bengal
অকলঙ্ক শশীমুখী- সুধাপানে সদা সুখী
অকলঙ্ক শশীমুখী, সুধাপানে সদা সুখী,
তনু তনু নিরখি অতনু চমকে।
না ভাব বিরূপ ভূপ, যাঁরে ভাব ব্রহ্মরূপ,
পদতলে শবরূপ, বামা রণে কে।।
শিশু-শশধর-ধরা, সুহাস মধুরাধরা,
প্রাণ ভরা ভার, ধরা আলো করেছে।
চিত্তে বিবেচনা কর, নিশাকর দিবাকর,
বৈশ্বানর নেত্রবর কর ঝলকে।।
রামা অগ্রগণ্যা, বটে ধন্যা কার কন্যা,
কিবা অন্বেষণে রণে এসেছে।
সঙ্গে কি বিকৃতিগুলা, নখ কুলা দন্ত মূলা,
এলো চুলা গায় ধূলা ভয় করে হে।।
কবি রামপ্রসাদ ভাষে, রক্ষা কর নিজ দাসে,
যে জন একান্তে ত্রাসে, মা বলেছে।
তার অপরাধ ক্ষমা, যদি না করিবে শ্যামা,
তবে গো তোমায় উমা, মা বলিবে কে।।
অপার সংসার, নাহি পারাপার।
অপার সংসার, নাহি পারাপার।
ভরসা শ্রীপদ, সঙ্গের সম্পদ,
বিপদে তারিণী, করগো নিস্তার।
যে দেখে তরঙ্গ অগাধ বারি,
ভয়ে কাঁপে অঙ্গ, ডুবে বা মরি।
তার কৃপা করি, কিঙ্কর তোমারি,
দিয়ে চরণ-তরী, রাখ এইবার।।
বহিছে তুফান নাহিক বিরাম,
থর থর অঙ্গ কাঁপে অবিরাম।
পূরাও মনষ্কাম, জপি তারানাম,
তারা তব নাম সংসারের সার।।
কাল গেল কালী হ’ল না সাধন,
প্রসাদ বলে গেল বিফলে জীবন।
এ ভববন্ধন, কর বিমোচন,
মা বিনে তারিণী কারে দিব ভার।।
অসকালে যাব কোথা।
অসকালে যাব কোথা।
আমি ঘুরে এলাম যথা তথা।।
দিবা হ’ল অবসান, তাই দেখে কাঁপিছে প্রাণ,
তুমি নিরাশ্রয়ের আশ্রয় হয়ে, স্থান দাও গো জগন্মাতা।।
শুনেছি শ্রীনাথের কথা, বট চতুর্বর্গদাতা।
রামপ্রসাদ বলে চরণতলে, রাখবে রাখ এই কথা।।
অভয় চরণ সব লুটালে।
অভয় চরণ সব লুটালে।
কিছু রাখলে না মা তনয় বলে।।
দাতার কন্যা দাতা দিলে, শিখেছিলে মা বাপের কুলে।
তোমার পিতামাতা যেম্নি দাতা, তেম্নি দাতা কি আমায় হ’লে।।
ভাঁড়ার জিম্মা যাঁর কাছে মা, সে জন তোমার পদতলে।
সদা ভাঙ খেয়ে সে মত্ত ভোলা, তুষ্ট কেবল বিল্বদলে।।
মা হোয়ে মা জন্মে জন্মে, কত দুঃখ আমায় দিলে।
প্রসাদ বলে এবার মোলে, ডাকবো সর্বনাশী ব’লে।।
অভয় পদে প্রাণ সঁপেছি।
অভয় পদে প্রাণ সঁপেছি।
আমি আর কি যমের ভয় রেখেছি।।
কালীনাম কল্পতরু, হৃদয়ে রোপন করেছি।
আমি দেহ বেচে ভবের হাটে, দুর্গানাম কিনে এনেছি।।
দেহের মধ্যে সুজন যে জন, তাঁর ঘরেতে ঘর করেছি।
এবার শমন এলে, হৃদয় খুলে দেখাব ভেবে রেখেছি।।
সারাৎসার তারানাম, আপন শিখাগ্রে বেঁধেছি।
রামপ্রসাদ বলে দুর্গা ব’লেম যাত্রা করে বসে আছি।।
আছি তেঁই তরুতলে বসে।
আছি তেঁই তরুতলে বসে।
মনের আনন্দে আর হরিষে।।
আগে ভাঙ্গবো গাছের পাতা, ডাঁটি ফল ধরিব শেষে।।
রাগ দ্বেষ লোভ আদি রেখে দূরদেশে।
রব রসাতলে হা প্রত্যাশে, ফলিতার্থ সেই রসে।।
ফলের ফলে সুফল লয়ে যাইব নিবাসে।
আমার বিফলকে ফল দিয়ে, ফলাফল ভাসাও নৈরাশে।।
মন কর কি লওরে সুধা দুজনাতে মিশে।
খাবে একই নিঃশ্বাসে যেন সূর্যসম শোষে।।
রামপ্রসাদ বলে আমার কোষ্ঠশুদ্ধি তারাবেশে।
মাগী জানে না যে মনকপাটে খিল দিয়েছি কষে।।
আদর ক’রে হৃদে রাখ, আদরিণী শ্যামা মাকে।
আদর ক’রে হৃদে রাখ, আদরিণী শ্যামা মাকে।
তুমি দেখ, আমি দেখি, আর যেন ভাই কেউ না দেখে।।
কামাদিরে দিয়ে ফাঁকি, এস তোমায় আমায় জুড়াই আঁখি।
রসনারে সঙ্গে রাখি, — সে-ও যেন ‘মা’ ব’লে ডাকে।।
অজ্ঞান কুমন্ত্রী দেখ, তারে নিকট হ’তে দিও নাকো;
জ্ঞানেরে প্রহরী রাখ, খুব যেন সাবধানে থাকে।।
কমলাকান্তের মন ভাই, আমার এক নিবেদন,
দরিদ্র পাইলে ধন, সে-ও কি অন্যান্তরে রাখে।।
ইথে কি আর বিপদ আছে।
ইথে কি আর বিপদ আছে।
এই যে তারার জমি আমার দেহমাঝে।
যাতে দেবের দেব সুকৃষাণ হয়ে, মহামন্ত্রে বীজ বুনেছে।।
ধৈর্যখুঁটা, ধর্মবেড়া, এদেহে চৌদিক ঘিরেছে।
এখন কাল চোরে কি করতে পারে, মহাকাল রক্ষক হয়েছে।।
দেখে শুনে ছয়টা বলদ, ঘর হ’তে বাহির হয়েছে।
কালীনাম-অস্ত্রের তীক্ষ্ণধারে, পাপতৃণ সব কেটেছে।।
প্রেমভক্তি সুবৃষ্টি তায়, অহর্নিশি বর্ষিয়েছে।
প্রসাদ বলে কালীবৃক্ষে, চতুর্বর্গ ফল ধরেছে।।
ইন্দিবর নিন্দি তনু সজল জলদ জিনি কায়া।
ইন্দিবর নিন্দি তনু সজল জলদ জিনি কায়া।
নীলাম্বুজ নীল মরকত হিমকর
দিবাকর কীবা হরজায়া।
অঞ্জন দলিত স্থগিত জঘনা,
যেন অপরা কুসুম সম নীলকায়া।
কমলাকান্ত আশ মনমানসে,
শীতল চরণ যুগল ছায়া।।